কথায় বলে চোখই মনের আয়না। কিন্তু মন তথা হৃদয়ের অসুখ যে সব সময় চোখেই ফুটে উঠবে তা নয়। হৃদযন্ত্রের অসুখ একদিনে হঠাৎ করে হয় না। এর কিছু লক্ষণ ধরা পড়ে আমাদের শরীরে।  অনেক সময় হার্টের রোগীর মনে হতে পারে যে তাঁর গ্যাস হয়েছে বা বদহজম বা অ্যাসিডিটি হয়েছে। ইত্যাদি কারণে অনেক সময় অযথা সময় নষ্ট করেন অনেকে। অনেক সময় কেবল অস্বস্তি হয় অথবা বুকে এক ধরনের ব্যথা বা এক ধরনের চাপ অনুভূত হয়। আবার অনেক সময় খুব স্বাবাভিকভাবে অল্প কাজে হাঁপিয়ে যাওয়াএইসব খুবই প্রাথমিক লক্ষণ। এই বিষয়গুলি থেকেই মুলত হার্টের রোগ দেখা দিতে পারে।

এবার আসা যাক কিছু চিকিৎসার পরিভাষায়। করনারি আর্টারি হার্টের রক্ত সরবরাহ করে,  আর  এই রক্তনালিগুলো যখন বন্ধ হয় বা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়তখন হার্টের অসুখের কিছু লক্ষণ রোগীর শরীরে দেখা যায়। তার মধ্যে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলকোনও ব্যক্তি হয়তো সুস্থই ছিলেনসে যেটুকু হাঁটাচলা-ফেরা করে তাঁর মধ্যে কোনো কষ্ট নেই। তবে ইদানীং তাঁর হাঁটতে গেলে কষ্ট হয়, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে কষ্ট হয়, এক ধরনের বুকে ব্যথাঅস্বস্তি তৈরি হয়।

করনারি আর্টারি ডিজিজের সর্বশেষ খারাপ পর্যায় হলো হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া। যার অর্থ হল কোনো রক্তনালি যখন ১০০ ভাগ বন্ধ হয়ে যায়সঙ্গে সঙ্গে সেই রোগী জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। হঠাৎ করে হার্টের ছন্দপতন ঘটতে পারে। রোগী তখনই মারা যেতে পারে। তবে চিন্তার বিষয় হল, ইদানীং দেখা যাচ্ছেতরুণদের মধ্যেও হৃদযন্ত্রের রোগের এই সমস্ত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আগে যেটা ৪০৪৫ বছরে এসে হত, সেটা ধীরে ধীরে ৩০,  এমনকী ২৫ থেকে ৩০এর মধ্যেও  দেখা দিচ্ছে। আগে ২৫ বছরের কোনও যুবক বুকে ব্যথা হচ্ছে বললে বিশেষ কেউ গুরুত্ব দিতেন না। তবে চিকিৎসকরা এখন বলছেন যে, আজকাল যেকোনও বয়সেই হৃদযন্ত্রের অসুখ দেখা দিতে পারে, তাই বুকে যেকোনও ধরণের  ব্যথা হলেই আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকেরা আরও বলেন যে, এর অন্যতম কারণ হলউচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিসধূমপানমানসিক চাপ, বেহিসেবি জীবনযাপন, কাজকর্মের চাপে অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়া, অতিরিক্ত পরিমাণে তৈলাক্ত খাবার খাওয়া ইত্যাদ নানা কারণে এই ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন:  মাথা যন্ত্রণা দূর করতে ব্যবহার করুন এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি...

আবার অনেক সময় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে করোনারি রক্তনালি ব্লক হয়ে জায়গাটি বন্ধ হয়ে যায়। কিছু লক্ষণ রয়েছে যা জানা থাকলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক প্রতিরোধে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া যায়। লক্ষণগুলো যদি দীর্ঘদিন বা অন্তত এক মাস ধরে ঘটতে থাকেতবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Banglalive-8

হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল– 
# বেশির ভাগ সময় হার্ট অ্যাটাকে বুকের মাঝখানে চাপ বোধ হয়যা কয়েক মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে। ব্যথাটা মাঝেমধ্যে চলে যায়,আবার ফিরে আসে। একটা অস্বস্তিকর চাপ ও ঝাঁকুনি অনুভব হয়।
# অনেক সময় হাতেপিঠেঘাড়েচোয়ালে অথবা পাকস্থলীতেও অস্বস্তি অনুভব হয়।
# অনেক সময় বুকে অস্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস ছোট হয়ে আসে।
# অন্য লক্ষণগুলোর মধ্যে ঘাম দিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়াবমি বমি ভাব বা হালকা মাথাব্যথা হতে পারে।

Banglalive-9

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো পুরুষ ও নারীদের ক্ষেত্রে আলাদা রকমের হয়ে থাকে। পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হলো বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রে অন্য লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়যেমন ছোট শ্বাসবমি বমি ভাব,পিঠে বা চোয়ালে ব্যথা।

NO COMMENTS