রামায়ণে ভরত কেন স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেছিলেন নন্দীগ্রামে‚ দুজনেই শয়ন করতেন সুড়ঙ্গে ?

রামের বনবাস নিয়ে রামায়ণে হা হুতাশের শেষ নেই | কিন্তু রামচন্দ্র বনে যাওয়ার পরে কী অবস্থা হয়েছিল অযোধ্যার ? সেটা নিয়ে বিশেষ হেলদোল দেখা যায় না পাঠকদের মধ্যে | আদিকাল থেকে কথকঠাকুররাও বারবার বলতেন পুত্রের অদর্শনে মৃত্যু হয় রাজা দশরথের | আর লক্ষ্মণের স্ত্রী ঊর্মিলা ছিলেন ঘুমিয়ে | টানা ১৪ বছর | নিজের ঘুম আর পতিদেবের ঘুম‚ সব একসঙ্গে | যাতে রামানুজ লক্ষ্মণ বিনিদ্র ভাবে পাহারা দিতে পারেন রামসীতাকে |

বিভিন্ন রামায়ণ ঘাঁটলে দেখা যায় আরও কিছু ঘটনা |

কৈকেয়ীর মন্ত্রণায় রাজা দশরথ যখন ছেলেকে বনে পাঠালেন তখন ভরত আর শত্রুঘ্ন ছিলেন মামাবাড়িতে | ফিরে সে শুনলেন কী হয়ে গেছে | শুনে তো অগ্নিশর্মা ভরত প্রায় মেরেই ফেলতে যাচ্ছিলেন দাসী কুঁজিবুড়ি মন্থরাকে | নারীহত্যার মহাপাপ থেকে তাঁকে বিরত করেন শত্রুঘ্ন |

ক্রোধান্ধ ভরত মা কৈকেয়ীকে বলেন‚ মা হিসেবে তিনি চিরতরে তাঁর মন থেকে বিদায় নিয়েছেন | এবং তাঁর যেন কোনওদিন স্বর্গে স্থান না লাভ হয় |

যাই হোক‚ এবার তো ভরত গেলেন চিত্রকূট পর্বতে | রামচন্দ্রকে ফিরিয়ে আনতে | সঙ্গে গেলেন কৌশল্যা আর সুমিত্রাও | রাম তো ফিরলেন না | ভরত মাথায় করে নিয়ে এলেন দাদার পাদুকা | সেটাই স্থাপিত হল সিংহাসনে |

তবে যে প্রাসাদে দাদা ছিলেন না‚ সেখান থেকে চলে যান ভরতও | সঙ্গে তাঁর স্ত্রী মাণ্ডবী | দুজনে চলে গেলেন নন্দীগ্রাম | রাজপ্রাসাদের বিলাস ছেড়ে কৃচ্ছ্রসাধন করতে লাগলেন | বনবাসে রামচন্দ্র ভূমিতে নিদ্রা যেতেন বলে ভরত নিয়েছিলেন মাটির নিচে সুড়ঙ্গ-শয্যা | অগ্রজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে | তাঁর স্ত্রী শয়ন করতেন আরও কিছুটা গভীর সুড়ঙ্গে | স্বামী ও ভাসুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে | অনেকেই মনে করেন রামায়ণের নন্দীগ্রাম আসলে জমি আন্দোলনখ্যাত নন্দীগ্রাম | আবার অনেকেই এই দাবির বিরোধিতা করেন | সেখান থেকেই অযোধ্যা ও কোশল শাসন করতেন ভরত |

এদিকে অযোধ্যায় পুত্রশোকে প্রয়াত হলেন দশরথ | কুলপুরোহিত বশিষ্ঠের পরামর্শে ভরত ও শত্রুঘ্ন গেলেন চিত্রকূট পর্বতে | সঙ্গে কৌশল্যা ও সুমিত্রা | রামচন্দ্রকে জানানো হল শোকসংবাদ | চারভাই একসঙ্গে সম্পন্ন করলেন পিতৃদেবের শ্রাদ্ধ শান্তি |

পুত্রের বনবাসে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিধ্বস্ত ছিলেন কৌশল্যা ও সুমিত্রা | দুজনেই বিলাস ব্যসন ত্যাগ করেছিলেন | দশরথের প্রয়াণের পরে দুই মহিষী মনোনিবেশ করলেন পুত্রবধূ ঊর্মিলার প্রতি | যাতে তাঁর নিদ্রাভঙ্গ না হয় |

তাহলে কি অযোধ্যার প্রাসাদ শূন্য উদ্যান হয়ে গেল ? পুরোপুরি নয় | কিন্তু কিছুটা তো অবশ্যই | প্রাসাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়ে গেছিলেন শত্রুঘ্ন ও তাঁর স্ত্রী শ্রুতকীর্তি | যাতে দুই মাতা কৌশল্যা এবং সুমিত্রার যত্ন আত্তির ত্রুটি না হয় | এবং স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণকে নিয়ে বনবাস থেকে রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তনে স্বাগত জানানোয় কোনও ফাঁক না থাকে |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Illustration by Suvamoy Mitra for Editorial বিয়েবাড়ির ভোজ পংক্তিভোজ সম্পাদকীয়

একা কুম্ভ রক্ষা করে…

আগের কালে বিয়েবাড়ির ভাঁড়ার ঘরের এক জন জবরদস্ত ম্যানেজার থাকতেন। সাধারণত, মেসোমশাই, বয়সে অনেক বড় জামাইবাবু, সেজ কাকু, পাড়াতুতো দাদা