আতঙ্কের নাম ‘মোমো’

1524

—– ওরে, ‘মানব জীবনে বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ’ রচনাটা লিখেছিস?

—- হ্যাঁ বাবা।

—- ওটা পরীক্ষায় আসবেই। ভালো করে লিখে তৈরি করে রাখ।

স্কুলবেলায় নিজে লিখে এসেছেন। এখন দরকারে নিজের ছেলেমেয়েকেও নির্দেশ দেন, আর কিছু রচনা তৈরি করুক বা না করুক, এটা যেন অবশ্যই অভ্যাসে রাখে। এতদিনের জানা বিষয় এবার বাস্তবে উঠে আসছে। নানা রূপে। নানা নামে। কখনও ‘ব্লু হোয়েল’, কখনও ‘মোমো’ নামে। অনলাইনে একটা মারণ গেম বিদেশ ছেড়ে জাঁকিয়ে বসেছে এদেশে। রাজ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিকড় ছড়িয়ে দিচ্ছে চোখের পলক ফেলার আগেই। টার্গেট এখনকার টেকস্যাভি প্রজন্ম। চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি উসকে দিচ্ছে কোটি টাকার প্রশ্ন, একুশ শতকের বিজ্ঞান আশীর্বাদ, না অভিশাপ?

ভাবছেন, অনলাইনে তো কতরকমের গেমই আছে। বেছে বেছে নতুন এই গেমকে ‘মারণ গেম’ বলার কারণ কী? তাহলে অবশ্যই চোখ রাখুন নীচের ‘রটনা’ নয়, হাড়হিম করা ঘটনাগুলোয়—-

ঘটনা ১: বোনের সঙ্গে জোর ঝগড়া জলপাইগুড়ির প্রথম বর্ষের ছাত্রী কবিতা রায়ের। ঝগড়া থামাতে মা চড় মেরেছিলেন কবিতাকে। বোনের সামনে এই অকারণ অপমান নিতে পারেননি। তাই কাঁদতে কাঁদতে নিজের ঘরে এসে হোয়াটস অ্যাপে স্ট্যাটাস দেন ‘আমি মরে যাব’। কাঁটায় তিন মিনিটের মাথায় +1(251)999-5451 নম্বর থেকে কবিতার মোবাইলে মেসেজ, ‘হাই, আই অ্যাম মোমো। আমার চ্যালেঞ্জ নিলে ঝটপট মরতে পারবে!’

ঘটনা ২: এবার মোমোর দেশেই মোমোর বলি দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র। কার্শিয়াঙে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় জল্পনা মাথাচাড়া দিল। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মণীশ সারকি নামে ওই কিশোর কার্শিয়ারের একটি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। গত ২০ অগাস্ট আত্মহত্যা করে ১৮ বছরের ওই কিশোর। মনে করা হচ্ছিল মারণ গেম মোমো খেলছিল ওই কিশোর। সেই গেমের শেষ ধাপে পৌঁছে আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিসের।

দুটো ঘটনার কথা জানালাম। মোমোর এরকম মেসেজ ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর, বর্ধমান, মেদিনীপুরেও। হোয়াটস অ্যাপে ‘মোমো মেসেজ’ আর কুতসিত মেয়ের মুখ আপাতত ঘুম কেড়েছে রাজ্যবাসীর।

কোথায় শুরু এই ‘গেম’-এর?

মেক্সিকোর একটি পুলিশ ইউনিট যাঁরা অনলাইন অপরাধ নিয়ে কাজ করেন, তাঁরা বলছেন, এর শুরু ফেসবুকে। কেউ কেউ একে অন্যকে প্রলুব্ধ করে একটি অপরিচিত ফোন নম্বরে ‘কল’ করার জন্য। তবে সেখানে একটি সতর্কতা দেওয়া ছিল।’ ব্রিটেনের একটি ওয়েবসাইট ‘দ্যসান.কো.ইউকে’ জানাচ্ছে, সেই প্রাণঘাতী ‘গেম’ ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, আমেরিকা, ফ্রান্স ও জার্মানিতে। নেপালেও। ব্রিটেনে এখনও ছড়ায়নি ওই ‘গেম’। হোয়াটসঅ্যাপে ‘গেম’টা চলছে বলে দ্রুত তা ভারত-সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কে মোমো-র নেপথ্যে?

সুস্বাদু তিব্বতি খাবার মোমো একসময় কলকাতা চেটেপুটে খেয়েছে। সেই নাম যখন মারণ গেমের নাম হল, আতঙ্কে নীল আঠেরো টু আঠাশ! কলম্বিয়া থেকে আসা গেমটি চালু হলেই এক অদ্ভূতুড়ে ছবি ভেসে ওঠে। মোমোর এই ছবির ইতিহাস কী? কোথা থেকে এল এ ছবি? কে বানালেন?

মিদোরি হায়াশি বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি, তাঁর নাম এ ভাবে ছড়িয়ে পড়বে। নাম ছড়িয়ে পড়বে চেয়েছিলেন। প্রত্যেক শিল্পীই তো তাই চান। জাপানের মিদোরিও চেয়েছিলেন শিল্পী হিসেবে দাগ কাটার। একটু অন্য রকম কাজ করার। পুতুল বানানোর ক্লাসে শিখেছিলেন পুতুলের কত রকমের ফর্ম হয়। জীবজন্তুর হাড়, ধাতু আর মোম দিয়ে অদ্ভুতুড়ে পুতুল বানিয়ে সাড়া ফেলতে চেয়েছিলেন। অদ্ভুতুড়ে পুতুল। মিদোরির নিজের কথায় ক্রিপি ডলস। জাপানী উপকথায় যে রকম চরিত্রের কথা আছে। মুখ মানুষের মতো অথচ শরীর কোনও জন্তুর মতো। যেগুলো দেখলে একটু অস্বস্তি হবে। পুতুল বানানোর সময় সবচেয়ে যত্ন নিতেন পুতুলের চোখ আর মুখ বানাতে। এই ভাবেই একদিন বানিয়ে ফেললেন এক অদ্ভুত দর্শন পুতুলের কনসেপ্ট। যে কনসেপ্টের পূর্ণতা পায় লিংক ফ্যাক্টরি নামে একটি স্পেশাল এফেক্ট ফার্মের মাধ্যমে। ওই ফার্মেরই ওয়েবসাইট থেকে এই মডেলের ছবি প্রথম প্রকাশ পায়। যদিও পরে ওই ছবির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই স্বীকার করে না লিংক ফ্যাকটরি।

বিতর্ক এড়াতে মিদোরি হায়াশিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জানিয়ে দেন, মোমো তাঁর সৃষ্টি নয়। কিন্তু ততদিনে মোমো-র ছবি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। মোমো চ্যালেঞ্জের আতঙ্ক- গুজব সব কিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে পড়েছে জাপানি শিল্পী মিদোরি হায়াশির নাম। শুধু তাই নয় মিদোরি হায়াশি যেহেতু জাপানি এবং লিংক ফ্যাক্টরিও যেহেতু টোকিও-র সংস্থা, তাই প্রাথমিক ভাবে ধরেই নেওয়া হয়েছিল জাপানেরই কোনও চক্র নেটদুনিয়ায় জাল ছড়াচ্ছে। যেহেতু ব্লু হোয়েলের মতো মারণ চ্যালেঞ্জ এখন মুখে মুখে ফিরছে। তাই আতঙ্ক ছড়াতে মোমো চ্যালেঞ্জকে খুব কষ্ট করতে হয়নি। যদিও পৃথিবীর কোনও দেশের পুলিশই এখনও মোমো চ্যালেঞ্জের অস্তিত্ব মানেনি। কিন্তু মোমো চ্যালেঞ্জের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কারও হোয়াটসঅ্যাপে যদি এই রকম কোনও ছবি আসে। চট করে একটা ঝটকা লাগবেই। একটা হিমশীতল অনুভূতি। একটা শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে আসা ঠান্ডা স্রোত। যে ঝটকাটাই দিতে চেয়েছিলেন মিদোরি হায়াশি। তাঁর অদ্ভুতুড়ে পুতুলগুলোর মধ্যে দিয়ে। চেয়েছিলেন, যাঁরা দেখবেন, তাঁদের অস্বস্তি হোক। ওই অস্বস্তিই তাঁর শিল্পস্বত্তার সার্থকতা। কিন্তু মিদোরি চাননি, তাঁর শিল্প হয়ে উঠুক কোনও চক্রান্তের মুখ। কারও মৃত্যুর কারণ। তাই হয়তো নিজের সৃষ্টি থেকে নিজেই বিচ্ছিন্ন থাকতে চেয়েছেন।

‘মোমো’ খায়? না খেলে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মোমো’ একটি মেয়ের ছবি। গেমে ওই ছবিটিকেই ‘লোগো’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মেয়েটির দু’টি চোখ কোটর থেকে ঠেলে বেরিয়ে আসছে। তার পা দু’টি পাখির মতো। পায়ের আঙুল ও নখগুলি বড় বড়। মুখটা অসম্ভব রকমের চওড়া। মাথাটা লম্বা। চুলগুলি খুব কালো। দু’টি কানের পাশ দিয়ে তা অনেকটা পর্যন্ত নেমেছে। মাথার ওপরের দিকটা দেখলে মনে হবে, টাক আছে। তারই মাঝে কিছুটা জায়গা ছেড়ে ছেড়ে রয়েছে চুল। অর্থাত, বিভীষিকার যেন জীবন্ত প্রতিচ্ছবি!

ওই অদ্ভুত লোগো দিয়েই অল্পবয়সীদের টানছে গেম অর্গানাইজাররা। ওরা নজর রাখছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখছে, কারা কারা লিখছেন, তাঁদের মন ভাল নেই। আত্মহত্যা করতে চাইছে। ওরা বেছে বেছে তাদেরই টার্গেট করছে।

‘ব্লু হোয়েল গেম’-এর কথা মনে পড়ে? যা খেলতে খেলতে ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল! সেই ‘ব্লু হোয়েল’-এর জায়গা নিয়েছে এখন ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড গেম’।

কী ভাবে শিকার ধরছে মোমো?

আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার আরও একটি প্রাণঘাতী খেলা ‘মোমো চ্যালেঞ্জ’-র প্রথম শিকার আর্জেন্টিনার এক কিশোরী। রেহাই পায়নি এই রাজ্যও তার উদাহরণ ওপরে বলা দুটো ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই জানতে চাইছেন, কোথায় এই গেমের উৎপত্তি, তা কী ভাবে কোথায় কোথায় ছড়িয়ে পড়েছে, কী ভাবে তার হাত থেকে বাঁচানো যায় স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রীদের? কারণ, ‘ব্লু হোয়েল’-এর মতো ফেসবুকে নয়, ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড গেম’ ছড়িয়ে পড়ছে তুমুল জনপ্রিয় হোয়াটস অ্যাপে। ফলে, আত্মহত্যার হাতছানির ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। শিশুদের অনলাইন গেম ‘মাইন ক্রাফট’-এও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই ‘মোমো’।

কেন ‘মোমো’ মারণ গেম?

মেক্সিকোর পুলিশ জানাচ্ছে, অন্তত ৫টি কারণে ‘মোমো’-কে এড়িয়ে চলা উচিত—

১) ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হতে পারে।

২) হিংসা, এমনকি আত্মহত্যায় প্রলুব্ধ করে।

৩) ব্যবহারকারী নানা রকমের হয়রানির শিকার হতে পারেন।

৪) ব্যবহারকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লোপাট হয়ে যেতে পারে, ‘হ্যাকিং’-এর দৌলতে।

৫) ব্যবহারকারী মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তিনি উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ও অনিদ্রাজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

কীভাবে হানা দিচ্ছে হানাদাররা?

কোনও কারণে মানসিক বিপর্যস্ত যারা হোয়াটসঅ্যাপে তাদের মোবাইল নম্বরগুলিই খুঁজে বের করছে ওরা। তার পর সেই মোবাইল ব্যবহারকারীদের ভয় দেখাচ্ছে আর তাদের মোবাইলে পাঠাচ্ছে কোনও মেসেজ বা লিঙ্ক। বলছে, ‘আপনাদের সব কিছু আমরা জেনে ফেলেছি। ওই লিঙ্ক না ক্লিক করলে বা মেসেজ না খুললে আপনাদের সব কিছু ফাঁস করে দেব।’ সেই ভয়ে অনেকেই সেই লিঙ্কে ক্লিক করছে। আর জড়িয়ে যাচ্ছে ওই মারণ গেমের ফাঁদে।

কেমন সেই ফাঁদ?

ফাঁদে পড়া সেই মোবাইল ব্যবহারকারীর মোবাইলে স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে দিচ্ছে হানাদারেরা। তার ফলে, বহু দূর থেকেও সেই মোবাইলের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলছে। শিকারদের বাড়ির অনেক গোপন ছবি আর তাঁদের বাড়ির লোকজনের গোপন কথাবার্তা রেকর্ড করে ফেলছে ওরা। আর তার পর সেই সব দিয়েই ওরা ব্ল্যাকমেল করছে। যেমন, দাসপুরের তেঁতুলতলার বাসিন্দা স্থানীয় চাঁইপাট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। সম্প্রতি তার মোবাইলে মারণ অনলাইন গেম ‘মোমো’র লিঙ্ক আসে বলে অভিযোগ। সেই লিঙ্ক পেয়ে গেম ডাউনলোড করে খেলতেও শুরু করে সে। ছাত্রের পরিবার জানিয়েছে, প্রথমে আসে লুডো গেম। সেই পর্ব শেষও করে ফেলে সে। এর পর ফেসবুকে এক রহস্যময় স্টেটাস দেওয়ার নির্দেশিকা আসে ওই গেমের মাধ্যমে। তাতেই সন্দেহ হয় ওই ছাত্রের। তার পরেই গেম ডিলিট করে দেয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, গেম ডিলিট করার পর ফোন রিস্টার্ট করা হলে ফের আপনা আপনি ফের ওই গেম ইনস্টল হয়ে যায়।

কোন ফোন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ছে এই ‘গেম’?

যতটুকু জানা গিয়েছে, +1(251)999-5451 ছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপের এই ‘গেম’টি জাপানের আইএসডি কোড-সহ ৩টি ফোন নম্বর থেকে আসছে। কলম্বিয়ার আইএসডি কোড-সহ ২টি এবং মেক্সিকোর আইএসডি কোড-সহ আরও একটি নম্বর এর সঙ্গে সংযুক্ত।

কী ভাবে এই মারণ গেমের হাত থেকে রেহাই মিলবে?

হানাদারদের পাঠানো লিঙ্কে না ক্লিক করলে বা তাদের পাঠানো মেসেজ না খুললে ওই মারণ গেমের ফাঁদে পড়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। ওরা (হানাদাররা) ফাঁদে ফেলার জন্য বাড়ির সব গোপন কথা ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে বটে, কিন্তু তার কোনও সারবত্তা নেই। কারণ, ওদের পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক না করলে কিচ্ছু হবে না। করলেই যে কেউ ফাঁদে পড়তে পারে ওই মারণ গেমের। তখন কিন্তু সত্যি-সত্যিই যিনি ফাঁদে পড়লেন, তাঁর বাড়ির গোপন খবরাখবর জেনে নিতে পারে। তার বাড়ির গোপন ছবি তুলে ফেলতে পারে। আর বাড়ির লোকজনের গোপন কথাবার্তা রেকর্ড করে ফেলতে পারে হ্যাকাররা।

অতঃকিম? গুজবে কান দেবেন না। নজরে রাখুন বাড়ির ছোটোদের। দরকারে মনোবিদের পরামর্শ নিয়ে মোবাইল আসক্তি কমান। সময় দিন ওদের। সন্তান একান্তই মারণ গেমের খপ্পরে পড়লে মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। সাহায্য নিন সাইবার সেলের। কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের। যতই ‘উঠল বাই তো মরে যাই’ হুজুগে ভাসুক এই প্রজন্ম, আটকানোর একমাত্র হাতিয়ার যে আপনিই। এভাবেই ‘মোমোর আমি মোমোর তুমি’-রা একজোট হয়ে মোমোকে চিনে নিন। অভিশাপ বদলে যাক আশীর্বাদে…..

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.