কোন ব্যাথায় কী ধরনের সেঁক দেবেন জেনে নিন সহজেই!

2450

শারীরিক ব্যথা-যন্ত্রণায় ভোগেন না, এমন মানুষ নেই। কখনও পিঠে ব্যথা, কখনও কোমরের ব্যথা, কখনও বা পায়ের ব্যথা চরম ভোগায়। এসব ব্যথা থেকে স্বস্তি পেতে গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক-এর টোটকা ব্যবহার করা যায়। তবে অনেক সময়েই গরম সেঁক দিতে হবে নাকি ঠান্ডা সেঁক দিতে হবে এ বিষয়ে অনেকেই ধন্দে পড়ে যান। চলুন জেনে নিই কোন ধরনের ব্যাথায় কী ধরনের সেঁক কাজ করে।

গোড়ালির ব্যথা

একটু বেশি হাঁটাহাঁটি করলে বা জুতোর জন্য  পায়ে ব্যাথার সমস্যা হয় অনেকেরই। এই ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য অনেকেই গরম সেঁক দিতে বলেন। সেটা সঠিক উপদেশ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ঠান্ডা জলের সেঁক দিলে গোড়ালির ব্যথা প্রশমিত হয়।

পিঠের ব্যথা

অনেক দিনের পিঠব্যথায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা ভাবেন গরম জলে স্নান করলে আরাম পাবেন। গরম জলের সেঁক দিলে খুব দ্রুত স্বস্তি পাওয়া যায় এ ধারণা ভুল। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যথার জায়গায় দু-তিন দিন আইসপ্যাক দিলে পিঠের ব্যথা কমে যায়। তবে যদি ধারাবাহিকভাবে পিঠে ব্যথা করে, সে ক্ষেত্রে গরম সেঁক ভাল ফল দিতে পারে।

ফ্রোজেন শোল্ডার বা ঘাড় ব্যথা

ঘাড় ব্যথায় অনেকেই আবার ঠান্ডা সেঁক দিয়ে থাকেন। এটি একেবারেই করা উচিত নয়। ঠান্ডার বদলে বরং ঘাড়ের ব্যথায় গরম সেঁক দিলে উপকার পাবেন।

আঘাতজনিত ব্যথা

আঘাতজনিত ব্যথায় ঠান্ডা সেঁক স্নায়ুগুলোকে অবশ করে ফেলে এবং মাংসপেশীর সঙ্কোচন ঘটায় যার দরুণ ব্যথা কমে যায়। তাছাড়াও ঠাণ্ডা সেঁক রক্তনালীর সঙ্কোচন ঘটায় যার ফলে রক্তক্ষরণও বন্ধ হয়ে যায়। ঠাণ্ডা সেঁক রক্তের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা কিনা হিস্টামিন নামে পরিচিত তার নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ক্ষত স্থানে প্রদাহ হয় না।  ঠাণ্ডা সেঁক রক্তক্ষরণ কমায় এবং ক্ষত স্থানের ফুলে যাওয়া কমিয়ে দেয়।

আর্থারাইটিস বা বাতের ব্যথা

বাতের ব্যথায় গরম সেঁক দিন। তাতে বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা দ্রুত সেরে যাবে। গরম সেঁক দিলে পেশিগুলো নরম হবে এবং আরাম পাবেন। তবে জয়েন্টের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে প্রথমে ঠান্ডা সেঁক দিন। এরপর ফোলা কমানোর জন্য গরম সেঁক দিন।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.