মুখে যতই বলি, বয়স একটা সংখ্যা মাত্র, জীবন কিন্তু অন্য গল্প শোনায়| বয়স যত সামনের দিকে গড়ায় তত জমে থাকা নানা স্মৃতি মনকে ধূসর করে| একইভাবে টিনএজ সমস্যার দিক থেকে এখনো আমরা মুখ ফিরিয়ে| ফলে, ছোট থেকেই নানা সমস্যায় জেরবার এই বয়স| যন্ত্রণা চাপতে গিয়ে বড়রা যেমন হারিয়ে ফেলেন সৌজন্যের মাত্রা বোধ, ছোটরা সবার থেকে সরিয়ে নেয়, গুটিয়ে নেয় নিজেদের| অনেকসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়| এই সমস্যা কি আপনার বাড়িতেও? মন বিশ্লেষক পারমিতা মিত্র ভৌমিক রয়েছেন আপনাদের পাশে—

Banglalive

১৬ বছরের আশা| বিহার থেকে আমার কাছে এসেছে| মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে থাকে| মায়ের অভিযোগ, গত ২ মাস ধরে সারাক্ষণ গুম মেরে রয়েছে আশা| রাতে একেবারেই ঘুমোয় না| সবসময় সবার ওপর বিরক্ত| ঘর থেকে বাইরে বেরতে চায় না| স্কুলেও যায় না| তার ওপর রাতে বিছানা ভিজিয়ে ফেলছে রোজ| মামার কথায়, আগে সব সময় টিপটপ থাকত| এখন ঠিক তার উল্টো| ভীষণ নোংরা হয়ে থাকে| আচমকা কেউ ডাকলে চমকে ওঠে| ইদানিং শ্বাসকষ্টেও ভুগছে খুব| খুব মিশুকে মেয়েটি এভাবে পাল্টে গেল কেন?      

কেন হয়েছে— বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, আশা মায়ের সঙ্গে অনেক বছর ধরে মামাবাড়ি থাকে| বাবার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই| যদিও মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়নি| মামাবাড়ি আর বাবার বাড়ির দূরত্ব ২ ঘন্টার| ২ মাস আগে আশার জন্মদিনে বাবা মেয়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন| জানান, আবার স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতে চান| আশার মায়ের তেমনটাই ইচ্ছে ছিল বরাবর| তাই ভাইদের বারণ না শুনে মেয়েকে পাঠিয়ে দেন বাবার কাছে| মনে আশা, এভাবে যদি জোড়া লাগে ভাঙ্গা সংসার|

বাবার কাছে যাওয়ার প্রথম সপ্তাহে তেমন খারাপ কিছু ঘটেনি আশার সঙ্গে| শুধু এক অচেনা মহিলাকে দেখেছে বাবার সঙ্গে অনেকক্ষণ সময় কাটাতে| দ্বিতীয় সপ্তাহে এক রাতে বাবা ঘুমন্ত আশার ঘরে এসে তাকে ধর্ষণ করে| এভাবে পর পর বেশ কিছু রাত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে| সেই সঙ্গে ওই অচেনা মহিলার সঙ্গেও বাবাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পায় আশা| দরজা বন্ধ না করেই তারা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত|

আরও পড়ুন:  তেল ইলিশ

এদিকে মামারা ফোন করে আশার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আশার বাবা কিছুতেই ফোনে দিতে চাইতেন না আশাকে| শেষে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাবার বাড়ি থেকে মামারা নিয়ে আসেন আশাকে| তারপর থেকেই আশা আতঙ্কে বোবা| পড়াশুনো, মেলামেশা, কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে|

সমাধান— প্রথম দু’সপ্তাহে কিচ্ছু বলতে চায়নি আশা| তৃতীয় সপ্তাহে আমার কাছে ভেঙে পড়ে সব জানায়| অত্যাচারে, আতঙ্কে মানসিক, শারীরিক দিক থেকে একেবারেই তছনছ হয়ে গেছে ততদিনে| শারীরিক সুস্থতা ফেরাতে টানা মেডিকেশনে রাখা হয় আশাকে| ভয়, অবসাদ কাটাতে চলে trauma management therapy| ৮ মাস এই চিকিত্সা চলার পর আংশিক সুস্থ আশা বিহারে নতুন স্কুলে একই ক্লাসে ভর্তি হয়| এবার আর সে স্কুলে যেতে আপত্তি করে না|

এখন আশার চিকিত্সা চলছে স্কাইপ-এর মাধ্যমে| আশা কিন্তু আবার আগের জীবনে ফিরছে ধীরে ধীরে|     

আমাদের দেশ এখনও বোঝে না, বয়ঃসন্ধি খুব স্পর্শকাতর| একে ঠিকমত বুঝতে না পারলে, ঠিকমত যত্ন নিতে না পারলে অভিমানে ঝরে যেতে পারে অনেক তাজা প্রাণ|           

যোগাযোগ: ৯৮৩০০-২১৫৬৭      

NO COMMENTS