শেষ অবধি নৈতিক জয়ের হাসি কে হাসবেন ?

ভোটের আগে লড়াই জমে ওঠারই কথা । মোদি বনাম মমতার সেই লড়াই ভোটের বাজারে রূপ নিয়েছে নাটকে । পুলওয়ামা ইস্যুতে কেন্দ্রের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও মূলত তৃণমূলের আপত্তিতেই মোদি সরকারকে সর্বসম্মত প্রস্তাব বদলাতে হয়েছে । প্রস্তাবে নিরাপত্তা বাহিনী, নিহত জওয়ানদের পরিবারের পাশে থাকা, দেশের অখণ্ডতা ও ঐক্যের কথা বলা হলেও তৃণমূল আপত্তি জানায়। এরপর কংগ্রেস ও সমাজবাদী দলও তৃণমূলকে সমর্থন করে। ফলে নিহত জওয়ানদের নিয়েও মোদি বিরোধীদের ব্ল্যাঙ্ক চেক পেলেন না।

বে-আইনি অর্থলগ্নি সংস্থা নিয়ে তদন্ত জনমানসে স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল। বহু নেতা-মন্ত্রী-সাংবাদিক গ্রেফতার হয়েছেন ছাড়াও পেয়েছেন। কিন্তু কলকাতার নগরপাল রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানা, কর্তব্যরত সিবিআই আধিকারিকদের পুলিশের হেনস্থা ও আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না- সিবিআই বনাম কলকাতা পুলিশের এই তরজা বস্তুতপক্ষে এক রাজনৈতিক নাটক যার মূল বিষয় হল মোদী বনাম মমতার যুদ্ধ।

ব্রিগেডে ২৩ দলের নেতানেত্রীদের মঞ্চে উঠিয়ে বিজেপি বিরোধিতা না করলেও চড়া সুরে মোদি বিরোধিতায় ঘাটতি ছিল না । আবার রাজনাথ, সুষমা স্বরাজ স্বরাজ প্রমুখ ‘ভাল ভাল’ নেতাদের সেই দলে গুরুত্ব কমছে এমনটাও বলা হয়েছিল । মোদির সমালোচনা তো আরও নাটকীয়তায় ভরে দিয়েছিলেন বিজেপির বিহারীবাবু।

তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নজরটা বাংলা থেকে ঘুরিয়ে দিল্লির দিকে ঘুরিয়ে দিতে ভুল করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এ রাজ্য থেকে ৪২টা আসনেই জয়ী হতে চাইছেন, তখন বিজেপিও চাইছে এ রাজ্য থেকে যথাসম্ভব আসন ছিনিয়ে নিতে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। একেবারে তলানি থেকে একটি দল বঙ্গের মুখ্য বিরোধী দল হয়ে উঠছে। বাস্তবে অনেকটা পথ চলতে হবে বিজেপিকে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের আদালত, সিবিআই, নীতি আয়োগ, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটার পর একটা ঘটনায় বিপর্যস্ত মোদির চার বছর পর সারদা চিটফান্ডের কথা মনে পড়েছে। ভোটের আগের মুহুর্তে বাংলা জনমানসে যদি তা আবার দেওয়া যায় । কলকাতার নগরপাল রাজীব কুমারের জন্য ধর্নায় বসে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ধর্নাকে মোদির কটাক্ষ, গরিব মানুষের টাকা যারা লুঠ করছে তাদের জন্য ধর্নায় বসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা নিয়ে তদন্তে কেন মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও ময়নাগুড়ির জনসভায় করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সেই কথার জবাব না দিয়ে তাঁর ভাষা-ভঙ্গিমা নিয়ে আরও আক্রমণাত্মক প্রশ্ন তুললেন মমতা । মুখ্যমন্ত্রী বুখ বুজে থাকার পাত্রী নন । নিজস্ব ভঙ্গিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করছিলেন প্রধানমন্ত্রীও। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিশানা অলিগলিতে যাচ্ছে না । ভোটের আগে লড়াইয়ের জমি নাটকে ভরপুর । প্রধানমন্ত্রীকে ম্যাডিবাবু বলে বিদ্রুপ করে রাফাল নিয়ে বিধতে ছাড়েন নি মমতা । বরং সারদা নারদা প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে গেছেন। নরেন্দ্র মোদি তাঁদের জোটকে ভয় পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন মমতা । রাফাল কী তা অনেকেই জানেন না, বোঝেন না। কিন্তু বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার শিকার হয়েছেন অনেকেই, কিন্তু মমতা সে ব্যাপারে নিশ্চুপ।

শিয়রে ভোট, মোদির জনসভায় ভিড় হচ্ছে । তবে যে সব মাঠে তিনি জনসভা করছেন তা ধারে-ভারে কোনও ভাবেই ব্রিগেডের সঙ্গে তুলনীয় নয় । বহুচর্চিত রাফাল নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বেশ কয়েকদিন ধরে অদ্ভুত ভাবে চুপচাপ। অন্য বিরোধীরাই এখন বলে চলেছে। মোদি তাঁর বক্তৃতায় অনেক বেশি শানিত আক্রমণাত্মক। এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায়। কিন্তু কে কাকে দেখবে সেটাই লক্ষ টাকার প্রশ্ন ।

সম্প্রতি যে নাটকটি নিয়ে এত কথা তাতে প্রশ্নের মুখোমুখি সিবিআই মমতা দুজনেই। তবু মানতে হবে এতে আর কারও নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই লাভ হল। গায়ে হালকা বাদামি রঙের শাল গায়ে দিয়ে, একটা প্লাস্টিকের চেয়ার পাশে দু-চারটে আইপিএস নিয়ে তিনি ধর্নায় বসেছিলেন এটা জেনেই যে লোকের আবেগ তাঁর দিকেই ঢলে পড়বে।

Advertisements

6 COMMENTS

  1. ভোটের লড়াইতে মোদি পিছিয়ে আছেন ঠিকই কিন্তু জোট শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

  2. মোদি বিরোধী জোট বা মহা জোট যদি গড়েও ওঠে যদিও তার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে কিন্তু তার নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জোটের অন্যতম শরিক কংগ্রেস মেনে নেবে না।

  3. আপাতত মানুষের আবেগকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাজে লাগিয়েছেন ঠিকই, তাঁর দিকেই এখনো মানুষের সমর্থন আছে কিন্তু শেষ বেলায় অংক এভাবে মিলিয়ে দেওয়া যাবে না আর সেটা রাজনৈতিক কারণেই।

  4. এ রাজ্যে রাজনৈতিক দৌড়ে অনেক পিছিয়ে আছে বিজেপি সেখানে মোদি কোনও তলই পাবেন না, পাওয়ার আশা করা মুর্খামি। কিন্তু মমতা যদি ভেবে থাকেন তিনি দিল্লির পথে পা বাড়িয়েও সফল হবেন তাহলে তাঁকেও বোকা ভাবতে হবে।

  5. এখন কিছু কিছু বলার অবকাশ হয়নি। তবে বিজেপি যেভাবে হাত ধুয়ে নেমে পড়েছে তাতে বিরোধীদের কঠিন বাধার মুখে পড়তে হবে। ইতিমধ্যে অমিত শাহরা শিবসেনার সমস্যা সালটে দিয়েছেন। মহারাষ্ট্রে এনডিএ জোট অটুট থাকছে।

  6. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাভ একথা কীভাবে বলছেন। প্রথমত এখনো সেই অবস্থা তৈরি হয়নি আর জাতীয়স্তরে মমতা সি জায়গায় নেই। সেখানে এগিয়ে আছে অনেকেই। মমতার লাভ রাজ্যস্তরে অবশ্যই কিন্তু সেটাও খুব সুবিধাজনক অবস্থায় নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.