অশ্বিনের মানকডিং কি রান আউটের ফন্দি নাকি নিয়মের বেড়াজাল ?

ভারতীয় দলের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায় বিরাট কোহলি একেবারেই পছন্দ করেন না রবিচন্দ্রণ অশ্বিনকে | ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মনে করেন বেশি চালাক গোছের ক্রিকেটার অশ্বিন | ” বিরাট যখন টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচিত হন‚ ধোনি পরবর্তী সেই সময়টায় নিজেকে টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক হিসেবেও ভাবতে শুরু করেছিলেন অশ্বিন”‚ বলছিলেন দলকে খুব কাছ থেকে দেখা মুম্বইয়ের এক ক্রিকেট কর্তা | আমি প্রশ্ন করেছিলাম‚ নিজেকে অধিনায়্ক হিসেবে দেখতে চাওয়া অপরাধ নাকি ? ক্যাপ্টেন্সি মেটেরিয়াল ভিতরে থাকলে অশ্বিন তো সেই স্বপ্ন দেখতেই পারে | মুম্বইয়ের ওই ক্রিকেট কর্তা উত্তরে বলেছিলেন‚ সমস্যাটা সেখানে নয় | নিজেকে অধিনায়ক ভাবতে গিয়ে দলের অনেকের সঙ্গেই সম্পর্ক খারাপ করে বসেন অশ্বিন | বিরাটবিরোধী একটা লবি তৈরির চেষ্টা করতে গিয়ে পারফর্ম্যান্সেও প্রভাব পড়ে | বিশেষত ওয়ান ডে ক্রিকেটে আর পারফর্ম করতে পারছিলেন না অশ্বিন | চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর বিরাট কোনও সময় অপচয় করেননি | সরাসরি দল থেকে ছেঁটে ফেলেন তামিলনাড়ুর অফস্পিনারকে | এই রবিচন্দ্রণ অশ্বিনই এ বার আইপিএল-এ মানকডিং-এ জস বাটলারকে আউট করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন |

বিনু মানকড় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এভাবে বিল ব্রাউনকে আউট করে দিয়েছিলেন ১৯৪৭-এর সিরিজে | অজি সংবাদমাধ্যম মানকড়কে তুলোধনা করলেও ভারতের ক্রিকেটার সমর্থন পেয়েছিলেন কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানের | কেন ব্র্যাডম্যান সমর্থন করেছিলেন মানকড়কে‚ সেটা জানতে চান | ডন বলেছিলেন ক্রিকেটের আইনবিরুদ্ধ কোনও কাজ তো করেননি মানকড় | এখনও আইসিসি-র ম্যানুয়ালে ৪১.৬ ধারায় বলা আছে মানকডিং বৈধ | ধরুন শেষ বলে ব্যাট করা দলের এক রান দরকার | এই নিয়ম বৈধ না হলে তো নন স্ট্রাইকিং এন্ডের ব্যাটসম্যান আগেই দৌড়ে অন্য প্রান্তে চলে যাবে | তাই নিয়মটা পাল্টে দেওয়া আইসিসির জন্য কঠিন | কপিল দেবও এভাবে পিটার কার্স্টেনকে আউট করেছিলেন | কিন্তু সেক্ষেত্রে কার্স্টেন বারবার বল করার আগেই নন স্ট্রাইকিং এন্ড ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন | কপিল দু’বার সতর্ক করার পর কার্স্টেনকে আউট করে দেন | অশ্বিন কিন্তু তা করেননি‚ যা করেছেন তা চালাকি ছাড়া অন্য কিছু নয় | বল করতে এসে হাতটা উপরে তুলেও বল না করে অশ্বিন অপেক্ষায় ছিলেন বাটলার কখন পিচ ছেড়ে বেরিয়ে যান | যাতে তিনি মানকডিং করতে পারেন |

পাড়ার খেলায় এরকম আকছার হয় | ব্যাটসম্যান খুব পেটাচ্ছে‚ দে ব্যাটাকে সুযোগ পেলেই মানকাডিং করে | অশ্বিনের হয়ে অনেকেই মাঠে নেমেছেন | ক্রিকেটে সে সব বিশেষজ্ঞরা বলছেন‚ যা হয়েছে‚ নিয়ম মেনেই হয়েছে | এতে সমস্যাটা কোথায় ? ধরুন ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল লর্ডসে | টানটান ফাইনালে বিরাট ব্যাট করছেন ১০৯ রানে | জেতার জন্য ভারতের দরকার ৬১ বলে ৯২ রান | হাতে রয়েছে ৬ উইকেট |

শোয়েব মালিকের হাতে বল এবং স্ট্রাইকিং এন্ডে ধোনি | নন স্ট্রাইকার বিরাট | বল করতে এসে শোয়েব মালিক দেখলেন বিরাট বক্সের বাইরে বেরিয়েছেন এবং তৎক্ষণাৎ মানকডিং করে আউট করে দিলেন ভারত অধিনায়ককে | তখনও কি এসব ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা শোয়েবের পক্ষ নিয়ে কথা বলবেন ? আমি নিশ্চিত‚ বলবেন না | উল্টে বলবেন ক্রিকেটেরই বারোটা বেজে গিয়েছে একটা ঘটনায় | কারণ একটাই, ম্যাচটা বিশ্বকাপ ফাইনাল |

এখানে সামান্য আইপিএল ম্যাচ দেখে অনেকেই নিয়ম দেখাচ্ছেন | যাঁরা এরকম বলছেন তাঁদের জানিয়ে রাখি অশ্বিন এর আগেও ২০১২ সালে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন | সে বার মাহিরা থিরিমানে অশ্বিনের মানকডিং-এর শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যাচ্ছিলেন | থিরিমানেকে ফিরিয়ে নেন সেই ম্যাচের স্ট্যান্ড ইন ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র শেওয়াগ | অর্থাৎ মাঝেমধ্যেই ব্যাটসম্যানকে আউট করতে না পেরে অশ্বিন এভাবে রান আউট করার ফন্দি এঁটেছেন | এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই | কিংস ইলেভেন-রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচে বাটলার একাই ব্যাট হাতে খেলার ভাগ্য গড়ে দিচ্ছিলেন | সেই সময়ে অশ্বিনের চালাকিতে ম্যাচটাই ঘুরে যায় | একটা আউটেই ছন্দোপতন রাজস্থানের | কিংস ইলেভেন ঘরে তুলে নেয় দুই পয়েন্ট | তবে একটা কথা বলতে পারি যে দলের নাম কিংস ইলেভেন‚ সেই দলের কিন্তু এভাবে আউট করাটা মানায় না | কিংস বনাম রয়্যালস ; যেখানে সবাই রাজকীয় ক্রিকেট আশা করে‚ সেখানে স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের পুরো সর্বনাশ | দুই পয়েন্ট হয়তো হয়তো পেয়ে গেলেন অশ্বিন | কিন্তু কোথাও না কোথাও বিরাট কোহলিদের মতো যাঁরা অনেকেই তাঁকে ওপর চালাক মনে করেন‚ তাঁদের বিশ্বাসটা যে সত্যি‚ সেটাই প্রমাণ করে দিলেন |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here