অতিরিক্ত হারে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন? আপনার অজান্তেই হচ্ছে মারাত্মক ক্ষতি। জেনে নিন…

153

অনাহারে, অনিদ্রায় দিন কেটে যায় কিন্তু মোবাইল ফোন ছাড়া একদিনও কাটে না। কমবেশি সবার জীবনেই এই একই সমস্যা। দিনের এমন কোনও সময় খুঁজে পাওয়া কঠিন যখন আমরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ডেলওয়্যার-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মোবাইল ফোনের ব্যবহার মানুষের হাঁটা-চলার পরিবর্তন আনে। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রায় ২.৬ কোটি ব্রিটিশ নাগরিক মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে বুড়ো আঙ্গুলের ব্যাথায় ভোগেন। মোবাইল ফোনের মতো ডিভাইস ব্যবহারের কারণে একই আঙুল বারবার ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট এই ব্যাথাকে বলা হয় ‘ব্ল্যাকবেরি থাম্ব’। শুধু কি তাই, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে এছাড়াও যে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়, সেগুলি হল-

* যুক্তরাজ্যের চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল করে তোলে। চোখের খুব কাছে রেখে অতিরিক্ত সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে জিনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘক্ষণ ধরে স্মার্টফোনে চোখ না রাখার পরামর্শ দেন গবেষকেরা। প্রতিদিন কিছু সময় মোবাইল ফোন থেকে নিজেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন তাঁরা।

* অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ টাইপ করা হলে আঙুলের অস্থি-সন্ধিতে ব্যথা হতে পারে যা পরবর্তীকালে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও অনেকেই কাজের সময় মোবাইল ফোনটিকে কাঁধ ও কানের মাঝে রেখে কথা বলেন। অনেকে আবার অতিরিক্ত ঝুঁকে বসে দীর্ঘ সময় ধরে মেসেজ পাঠাতেই থাকেন। চিকিৎসকের কথায় এভাবে অতিরিক্ত সময় ধরে ফোনে ঘাড় গুঁজে বসে থাকলে অল্প বয়সেই আর্থরাইটিসের কবলে পড়তে হতে পারে।

* গবেষকেরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোন থেকে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গ মস্তিষ্কের ক্যানসারের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষ এবং কলাও এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। গবেষকদের দাবি, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

*শুধুমাত্র স্মার্টফোনই নয়, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, ডেস্কটপের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাটি দেখা যায় তা হল অনিদ্রা। ঘুমোতে যাওয়ার আগে যাঁদের এই ধরণের গ্যাজেট ব্যবহার করার অভ্যাস রয়েছে, তাঁদের ঘুমের মারাত্মক রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যা পরবর্তী পর্যায়ে গিয়ে স্লিপিং ডিসঅর্ডারে পরিণত হতে পারে।

* সর্বশেষ এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি বলা খুব দরকার তা হল, আপনার স্মার্টফোনে রয়েছে একটি টয়লেট সিটের থেকেও বেশি জীবাণু। বিশ্বাস না হলেও এটাই সত্যি। গবেষকরা বলছেন, টয়লেট সিটের চেয়েও ৭ গুণ বেশি নোংরা হল মোবাইল ফোন। প্রতি মুহূর্তে প্রায় অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে আপনার মোবাইল ফোনটিতে। বিশেষত অনেকেই চামড়ার খাপে রাখেন মোবাইল ফোন, আর তার জন্যই এত বেশি ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে মোবাইলে।

সুতরাং এর পর থেকে অতিরিক্ত মাত্রায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার আগে সাবধান।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.