রাজ কপূরের বাড়িতে কোনওদিন হোলি খেলতে যাননি দেব আনন্দ…কেন?

নিশ্চয়ই বড় রকমের ঝগড়া ছিল দু’জনের মধ্যে! তাই সারা বলিউড ওই দিন রাজ কপূরের আর কে ষ্টুডিও-তে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকলেও দেবকে একবারও দেখা যায়নি|

কারণ জানার আগে আসুন আগে জেনে নিই কবে থেকে কীভাবে দোল খেলা শুরু হয় রাজ কপূর পরিবারে| আর কে ষ্টুডিও-র প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বীরাজ কপূরের আমল থেকে বলিউডের সবাইকে নিয়ে দোল খেলা শুরু হয়| ষ্টুডিওর মধ্যে বিরাট চৌবাচ্চা ছিল| হোলির দিন সেটা রঙ জলে ভর্তি থাকত| যাঁরাই ষ্টুডিওয় আসতেন শুভেচ্ছা, আবির বিনিময়ের পরে প্রত্যেককে ধরে চৌবাচ্চায় ফেলে দেওয়া হত|

রঙে স্নান করার পর সবার হাতে হাতে ফিরত ভাং মেশানো সরবতের গ্লাস| ওই দিন কারা কারা আসতেন রাজের কাছে? নার্গিস, বৈজয়ন্তিমালা, হেমা মালিনী, রাজেশ খান্না, ধর্মেন্দ্র, দিলীপ কুমার, জিতেন্দ্র, রাকেশ রোশন, মনোজ কুমার, জিনাত আমান, মিঠুন চক্রবর্তী, অনিল কপূর, অমিতাভ বচ্চন, শ্রীদেবী, রাখি, রেখা, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং আরো অনেকে| রঙিন হওয়ার পর সবাই মন খুলে নাচ-গান করতেন| যেমন, একবার অমিতাভ বচ্চনকে গান গাইতে বলেন রাজ| অমিতাভের তখন খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল| তার মধ্যেও তিনি ‘রং বরষে’ গান ধরতেই গানের তালে নাচতে থাকেন সবাই| সেবারের দোল জমে গেছিল এই একটা গানেই| পরে যশ চোপড়া ‘সিলসিলা’য় দোলের দৃশ্যে অমিতাভের গলায় এই গান রাখেন|

নিমন্ত্রণ পান বা না পান, গোটা বলিউড যখন ভেঙ্গে পড়ত আর কে ষ্টুডিওয়, একজনকেই দেখা যেত না সেখানে| তিনি এভারগ্রিন দেব আনন্দ| একবারও তিনি হোলির দিন পা রাখেননি রাজের ষ্টুডিওয়| কেন? না, কোনও ঝগড়া নয়| আসলে দোল খেলতেই ভালোবাসতেন না দেব| বিশেষ করে রঙে চুবিয়ে দেওয়া নিয়ে তাঁর ভয়, আপত্তি—দুটোই ছিল| তাই কোনদিন আর কে ষ্টুডিও চত্বরে দেখা যায়নি তাঁকে| রাজ এই ব্যাপারটা জানতেন| তাই তিনিও জোর করেননি দেবকে| ১৯৮৮-তে রাজ চোখ বোজার পরেই দোলের এই ধুমধাম বন্ধ হয়ে যায় আর কে ষ্টুডিও-য়|  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.