দক্ষর ২৭ নক্ষত্র-কন্যার বিবাহ হয়েছিল চন্দ্রদেবের সঙ্গে | সাতাশ পত্নীর মধ্যে চন্দ্রদেব সবথেকে বেশি ভালবাসতেন রোহিণীকে | ফলে বাকি স্ত্রীরা অসন্তুষ্ট হন | তাঁরা বাবার কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান | মেয়েদের মনোকষ্ট দেখে খারাপ লাগে দক্ষর | তিনি ডেকে পাঠান জামাতাকে |

Banglalive

চাঁদকে বারবার বোঝান দক্ষ | দেখো বাপু‚ তুমি সব স্ত্রীকে সমান ভালবাস | রোহিণীকে বেশি ভালবাসবে‚ আর আমার বাকি মেয়ে অবহেলিত হবে আমি স্বামীগৃহে মেয়েদের অপমান সহ্য করব না | কিন্তু শ্বশুরের উপদেশ কানে গেল না চন্দ্রদেবের | তিনি আগের মতো রোহিণী-নক্ষত্রকেই প্রিয়তমা পত্নীর জায়গায় রেখে দিলেন |

অবাধ্য জামাইকে অভিশাপ দিলেন দক্ষ | বললেন‚ এ বার থেকে চাঁদের আলো ক্রমশ ম্লান হতে থাকবে | শুনে টনক নড়ল চন্দ্রদেবের | কিন্তু ততক্ষণে অভিশাপ তো দেওয়া হয়ে গেছে | নিজের আলো বাঁচাতে চাঁদ ছুটে গেলেন মহাদেবের কাছে |

সব শুনে শিব বললেন‚ দক্ষর অভিশাপ তো খণ্ডানো যাবে না | কিন্তু তিনি অন্য চেষ্টা করবেন | তিনি বললেন‚ এ বার থেকে ১৫ দিন ধরে শুক্লপক্ষে চাঁদ ক্রমশ উজ্জ্বল হবেন  | বাকি ১৫ দিন কৃষ্ণপক্ষে চন্দ্রদেব ধীরে ধীরে নিজের উজ্জ্বলতা হারাবেন | এইভাবে সব দিক রক্ষা করলেন দেবাদিদেব মহাদেব |

এদিকে কৃষ্ণপক্ষে যে-ই তাঁর উজ্জ্বলতা কমতে শুরু করল‚ চাঁদ লজ্জায় অপমানে দুঃখে কাতর হয়ে পড়লেন | মুখ লুকোতে তিনি ডুব দিলেন মহাসাগরে | কিন্তু চাঁদ না উঠলে তো মহা বিপদ ! অনর্থ হয়ে যাবে সব সৃষ্টি | শিব এগিয়ে এলেন সমস্যা সমাধানে |

চাঁদ যাতে কোনওভাবে নিজেকে লুকোতে না পারেন‚ মহাদেব কৃষ্ণপক্ষের এক ফালি চাঁদকে নিজের মাথায় ধারণ করলেন | পরে থাকলেন মুকুটের মতো | সেই থেকে মহাদেব হলেন চন্দ্রশেখর |

আগে চান্দ্রমাস অনুযায়ী সময় গণনা করা হত | চাঁদ শিবের মস্তকে থাকার অর্থ হল‚ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সময় বা কালের উপর মহাদেবের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে | এবং তিনি নিজে সময়ের ঊর্ধ্বে | তিনি চির শাশ্বত | তিনি মহাকাল |

আরও পড়ুন:  দীর্ঘ বারো বছর পরে এই প্রান্তিক দ্বীপে জন্ম হল শিশুর

NO COMMENTS