দেবতা হয়েও দেবাদিদেব মহাদেব গাঁজা-সেবন করেন কেন ?

ঈশ্বর সর্বভূতে বিরাজ করেন | তিনি সর্বশক্তিমান‚ সর্বশক্তির উৎস | হিন্দুধর্মে সর্বোচ্চ শক্তির শিখরে ত্রিদেব‚ ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর | স্বভাবতই তিনজনের মধ্যে মহাদেবকে সর্বাধিক উচ্চাসনে রাখেন শৈবকুল | তাঁদের কাছে মহাদেব বা শিবই জগতের সৃষ্টিকর্তা |

কোথাও তিনি সৃষ্টি বা প্রজননের প্রতীক রূপে লিঙ্গাবতারে পূজিত হন | কোথাও আবার তিনি প্রলয়রত তাণ্ডবময় ক্রুদ্ধ নটরাজ | কিন্তু কোথাও তিনি বাঘছাল পরিহিত বাউন্ডুলে বুঁদ হয়ে থাকেন গাঁজার নেশায় | মনে হয় না কেন এই বৈপরীত্য ? একজন দেবতাকে কেন এভাবে প্রতীয়মান করা হবে সনাতন ধর্মে ? এর পিছনেও আছে গূঢ় তত্ত্বকথা | লোকজ সংস্কৃতিতে লঘুভাবে দেখানো হলেও শাস্ত্রমতে নেপথ্য-তথ্য বেশ জটিল |

আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নেশাতুর অবস্থা হল চরম সচেতনতা বা “Supreme awareness” | জাগতিক বিষয় থেকে ঊর্ধ্বে উঠে সর্বোচ্চ সত্যের সন্ধান করা | আপাতভাবে অবচেতন মনে হলেও এই অবস্থা আসলে supreme awareness‚ কেননা তখন সাধক শাশ্বত সত্যের তপস্যায় মগ্ন | কিন্তু এর সঙ্গে সাধারণ নেশাখোড়দের গুলিয়ে ফেললে আদপে চলবে না | যদি সেটা হয় এবং বলা হয় তাহলে গাঁজাবিলাসীদের সঙ্গে ভগবানের কী তফাৎ ? তবে সেটা শাস্ত্রীয় তত্ত্বের অপব্যাখ্যা এবং অবমাননা |  

মহাদেবকে গাঁজাসেবনকারী হিসেবে দেখানো হয় কারণ তিনি সর্বোচ্চ শক্তি | সর্বোচ্চ জ্ঞানালোকে বিচরণ করেন | তুচ্ছ জাগতিকতা তাঁকে স্পর্শ করে না | নেশায় মগ্ন থেকেই সৃষ্টি করেন বিশ্ব চরাচর‚ জগৎ সংসার | আরও এক ব্যাখ্যা হল‚ গাঁজা যতই ক্ষতিকারক হোক না কেন‚ তা মহাদেবের অপকার করতে পারে না | স্পর্শ করতে পারে না তাঁর কেশাগ্রও | তিনি গাঁজা সেবন করেন | কিন্তু নেশায় বিলীন হন না | 

পরিশেষে মনে রাখতে হবে‚ সমুদ্রমন্থনের সময় উত্থিত হলাহল বা কালকূট গলায় ধারণ করে আছেন মহাদেব | সেই গরল যদি নীলকণ্ঠের ক্ষতি করতে না পারে তবে সামান্য গাঁজা বা ভাঙে কী এসে যায় ! 

(পুনর্মুদ্রিত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here