উইন্ডমিলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে সবুজায়ন – নজির গড়ছে পুনের হাউসিং সোসাইটি

palash co-op housing society

উইন্ডমিলের উইন্ডপাওয়ার দিয়ে দৈনন্দিন কাজ চালায় ওয়াকাড়-এ পলাশ হাউসিং সোসাইটি। মহারাষ্ট্রের পিম্প্রি চিঞ্চাওয়াড়ে একমাত্র এই হাউসিং সোসাইটিতেই রয়েছে উইন্ডমিল । এরা আরও কিছু পরিবেশ সহায়ক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মানুষের স্বার্থে যখন প্রকৃতি আজ বিপন্ন তখন এরকম স্বতন্ত্র পদক্ষেপ, পরিবেশ সচেতনতা সত্যিই বড় প্রশংসনীয়!

পলাশ হাউসিং সোসাইটি সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, আর্দ্র বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ, বৃক্ষ রোপণ, পাখি সংরক্ষণ, এসব নানা কাজ করছে পরিবেশ রক্ষার তাগিদে। এই কমপ্লেক্সটি তাদের পরিবেশ সহায়ক কার্যকলাপের জন্য ফাইভ স্টার রেটিং পেয়েছে। পিম্প্রি চিঞ্চাওয়াড় পুরসভার মধ্যে যে ক’টি হাউসিং সোসাইটি পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পলাশ হাউসিং কমপ্লেক্স তার মধ্যে অন্যতম। ওয়াকাড়ের এই হাউসিং সোসাইটিতে রয়েছে ৮টি বিল্ডিং এবং ২৯৫ টি ফ্ল্যাট। ২০০৮ সাল থেকে লোকজন বসবাস করছে, সোসাইটি তৈরি হয় ২০১২ সালে।

প্রতিটি বিল্ডিং-এর ওপরে ২ থেকে ৩ কিলো ওয়াটের উইন্ডমিল বসিয়েছেন ফ্ল্যাটবাসিন্দারা। মোট ১২ খানা উইন্ডমিল রয়েছে যার জন্য খরচ পড়েছে ১২ লাখের মত। এই উইন্ডমিলগুলি ডিসি কারেন্ট উৎপন্ন করে, যেগুলি ব্যাটারিতে সঞ্চয় করে সেগুলি ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি কারেন্টে পরিবর্তিত করে তা দিয়ে আলো জ্বালানো হয় কমন প্যাসাজ, পোডিয়াম বা বাইরের খোলা জায়গাগুলিতে। ৪০ থেকে ৪৮ ইউনিট বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে এই উইন্ডমিলগুলি।

সোসাইটির চেয়ারম্যান কিরণ ভারগামা জানান, ‘প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ব্যাটারিগুলি পাল্টাতে হয়, যার জন্য ১৪-১৫ লাখ টাকা খরচ পড়ে। এই হাউসিং-এ সোলার প্লান্ট বসেছে যা বিদ্যুৎকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারে। ৬৬ কিলো ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করতে সক্ষম এই সোলার প্যানেল। ‘পুরো সোসাইটিতে এলইডি লাইট লাগানো হয়েছে যাতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যায়। আমাদের প্রতি মাসে ২ লক্ষ টাকা বিদ্যুতের বিল আসে। কিন্তু আমাদের দিতে হয় এক থেকে দেড় লাখ মাত্র। বাকিটা ছাড়, কেন না আমরা আমাদের বাড়তি বিদ্যুৎ মহারাষ্ট্র স্টেট ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি – এমএসইডিসিএলকে যোগান দিই । তার মানে মাসে প্রায় আশি হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে আমাদের। এই টাকা আমরা সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে লাগাব’ জানান ভারগামা।

বৃষ্টির জল সংরক্ষণের কাজটি শুরু হয়েছে ২০১৩ সাল থেকে। ‘আমাদের প্রতিদিন প্রায় ২.২ থেকে ২.৩ লিটার জল লাগে, কিন্তু আমরা পিসিএমসি থেকে পাই মাত্র ২৭,০০০ লিটার জল। বাকিটা বাইরের বোরওয়েল থেকে টানতে হয়। সোসাইটির ভেতরে একটি কুয়োও রয়েছে। এসটিপি থেকে রিসাইকেল করা জল আমরা বাগানের জন্য ব্যবহার করি। সোসাইটি থেকে ২৯৫টি ফ্ল্যাটের প্রতিটি জলের কলে এয়ারেটর দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে যা জল সংরক্ষণেও সাহায্য করছে’ জানান সোসাইটির চেয়ারম্যান। প্রায় ১৬০০ টি গাছ লাগানো হয়েছে সোসাইটিতে। সবুজের এত সমারোহে ফ্ল্যাটবাসিন্দারাও বড় খুশি। তাদেরই একজন এনভিয়ার রাজু জানিয়েছেন, ‘এখন আর হাঁটতে রাস্তায় বেরতে হয় না, সোসাইটির ভেতরেই এত সবুজ !’ ভেজা বর্জ্য জমিয়ে পচিয়ে গাছের জন্য সার তৈরি করেন তারা। কিছুটা নিজেদের সোসাইটির গাছপালার জন্য ব্যবহার করেন তাঁরা আর কিছুটা কৃষকদের বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ‘২০১৬ সাল থেকে এই আর্দ্র বর্জ্য রিসাইকেল ব্যবস্থাপনার কাজটি শুরু হয়’, জানান ভারগামা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.