গলনাঙ্ক

199

সে মাথা নিচু করে বসে আছে, সামনে নামিয়ে রাখা পানপাত্রে কয়েকটা চুমুক দিল রানী, এবং যশ খুব বেশী কনসার্ন তোমার ব্যাপারে, জানে বেশি খোঁচালে তুমি পছন্দ করবে না তাই বলতে পারে না কিছু, আমাকে বলছিল স্ক্রিপ্টের জন্য একটা বড় টাকা তো তুমি আলাদা করে পাবেই তাছাড়াও ছবি ফ্লোরে গেলে তোমার মান্থলি রেমুনারেশনটা বাড়িয়ে দিতে | ছবি শুরু হতে হতে তোমার ডিগ্রি-ফিল্মও শেষ হয়ে যাবে বোধহয় তাই না? গর্বী, এসব মানুষ এমনি এমনি কারও জন্য ভাবে না — জড়িয়ে যায় বলেই ভাবে! তোমার বাবা, মা‚ অভিভাবক বলতে কেউ নেই, বন্ধুর ফ্ল্যাটে থাকো, সে আজ এ শহরে আছে কাল অন্য শহরে শিফট করে যাবে‚ তখন তুমি কি করবে, কোথায় থাকবে? টাকাপয়সার একটা ব্যাক আপ তো থাকা দরকার!’

তার কান ঝাঁ ঝাঁ করছে, মাথা ঝিমঝিম করছে, সে বলে উঠল, ‘ চুপ করো, চুপ করো তুমি রানী, আমি আর শুনতে পারছি না!’

‘ দাঁড়াও গর্বী! আমি তোমাকে হার্ট করতে চাইনি | কোন কথাটা তোমার খারাপ লাগল আমাকে বলো? যশ তোমাকে ভালবাসে এটা কি একটা খারাপ কথা হল?’
সে চুপ করে বসে রইল, এই মুহূর্তে এখান থেকে চলে যেতে ইচ্ছে করছে তার, রাত প্রায় বারোটা, গেস্টরা সকলে ডিনার নিতে শুরু করে দিয়েছে, যোধপুর পার্ক ফেরাটা তেমন কোনও বড় প্রবলেম নয় কিন্তু যশকে বলে যেতে হবে এবং যশের সামনে দাঁড়ানো মাত্র যশ বুঝে যাবে কিছু একটা ঘটেছে | সে এসব চায় না, তার থেকেও বড় যশের সামনে এখন দাঁড়াতে ইচ্ছেই করছে না গর্বীর্ | রানী বলল‚ ‘অর ইউ ওকে?’
‘আই আম ফাইন!’
‘ একটা কথা শোনো,’ আমার তোমাকে এসব বলার কথাই নয় | আমি বুঝতে পারছি কথাটা তোলা আমার পক্ষে ভুল হয়েছে | যশ যখন তোমাকে বলেনি তখন…’ রানী আফশোসসূচক শব্দ করল মুখ দিয়ে, ‘তুমি খুবই বুদ্ধিমতী মেয়ে, বেটার তুমি ভুলে যাও এসব | একবার ওয়াশ রুমে যাও, মুখটা ধুয়ে এসো, তোমাকে কেমন দেখাচ্ছে একটা, টেরিফায়েড!’
সঙ্গে সঙ্গে রঘুবীর চৌধুরীকে মনে পড়ল গর্বীর | কাল সন্ধেয় দেখা নীল বাদুরের মতো মুখ! সে ছুটে গেল টয়লেটে, যক্ষের মতো চেষ্টা করল নিজেকে আগলাতে এবং যদিও সে এটা করতে চায়নি কক্ষণো তবু মগজের ভেতর এক পলাতকবৃত্তি এমন গোলকধাঁধাঁ তৈরি করল যে সে টয়লেট থেকে বেরিয়ে পৌঁছে গেল যশমাল্যর বেডরুমে, সেখানে পড়ে থাকা নিজের ঝোলাটা তুলে নিল, লিফট ধরে নামল নিচে, দারোয়ান গেট খুলতে সময় নিল একটু, ট্যাক্সি ধরতে গেল আরও কিছুক্ষণ — পনেরো মিনিটের মধ্যে সে পৌঁছে গেল যোধপুর পার্ক আর ট্যাক্সি থেকে নামতে নামতেই তাদের বিলিডিং-এর বন্ধ গেটের পাশে গাছের নিচে কিসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল রঘুবীর চৌধুরীকে! যারপরনাই বিস্মিত গর্বী জানতে চাইল ‘রঘুবীরদা আপনি?’
রঘুবীর চৌধুরী বললেন, ‘গর্বী, তোমার ফোন নাম্বারটা একটু দেবে আমাকে?’

সাহানার ঘূর্ণিপাক আর গর্বীর মধ্যবিন্দু

কাল দোল, আজ এই অপরাহ্নে ইউনিভার্সিটির ভেতরে মহোদ্যমে চলছে রং খেলা | যে যাকে পাচ্ছে রং মাখাচ্ছে | ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছেলেগুলোর বিশেষ টার্গেট আর্টস ডিপার্টমেন্টের মেয়েরা | ডিপার্টমেন্ট থেকে বেরোতে না বেরোতে গর্বীর সারা গায়ে, মাথায় লাল, হলুদ, বেগুনি রং লেগে গেল | ছোটোছুটি‚ দৌড়োদৌড়িতে মুখরিত ক্যাম্পাস | মধুজার বয়ফ্রেন্ড এসেছে ইনোভা চালিয়ে, সঙ্গে দুটো অস্ট্রেলিয়ান মেয়ে | তারাও রং মাখছে, ছবি তুলছে | যদিও অনুভব তাদের তুলনায় বয়েসে বেশ একটু বড়, খুব বড় চাকরি করে তবুও অনুভবের সঙ্গে গর্বীদের সকলেরই ফাটাফাটি র্যাপো | এখন ও-ই গাড়ি চালিয়ে সবাইকে নিয়ে যাবে আশুতোষ | সেখানে চন্দ্রিল, তিতিক্ষারা আছে — টিম ‘ক্যারাভান’, আশুতোষে এক প্রস্থ রং মাখামাখির পর যাওয়া হবে প্রেসিতে | রক্তিমের গার্লফ্রেন্ড গার্গী রয়েছে ওখানে | মৈনাক, অর্ক-এরাও আছে | এরাও ‘ক্যারাভান’-এর সদস্য | ভাং খাওয়ার প্ল্যান প্রেসিতে গিয়ে | খবর আসছে ওখানেও পুরো মাত্রায় শুরু হয়ে গেছে রং খেলা |

গর্বী এক্ষুনি যাচ্ছে না রিপনদের সঙ্গে | সে ওদের সাড়ে পাঁচটার মধ্যে জয়েন করবে প্রেসিতে | কোথায় যাচ্ছে, কি কাজ — বলেনি রিপনদের | আওয়াজ খেতে হবে | যশমাল্য আজ চলে যাচ্ছে বিদেশে | রাতের ফ্লাইট | একবার দেখা করতে চায় যশ বেরিয়ে পড়ার আগে | সকালে যেতে পারেনি গর্বী, সেমেস্টার এসে গেল, এখন ক্লাস বাঙ্ক করতে চায় না সে | বন্ধুদের যদি সে বলত দোলের সেলিব্রেশন থেকে কেটে পড়ে যশমাল্যর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে তাহলে বন্ধুরা তীব্র ভাষায় ভৎসনা করত তাকে, বলত, ‘যশমাল্য বিদেশ যাচ্ছে‚ তাতে তোর কী? তুই কি ওর কপালে দই, চন্দনের ফোঁটা লাগাবি গিয়ে?’

রক্তিমরা এখন প্ল্যান করছে কাল কার বাড়িতে মোচ্ছবটা হবে | ভাং, গাঁজা, মদ — কার বাড়িতে কোন কিছুতেই আপত্তি উঠবে না! স্মৃতিচারণাও হয়ে গেল একটু | গতবছর চন্দ্রিলের মা দুর্দান্ত বিরিয়ানি রেঁধে খাইয়েছিলেন সবাইকে | এবার যে কোন আক্কেলে মাসিমা শান্তিনিকেতন চলে গেলেন! শেষ অব্দি স্থির হল অনুভবের বাড়ির ছাদে নিজেরা রান্না-বান্না করে খাওয়া হবে | মধুজা বলল, ‘সবাই কন্ট্রিবিউট করো, আমার বয়ফ্রেন্ডের ঘাড় ভেঙে ফূর্তি করা চলবে না!’ এ কথায় গর্বীসহ সবাই সমস্বরে আপত্তি জানাতে লাগল | গর্বীর একটুও ইচ্ছে করছিল না বন্ধুদের ছেড়ে যেতে — তার বা তাদের জীবনে ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটির বন্ধুরা, আড্ডা দেওয়া, পত্র-পত্রিকা বার করা, ডোপ করা, ছবি তৈরির স্বপ্ন দেখা সবাই মিলে — এগুলোর তূল্য আকর্ষণীয় আর অন্য কিছুই নেই!

দলটাকে এরকম এড়িয়েই বেরিয়ে এল সে ক্যাম্পাস থেকে, এবং চার নম্বর গেটের কাছে পৌঁছে দেখল তূনীরা, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা, বিস্কুট খাচ্ছে! মুখটা বেশ খুশি খুশি | রং টং মেখেছে প্রচুর | এই কদিন তূনীরের সঙ্গে একবারও কথা বলেনি গর্বী! ইউনিভার্সিটিতে মুখোমুখি পড়ে গেলে সরে গেছে সামনে থেকে, ফোন করলে ফোন কেটে দিয়েছে! এমনি এমনি গর্বী রেগে যায়নি তূনীরের ওপর | সেই রাতে যদিও সে নিজেই ডেকেছিল তূনীরকে কিন্তু তারপর তূনীরের তাণ্ডবে অস্থির হয়ে রাত তিনটে নাগাদ বাধ্য হয়েছিল ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে | আঁচড়ে, কামড়ে একশেষ করছিল তাকে তূনীর | বাধা দেওয়ার হাজার চেষ্টা করেও সামলাতে না পেরে শেষমেষ নিজের শরীরের সব শক্তি একত্র করে একটা থাপ্পড় মারে সে, বলে, ‘বেরিয়ে যা তূনীর!’ কনডোমটা খুলে তার মুখের ওপর ছুঁড়ে মেরে জামাকাপড় পরে বেরিয়ে যায় তূনীর |

তূনীরকে দেখে ট্র্যাফিকের তোয়াক্কা না করে দ্রুত রাস্তা পার হতে চেষ্টা করে গর্বী! কিন্তু তার আগেই ডিভাইডারের কাছে তাকে ধরে ফেলে ছেলেটা এবং জোর করে তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বুকের মধ্যে প্রায় পিষে ফেলে লাল আবীর দিয়ে ঘষে দেয় গর্বীর মুখ, মাথা, ঘাড়, গলা, টপটা টেনে ধরে হুড়মুড় করে বুকের ভেতর ফেলে দেয় মুঠো ভর্তি রং | তারপর সে কিছু বলার আগেই হালকা ধাক্কা মেরে ছেড়ে দেয় তাকে | যেমন এসেছিল তেমনই ফিরে চলে যায় কাঁধ উঁচু করে যেন কিছুই ঘটেনি |

সকলের চোখের সামনেই ঘটে যায় এসব! রাগ এবং হতাশার মধ্যে গর্বী দেখে চার নম্বর গেটের সামনের যাবতীয় লোকজন এদিকেই তাকিয়ে আছে | বাস এবং গাড়িগুলো থেকেও লোকজন তাকেই দেখছে | বাইকে চড়ে বেরিয়ে যাওয়া দুটো ছেলে তাকে আওয়াজ দিয়ে গেল | হাত নাড়ল! দূরে দাঁড়িয়ে তখন হাসছে তূনীর | না, সে কিছুতেই হেরে যাবে না তূনীরের কাছে — পুরো বিষয়টাকে নস্যাৎ করে দেওয়ার মত করে হাসল গর্বী তূনীরের দিকে তাকিয়ে | তারপর উঠে পড়ল একটা চলন্ত বাসে |

সাদার্ন এভিনিউ পৌঁছে গর্বী দেখল প্যাকিং ট্যাকিং সব শেষ — নেট খুলে বসে লোকজনকে মেল টেল পাঠাচ্ছে যশমাল্য | তাকে দেখে বলল, ‘বাহ, রং মেখে তোকে তো দারুণ দেখাচ্ছে!’ মিউজিক সিসটেমে ঋতু গুহ’র ‘আহা, তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা’ বাজছে! গানটা পুরো শুনে গর্বী টয়লেটে গেল | জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করল আবীর, টপটা একদম নষ্ট হয়ে গেছে | তূনীরের আবির মুখেও ঢুকে গেছিল তার | কিচকিচ করছে মুখের ভেতরটা | টয়লেট থেকে বেরিয়ে কিচেনে জিনিসপত্র নাড়াচাড়ার শব্দ পেয়ে গিয়ে সে দেখল যশমাল্য কফি বানাচ্ছে | ‘একি, ধুয়ে ফেললি কেন??<' তার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল যশ, 'আমি ভাবলাম ছবি তুলব!' এই প্রশ্নের কোনও উত্তর না দিয়ে গর্বী জানতে চাইল, 'তুমি লাঞ্চ খাওনি? নাকি বেরিয়েছিলে?' কিচেন ঝকঝকে পরিষ্কার দেখেই প্রশ্নটা বেরিয়ে গেল তার মুখ থেকে | 'নাহ, খাওয়াই হয়নি!' 'কিছু বানিয়ে দেবো?' 'ফ্রিজ খালি করিয়ে দিয়েছি | এতদিন থাকব না |' 'রবিদাকে দিয়ে আনিয়ে নিতে পারতে |' 'খেয়াল হয়নি!' এই সব সাধারণ কথাবার্তার মধ্যেই দুজনে কফি হাতে ফিরে এল স্টাডিতে | যশ তাকে ম্যানুস্ক্রিপ্টের প্রিন্ট দিল একটা | 'একটু দেখিস, ছোট ছোট ত্রুটিগুলো মার্ক করে রাখিস!' মাথা নেড়ে প্রায় দুশো পাতার স্ক্রিপ্টটা ঝোলায় ঢোকালো সে | 'রানীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখিস | মেল করব তোকে | ফোনও করতে পারি, অসুবিধা নেই!' 'ওক্কে! সাবধানে যেও, এয্ান্ড টেক কেয়ার অফ ইওরসেল্ফ!' সে উঠে পড়ল বেরোবে বলে এবং যশ ডাকল তাকে, 'গর্বী?' 'বলো!' 'ফিরে এসে আমার তোর সঙ্গে কিছু কথা আছে!' সে তাকিয়ে রইল যশমাল্যর দিকে | 'তুই কি অন্য কোন প্রডাকশন হাউস জয়েন করার চেষ্টা করছিস?' 'না, সেরকম কিছু না তো | তবে আমার কাছে একটা ন্যাশনাল নিউজ চ্যানেল জয়েন করার অফার আছে | সেটা করলেও ডিগ্রি শেষ হওয়ার পর | কিন্তু সেক্ষেত্রে দিল্লি চলে যেতে হবে‚ হুইচ আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু, কলকাতা ছাড়ার কোনও ইচ্ছে নেই আমার!' 'যাস না! এই ইউনিটটা ছাড়িস না! কাজ শেখার এত বড় সুযোগ তুই কোথায় পাবি?' চোখ ছোট করে এক চিলতে হাসল গর্বী | 'আমি আশা করছি এই প্রডাকশনটা শেষ না হওয়া অব্দি ইউ আর নট গোয়িং টু মুভ আউট!' 'সে প্রশ্ন নেই যশ!' 'আর একটা কথা, তুই কি রঘুবীর চৌধুরীর বাড়ি যাস আজকাল খুব?' 'হ্যাঁ! কেন?' 'রঘুবীরদা সম্পর্কে একটু সাবধান থাকিস গর্বী! লোকটা কিন্তু অপ্রকৃতস্থ | সাইকোসিস আছে রঘুবীরদার | রানীকে জিজ্ঞেস করিস | রানীর বন্ধু প্রিয়দর্শিনীর বোন অলিভিয়াকে শেষ অব্দি ওরা বিদেশে পাঠিয়ে দিল রঘুবীরদার হাত থেকে বাঁচাতে | এরকম হিস্ট্রি আরও অনেক আছে, তুই কিছু শুনিস না চারপাশ থেকে?' 'আমি জানি ফিল্ম স্টাডিজের একটা মেয়ে সুইসাইড করেছিল রঘুবীরদার জন্য! এবং সবাই জানে এবং আমিও দেখেছি উনি মেয়েদের সাধারণত এড়িয়ে চলেন!' 'তুই মেয়ে নোস?' 'হুঁ!' 'তাহলে? তার মানে যাদের এড়িয়ে যেতে চায় রঘুবীরদা তাদেরই এড়িয়ে যায়, আর যাকে মনে ধরে...!' একটু থামল যশ, 'তার ওপর ভর করে লোকটা!' 'যশ আমি তোমাকে কখনও এভাবে কথা বলতে শুনিনি কারও সম্পর্কে!' 'শোন, তোর কথা শুনতে খারাপ লাগছে কিন্তু...,' রিভলভিং চেয়ারে মাথাটা ঝুলিয়ে দিল যশ, 'কিন্তু এটা নিয়ে আমি ওয়ারিড গর্বী, ওয়ারিড!' 'তুমি কি তোমার ইউনিটের সবার সম্পর্কেই এত ওয়ারিড যশ? তুমি কি তোমার ইউনিটের প্রত্যেকটা লোক কে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে সে বিষয়ে খবর রাখো? তুমি তোমার ইউনিটের সবাইকেই এই ভাবে ধরে রাখতে চাও? কই প্রজ্ঞা যখন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া জয়েন করল ওকে তো তুমি আটকাওনি?' 'এই সব কথাই অলোচনা করব আমরা, ফিরে আসি | আর শোন, ধমকাস না আমাকে, চার্জ করিস না, আমি কি ভাবে ভাবব সেটা আমার স্বাধীনতা, তাই না?' 'আমিও কি ভাবব, কি ভাবে চলব সেটা আমার ব্যাপার |' 'তূনীর নামের ছেলেটার সঙ্গে তোর মেলামেশা নিয়ে কিন্তু অমি কখনও মাথা ঘামাইনি!' 'তুমি মাথা ঘামানোর কে?' জোর গলায় বলে উঠল গর্বী | এবং যশও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠল, 'রঘুবীর চৌধুরীকে নিয়ে আমি কেন মাথা ঘামাচ্ছি এটা বোঝাবার জন্য বললাম তোকে কথাটা! তুই যার সঙ্গে খুশি মেশ না, ঘোর, বেড়া, শো - আমার বলার কিছু নেই গর্বী!'আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না সে, একবারও পিছন ফিরে তাকাল না, বেরিয়ে এল বিল্ডিংটা থেকে | একটা বাস ধরে নামল কালীঘাটে | টিকিট কেটে উঠে বসল মেট্রোয় | কলেজ স্ট্রীট পৌঁছতে প্রায় ছ'টা বেজে গেল তার | মেজাজটা তখনও খিঁচিয়ে আছে, তেতো হয়ে আছে মনটা | কিন্তু তা সত্ত্বেও তার যশমাল্যর ওপর খুব একটা রাগ হচ্ছে না | পার্টির রাতে কাউকে কিছু না বলে চলে আসার পর সে নিজের বাড়ির সামনে আবিষ্কার করে রঘুবীর চৌধুরীকে | রঘুবীর নাম্বার নেয় তার - ফোন নাম্বার | সে জিজ্ঞেস করে, 'এত রাতে হঠাৎ আমার ফোন নাম্বারটা নেওয়ার দরকার পড়ল কেন রঘুবীরদা?'

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.