দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিরলেন প্রায়-কোমা অবস্থান থেকে

508

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯১ সালে। ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন বত্রিশ বছর বয়সী মুনিরা আবদুল্লা। আরব আমিরশাহীর বাসিন্দা তিনি। গাড়িতে করে স্কুল থেকে ছেলে তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে ওমর ওবেয়ার-কে নিয়ে ফিরছিলেন। পথে বাসের সঙ্গে তার গাড়ির সংঘর্ষ হয়। মায়ের কোলে থাকায় কোনও আঘাত পায়নি ওমর। দুর্ঘটনার ফলে মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে চেতনাহীন হয়ে পড়েন মুনিরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় থেকেই মুনিরা আবদুল্লাহ চেতনাহীন অবস্থাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । পরবর্তীকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁর অবস্থাকে চিকিৎসকরা ‘ভেজিটেটিভ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। পরে আবার মুনিরাকে আরব আমিরশাহীতে ফিরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। একটি টিউবের মাধ্যমে খাবার খাইয়ে তাকে জীবিত রাখা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ওই অবস্থাতেই তাঁর ফিজিওথেরাপি চলছিল যাতে করে শরীরের মাংসপেশীগুলো ভাল থাকে। ২০১৭ সালে এক সরকারি অনুদানের অর্থে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জার্মানিতেও। সেখানে মুনিরার কিছু অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ওষুধও প্রয়োগ করা হয়, যাতে করে চেতনাহীন অবস্থা থেকে তাকে জাগিয়ে তোলা যায়।


চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ চেতনাহীন বা কোমা স্টেজে তিনি না থাকলেও, বাস্তবিক অবস্থায় বিশেষ ফারাক ছিল না। হাত-পা নড়ত না, চোখের মণি স্থির, কথা বলা বা সাড়া দেওয়াও বন্ধ ছিল। একমাত্র তীব্র ব্যথার অনুভূতিতে তাঁর সাড়া মিলত। মুনিরা আবদুল্লার ছেলে ওমর ওয়েবার বলছেন, ‘আমি কোনওদিন আশা ছাড়িনি, আমি জানতাম একদিন মা জেগে উঠবে।’

২০১৭ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে মুনিরার। দীর্ঘ আঠাশ বছর পর চেতনা ফিরে পেতে শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে আওয়াজ ফিরে পান। বর্তমানে অনেকটাই সচেতন মুনিরা আবদুল্লা। আপাতত আবুধাবিতে পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ভাবেই রয়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসা চলছে তাঁর।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.