মেলবোর্নকে ছাপিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে ভারতের মাটিতে

593

ভারতীয় ক্রিকেটের বেশকিছু ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়াম। বহু ইতিহাস ও আবেগ জড়িত এই মোতারা স্টেডিইয়ামের মুকুটে খুব শীঘ্রই যোগ হবে নতুন পালক। নতুন করে তৈরি হচ্ছে এই স্টেডিয়াম। তার জন্য কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে জোর কদমে। জানা গিয়েছে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হয়ে গেলে মোতেরাই হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

* ২০১১ সাল পর্যন্ত মোতেরায় ২৩টি ওয়ান ডে ম্যাচ হয়েছে। ক্রিকেটের ইতিহাসে বহু ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এই স্টেডিয়াম। ১৯৮৭ সুনীল গাভাস্কর তাঁর দশ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন এই মোতেরা স্টেডিয়ামেই। এর অনেক পরে ১৯৯৯ সালে শচীন তেন্ডুলকর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিশতরান করেছিলেন এই স্টেডিয়ামের বাইশ গজেই।

* এই স্টেডিয়াম রক্ষণাবেক্ষণের ভার যাদের ওপর, সেই গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জিসিএ)-এর তরফে জানানো হয়েছে, মেলবোর্নের ক্রিকেট মাঠের চেয়েও বড়মাপের হতে চলেছে এই মোতেরা স্টেডিইয়াম।

*গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পরিমল নাথওয়ানির কথায়, আসন সংখ্যার বিচারে বিশ্বের সবথেকে বড় স্টেডিয়াম হল মেলবোর্ন। সেখানে ১ লাখ ২৪ জন দর্শক বসে খেলা দেখতে পারেন।

* এতদিন মোতেরাতে ৫৪ হাজার দর্শক একসাথে বসে খেলা দেখতে পারতেন। কিন্তু পুনর্নির্মাণের পর মোতেরা স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যা বেড়ে হবে ১.১ লক্ষ। তাই বোঝাই যাচ্ছে মোতেরাই হতে চলেছে বিশ্বের সবথেকে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

* আগামী দু’বছরের মধ্যেই এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছাপিয়ে যাবে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে। গত সোমবার থেকে শুরু হয় মাঠ ও গ্যালারি ভাঙার কাজ। স্টেডিয়ামের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় দু’বছর। এই দু’বছরে স্টেডিয়াম তৈরি করতে খরচ হবে আনুমানিক ৭০০ কোটি টাকা। যদিও খরচের বাজেট আরও বেশি।

* গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পরিমল নাথওয়ানি আরও জানান যে, আন্তর্জাতিক মানের আরও নানা ব্যবস্থা রাখা হবে এই স্টেডিয়ামে। প্রায় ৬৩ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামে থাকবে ৫০টি ঘর, ৭৬টি কর্পোরেট বক্স, চারটি ড্রেসিং রুম, বড় একটি ক্লাব হাউজ, অলিম্পিকের মতো একটি বৃহদাকার সুইমিং পুল, ইনডোর ক্রিকেট ট্রেনিং অ্যাকাডেমি, প্রায় ৩০০০ চার চাকার গাড়ি এবং ১০,০০০ দু’চাকার গাড়ি রাখা যাবে, এমন পার্কিং লট । দেশের সব থেকে বড় নির্মান কোম্পানীকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগেই এই ব্যবস্থা। যেখানে গুরুত্ব দেওয়া হবে ‘স্টেট অব আর্ট ক্লাব ফেসিলিটি’কে।

* বলা বাহুল্য এই স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার পর গুজরাট হয়ে উঠবে বিদেশি এবং দেশি পর্যটকদের অন্যতম পীঠস্থান। কারণ গতবছর অক্টোবরেই গুজরাটের মাটিতে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’র উদ্বোধন হয়েছে, যেখানে দৈনিক প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সমাগম হয়।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.