বিশ্বের কিছু কুখ্যাত কারাগার যেখানে বেঁচে থাকাটাই নির্মম শাস্তি

এমন কয়েকটি কারাগারের খোঁজ সেখানে, বেঁচে থাকাটাই শাস্তি!

* এডিএক্স ফ্লোরেন্স কারাগার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- এই কারাগারে সেদেশের হাই-প্রোফাইল কুখ্যাত বন্দিদের কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। এই কারাগার কর্তৃপক্ষের কথায়,  মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে বন্দিদের শাস্তি দেওয়া হয়। এই কারাগারের ঘরগুলিতে মাত্র ৪ ইঞ্চির একটি করে জানলা রয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র এক ঘণ্টা সময়ের জন্য বন্দিরা বাইরে বেরোতে পারে। দু’জনের বেশি বন্দির একসঙ্গে বসে কথা বলার অনুমতি নেই। অসম্ভব কড়া নিরাপত্তা এবং নিয়ম-শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার জন্য মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রতি বছরই বহু বন্দি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

*  সাবানেতা কারাগার, ভেনেজুয়েলা-  ভেনেজুয়েলার কারাগারগুলোর মধ্যে সাবানেতা কারাগার ভয়ঙ্করতম। মাত্র ৭০০ জন বন্দি রাখার মতো পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এই কারাগারে। কিন্তু, এখানে বন্দির সংখ্যা ৩,৭০০রও বেশি! ঘিঞ্জি, নোংরা আর বিপদজনক এই কারাগারে প্রতি ১৫০ জন আসামীর জন্য কারারক্ষী রয়েছে মাত্র ১ জন ! ফলে বন্দিদের রক্তারক্তি এমনকী খুনোখুনি হলেও রক্ষীদের নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা ছাড়া কোনও উপায় নেই।

* লা সান্তে, ফ্রান্স-  ফ্রান্সের এই কারাগারটিকে বলা হয় নরকের গর্ত। আক্ষরিক অর্থেই একে নরকের গর্ত বলা যেতে পারে, কারণ এই কারাগারের জনাকীর্ণ সেলগুলোর অবস্থা ভয়ঙ্কর। আর এই কারাগারের সেলগুলি ইঁদুর আর পোকামাকড়ে ভরা। যে কোন সুস্থ মানুষও এই কারাগারের মধ্যে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়বে। লা সান্তে কারাগারটি এমন একটি নির্মম স্থান হিসাবে পরিচিত, যেখানে অনেক বন্দি আত্মহত্যা করে নিজের জীবন দিয়েছেন।

* পেটাক আইল্যান্ড কারাগার, রাশিয়া- বিশ্বের অন্যতম অমানবিক কারাগার হল, পেটাক আইল্যান্ড কারাগার। এখানে বন্দিদের সারাদিনে মাত্র দেড় ঘণ্টার জন্য কারাগারের বাইরে বেরোনোর সুযোগ থাকে। বাকিটা সময় কাটে পাখির বাসার মতো ছোট্ট ঘরে, যেখানে দু’জন মানুষও ঠিকভাবে থাকতে পারে না। সপ্তাহে মাত্র একদিন স্নানের সুযোগ পাওয়া যায়। এই কারাগারে কিছুদিন বন্দি হিসাবে থাকার পরেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বন্দিরা। তাই এই কারাগারের অন্যান্য চিকিৎসকের চেয়ে মানসিক চিকিৎসকের সংখ্যাই বেশি। আর কেউ যদি কারাগারের ভিতর নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তাহলে তাকে ১৫দিন টানা একটা অন্ধকার কুঠুরিতে দিন কাটাতে হয়।

* রিকার্স আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম কারাগার হল রিকার্স আইল্যান্ড। এখানে মূলত স্বল্পমেয়াদী দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত  আসামি বা বিচারকার্য চলছে এমন অভিযুক্তদের রাখা হয়। এই কারাগারে অভিযুক্তদের রাখা হয় সাময়িক সময়ের জন্য। এই কারাগারে বন্দি বহু অভিযুক্ত কারারক্ষী বা অন্যান্য আসামিদের হাতে নৃশংসভাবে আহত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে, যার ফলে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

* ট্যাডমোর কারাগার, সিরিয়া-  সিরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মরুভূমিতে এ কারাগারটি অবস্থিত। কঠোর নিয়মশৃঙ্খলা, অমানবিক নির্যাতন, রক্ষীদের কাছ থেকে বিরূপ আচরণসহ নানা কারণে এখানে প্রায় প্রতিদিনই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি। শুধু তাই নয়, এ কারাগারের বন্দিদের জোটে অস্বাস্থ্যকর খাবার, পানের অযোগ্য জল। এই কারাগারের রক্ষীরা বন্দিদের প্রতি পৈশাচিক আচরণ করে থাকে।

* ব্যাং কং কারাগার, থাইল্যান্ড-  কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীদের এই কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। বেশিরভাগ বন্দিই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত। দিনে কেবল একবেলা খাবার খেতে দেওয়া হয়। এখানকার শৌচাগারগুলি এত অপরিষ্কার যে তা ব্যবহারের অযোগ্য। সেইসঙ্গে পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে। বিভিন্ন বিষাক্ত পোকার দৌরাত্ম্যে প্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকাই দায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.