বিকলাঙ্গ থেকে মৃত্যু‚ বিশ্বত্রাস বিষধরদের এক ছোবলে হতে পারে ভয়ঙ্কর ফল !

348
 টাইগার স্নেক

কথা হচ্ছে সাপ নিয়ে | সাপের অভিশাপ কত ভাবে যে নেমে আসতে পারে তা কমবেশি আমাদের সবারই জানা | আসুন ‚ বিশ্বের সবথেকে ভয়ানক ও বিষধর সাপেদের ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক |

ব্ল্যাক মাম্বা

১ ) ব্ল্যাক মাম্বা

এই সাপের মুখের ভিতরটা গাঢ় কালো রঙের হওয়ায় এদের নাম ব্ল্যাক বা কালো মাম্বা | আফ্রিকার ইথিওপিয়া ‚ কেনিয়া ‚ উগাণ্ডা ‚ জিম্বাবোয়ে ‚ কঙ্গো ও দক্ষিণ আফ্রিকার নানা অঞ্চলে পাওয়া যায় এই সাপ | একটি পূর্ণবয়স্ক মাম্বার দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ২ . ৫ মিটার | সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৪ . ৩ মিটার পর্যন্ত হতে পারে |  ক্রমাগত অনেকবার কামড় বসাতে পারে এই সংঘাতিক বিষধর সাপটি | একটা মাত্র ছোবলই প্রাণ কেড়ে নিতে যথেষ্ট | এই সাপ কামড়ানোর ৪৫ মিনিটের মধ্যে শরীরের কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে | দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে সাপে কামড়ানোর ৭ থেকে ১৫ ঘন্টার মধ্যে ঘটতে পারে মৃত্যু | ব্ল্যাক মাম্বার কামড়ে বছরে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে | এটি পৃথিবীর অন্যতম দ্রুতগামী সাপ হিসেবেও পরিচিত | শোনা যায় এদের কিছু প্রজাতি ঘন্টায় ১৯ . ৫ কিলোমিটার বেগে চলাচল করতে পারে |

র‍্যাটেল স্নেক

২ র‍্যাটেল স্নেক

এই সাপটি যাতায়াত করার সময় ঝুমঝুম করে আওয়াজ হয় যাকে ইংরেজিতে বলে র‍্যাটেল | তাই এদের নাম র‍্যাটেল স্নেক | পৃথিবীতে প্রায় ৩২ টি প্রজাতির র‍্যাটেল স্নেক রয়েছে | মুলত আমেরিকাতে এই সাপ দেখতে পাওয়া যায় |  এরা নিজেদের বিষ প্রয়োগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে | র‍্যাটেল স্নেকের বিষ হোমোটক্সিক অর্থাৎ রক্তকোষ ভেঙে দেয় | দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু একেবারে নিশ্চিত | আমেরিকায় প্রতি বছর প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ র‍্যাটেল স্নেকের কামড়ে মারা যায় |

ডেথ অ্যাডার 

৩ ) ডেথ অ্যাডার 

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অংশে দেখতে পাওয়া যায় এই বিষধর সাপটিকে | নামে থাকা ডেথ কথাটি থেকেই এই সাপটির সম্পর্কে ধারণা করা যায় | এই সাপটি ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকতে ওস্তাদ | এদের লেজগুলো দেখতে খানিকটা কীটের মত | শিকারকে নিজের আওতায় আনার জন্য এরা নিজেদের লেজটাকে ব্যবহার করে | কোনও প্রাণী যখন পোকা বা কীট ভেবে এদের লেজের কাছে আসে তখনই এরা তাদের শিকার করে | এই সাপ কামড়ালে শরীর প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে | কামড়ানোর ৬ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অনিবার্য |

ভাইপার

৪ ) ভাইপার সাপ

বিষধর এই সাপটি পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে দেখা যায় | এদের চারটে উপজাতিকে সনাক্ত করা গেছে | এদের লম্বা বিষদাঁত থাকে | অদ্ভুত ভাবে নিজেদের বিষদাঁত মুখের ভিতরে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম | আক্রমণ করার সময় এরা বিষদাঁত শিকারের ত্বকের গভীরে প্রবেশ করিয়ে দিতে পারে | এরা বিষ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে | এদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১ . ৫ মিটার হয় | ২ মিটারও হতে পারে | এরা নানা রঙের হয় | দেহে ছোপ ছোপ বা লম্বা লম্বা দাগ থাকে | এই সাপের কামড়ে রক্ত জমাট বাঁধতে থাকে এবং রক্তচাপ কমতে থাকে এবং আস্তে আস্তে মৃত্যু হয় |

ফিলিপাইন কোবরা

৫ ) ফিলিপাইন কোবরা

উত্তরঞ্চলীয় ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসী এই সাপটি নিজের বিষ তিন মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারার ক্ষমতার জন্য বিশেষ ভাবে পরিচিত | এদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১ মিটার হয় | সর্বোচ্চ ২ মিটার পর্যন্ত হতে পারে | এর বিষে থাকা নিউরোটক্সিনের ফলে পেটে ব্যথা ‚ ডায়েরিয়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ শ্বাসযন্ত্রের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়ে মৃত্যু হতে পারে |

টাইগার স্নেক

৬ ) টাইগার স্নেক

খানিকটা বাঘের মত ডোরাকাটা ধরণের দেখতে হওয়ায় এই সাপের নাম টাইগার স্নেক | এদের দৈর্ঘ্য হয় ১ . ২ মিটারের মত | হালকা রঙের ওপর গাঢ় রঙের ছোপ ছোপ দাগ থাকে এদের শরীরে | অস্ট্রেলিয়ায় এই সাপ দেখতে পাওয়া যায় | ওয়েস্টার্ন টাইগার স্নেক ‚ চ্যাপেল আইল্যাণ্ড টাইগার স্নেক‚ কিং আইল্যাণ্ড টাইগার স্নেক ‚ তাসমানিয়ান টাইগার স্নেক ‚ পেনিনসুলা  টাইগার স্নেক ইত্যাদি নানা প্রজাতির  টাইগার স্নেকের কথা জানা যায় | এর একটা কামড়ে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে | অস্ট্রেলিয়ায় টাইগার স্নেক সংরক্ষণ করা হয় |

৭ ) ইনল্যান্ড তাইপান

প্রধানত অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায় | ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে গায়ের রং পরিবর্তন করে এই সাপ | গ্রীষ্মকালে গায়ের রঙ হালকা ও শীত কালে গাঢ় হয়ে যায় | থার্মোরেগুলেশনের ফলে গাঢ় রঙ শীত কালে বেশি তাপ শোষণ করতে সাহায্য করে | দৈর্ঘ্য মোটামুটি ১ . ৮ মিটার হয় | সর্বোচ্চ ২ . ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের হতে পারে এই সাপগুলো | এদের বিষদাঁতের দৈর্ঘ্য ৩ . ৫ থেকে ৬ . ৩ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে | এই সাপ কামড়ালে এক ঘন্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে |  অস্ট্রেলিয়ায় ইনল্যান্ড তাইপানও সংরক্ষণ করা হয়
 |

ব্লু ক্রেইট 

৮ ) ব্লু ক্রেইট 

জাভা ‚ বালি ‚ ইন্দোনেশিয়া ‚ শ্রীলঙ্কা ‚ ভারত ইত্যাদি স্থানে এই প্রজাতির সাপ দেখতে পাওয়া যায় | গাঢ় বাদামি বা কালো বা কালচে নীল রঙের ওপর হলুদ রঙের ডোরা কাটা দাগ থাকে | দেখতে সুন্দর হলেও এর বিষের প্রকোপ একেবারেই কুৎসিত | এই সাপের বিষ এতটাই জোরালো যে চিকিৎসার পরেও আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায় | কামড়ানোর চার থেকে পাঁচ ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায় | এরা অন্যান্য সাপ এবং নিজেদেরই প্রজাতির ছোট সাপ খেয়ে নিতে পারে | ব্লু ক্রেইটের কামড় আদতেই নীল করে দিতে পারে আক্রান্ত ব্যক্তিকে | 

ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক 

৯ ) ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক 

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক বিষধর এই সাপটি অস্ট্রেলিয়া ‚ নিউ গিনি ‚ ইন্দোনেশিয়া সহ আরও নানা স্থানে দেখতে পাওয়া যায় | সাধারণ দৈর্ঘ্য ১ . ৫ মিটার | ২ মিটারও হতে পারে | সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ২ . ৪ মিটার | এদের গায়ের রঙ ভিন্ন ভিন্ন হয় | এরা প্রধানত ইঁদুর খায় | এরা খরগোশের আকারের জীব পর্যন্ত খেতে পারে | মানুষকে কামড়ানোর খবর খুব একটা বেশি পাওয়া না গেলেও ‚ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে তা ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে |

আফ্রিকান পাফ অ্যাডার 

১০ ) আফ্রিকান পাফ অ্যাডার 

আফ্রিকার মরোক্কো ‚ ঘানা ‚ নাইজেরিয়া ‚ সুদান ‚ কেনিয়া ‚ উগাণ্ডা ‚ সোমালিয়া ‚ বুরুণ্ডি সহ আরও নানা জায়গায় এই প্রজাতির সাপের দেখা মেলে |  সাধারণ দৈর্ঘ্য ১ মিটার | এদের ওজন হয় প্রায় ৬ কেজি | এগুলিও নানা রঙের হতে পারে | প্রায়শই খোলা জায়গায় রোদ পোহাতে দেখতে পাওয়া যায় এদেরকে | এরা মারাত্মক আক্রমণাত্মক প্রকৃতির হয়ে থাকে | বিষের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে আক্রান্তের ভবিষ্যৎ | সঠিক চিকিৎসা না হলে কোনও কোনও অঙ্গ সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যেতে পারে | এই সাপ কামড়ালে কামড়ানোর দু  তিন দিনের মধ্যে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু ঘটতে পারে |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.