জিলিপি আদৌ ভারতীয় মিষ্টি নয় !

1764

জিলিপি নাকি আদপেই ভারতীয় খাবার নয় | ইন্টারনেটের সুবাদে এও কিনা সহ্য করতে হবে !এই অপমান বাঙালি মানতে পারবে তো ? রসগোল্লাকে পেয়েছে ঠিকই | কিন্তু আড়াই প্যাঁচের জিলিপি‚ তার সত্ত্ব ছেড়ে দিতে হবে ? বাঙালির মনের প্যাঁচগুলো তো গলা ছেড়ে কাঁদবে |

আমরা এখন উইকিপিডিয়ার কথা বলি | কিন্তু সেই তেরো শতকের একটি বই ছিল‚ যার নাম কিতাব-আল-তাবিখ | খাবরা দাবারের বিশ্বকোষ বলা যায় | সেখানে আছে জিলিপির উল্লেখ | বলা হয়েছে জালেবিয়া নামে | কিন্তু তখন সেটা মধ্য এশিয়ার মিষ্টি | তার প্যাঁচ তখনও কষে উঠতে পারেনি ভারতীয়রা |

মধ্যযুগে হিন্দুকুশ পেরিয়ে ভারতে হু হু করে ঢুকলেন মুসলিম শাসকরা | তুর্কী‚ আরবীয়‚ আফগানী‚ মুঘল‚ কত ধারার মুসলিম সংস্কৃতি এসে মিশল | খাদ্যাভ্যাসও তো আলাদা থাকতে পারে না | জালেবিয়া হয়ে গেল জলেবি | এই নাম প্রথম পাওয়া যায় পঞ্চদশ শতাব্দীতে | জৈন সাধক জীনাসুরের লেখা প্রিয়ঙ্কর্ণপাককথায় | 

জল হাওয়ার সঙ্গে খাবারের উপাদানও পাল্টায় | রুক্ষ্ম পশ্চিম এশিয়ায় জালেবিয়ার উপকরণ ছিল শুধুই ময়দা | ভারতের মাটিতে তার সঙ্গে মিশল চালের গুঁড়ো‚ ময়দা‚ বেসন‚ এমনকী সিমাইও |  নামের রকম ফেরও কম নয় | জিলবি‚ জেলাপি‚ জিলিপি‚ জিলাপির‚ জহঙ্গিরি‚ পাক‚ বহু পরিচয়ে পরিচিত সে |


এশীয় ভূখণ্ডেই জনপ্রিয়তা এই মিষ্টির | সাদা বর্ণের মানুষ অত রস আর প্য্ঁচ অত ভাল আস্বাদন করতে পারেন না | ৫০০ বছর আগে যখন এই মিষ্টি তৈরি হতো‚ সুলতানি কোনও রসুইঘরে‚ এলাচ গুঁড়ো আর কেসর মেশানো ব্যাটার ভরা হতো মসলিনের পুঁটুলিতে | তারপর প্যাঁচের খেলা | কড়াই ভর্তি তপ্ত খাঁটি ঘিয়ে ভাজা হতো কাঁচা সোনার রঙের জালেবি | উত্তর বা পশ্চিম ভারতে শুধু রস হলে হবে না | সঙ্গে চাই ঘন রাবড়ির উপস্থিতি |

যেখান থেকেই আসুক না কেন‚ জিলিপি এখন আমাদের | মসলিনের পুঁটুলি নাই বা থাকল | মিষ্টির দোকানের অন্ধকার ঘরে ভুঁড়িয়াল ময়রার তেলচিটে গামছায় রাখা হাতে ধরা সুতির সাদা কাপড়ের ছিদ্র দিয়েই রচিত হয় অমৃত প্যাঁচ | সে না থাকলে জলখাবারে কচুরি-ছোলার ডালের বাসরঘর বেসুরো |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.