(Nature Color Change)
প্রকৃতির রংবদলের আদি বৃত্তান্তের বর্ণনায় নিশ্চয়ই রাখতে হবে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ক্লাসিক ভ্রমণকথা ‘পালামৌ’। আমাদের স্কুলজীবনের পাঠ্যে এই বইয়ের একটা অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল দীর্ঘদিনের জন্য। অবশ্য জনপ্রিয়তার কারণ হিসেবে এটা গৌণ, মুখ্য তার কাহিনি, আর কাহিনির ছায়ায় তৈরি হওয়া এক উপলব্ধির কায়া। সেটা কীরকম? একটা সহজ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে, লাতেহার পাহাড়ের বর্ণনার একটি অংশ।
লেখক লিখছেন, বিকেল চারটে বাজলেই এক অমোঘ আকর্ষণে তিনি ছুটে যেতেন সে পাহাড়ের কাছে। কোনও অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সম্পদ যে ছিল সে পাহাড়ের, তা নয়। কিন্তু সেই সাধারণ দর্শন পাহাড়ের রূপ বৈকালিক রোদের তেরছা আভায় এক মাতাল করা উচ্চতায় পৌঁছে যেত। আর সেই হাতছানিতে তার কাছে ছুটে যাওয়ার পাগলামোয় পেত তাঁকে। অবশ্য তিনি একা ছিলেন না। স্থানীয় বসতির কুলবধূরাও সেই একই কাজে সামিল হতেন।
আরও পড়ুন: ভ্রমি: স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড
তিনি লিখছেন, ‘এখন দেখি, এ বেগ আমার একার নহে। যে সময়ে উঠোনে ছায়া পড়ে, নিত্য সে সময়ে কুলবধূর মন মাতিয়া উঠে, জল আনিতে যাইবে; জলে যে যাইতে পারিল না, সে অভাগিনী। সে গৃহে বসিয়া দেখে উঠানে ছায়া পড়িতেছে, আকাশে ছায়া পড়িতেছে, পৃথিবীর রং ফিরিতেছে, বাহির হইয়া সে তাহা দেখিতে পাইল না, তাহার কত দুঃখ। বোধহয়, আমিও পৃথিবীর রং ফেরা দেখিতে যাইতাম।’
পাহাড় তো স্থির, সমাধিস্থ আখরমালা। মাঝেমধ্যে তার গায়ে লাগা গাছের ফাঁকে বয়ে চলা বাতাসের শিসডাক কানে আসে, কখনও তার মাথায় জমা মেঘের গুমগুম বুকে বাজে। পাখির ডাক, উড়তে থাকা মৌমাছির ডানার বোঁ-ও-ও আওয়াজ, শুকনো পাতায় কাঠবিড়ালির দৌড়ে যাওয়ার খসখস, মাঝে মধ্যে বুকচাপা নৈঃশব্দের নিস্তরঙ্গ জলস্তরে স্বল্পস্থায়ী ঢেউ তোলে। তবে এরা তো পার্শ্বচরিত্র। নায়কের শরীরে প্রাণের কোনও আপাতলক্ষণ তো মেলে না। তবু তার অবলম্বনেই সঞ্জীবচন্দ্রের জীবনবোধ এক নতুন মাত্রা পায়, যখন লাতেহারের ধূসর ক্যানভাসে পৃথিবীর রং ফেরার সন্ধান পান তিনি।

তিনি লেখেন, ‘পাহাড়ে কিছুই নতুন নাই; কাহার সহিত সাক্ষাৎ হইবে না, কোন গল্প হইবে না, তথাপি কেন আমায় সেখানে যাইতে হইত জানি না।’ এই ‘না’ কিন্তু নঞর্থক নয়। কারণ ‘কেন’-র উত্তরটি তাঁর অজানা নয়। তিনি জানতেন। তাই তারপরেই লিখছেন, ‘সেই নির্জ্জন স্থানে মনকে একা পাইতাম, বালকের ন্যায় মনের সহিত ক্রীড়া করিতাম।’
সঞ্জীবচন্দ্রের তুলনায় আমরা, যারা কি না lesser mortals, আমরা রং ফেরার ঢেউ গুনতে আয়োজনের মুখ চেয়ে থাকি। তাই গিয়েছিলাম আগস্টের স্মোকি মাউন্টেনস-এ, আমেরিকার টেনেসি প্রদেশে। ‘চেরোকি ইন্ডিয়ান’-দের আদি বাসস্থান। বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে এ অরণ্যের স্প্রুস, সেডার, মেপল গাছের ছায়ায় ছায়ায় অতিবাহিত হয়েছে তাদের বাল্য-কৈশোর, পপলার আর ম্যাগনোলিয়ার নিশ্চিন্ত নির্জনতায় উদযাপন হয়েছে তাদের যৌবনের, আর প্রবীণ বার্চের পায়ের কাছে বিকেলের সূর্যের মরা আঁচে কেটেছে তাদের বার্ধক্যের দিনগুলো। টেনেসি নদীর থেকে ওঠা বাষ্প আর ফার, ওক, মেপলের কোলে কাঁখে খেলে যাওয়া হাওয়ার মিশ্রণ এখানে তৈরি করে এক নীল কুয়াশার যা ঢেকে রাখে পাহাড়ের মুখ। চেরোকি ইন্ডিয়ান্সরা আদর করে এই জায়গার নাম দিয়েছে Sha-co-na-qe অর্থাৎ Land of blue smoke, তার থেকেই আজকের নাম স্মোকি মাউন্টেন্স।
স্ফটিকের বিপরীত পৃষ্ঠতল থেকে বেরোনো বর্ণালীর রং হয়ে পাতার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে রাঙিয়ে দিচ্ছে দৃশ্যমান প্রকৃতিকে- তার দিকে তাকিয়ে অনুভব করেছি সেই মহামহিমের গরিমা— ‘তোমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর আমার প্রেম হত যে মিছে’।
তবে ওই নীলটুকু ক্যানভাস। তার গায়ে ওই সব গাছের পাতারা ঋতুভেদে রং পালটে নতুন নতুন ছবি আঁকে। দেখছি, আগস্টের ‘ফল’-এর সময়ে তারা সামরিক সবুজের জামা পাল্টে পরে ফেলেছে লাল, হলুদ বেগুনির হরেক রঙের পোশাক। পাহাড় চেরা রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে দেখছি, নানা রঙের জামা পরা পাতার দল উচু থেকে ঝুঁকে পড়ে খিলখিল করে হাসছে আমাদের বিস্ফারিত দৃষ্টি আর ঝুলে পড়া চোয়াল দেখে। ঢলে পড়া সূর্যের আলোয় যখন পাহাড়ের গায়ের গাছের মাথাটুকুতে আলো আর পায়ের কাছে ছায়ার খেলা- যে আলো সাদা হয়ে ঢুকে স্ফটিকের বিপরীত পৃষ্ঠতল থেকে বেরোনো বর্ণালীর রং হয়ে পাতার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে রাঙিয়ে দিচ্ছে দৃশ্যমান প্রকৃতিকে- তার দিকে তাকিয়ে অনুভব করেছি সেই মহামহিমের গরিমা— ‘তোমায় নইলে ত্রিভুবনেশ্বর আমার প্রেম হত যে মিছে’।
কানে বাজছে Rilke- র কথা ‘At no other time does the earth let itself be inhaled in one smell, the ripe earth; in a smell that is…more honey-sweet where you feel it touching the first sounds. Containing depth within itself, darkness, something of the grave almost.’ এই অনুভবে Fall কথাটির অন্তর্গত অনুরণন প্রকৃতির এক বাহ্যিক রংবদলের কাহিনিকে অতিক্রম করে এক যুগবাহিত অবচেতনার অনুষঙ্গকে মূর্ত করে তোলে। কী করে জানি না, গাছে গাছে লাগা আগুন বন্যা বইয়ে দেয় চোখের পাড়ে।

তবে আয়োজনের সম্পদে কি পিছিয়ে থাকে আমাদের বাংলার পলাশ-শিমুলের বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ? লালের বন্যায় ভেসে যেতে যেতে পৃথিবীর গায়ে কাঁপন লাগে, পিছিয়ে থাকে না স্বভাবমৌন আকাশও। ‘হেরো হেরো অবনীর রঙ্গ/ গগনের করে তপোভঙ্গ।/হাসির আঘাতে তার মৌন রহে না আর,/কেঁপে কেঁপে ওঠে খনে খনে।’
এমন করে বাংলার ছয় ঋতুই তাদের ব্যক্তিগত সিগনেচার রেখে যায় প্রকৃতির আলো মাটি জল হাওয়ার ভাঁজে ভাঁজে। গ্রীষ্মে মাঠ-ঘাটে হলদে-খয়েরি রঙের প্রাধান্য, পাকা ধানের সোনালি ঢেউ আর রোদে পোড়া মাটির দ্যুতি। বর্ষায় সবুজের বিস্ফোরণ— নতুন ঘাস, কচি পাতা, নদীর ঘোলা-সবুজ স্রোত। শরতে কাশফুলের সাদা, আকাশের নীল আর তুলোর মতো মেঘের মায়া। হেমন্তে ধানের ক্ষেতে সোনালি ঝিলিক, শীতে কুয়াশার ধূসর আবরণ, বসন্তে পলাশ-শিমুলের লাল আর কোকিলের ডাকে রাঙা উদ্দীপনা। প্রকৃতি এক অনন্ত শিল্পী।
আয়োজনের সম্পদে কি পিছিয়ে থাকে আমাদের বাংলার পলাশ-শিমুলের বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ? লালের বন্যায় ভেসে যেতে যেতে পৃথিবীর গায়ে কাঁপন লাগে, পিছিয়ে থাকে না স্বভাবমৌন আকাশও। ‘হেরো হেরো অবনীর রঙ্গ/ গগনের করে তপোভঙ্গ।….
তবে প্রকৃতি এক কুশলী কারিগরও, যে রূপায়নের অন্তর্গত যুক্তি আর গণনার কাঠিন্যকে ছবি আর কাব্যের পেলব আস্তরণে মুড়ে রাখে। এইভাবেই মেটে পরিবেশগত প্রয়োজন, মেলে জীবনচক্রের নানা জটিল সমীকরণের অনুকূল সমাধান। মানবমনে সঞ্চারিত হয় এক গভীর অনুভবের, যার প্রেরণায় সে প্রাকৃতিক ইঙ্গিতগুলোকে আত্মস্থ করে জন্ম দেয় নানা সাংস্কৃতিক প্রতীক ও আচারের। জীবনের যাপনে অজান্তেই আবহ রচনা করে এক সুশৃঙ্খল সংগীত।
একই পাহাড়, একই নদী— কিন্তু ভোর, দুপুর আর গোধূলিতে তাদের রং আলাদা। সূর্যোদয়ের সময় আকাশে লাল-কমলার আভা, দুপুরে তীব্র সাদা আলোয় ছায়াহীন অন্ধ উজ্জ্বলতা, সন্ধ্যায় বেগুনি-গোলাপি মায়া, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে আলোর বিচ্ছুরণ। বায়ুমণ্ডলের কণাগুলো সূর্যের আলোকে ছড়িয়ে দেয়; ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলো বেশি বিচ্ছুরিত হয়, তাই আকাশ নীল দেখায়। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে আলো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়, নীল আলো ছড়িয়ে গিয়ে লাল-কমলা রং চোখে আসে। এই অঙ্কের বাইরে থেকেও তাকেই যেন কাব্যের ভাষায় প্রকাশ করেন জীবনানন্দ –
‘…রয়েছি সবুজ ঘাসে ঘাসে
আকাশ ছড়ায়ে আছে নীল হয়ে আকাশে আকাশে,’

ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীরা আলোর মুহূর্তভিত্তিক পরিবর্তন ধরতে চান ক্যানভাসে। Claude Monet তাঁর ‘ওয়াটার লিলি’ সিরিজে একই জলাশয়কে ভিন্ন আলো ও ঋতুতে এঁকেছেন— তাতে প্রতিটি ছবিতে আমরা পেয়ে যাই আলাদা রঙের অনুভব। বোঝা যায়, প্রকৃতি একই থেকেও এক নয়; সময় ও আলো তার রূপনির্মাণে মাত্রা ও যতির ভূমিকা পালন করে।
এই অভিযোজন প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফল। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে প্রাণী টিকে থাকতে পারে না। তাই রংবদল এখানে জীবনের কৌশল, প্রকৃতির পরীক্ষাগারে টিকে থাকার সনদ।
গ্রীষ্মের পাতার সবুজে যে ক্লোরোফিলের রাজত্ব, শীতপ্রধান দেশে হেমন্ত (Autumn) এলে তা ভেঙে যায়। তখন ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্থোসায়ানিনের মতো রঞ্জক পদার্থ দৃশ্যমান হয়, পাতা হলুদ, কমলা, লাল হয়ে ওঠে। উদ্ভিদের জীবনচক্রের পরিবর্তনের এই স্বরলিপি এক রঙিন উৎসবের মঞ্চ রচনা করে। পাশাপাশি, আসা যাওয়ার এই চক্রবৎ চলন জীবন ও মৃত্যুর পর্যায়ান্বিত দিনাতিপাতের বৃহত্তর সত্যকে অমোঘভাবে প্রতিষ্ঠা করে।
প্রাণিজগতের রংবদলে অনেক ক্ষেত্রেই লুকিয়ে আছে বাঁচার কৌশল। গিরগিটি পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে শরীরের রং বদলায়— তা কখনও শিকারির থেকে লুকাতে, কখনও সঙ্গীর কাছে তার আবেগ প্রকাশ করতে। সমুদ্রের অক্টোপাসও মুহূর্তে রং ও ত্বকের গঠন বদলাতে পারে। প্রয়োজনে ঘন কালো রঞ্জক পদার্থ নির্গমন করে আশপাশের পরিবেশকে অন্ধকার করে তার আড়ালে পালিয়ে যেতে পারে, শত্রু বুঝতেও পারে না। বরফাচ্ছন্ন অঞ্চলের খরগোশ শীতে সাদা, গ্রীষ্মে বাদামি হয়ে যায়— এভাবেই তারা পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকে।

এই অভিযোজন প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফল। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে প্রাণী টিকে থাকতে পারে না। তাই রংবদল এখানে জীবনের কৌশল, প্রকৃতির পরীক্ষাগারে টিকে থাকার সনদ।
প্রকৃতির রংবদল সভ্যতার এক চিরন্তন অনুষঙ্গ। তাই সভ্যতার বিকৃতি, যেমন নগরসভ্যতার বিস্তার, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিগ্রহ, প্রকৃতির শর্তকে উপেক্ষা করে দায়িত্বজ্ঞানহীন পর্যটন ইত্যাদি নানা ব্যাভিচার প্রকৃতির রং রূপ আর তার মোহময় পরিবর্তনের ব্যপক ক্ষতি করেছে ও করছে। ঋতুর সময়সূচি বদলে যাচ্ছে, ফুল ফোটার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে যাচ্ছে, বনভূমির সবুজ আচ্ছাদন কমছে। সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর উষ্ণতার কারণে সাদা হয়ে যাচ্ছে— যাকে বলা হচ্ছে ‘ব্লিচিং’। অস্ট্রেলিয়ার Great Barrier Reef- এর এই ক্রমশ বেরঙিন হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ব্ল্যাক আমেরিকান কবি Rita Dove তাকে বদলে দিয়ে ‘Persephone, Falling’ কবিতায় লেখেন– ‘It is finished. No one heard her./ No one! She had strayed from the herd.’
সাহিত্যের বনে বনেও এই পরিবর্তনের ছায়া। তাই যে Persephone-এর মিথে সেই রোমান সংস্কৃতির কাল থেকে ঋতু পরিবর্তনের মোড়কে জীবন ও মৃত্যুর চক্রাকার আবর্তনকে মূর্ত করে তার জয়গান গাওয়া হয়েছে, আজ ব্ল্যাক আমেরিকান কবি Rita Dove তাকে বদলে দিয়ে ‘Persephone, Falling’ কবিতায় লেখেন– ‘It is finished. No one heard her./ No one! She had strayed from the herd.’ মা ও মেয়ের বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের যুগবাহিত কাব্য আজকের কবির হাতে বিচ্ছিনতার কাতরতায় শেষ হয়। হেমন্তের অরণ্যে অনন্ত পাতাঝরা চলতেই থাকে, পোস্টম্যানেরা কুড়নোর কাজে কোনও শেষ খুঁজে পায় না। বন্ধ্যা কলমের দিকে নির্ঘুম লাল চোখে তাকিয়ে থাকেন কবি।
‘টেবিলে রয়েছি ঝুঁকে, আমিও চাষীর মতো বড়
ব্যগ্র হয়ে চেয়ে আছি– খাতার পাতায় যদি জড়ো
হয় মেঘ, যদি ঝরে ফুল্ল বৃষ্টি। অলস পেন্সিল
হাতে, বকমার্কা। পাতা জোড়া আকাশের খাঁ খাঁ নীল।’
(অনাবৃষ্টি / শামসুর রাহমান)
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডাঃ ভাস্কর দাস পেশায় অস্থিশল্য চিকিৎসক। নেশা ফোটোগ্রাফি, লেখালেখি। ভ্রমণ ও বাংলার অতীত কৃষ্টি ও সংস্কৃতির খোঁজ প্রিয় বিষয়।
লেখা প্রকাশিত দেশ, হরপ্পা, কৃত্তিবাস, সাপ্তাহিক বর্তমান, ইত্যাদি পত্রিকায়। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পাঁচ। ২০২২ সালে ভ্রমণআড্ডা সংস্থার 'কলম' সম্মান প্রাপক।
