Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

মেঘ-কুয়াশার শহর ও কিশোর শেরিং

গোপী দে সরকার

জানুয়ারি ৭, ২০২৬

Gopi De Sarkar_Shering Sherpa_Article_7.1.2026_AG
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Satyajit Ray)

শীতের সকাল শুনলেই বাঙালির মাথায় প্রথম ভেসে ওঠে, উত্তরবঙ্গ। যেখানে রোদের আভায় সোনালি হয়ে উঠেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিং-এর মাথার উপর ড্রপ খেয়ে সূর্যের আলো গড়িয়ে পড়ছে খাদের দিকে, সেখানে আঁকা-বাঁকা রাস্তায় আলো-আঁধারির খেলা। এই শহরেরই এক কোণে রয়েছে এমন একটি হোমস্টে, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সত্যজিৎ রায়-এর ছবি ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’র স্মৃতি। সিনেমার সেই কিশোরের হাসিমুখ যেন ভেসে বেড়াচ্ছে সেখানে, ভেসে বেড়াচ্ছে তার গলায়, সেই নেপালি লোকগান। শিশুটির নাম শেরিং শেরপা, ওরফে গুঁইয়ে। আজ তাঁকে ও তাঁর হোমস্টে নিয়ে দু’চার কথা, বাংলালাইভের পাতায়…
‘আমরা একটা সিনেমার শুটিং করছি ম্যালে। তুমি কি একবার বিকেলে আসবে, তোমাকে খুব দরকার।’ (Satyajit Ray)

আরও পড়ুন: হোমস্টে: ঠিক বাড়ি নয়, আবার বাড়িও

একদিন শুটিং-এর অবসরে দার্জিলিং শহরটাকে ঘুরে দেখছিলেন সত্যজিৎ রায়। সে-সময় তিনি খেয়াল করেন হাতে লাট্টু-লেত্তি, পরনে মলিন জামাপ্যান্ট পরা ৭-৮ বছরের একটি ছেলেকে। বাচ্চা ছেলেটি কাঠের লাট্টুটা শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে তারপর ঘূর্ণায়মান লাট্টুটিকে নিজের হাতের তালুতে ধরে নিয়ে ঘুরিয়ে চলেছে আপনমনে। বন্‌বন্‌ করে ঘুরেই চলেছে লাট্টুটি। ছেলেটি বেশ খুশি মনেই তাকিয়ে সেদিকে। (Satyajit Ray)

Homestay
কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্রের নির্মাণের সময় কেভেন্টার্সের ছাদে সত্যজিৎ রায়

সত্যজিৎ রায় অবাক দৃষ্টিতে দেখে চলেছেন দার্জিলিং-এর বাজারে, খেলায় মগ্ন সেই ছেলেটিকে। প্রথম দেখাতেই তাকে বেশ মনে ধরে যায় তাঁর। মনে মনে তিনি ভাবতে থাকেন তাঁর ছবির কোন স্থানে এই বাচ্চাটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়। তারপর ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে তাঁকে ডেকে বললেন, ‘আমরা একটা সিনেমার শুটিং করছি ম্যালে। তুমি কি একবার বিকেলে আসবে, তোমাকে খুব দরকার।’ (Satyajit Ray)

নিজের লেখা গল্প ‘বাগানবাড়ি’র কাহিনি নিয়ে ১৯৬১ সালে, একটি ছবি তৈরির পরিকল্পনা করেন সত্যজিৎ রায়। কাহিনির জন্য তিনি বেছে নেন দার্জিলিংকে। কাহিনির প্রেক্ষাপট দার্জিলিং হওয়ার কারণেই সিনেমার নাম রাখেন ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’। আসলে এই শৈল শহরের প্রতি, সত্যজিৎ রায়ের এক অসম্ভব ভালবাসা ছিল। (Satyajit Ray)

ছবির চাহিদা মেনে, সেই মতো পরিকল্পনা করে নবীন-প্রবীণ অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের দল নিয়ে তিনি দার্জিলিং রওনা দেন ১৯৬১ সালের ২১ নভেম্বর। এই দলে ছিলেন করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি বিশ্বাস, অনিল চট্টোপাধ্যায়, পাহাড়ি সান্যাল, এন বিশ্বনাথন, অনুভা দে, সুব্রত সেনশর্মা এবং হরিধন মুখোপাধ্যায়। আর ছিলেন নবাগত অলকনন্দা রায় এবং অরুণ মুখোপাধ্যায়। (Satyajit Ray)

Homestay
কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্রের পোস্টারে ‘গুঁইয়ে’-র ছবি, পোস্টারটি ডিজাইন করেছিলেন সত্যজিৎ যায়

দার্জিলিং-এর মেঘ-কুয়াশা-রৌদ্রের লুকোচুরি খেলা আবহাওয়ায়, পরিচালক প্রায় ২৮ দিন শুটিং করেছিলেন এখানে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এটি ছিল সত্যজিৎ রায়ের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র। ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবিটির শুটিং হয়েছিল নানা জায়গায়, তবে ম্যালের কাছেও অনেক শট নেওয়া হয়। এই ছবির বেশ কিছু শটের প্রেক্ষাপটে কাঞ্চনজঙ্ঘার মৌনী, ধ্যানমগ্ন রূপকে তুলে ধরেছেন পরিচালক। (Satyajit Ray)

“চলচ্চিত্রের ভাবনার সঙ্গেই এখানেও যেন একটি মুক্তির কথা উচ্চারিত হয়। লক্ষণীয়, এই গানের সঙ্গে কিন্তু কোনও যন্ত্র সঙ্গীতের ব্যবহার নেই। অর্থাৎ গানটিকে একেবারে প্রকৃতির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন পরিচালক সত্যজিৎ রায়।”

কিশোরটিকে বলে আসার পরদিন একটি দৃশ্যের ফাইনাল টেকের শেষে, তিনি দেখেন জনাকয়েকের পাশে দাঁড়িয়ে সেই ছেলেটি। হাতে পাহাড়ি রডোডেনড্রন গাছের একটা ফুল সমেত ডাল নিয়ে দাঁতে চেপে দাঁড়িয়ে আছে সে। সত্যজিৎবাবু এগিয়ে গেলেন ছেলেটির দিকে। ইউনিটের সকলেই অবাক। সত্যজিৎবাবু ওঁকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কি গান গাইতে পারো?’ লম্বা লোকটির প্রশ্নের উত্তরে ছেলেটি জানায় গাইতে পারে, তবে নেপালি গান। তিনি বলেন, ‘ওতেই হবে, তুমি একবার দেখা করো।’ অতঃপর পরদিন ওঁকে ডেকে এনে তাঁর সেই গান রেকর্ড করা হয়। তাঁর জীবনে প্রথম দেখা টেপরেকর্ডার যন্ত্রে নিজের গলায় সেই গান শুনে অবাক ছেলেটি! তারপর সত্যজিৎবাবু জিজ্ঞাসা করেন ‘সিনেমায় অভিনয় করবে?’ ছেলেটি সম্মতিসূচক মাথা নাড়ায়। (Satyajit Ray)

Homestay
কাঞ্চনজঙ্ঘার টাইটেল কার্ডে ‘গুঁইয়ে’-র নাম

ছবির শুটিং নির্বিঘ্নে শেষ হলে সত্যজিৎ রায় ছবির টাইটেল কার্ডে সযত্নে রেখেছিলেন ‘গুঁইয়ে’র নাম। তিনিই শেরিং শেরপা। শুটিং শেষে তিনি উপহার পেয়েছিলেন ক্যাডবেরি চকোলেট। কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবির শেষ দৃশ্য মনে পড়ে, যেখানে এই ছোট্ট বাচ্চাটির কণ্ঠে একটি নেপালি লোকগান মিশে যাচ্ছে বরফাবৃত হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায়। গুঁইয়ের গানের পরেই মেঘ মুলুকের আড়াল থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে কাঞ্চনজঙ্ঘার ঝকঝকে শুভ্র চূড়া। ভারতীয় চলচ্চিত্রে নির্মাণ হচ্ছে আর এক ইতিহাস। (Satyajit Ray)

Homestay
কাঞ্চনজঙ্ঘা চলচ্চিত্রের টাইটেল কার্ড

সেদিন গুঁইয়ের গানের কথা ছিল, ‘সিউদো সিউদো মা সিন্দুরলে/ তিমরো মন পিঞ্জরালে ঢাকেছ/ মন খোলি হাস লা লা’ বাংলায় ‘প্রাণ খুলে হেসে নাও, পিঞ্জরে তোমার মনটাকে কেন রেখেছ বন্দী করে!’ এটি লেখক ইন্দ্রবাহাদুর থাপার লেখা প্রচলিত একটি নেপালি লোকসঙ্গীত।
চলচ্চিত্রের ভাবনার সঙ্গেই এখানেও যেন একটি মুক্তির কথা উচ্চারিত হয়। লক্ষণীয়, এই গানের সঙ্গে কিন্তু কোনও যন্ত্র সঙ্গীতের ব্যবহার নেই। অর্থাৎ গানটিকে একেবারে প্রকৃতির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন পরিচালক সত্যজিৎ রায়। (Satyajit Ray)

আরও পড়ুন: হোমস্টে: এসো আমার ঘরে এসো

দার্জিলিং ম্যালের পাশ দিয়ে যে রাস্তা চলে গেছে, সেই দিকে একটু এগিয়ে গেলেই শেরিং শেরপার বাড়ি। তাঁর সপরিবার সুখের সংসার। কাঞ্চনজঙ্ঘার পরেও সত্যজিৎ রায়, বার কয়েক গিয়েছেন দার্জিলিং, কিন্তু শেরিং-এর সঙ্গে নানা কারণে আর কোনদিনও দেখা হয়নি তাঁর। তবে সেবার কাঞ্চনজঙ্ঘার শুটিং শেষ করে ফিরে আসার সময় তিনি গুঁইয়েকে কলকাতায় নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওর বাড়ির, বিশেষত তাঁর বাবার প্রবল আপত্তিতে তা আর হয়নি। এদিকে শুটিং শেষে ফেরার সময় মানিকবাবু ওর বাড়ি থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছিলেন ওর ব্যবহারের মলিন জামা আর একখানি প্যান্ট। পরে কলকাতা থেকে সেই মাপে জামা এবং একটি স্যুট সেট বানিয়ে পাঠিয়ে দেন ওঁর কাছে। (Satyajit Ray)

Homestay
শেরিংজী

সেদিনের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর একেবারেই মনে হয়নি, তিনি শুটিং করছেন। শুটিং কী করে হয়, তাই তিনি জানতেন না। তবে শুটিং-এর দিনে খুব করে সেজেগুজে এসেছিলেন বলে শুটিং-এর প্রয়োজনে ওর মুখে সামান্য কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বেশ খানিকটা রাগ এবং অভিমান হয়েছিল তাঁর, হেসেই বলেন তিনি। শেরিং-এর অকপট স্বীকারোক্তি, দলের সকলের কাছ থেকে কিন্তু যথেষ্ট আদর পেয়েছেন তিনি শুটিং-এর সময়। কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয়ের পর থেকে প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তাঁর আর কোনও ছবিতে কোনওদিন কাজ করা হয়ে ওঠেনি। অতএব সেদিনের সেই স্মৃতিই তাঁর কাছে অমলিন হয়ে রইল, চিরকালের জন্য। (Satyajit Ray)

“২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রয়াত হন সত্যজিতের চলচ্চিত্রের সেই ‘গুঁইয়ে’। তাঁর এই প্রস্থানও শুভ্র নিঃস্পন্দ কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো মৌন হয়েই থাকল!”

সত্যজিৎ রায়ের নিজের মৌলিক চিত্রনাট্যের প্রথম রঙিন ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবিটি মুক্তি পায় বাংলা ১৩৬৯ অর্থাৎ ১৯৬২-র ১১ মে। সেসময় সত্যজিৎ রায়ের করা এই চলচ্চিত্রের প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে ছিল শেরিং-এর হাসি মুখের একটি ছবির কাটআউট। দেশবিদেশে ছবিটি প্রশংসিত হওয়ার পর ছোট্ট শেরিং অচিরেই বিখ্যাত হয়ে পড়েন। সত্যজিৎ রায় প্রয়াত, কিন্তু শেরিং-এর সমগ্র পরিবার সযত্নে লালন করছেন বিশ্ববন্দিত পরিচালকের বহু স্মৃতি। (Satyajit Ray)

Homestay
শেরিংজী ও তাঁর পরিবার

কিছুকাল আগে কাঞ্চনজঙ্ঘা মুক্তির ৫৯ বছর পরে সত্যজিৎ রায়ের পৌত্র সৌরদীপের, সেই দার্জিলিঙেই দেখা তাঁর সঙ্গে। সন্দীপ রায়ের অনুমতিক্রমে, সত্যজিৎ রায়ের গল্প অবলম্বনে ‘মাস্টার অংশুমান’ নামে বড়পর্দার জন্য একটি ছবি তৈরি করতে সেখানে গিয়েছিলেন পরিচালক সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়। এই দলেই ছিলেন সৌরদীপ রায়। ফেলুদা-৫০ তথ্যচিত্র নির্মাণ করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছেন সাগ্নিকবাবু। দার্জিলিং-এ সত্যজিৎ রায়ের গল্পের শুটিং হচ্ছে, এই খবর পেয়ে ছেলে দোরজেকে সঙ্গে নিয়ে শেরিং দার্জিলিং ম্যালের কাছের একটি হোটেলে এসে আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন শুটিং দলের কলাকুশলীদের সঙ্গে। (Satyajit Ray)

Homestay
শেরিংজীর পুত্র দোর্জে শেরপা ও তাঁর স্ত্রী

ছিলেন পরিচালক, সৌরদীপ এবং অভিনেতা রজতাভ দত্ত। দলের সকলের অনুরোধে শুনিয়ে দেন সেই বিখ্যাত গানটি, ‘কউয়ালিলে গীত গাওন্দে সন্দেশ শুনাও দে…।’ সত্যজিৎ শতবর্ষ পেরিয়ে শুটিং-এর সেই রাস্তায় শেরিং নিজেই এখন অতীতের স্মৃতি! ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রয়াত হন সত্যজিতের চলচ্চিত্রের সেই ‘গুঁইয়ে’। তাঁর এই প্রস্থানও শুভ্র নিঃস্পন্দ কাঞ্চনজঙ্ঘার মতো মৌন হয়েই থাকল! (Satyajit Ray)

Homestay
লেখকের সংগ্রহ থেকে শেরিং শেরপার অটোগ্রাফ

শেরিং শেরপার উৎসাহ নিয়ে পুত্র দোরজে শেরপা তাঁদের দার্জিলিঙের বাড়িতেই বহুদিন আগে শুরু করেছিলেন নিজেদের হোমস্টে। খোঁজখবর নিয়ে বহু পর্যটক কিন্তু এখানে এসেছেন আজকের ‘গুঁইয়ে’কে দেখবেন বলে এবং তাঁর কণ্ঠে গান শুনবেন বলে। কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবির গান। তিনি হতাশ করেননি কাউকে। উৎসাহী পর্যটক পেলেই তিনি বিস্তারে শুনিয়েছেন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর দিন কাটাবার অভিজ্ঞতার কথা। শুটিং-এর গল্প আরও কত কী! (Satyajit Ray)

সেসব এখন স্মৃতি! কিন্তু পিতার স্মৃতি ধারণ করেছেন দোরজে শেরপা। দোরজে নিজে কিশোরকুমারের গানের বেজায় ভক্ত। অতএব ছোটবেলা থেকেই তিনি রপ্ত করেছিলেন গুরুর সমস্ত গান। তাঁর এই হোমস্টেতে কোনও অতিথি এলেই তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁদের আতিথেয়তার দিকে। যত্ন করে তাঁদের সামনে হাজির করেন বাবার কথা। (Satyajit Ray)

আরও পড়ুন: হোমস্টে: পর্যটনের নয়া ঠিকানা হেরিটেজ হোমস্টে

নিজেদের বাড়িতে একটি চার শয্যার এবং দু’টি দুই শয্যার ঘর রয়েছে। এখানে অতিথিদের জন্য রয়েছে আরামদায়ক ব্যবস্থা। ঠান্ডার জন্য রয়েছে গরম জলের গিজ়ার। অতিথিদের অর্ডার অনুযায়ী সুখাদ্য পরিবেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। নিজেদের ঘরের কিচেনেই বিভিন্ন ধরণের রান্না করা হয় একেবারে ঘরোয়াভাবে। এখানে ভারতীয়, বাঙালি, নেপালি এবং তিব্বতি ছাড়াও আরও নানা ধরণের খাদ্য পরিবেশন করেন তাঁরা। এরা অথেন্টিক নেপালি এবং তিব্বতি খাবারের বিষয়ে পারদর্শী। মোমো (ডাম্পলিং), ভুট্টা দিয়ে তৈরি খাবার ধিণ্ডো, মাংসের পদ সেকুয়া, জনপ্রিয় থাকালি থালি, সেল রোটি, গুন্ড্রুক অথবা তিব্বতি সাম্পা, থুক্‌পা, মাখন চা, মাংস ও বাঁধাকপির পুর দিয়ে তৈরি ভাজা রুটি শা ফালে, তিব্বতি রুটি বালেপ, দই অথবা বিখ্যাত দার্জিলিং চা ইত্যাদি খাবার অর্ডার করলেই একেবারে হাতে গরম। নিজের মা, ভাই, স্ত্রী এবং ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে দোরজের ভরপুর সংসার। এঁরা সকলে মিলেই সামলে নিচ্ছেন আগত অতিথিদের সেবার ভার। হঠাৎ সদস্য সংখ্যা বেশি হয়ে গেলেও অসুবিধা নেই। আগে থেকে জানিয়ে এলে দোরজে তাঁর পার্শ্ববর্তী স্থানে অতিথিদের ব্যবস্থা ঠিক করে দেবে। অতএব নিশ্চিন্ত হয়ে চলে যেতে পারেন দোরজের হোম-স্টে’তে। গাইড হিসেবেও তিনি অনবদ্য। বাংলা তো বটেই, মুম্বাই বা অন্য জায়গা থেকেও দোরজের বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছেন শিল্পী, সাংবাদিক অথবা অভিনেতারা। (Satyajit Ray)

গান। বাবার স্মৃতি, সত্যজিৎ রায়ের গল্প আর গুরু কিশোরকুমারের চির সবুজ গান- এসবের সঙ্গে, তাঁর নিজের এখন ভরা পরিবার। অতএব হোমস্টের সঙ্গে দোরজের সেই অবসরের বিনোদনই এখন তাঁর জীবিকার আর একটি অন্যতম উৎস। দার্জিলিং ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে নিয়মিত ছুটতে হয় এই গান শোনাবার জন্য। গানের জন্য অতিথি সেবায় দোরজে এক ডাকেই হাজির। প্রেক্ষাপটে মৌন হিমালয় আর ধ্যানমগ্ন ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রয়াত পিতার আশীর্বাদ নিয়ে। (Satyajit Ray)

তথ্যসূত্র: আমাদের কথা–বিজয়া রায়, বিষয় চলচ্চিত্র–সত্যজিৎ রায়, সাক্ষাৎকার এবং আন্তর্জাল সূত্র।
ছবি ও অটোগ্রাফ লেখকের নিজস্ব সংগ্রহ থেকে।

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Gopi De Sarkar

সংবাদিক, শিল্পী, সংগ্রাহক, সংগ্রহশালা পরামর্শদাতা।
প্রকাশিত গ্রন্থ: কলকাতার সংগ্রহালয়

Picture of গোপী দে সরকার

গোপী দে সরকার

সংবাদিক, শিল্পী, সংগ্রাহক, সংগ্রহশালা পরামর্শদাতা। প্রকাশিত গ্রন্থ: কলকাতার সংগ্রহালয়
Picture of গোপী দে সরকার

গোপী দে সরকার

সংবাদিক, শিল্পী, সংগ্রাহক, সংগ্রহশালা পরামর্শদাতা। প্রকাশিত গ্রন্থ: কলকাতার সংগ্রহালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

বিতস্তা ঘোষাল
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
মোহনা মজুমদার

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
শ্রুতি গঙ্গোপাধ্যায়
অমৃতা ভট্টাচার্য

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

দেবার্চন চ্যাটার্জি
নির্মাল্য চ্যাটার্জি
নির্মাল্য চ্যাটার্জি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com