Tags Posts tagged with "ঘরোয়া প্রতিকার"

ঘরোয়া প্রতিকার

এই আবহাওয়া বদলের সময়েই অল্প ঠাণ্ডা লেগে অনেকেই কানে ব্যথা বা ইনফেকশনে ভোগেন। ঠাণ্ডা লাগা ছাড়াও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, অ্যালার্জি, ছত্রাক, কানের ভেতরে ফোড়া নানা কারণেই কানে তীব্র ব্যথা হয় অনেকেরই। এই সময় ভুল করেও কানে আঙুল বা কটন বাড ঢুকিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না। তাই কানের অসহ্য এই ব্যথা দূর করতে জেনে রাখুন কিছু ঘরোয়া সমাধান।

গরম ভাপ

গরম জলের ভাপ এই ব্যথা কমানোর জন্য দারুণ উপকারে আসতে পারে। একটি সুতির পাতলা কাপড় গরম জলে ভিজিয়ে জল নিংরে নিয়ে, কানের কাছে চেপে ধরুন। গরম ভাপ কানের ভেতরে গেলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং কানের ব্যথা উপশম হবে। চাইলে এক্ষেত্রে হেয়ার ড্রায়ারও ব্যবহার করতে পারেন।

অলিভ অয়েল

কানে ব্যথা সারাতে অলিভ অয়েল-এর ব্যবহার করতে পারেন। ব্যথার সময় তিন থেকে চার ফোঁটা অলিভ অয়েল কানে ঢেলে দিন। অথবা অলিভ অয়েলে কটন বাডস-এ ভিজিয়ে কানের ফুটোয় চেপে রাখুন। ধীরে ধীরে ব্যাথা কমে আসবে।

রসুন

রসুন অ্যান্টিবায়টিক হিসেবে ব্যথা ও ইনফেকশন সারিয়ে তুলতে খুব উপকারী। এক টুকরো রসুনের কোয়া কুচি কুচি করে কেটে তিলের তেলে দিয়ে গরম করে নিন। এরপর ঠাণ্ডা করে তেল থেকে রসুনকুঁচি গুলো ফেলে দিন। তারপর কানে দুই থেকে তিন ফোঁটা তেল দিয়ে দিন অথবা বাডস-এর সাহায্যেও দিত পারেন।

লবণ

একটি প্যানে লবণ বাদামী বর্ণ না হওয়া অবধি গরম করে নিন। এরপর শুকনো সুতির কাপড়ে নিয়ে ব্যাথা হওয়া কানে ভাপ দিন। এতে কানের ব্যথা তাৎক্ষণিকভাবে উপশম পাবেন। তবে নজর রাখতে হবে লবন যেন কোনওভাবে কানের ভেতর প্রবেশ না করে।

পেঁয়াজ

পেঁয়াজের রয়েছে কার্যকরী অ্যান্টিসেপ্টিক। পেঁয়াজ কুঁচি করে নিয়ে তা থেকে রস বের করে, দিনে অন্তত দুই থেকে তিন বার তিন-চার ফোঁটা করে ব্যাথা হওয়া কানের ভেতর দিতে হবে। এতে কানের ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

এতেও যদি কোনওভাবে কানের অসহ্য ব্যাথা থেকে যায়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ফ্যাটি লিভার মানেই চর্বিযুক্ত যকৃৎ, এটুকু আমরা প্রায় সকলেই বুঝি। চিন্তার বিষয় হল, ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক লক্ষণগুলি আলাদা করে চেনা খুব মুশকিল। অন্য কোনও সমস্যার জন্য আলট্রাসনোগ্রাম করাতে গিয়েই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লিভারের ফ্যাট ধরা পড়ে। লিভারে চর্বি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যকৃতের ওজন ৫% থেকে ১০% বেশি চর্বিযুক্ত হলে, এটিকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়।

ফ্যাটি লিভার মূলত দুই প্রকার। এক, অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং দুই, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে যকৃৎ বা লিভারে যে ফ্যাট জমা হয়, তাকে ‘অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ বলে। অন্যদিকে মূলত খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রায় মাত্রাতিরিক্ত অনিয়মের ফলে লিভারে যে ফ্যাট জমা হয়, তাকে ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ বলা হয়। এই দ্বিতীয় রকমের ফ্যাটি লিভার বংশানুক্রমিক ভাবেও হতে পারে।

‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ কোনও রকম ওষুধ না খেয়েও সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে তার জন্য জীবনযাত্রা বা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি।

এ বার দেখে নেওয়া যাক কিছু প্রাকৃতিক ঘরোয়া প্রতিকার যা আপনাকে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে সহজেই রক্ষা করবে।

১) আপেল সিডার ভিনেগার: অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এর ক্ষেত্রে সেরা প্রতিকার। এই অ্যাপল সাইডার ভিনেগার লিভারের পাশে জমে থাকা চর্বি কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। এ বার অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক…

এক গ্লাস গরম জলেতে এক চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। চাইলে এর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। দু’বেলা খাওয়ার আগে এই মিশ্রণ এক গ্লাস খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে সকালে খালি পেটে খাওয়াটাই বেশি ভাল। মাস খানেক নিয়ম মেনে এই মিশ্রণ সেবন করতে পারলেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

২) গ্রীন টি: উচ্চ ঘনত্ব কেটেচিনস নামক রসায়ন যারা লিভার কার্যকরী উন্নতি এবং নন এলকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগ থেকে ভুগছেন চর্বি জমা প্রতিরোধ করে সমৃদ্ধ। এটি যকৃতে সংরক্ষিত চর্বি পরিমাণ এবং তার কার্যকারিতা উন্নত হিসাবে ভাল। চর্বিযুক্ত ফ্যাটি লিভার রোগের জন্য নিয়মিতভাবে  ৩ থেকে ৪ কাপ সবুজ চা পান করুন।

৩) লেবু: সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস লেবু আর মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। লেবুতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লিভারে এক ধরনের এনজাইম তৈরি করে যা লিভারের চর্বি গলাতে সাহায্য করে। মাস খানেক নিয়ম মেনে লেবু আর মধুর মিশ্রণ খেয়ে দেখুন। উপকার পাবেন। তবে যাঁরা অ্যালকহলিক ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। না হলেই বিপদ!

রেসিপি

error: Content is protected !!