Tags Posts tagged with "Home Remidies"

Home Remidies

কাঁচা হলুদের গুণাবলী সম্পর্কে অনেকেই জানেন। আয়ুর্বেদেও হলুদের উপকারিতার উল্লেখ রয়েছে। ত্বকের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, পেশীর সমস্যা, কেটে যাওয়া বা ছড়ে যাওয়ার জন্যও হলুদ খুবই উপকারী। এছাড়া হলুদের মধ্যে এমন উপাদান থাকে যার ফলে গ্যাসট্রিক, পেপটিক এবং গ্যাসট্রিক আলসার ইত্যাদির জন্যও উপকারী। অ্যালজাইমারস-এর জন্যও কাঁচা হলুদ উপকারী। এমনকি গেঁটে বাতের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে কাঁচা হলুদ।

সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ গেঁটে বাত বা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন। এতে আক্রান্ত হলে শরীরের অস্থিসন্ধিগুলোতে ব্যথা ও অসাড়তা দেখা দেয়।  গেঁটে বাত আক্রান্ত মানুষ দৈনিক কাজগুলোও করতে পারেন না ব্যথার কারনে। ওজন কমানো এবং ব্যায়াম আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে কাজে আসে। গেঁটে বাতের সমস্যা কমাতে ব্যায়াম ও ওজন করতে বলা হয়, এ ছাড়াও কিছু খাবার আছে যা আর্থ্রাইটিস রোগীর ব্যথা কমাতে দ্রুত কাজ করে।

ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ কমাতে পারে বলে হলুদ গেঁটে বাত উপশমে কাজে আসে। হলুদে থাকা কারকিউমিন আর্থ্রাইটিসজনিত ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমানোর জন্য উপকারী।

কাঁচা হলুদ দিয়ে তৈরী চা-

এক চিমটি হলুদ গুঁড়া অথবা কাঁচা হলুদ বাটা, সামান্য আদা কুচি অথবা আদা বাটা নিয়ে একটি সসপ্যানে এক কাপ জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর সাধারণ তাপমাত্রায় ঠান্ডা হতে দিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে ছাঁকনি দিয়ে কাপে ছেঁকে নিন। দিনে দু বার এক সপ্তাহ এই হলুদ চা খেলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার গেঁটে বাতের ব্যাথা অনেক কমে এসেছে।

কাঁচা হলুদের পেস্ট-

একই ভাবে হলুদ গুঁড়া অথবা কাঁচা হলুদ বাটা ও জল দিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরী করে হালকা আঁচে ফুটিয়ে নিন। এরপর নামিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করে ব্যাথা জায়গায় লাগিয়ে ৩০-৪০ মিনিট অবধি রেখে দিন। এই পেস্টটি তৈরি করে আপনি একমাসের জন্য ফ্রিজে রেখেও ব্যবহার করতে পারবেন। দ্রুত ব্যাথা কমাতে দিনে দুবার এই পেস্ট ব্যবহার করুন।

চুল পড়া একটি খুবই সাধারণ ব্যাপার। দিনে গড়ে ৫০-১০০ টি চুল পড়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আপনি যদি অনুভব করেন যে স্নান করে চুল আঁচড়ালে বা দিনের যেকোনও সময়ে চুল আঁচড়ালে মাথা থেকে গোছা গোছা চুল উঠে যাচ্ছে, তাহলে তা অবশ্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাজারে চলতি কেমিকেল-যুক্ত সুগন্ধী তেলও যদি আপনার চুল পড়ার সমস্যার সমাধান করতে না পারে তাহলে এই কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে এই অবাঞ্ছিত চুল পড়ার হাত থেকে বাঁচতে পারেন। এগুলি হল-

* নিম

ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে সাধারণত মাথায় খুশকির সমস্য়া হয়ে থাকে। আর তা থেকেই জন্ম নেয় চুল পড়ার সমস্যা। মাথার চুলে ও ত্বকে নিয়মিত নিম তেল ব্যবহারে খুশকি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। এছাড়া মাথার তালুর যেকোনো ধরনের সংক্রমণ বা চুলকানির সমস্যা দূর করতেও নিম তেলের জুড়ি মেলা ভার। চুলে শ্যাম্পু করার সময় তাতে কয়েক ফোঁটা নিম তেল মিশিয়ে নিয়ে মাথায় মেখে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে, কিছুদিন পর থেকেই চুল পড়ার হার কমতে শুরু করবে। এভাবে ব্যবহারে উসকোখুসকো ও প্রাণহীন চুলও তার ঔজ্বল্য ফিরে পেতে পারে। এছাড়াও চুল বেশি মাত্রায় পড়ছে দেখলেই ১০-১২ টা নিমপাতা জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জলে চুল ধুলেও মিলবে সুরাহা।

* দই

২ চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ লেবুর রস নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রনটা ভাল করে চুলে লাগিয়ে কমপক্ষে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার করলেই চুল পড়ার হার কমতে শুরু করবে।

* মেথি

চুল পড়া আটকাতে মেথি খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দু’চামচ মেথি বীজ নিয়ে এক গ্লাস জলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে । পরদিন বীজগুলি বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানাতে হবে। সেই পেস্টটা ভাল করে মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। টানা একমাস, প্রতিদিন এই মিশ্রনটি মাথায় লাগালে চুল পড়া তো কমবেই, সেই সঙ্গে নতুন চুলও গজাবে।

* আমলকি

চুল পড়া আটকানোর পাশপাশি চুলের বৃদ্ধিতেও আমলকির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা চুলের পুষ্টি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, ফলে চুল পরার পরিমাণ কমে। প্রসঙ্গত, দেহে ভিটামিন-সি-এর ঘাটতি দেখা দিলে চুল পড়া বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রথমে ১ চামচ আমলকির রসের সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই মিশ্রনটি ভাল করে চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিয়ে পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফল পাবেন রাতারাতি।

* অ্যালোভেরা

এতে রয়েছে এমন কিছু এনজাইম, যা চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে চুল পড়লেও মাথা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অ্যালোভেরা স্কাল্পের পি এইচ লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুল পড়ার হার কমে। পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে স্কাস্পে লাগিয়ে ফেলতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে হালকা গরম জলে ভাল করে মাথাটা ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই ভাবে অ্যালোভেরা জেল মাথায় লাগলে খুব ভাল উপকার পাওয়া যায়।

রেসিপি

error: Content is protected !!