Tags Posts tagged with "Old Man"

Old Man

লিখেছেন -
0 675

ভালবাসা যে বয়সের গণ্ডিও মানে না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন এই দম্পতি। ৬৭ বছর বয়সী শামসের বিয়ে করলেন ২৪ বছরের নবপ্রীত কউরকে। নিজেরা পছন্দ করেই একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁরা। গত জানুয়ারিতে মাসেই চণ্ডীগড়ের একটি গুরুদ্বারে চার হাত এক হয় তাঁদের। বিয়ের খবর ছবি-সহ রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার পরেই শুরু হয় সমস্যা।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, বিয়ের পরেই আদালতের দ্বারস্থ হন এই নবদম্পতি। কারণ হিসেবে তাঁরা জানিয়েছেন তাঁদের আত্মীয়রা এই বিয়ে মেনে নেননি। সকলের মতের বিরুদ্ধে গিয়েই বিয়ে করেছেন তাঁরা। তাঁদের পরিবারের তরফ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাঁরা যদি অবিলম্বে আলাদা না হন, তাহলে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে। আর সেই ভয় থেকেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।

নবদম্পতির আইনজীবী মোহিত সাদানা জানিয়েছেন, পঞ্জাব-হরিয়ানার হাইকোর্ট নবদম্পতির সুরক্ষার্থে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নবদম্পতিকে যাতে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, আদালত জানিয়েছে যে আইনত শামসের-নবপ্রীতের বিয়ে বৈধ। কারণ তাঁরা দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং শামসেরের অন্য কোনও স্ত্রী নেই। আর নবপ্রীতও অবিবাহিত। ফলে তাঁদের এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের কোনও কিছু বলারই থাকতে পারে না ।

লিখেছেন -
0 187

তাঁদের শেষ দেখা হয়েছিল, ১৯৪৬এর ডিসেম্বরে। তারপরে কেটে গিয়েছে ৭২টি বসন্ত, তারপরে আবার তাঁদের দেখা হল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। না কোনও চলচ্চিত্রের কাহিনি নয়, এ এক বাস্তব জীবনের পুনর্মিলনের কাহিনি। মাত্র আট মাসের জন্য সংসার করার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা। আর তারপর দীর্ঘ বিচ্ছেদ প্রায় ৭২ বছরের। এত বছরে কেউ কারোর মুখও দেখেননি। ৭২ বছর পর প্রথম স্ত্রী সারদার সঙ্গে দেখা হল ৯৩ বছর বয়সী ই কে নারায়ণনের। দুঃখ ও অভিমানে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ৮৭ বছর বয়সী সারদা।

বিয়ের দিনক্ষণও ঠিক করে মনে করতে পারেন না সারদা। যখন তাঁদের বিয়ে হয়, তখন তাঁদের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৩র কাছাকাছি। এখন তাঁদের শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। আগের মতো বল নেই শরীরে, চোখেও ভাল দেখতে পান না। মাথার চুলও সাদা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর পরেও নিজের প্রথম স্ত্রীকে এক পলক দেখেই চিনতে সময় নিলেন না নারায়ণ। সবই আছে শুধু নেই সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি।

সাল ১৯৪৬। তখনো দেশভাগ হয়নি। কেরালার কাভুম্বায়ি গ্রামে উত্তাল কৃষক আন্দোলনের তাণ্ডবে ছারখার হয়ে গিয়েছিল নারায়ণনসারদার সংসার। সেই সময় পুলিশ এসে ভেঙে দিয়েছিল তাদের দু’জনের দাম্পত্য জীবন, তাদের সংসার। এখানেই শেষ নয়, মাঝরাতে নারায়ণনের বাড়িতে তল্লাসি করতে এসে পুলিশ ছোট্ট সারদাকে একা দেখে তাঁকে তাঁর বাবার কাছে রেখে আসে মালাবার পুলিশের বিশেষ বাহিনী। তার আগে এক বছরও পেরোয়নি বিয়ে করেছিলেন নারায়ণন। তবে এত কিছুর পরেও শেষ রক্ষা হল না আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে নারায়ণন আর তার বাবা থালিয়ান রমন নাম্বিয়ারকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। গ্রেফতারের পর দু’জনকেই কারাগারে পাঠায় তারা। আট বছরের জেল হয় নারায়ণনের। এরপর সালেম কারাগারের মধ্যেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন নারায়ণনের বাবা। তবে ততদিনে নারায়ণনের জন্য অপেক্ষায় ইতি টানেন সারদার পরিবার। ছোট্ট সারদার অন্যত্র বিয়ে দেন তাঁর পরিবার। ১৯৫৭এ জেল থেকে ফিরে আবার বিয়ে করেন নারায়ণনও। মাঝখানে পেরিয়ে গিয়েছে অনেকগুলি বছর। পত্নীবিয়োগ হয়েছে নারায়ণনের, এদিকে সারদার স্বামীও মারা গিয়েছেন।

সারদার পুত্র ভার্গবন কৃষিকাজ করেন। বিভিন্ন সূত্রে নারায়ণনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর, তিনিই ঠিক করেন তাঁদের মিলিয়ে দেবেন। সেইমতো সারদার বাড়িতে আমন্ত্রণ পেয়ে এসেছিলেন নারায়ণন। মধ্যাহ্ণভোজের সমস্ত আয়োজন করেছিলেন ভার্গবন নিজে।এত বছর পর প্রথম স্ত্রী সারদার সঙ্গে দেখা হলো ৯৩ বছর বয়সী নারায়ণনের। অভিমানে বাকরুদ্ধ হয়ে থাকলেন ৮৯ তে পা দেওয়া সারদা। দু’জনের কারওরই কারওর ওপর রাগ নেই বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের এই পুনর্মিলনের গল্পই তাঁদের বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়ার রসদ জোগাবে।

রেসিপি

error: Content is protected !!