Tags Posts tagged with "Turmeric"

Turmeric

রূপচর্চার ক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই ত্বকের, চুলের যত্ন সম্পর্কে সচেতন থাকি | কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা নখের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিই না | তাই নখ নোংরা হয়ে যায়, দেখা দেয় নখকুনির মত যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাও | অযত্নে আমাদের অনেকের নখ পাতলা হয়ে যায়, ভেঙে যায় | হাত ও পায়ের নখকে যত্ন করলে শুধু যে দেখতে সুন্দর লাগে তাই নয়, নখের স্বাস্থ্য ভাল রাখাও জরুরি |

নখ সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখা উচিত | সময় মত ও নিয়মিত নখ কাটা দরকার | কখনও নখ ভেঙ্গে গেলে সেটি তখনই নেলকাটার দিয়ে কেটে ফেলতে হবে | অতিরিক্ত জল বা সাবান ব্যবহার করলে আমাদের নখ রুক্ষ হয়ে যায় | তাই নিয়মিত নখে ময়শ্চারাইজার লাগাতে হবে | কোনরকম ক্ষতিকারক নেল কেমিকাল ব্যবহার না করাই ভালো | দাঁত দিয়ে নখ কাটা অত্যন্ত খারাপ স্বভাব | নখের সঙ্গে এটি শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে | নখ টেনে তোলা একেবারেই উচিত নয় | রিমুভার ব্যবহার কমানো দরকার |

কিছু ঘরোয়া উপাদানের সাহায্যে নখের যত্ন নেওয়া যায় | আসুন জেনে নিই সেগুলি কী কী |

১| লেবু : লেবুতে থাকা ভিটামিন সি নখের হলদে ভাব দূর করে এবং প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল  করে | লেবুর রসের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটু হালকা গরম করে তাতে আপনার নখ ডুবিয়ে রাখুন | ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন | এছাড়া হাত ও পায়ের নখে লেবু দিয়ে হালকা ঘষে জল দিয়ে ধুয়ে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন | নিয়মিত লেবুর ব্যবহার নখের যে কোনো রকম সমস্যা সমাধান সাহায্য করে |

২| নারকেল তেল : নারকেল তেল নখ কে ময়শ্চারাইজ করে | নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে | এছাড়া নখের যে কোনো ফাংগাল ইনফেকশন সহজেই সারিয়ে তোলে | নারকেল তেল ও মধু হালকা গরম করে হাতে ও পায়ের নখে ভালো করে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন | এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে ও নখ ভালো থাকে |

৩| ডিমের কুসুম ও দুধ : প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাবে আমাদের নখে নানা ধরনের সমস্যা হয় | ডিমের কুসুম ও দুধ নখের যত্ন নিতে সাহায্য করে | এই দুইয়ের মিশ্রণ নখের যত্নে খুবই কার্যকর | এই দুটি উপাদান মিশিয়ে হাতে ও পায়ের নখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন | হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন | এতে নখের হলদে ভাব দূর হবে ও নখ ভালো থাকবে |

৪| পেট্রোলিয়াম জেলি : পেট্রোলিয়াম জেলি নখ ভাল রাখার সবথেকে সহজ উপায় | রাতে শুতে যাবার আগে ভালো করে পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভেসলিন হাতে ও পায়ের নখে লাগিয়ে নিন | কিছু দিনের মধ্যেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন

৫| নুন ও লেবুর রসের মিশ্রণ : দু চামচ নুন ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ঈষদুষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে নিয়ে তাতে হাত ও পা ডুবিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট | সপ্তাহে অন্তত পক্ষে দুবার এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করুন | নখের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে |

৬| ক্যামোমাইল ও পেপারমিন্ট টির মিশ্রণ : ক্যামোমাইল ও পেপারমিন্ট টি গরম জলে ভিজিয়ে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা নখের ওপর লাগিয়ে রাখুন | তারপরে সেই মিশ্রণটি ভাল ভাবে মুছে নিয়ে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল আর দু চামচ আটা ভাল করে মিশিয়ে নখে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রেখে তুলে ফেলুন | দেখবেন কেমন সুন্দর হয়ে উঠবে নখ |

৭| হলুদ : কাঁচা হলুদ কুচি কুচি করে কেটে অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েলে দিয়ে গরম করে নিন | বানানো হলুদের ১ চামচ তেলে ৩ চামচ জল মিশিয়ে নখে লাগান | হলুদের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে | কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেলেও নখ ভাল থাকে |

৮| মাজন (টুথপেষ্ট) : মাজন যেভাবে আমাদের দাঁত সাদা করে থাকে তেমনি এটি নখের হলদেটে ভাব দূর করে নখকে সাদা করে থাকে। নখের হলদে দাগের ওপর সাদা টুথপেষ্ট লাগান। ৫ থেকে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে তিন বার করুন। নখ ভাল থাকবে |

৯| কমলা লেবুর খোসা : ত্বকের যত্নে কমলা লেবুর খোসার ব্যবহারের কথা আমরা সবাই জানি। কমলা লেবুর খোসা দিয়ে খুব সহজে নখের দাগ দূর করা যায়। কমলার খোসা প্রতিদিন নখের হলদে অংশে ঘষুন। কয়েক সপ্তাহ করার পর দেখবেন নখের গোলাপি রং ফিরে এসেছে।

নিয়মিত যত্নে নখ থাকবে সুন্দর ও ঝলমলে | তাই রোজ একটু খেয়াল রাখলেই পেয়ে যাবেন সুন্দর নখ |

কাঁচা হলুদের গুণাবলী সম্পর্কে অনেকেই জানেন। আয়ুর্বেদেও হলুদের উপকারিতার উল্লেখ রয়েছে। ত্বকের সমস্যা, লিভারের সমস্যা, পেশীর সমস্যা, কেটে যাওয়া বা ছড়ে যাওয়ার জন্যও হলুদ খুবই উপকারী। এছাড়া হলুদের মধ্যে এমন উপাদান থাকে যার ফলে গ্যাসট্রিক, পেপটিক এবং গ্যাসট্রিক আলসার ইত্যাদির জন্যও উপকারী। অ্যালজাইমারস-এর জন্যও কাঁচা হলুদ উপকারী। এমনকি গেঁটে বাতের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে কাঁচা হলুদ।

সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ গেঁটে বাত বা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন। এতে আক্রান্ত হলে শরীরের অস্থিসন্ধিগুলোতে ব্যথা ও অসাড়তা দেখা দেয়।  গেঁটে বাত আক্রান্ত মানুষ দৈনিক কাজগুলোও করতে পারেন না ব্যথার কারনে। ওজন কমানো এবং ব্যায়াম আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে কাজে আসে। গেঁটে বাতের সমস্যা কমাতে ব্যায়াম ও ওজন করতে বলা হয়, এ ছাড়াও কিছু খাবার আছে যা আর্থ্রাইটিস রোগীর ব্যথা কমাতে দ্রুত কাজ করে।

ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ কমাতে পারে বলে হলুদ গেঁটে বাত উপশমে কাজে আসে। হলুদে থাকা কারকিউমিন আর্থ্রাইটিসজনিত ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা কমানোর জন্য উপকারী।

কাঁচা হলুদ দিয়ে তৈরী চা-

এক চিমটি হলুদ গুঁড়া অথবা কাঁচা হলুদ বাটা, সামান্য আদা কুচি অথবা আদা বাটা নিয়ে একটি সসপ্যানে এক কাপ জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এরপর সাধারণ তাপমাত্রায় ঠান্ডা হতে দিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে ছাঁকনি দিয়ে কাপে ছেঁকে নিন। দিনে দু বার এক সপ্তাহ এই হলুদ চা খেলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার গেঁটে বাতের ব্যাথা অনেক কমে এসেছে।

কাঁচা হলুদের পেস্ট-

একই ভাবে হলুদ গুঁড়া অথবা কাঁচা হলুদ বাটা ও জল দিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরী করে হালকা আঁচে ফুটিয়ে নিন। এরপর নামিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করে ব্যাথা জায়গায় লাগিয়ে ৩০-৪০ মিনিট অবধি রেখে দিন। এই পেস্টটি তৈরি করে আপনি একমাসের জন্য ফ্রিজে রেখেও ব্যবহার করতে পারবেন। দ্রুত ব্যাথা কমাতে দিনে দুবার এই পেস্ট ব্যবহার করুন।

রেসিপি

error: Content is protected !!