(Nabinchandra Sen)
অকস্মাত্ কেন আজি জলধর-প্রায়,
বিষাদে ঢাকিল মম হৃদয়-গগন?
দুর্বল মানসতরী, ছিল আশা ভর করি,
চিন্তার সাগরে কেন হইল মগন?
দুঃখের অনলে বুঝি আবার জ্বালায়!
কেন কাঁদে মন আহা! কে দিবে বলিয়া?
কে জানে এ অভাগার মনের বেদন?
অন্তরে আছেন যিনি, কেবল জানেন তিনি,
যে অনলে এ হৃদয় করিছে দাহন ;
কেমনে বাঁচিবে প্রাণ এ তাপ সহিয়া?
কেন কাঁদে মন আহা! ভাবি মনে মনে,
অমনি মুদিয়া আঁখি নিরখি হৃদয়,
চিন্তার অনল তায়, জ্বলিতেছে চিতাপ্রায়,
দীনতা পবনবেগে প্রবাহিত হয়,
দ্বিগুণ আগুন জ্বলে বাঁচিবে কেমনে?
অমানিশাকালে যেথা শোভে নীলাম্বর
খচিত-মুকুতাহারে, তারার মালায়
তেমতি এ অভাগার, হৃদয়েতে অনিবার,
শোভিত শতেক আশা, নক্ষত্রের প্রায়,
আজি দেখি সকলেই হয়েছে অন্তর।
বিষাদ-জলদ-রাশি আসি আচম্বিতে,
ঢাকিয়াছে আশা যত দেখা নাহি যায়,
দরিদ্রতা ভয়ঙ্কর, পিতৃশোক তদুপর,
কেবল জ্বলিছে ভীম দাবানল প্রায়,
তারা সাজাইবে চিতা জীয়ন্তে দহিতে?
(মূল বানান অপরিবর্তিত)
বাংলা সাহিত্যের 'বাংলার বায়রন' হিসেবে পরিচিত। ১৮৪৭ সালে চট্টগ্রামের নোয়াপাড়ায় জন্ম। একাধারে কবি এবং ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট)। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব মহাকাব্যিক কাব্যগ্রন্থ 'পলাশীর যুদ্ধ'। এ ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের মানব রূপকে উপজীব্য করে লিখেছেন বিখ্যাত কাব্যত্রয়ী— 'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র' ও 'প্রভাস'। তাঁর কবিতায় প্রখরভাবে ফুটে ওঠে দেশপ্রেম, বীররস এবং গভীর মানবিকতা। লিখেছেন 'আমার জীবন' নামে পাঁচ খণ্ডের আত্মজীবনী।
