(Interview)
এ সম্মান আসলে দীর্ঘদিন ধরে ‘অনুবাদ পত্রিকা’ ও ‘ভাষা সংসদ’-এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি অনুবাদকের, যাঁরা স্বপ্ন দেখেন কাঁটাতারের সব ব্যবধান ঘুচিয়ে বিশ্বকে, বাংলা মায়ের পায়ের কাছে নিয়ে আসার। এটা ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, সমষ্টিগত প্রাপ্তি, যা আমি গ্রহণ করেছি সকলের পক্ষ থেকে। এর নেপথ্যে রয়েছে অনুবাদের দীর্ঘ পরম্পরা, যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত।
কথোপকথনে বিতস্তা ঘোষাল ও বিবেক চট্টোপাধ্যায়…
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: এই মুহূর্তে যখন ইন্টারভিউ নিচ্ছি, তখন সদ্য তোমার ঝুলিতে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির ‘লীলা রায় স্মারক’ সম্মান। কেমন লাগছে?
বিতস্তা ঘোষাল: ভাল লাগছে। যে-কোনও সম্মান বা পুরস্কার পেলে ভালই লাগে। তবে আলাদা করে কিছু নয়। এ সম্মান আসলে দীর্ঘদিন ধরে ‘অনুবাদ পত্রিকা’ ও ‘ভাষা সংসদ’-এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি অনুবাদকের, যাঁরা স্বপ্ন দেখেন কাঁটাতারের সব ব্যবধান ঘুচিয়ে বিশ্বকে, বাংলা মায়ের পায়ের কাছে নিয়ে আসার। এটা ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, সমষ্টিগত প্রাপ্তি, যা আমি গ্রহণ করেছি সকলের পক্ষ থেকে। এর নেপথ্যে রয়েছে অনুবাদের দীর্ঘ পরম্পরা, যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। রয়েছে আমার বাবা ‘অনুবাদ পত্রিকা’-র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শ্রী বৈশম্পায়ন ঘোষাল ও মা অনুবাদক সাহিত্যিক সোনালী ঘোষালের অদম্য প্রেরণা, যা শিখিয়েছে বিশ্ব সাহিত্যকে ভালবাসতে; শিখিয়েছে অনুবাদ নিছক একটা কাজ নয়, এটার সঙ্গে জড়িয়ে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্যের মধ্যে সংহতির দৃঢ় বন্ধন ও অপার ভালবাসা। (Interview)
আরও পড়ুন: মুখোমুখি দেবজ্যোতি দত্ত
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: অনুবাদ সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার জন্য তোমাকে এই সম্মান প্রদান করা হল। তোমার সাহিত্য জীবনের শুরু অনুবাদ সাহিত্য দিয়ে না মৌলিক রচনা দিয়ে?
বিতস্তা ঘোষাল: অনুবাদ নিয়ে আমার কাজ অনেক পরে শুরু। বলা যেতে পারে, ‘অনুবাদ পত্রিকা’-র সূত্রে কিছুটা বাধ্য হয়েই শুরু করেছিলাম। তখন সবে পত্রিকার দপ্তরে যাতায়াত শুরু করেছি। সাহিত্য অকাদেমিতে বিজ্ঞাপন চাইতে গিয়েছি। রামকুমার মুখোপাধ্যায় সচিব। নিজের পরিচয় দিলাম। তিনি বললেন, নিজে কোন ভাষা জানেন? হিন্দি, ইংরেজি বাদে কিছুটা অসমিয়া আর মণিপুরি জানতাম। এই দুই ঘরানার নাচ এবং পিএই ডি পেপারের বিষয়ের জন্য শিখতে হচ্ছিল। শুনে বললেন, তাহলে অনুবাদের কাজ শুরু করুন। সত্যি বলতে, আমি যে খুব ভালবেসে শুরু করেছিলাম, তা নয়। কিন্তু বাবা-মা দুজনেই বলতেন, যত অনুবাদের কাজ করবি, তত নিজের লেখার বিস্তৃতি ঘটবে। সেই সময় আমার প্রথম গল্প সংকলন ‘একা ও রঙিন হলুদ বিকাল’ প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে। আমি প্রথম অনুবাদ করতে শুরু করি পাঞ্জাবি লেখক কর্তার সিং দুগগল-এর লেখা। ওঁর সান্নিধ্যেই বলা যেতে পারে, ওঁর গল্প অনুবাদ করতে আমি উৎসাহিত হই। সেটা ২০০৭ সাল। ধীরে ধীরে দেখা গেল অনুবাদগুলো খারাপ হচ্ছে না। এরপর প্যাপিরাসের কর্ণধার অরিজিৎ কুমার ২০১০ সালে, ‘নির্বাচিত কর্তার সিং দুগগল’ বই হিসেবে প্রকাশ করলেন। আর, যেহেতু ২০১১ থেকে অনুবাদ পত্রিকার পুরো দায়িত্ব নিজে নিলাম, তাই অনুবাদ ক্রমশ প্রাণের আরাম হয়ে উঠল। (Interview)

বিবেক চট্টোপাধ্যায়: তুমি যখন থেকে অনুবাদ পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব নিলে, তখন থেকে আজ অবধি সময়কালটায় যেসব অনুবাদকদের সঙ্গে তোমার পরিচয়, তোমার পত্রিকায় অনুবাদক হিসেবে যাঁদের হাতেখড়ি এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হলেন- তাঁদের নিয়ে অভিজ্ঞতা কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?
বিতস্তা ঘোষাল: দেখো, সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে, ২০০৩-১০ সাল পর্যন্ত শিক্ষানবিশ ছিলাম। নিজেকে তৈরি করার পাশাপাশি চেষ্টা করছিলাম যাঁরা নতুন প্রজন্ম, আমার বয়সী, আমার থেকে ছোট, তাঁরা অনুবাদের কাজে যুক্ত হোক। তাঁদের অনেকেই এখন অনুবাদের জগতে প্রতিষ্ঠিত। আমি সব সময় ভেবেছি, নতুনরা এগিয়ে না এলে একদিন সব কাজই থমকে যায়। তাই চেষ্টা করেছি। এতদিন বাদে যখন দেখি, বহু পত্র-পত্রিকা অনুবাদ নিয়ে কাজ করছে, একঝাঁক নতুন অনুবাদক উঠে এসেছেন, তখন বুঝি আমার ভাবনাটা ভুল ছিল না। (Interview)
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: দুগগলের পরে কার অনুবাদ করলে?
বিতস্তা ঘোষাল: মালয়ালম লেখিকা কমলা দাস। আসলে ইচ্ছে ছিল প্রথমে এঁর লেখাই করব। কিন্তু তার আগে দুগগল সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। তিনি সময় দিলেন। সেই সময় আমি প্রায়ই দিল্লিতে থাকতাম। ফলে, বারবার তাঁর কাছে যাওয়ার ও তাঁর সামনে বসে কোনও সমস্যা হলে দোভাষীর মাধ্যমে সঠিকটা জেনে নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। বই প্রকাশের পর-পরই কমলা দাসের মেল এল। ফোনেও কথা বললাম। নিজেই তিনটি গ্রন্থ পাঠালেন। লেখিকা নিজেও বাংলা জানতেন। ফলে অসুবিধা হলে তাঁকে ফোন করে নিতে পারতাম। কিন্তু দেখলাম, দুগগলের থেকে তাঁর গল্পের বা আত্মজীবনীর অনুবাদ কঠিন। কারণ মালয়ালম সংস্কৃতি বাদ দিলেও, লেখার মধ্যে পরাবাস্তবতা, উপকথা এবং একটা মৃত্যুচেতনা এমনভাবে জুড়ে আছে, যা অনুভব করে লিখতে দীর্ঘদিন লেগেছে।
প্রথমে আজকাল থেকে প্রকাশিত হল তাঁর গল্প সংকলনের অনুবাদ ‘রক্ষিতা ও অন্যান্য’ এবং ভাষা সংসদ থেকে তাঁর আত্মজীবনী ‘মাই স্টোরি’। (Interview)

বিবেক চট্টোপাধ্যায়: এই তিনটে গ্রন্থ তুমি কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করেছ? মূল ভাষা না হিন্দি, ইংরেজি?
বিতস্তা ঘোষাল: সব কটাই ইংরেজি থেকে। কিন্তু আমি সেই সব লেখাগুলোই পছন্দ করেছিলাম অনুবাদের জন্য, যেগুলো তাঁরা নিজেরা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন। ফলে সোর্স ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে টার্গেট ল্যাঙ্গুয়েজে পৌঁছোবার সময় যে সমস্যাগুলো হয়, তা আমার ক্ষেত্রে হয়নি। (Interview)
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: তোমার মৌলিক রচনা কবিতা দিয়ে শুরু না গল্প, নাকি প্রবন্ধ দিয়ে?
বিতস্তা ঘোষাল: গল্প। প্রথম গল্প ‘ফুল মতি’।
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: তোমার দুটো উল্লেখযোগ্য গবেষণামূলক কাজের কথা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে, একটি হল ‘সনাতনী রিক্সা’ আর একটি ‘বাঙালি নারীর সার্কাস অভিযান’। এই দুটি বিষয়, চিন্তায় কীভাবে এল?
বিতস্তা ঘোষাল: বাঙালি নারীর সার্কাসটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস পড়ার সময় থেকেই মাথায় ছিল। তবে তখন লেখার কথা ভাবতাম না। ন্যাশানাল লাইব্রেরিতে নিজের পড়াশোনার সূত্রে পুরনো কাগজ দেখতে দেখতে একটা কাগজে চোখ আটকে যায়। তাতে লেখা ছিল ব্যঘ্র সুন্দরী সুশীলার লড়াই থেমে গেল। প্রথমে ভাবলাম কোনও বাঘের নাম সুশীলা। কিন্তু পড়তে গিয়ে চমকে উঠলাম। আমি নোট করার খাতায় নাম আর খবরটা টুকে রাখলাম। অনেক পরে যখন ফিচার লিখতে শুরু করলাম, তখন ‘এই সময়’ খবরের কাগজে তাঁকে নিয়ে লিখলাম। অনেকেই লেখাটা পড়ে ফোন করলেন। তখনই মনে হল, সেই সময় নিশ্চয়ই সুশীলা একা খেলা দেখাতেন না, অন্য মেয়েরাও ছিলেন। খোঁজ শুরু করলাম, তাঁরা কারা? ফলে প্রথমে প্রবন্ধ ‘বাঙালি নারীর সার্কাস অভিযান’ আর সেটা ধরে উপন্যাস ‘সার্কাস সম্রাট ও সুশীলা সুন্দরী’। (Interview)

‘রিক্সা’ নিয়ে আমি ভাবিনি। আত্মজা প্রকাশনীর অরুনাভ আমাকে একদিন বললেন, তোমাকে আঠারো দিন সময় দিচ্ছি, সেটা ডিসেম্বর মাস, শান্তিনিকেতনে ছুটি কাটাচ্ছি। তিনি বললেন, বইমেলার আর একমাস। এটা নিয়ে বই করব। আমি আকাশ থেকে পড়লাম। একে তো শহরে নেই, তার উপর এই বিষয়! একবারে না করে দেওয়ার আগে এক ঘণ্টা সময় চাইলাম উত্তর দেওয়ার জন্য। আসলে আমি কোনও কিছু পারব না— এটা ভাবতে পারি না। তাছাড়া যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রচুর পড়াশোনার সুযোগ থাকে, সেগুলো আমি সহজে বাতিল করতে পারি না। ফলে ‘জয় রামকৃষ্ণ’, ‘জয় বৈশম্পায়ন’ বলে লেগে পড়লাম, এবং হয়েও গেল। (Interview)
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: অনুবাদ সাহিত্য নিয়ে সারাক্ষণ কাজ করছ, যখন গল্প লিখছ বা উপন্যাস, তখন তার কোনও প্রভাব কি পড়ে?
বিতস্তা ঘোষাল: না। কারণ, ব্রেন ওভাবেই আমি প্রথম থেকে ট্রেন্ড করে রেখেছি। তাই যখন লিখি, আমার বিষয় নির্বাচন দেখলেই বুঝতে পারবে, সম্পূর্ণ আলাদা হয়; তা গল্প, উপন্যাস যা-ই হোক না কেন। (Interview)
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: কতগুলো গল্প ও উপন্যাস লিখে ফেললে?
বিতস্তা ঘোষাল: যদি বইয়ের হিসেবে ধরো, গল্পগ্রন্থ কম। মাত্র ৭ টা। উপন্যাস ১৭ টা।

বিবেক চট্টোপাধ্যায়: সামাজিক ঘটনা নিয়ে লিখতে ভাল লাগে নাকি ইতিহাস-আশ্রিত?
বিতস্তা ঘোষাল: দুটোই। ইতিহাসেও তো সমাজ গভীরভাবেই মিশে থাকে।
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: এবার আবার একটু অনুবাদ সাহিত্য নিয়ে শুনি। তোমার অনুবাদ ‘মাই স্টোরি’- এই বই নিয়ে কিছু বলো।
বিতস্তা ঘোষাল: ‘মাই স্টোরি’ বা ‘এন্তে কথা’ যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা জানেন এটা কমলা দাসের আত্মজীবনী। ৪২টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এই গ্রন্থ। নোবেলের জন্য মনোনীত হলেও, কেরালা সরকার ও তাঁর পরিবারের তীব্র আপত্তিতে, তা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে, তা পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত। ফলে সর্বাধিক বিক্রীত, সমালোচিত ও আলোচিত এই গ্রন্থের অনুবাদ করা খুব একটা সহজ ছিল না। তাছাড়া, আমি তখন একেবারেই নবীন। ফলে আদৌ তা ভাল হবে কি না, সেই নিয়ে ভাবনা ছিল। কিন্তু কমলা ম্যাডাম যখন জানালেন অনুবাদ ভাল হচ্ছে, আমি আর কোনও কিছু চিন্তা না করে অনুবাদ শুরু করে দিই। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি। তিনি বলেছিলেন, “বিতস্তা আমার আত্মজীবনীর অনুবাদ এদেশের কোনও উচ্চ পর্যায়ের সম্মান বা পুরস্কার তোমাকে এনে দেবে না, তুমি তাই করার আগে তেমন ভেবেই অনুবাদ করো।” সত্যি বলতে, ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমি এটার মধ্যে এমনভাবে ডুবে ছিলাম, অন্য কিছু নিয়েই ভাবিনি। তাছাড়া পুরস্কারের আশাও আমার ছিল না। কিছু পাওয়ার আশায় কোনও কাজ করব— এই ভাবনা আমার কোনওদিনই নেই। (Interview)

আমি বিশ্বাস করি কাজে এবং সেটার প্রতি সৎ থাকায়। অতএব অনুবাদ করলাম, এবং এত পাঠকের ভালবাসা পেয়েছি অনুবাদের পর, আমি তাতেই তৃপ্ত। তাছাড়া এটা অনুবাদ চলাকালীন ম্যাডাম বলতেন, আত্মজীবনী লেখো। এটা খুব শক্ত কাজ। নিজেকে নিংড়ে লিখতে হয়। লুকিয়ে চুরিয়ে আধা সত্য আধা মিথ্যে লেখার সুযোগ নেই। আয়নায় নিজেকে দেখার মতো করেই তা লিখতে হয়। তুমি জানো, আমি তাঁর নির্দেশে দুটি খণ্ডে আত্মজীবনী লিখলাম। ‘দশম শ্রেণির অকথিত কথামালা’ আর ‘কু ঝিক ঝিক দিন’। এত কম বয়সে কেউ আত্মজীবনী লিখেছেন কি না আমি জানি না। (Interview)
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: তোমার একটি প্রকাশনা সংস্থাও আছে- ভাষা সংসদ। নিয়মিত ‘অনুবাদ পত্রিকা’ প্রকাশ, প্রকাশনা সংস্থা এবং তোমার বিস্তর লেখালেখি- কীভাবে সামলাও বলো তো?
বিতস্তা ঘোষাল: অভ্যাস। নিজের মনকে যদি তুমি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিখে যাও, তাহলে সবটাই হয়ে যায়। তুমি রবীন্দ্রনাথকে দেখো। কীসব কাজ একা করেছেন! একটা মানুষ সব ধরনের লেখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় করে ফেললেন। কাজটা সহজ ছিল না। আমি ভাবি পারলেন কী করে? আর আমার তো সমস্ত কিছুই সাহিত্যকেন্দ্রিক! তবে হ্যাঁ, এটা বলতেই হয়, আমার মা ছোট থেকেই শিখিয়েছেন, একসঙ্গে অনেক কাজ করা যায়। মাকে দেখতাম ভোর রাতে উঠে নিজের পড়াশোনা, লেখালিখি করতে। তারপর যৌথ পরিবার, তিন সন্তান, সকলের রান্না, জলখাবার, স্কুল, অফিসে নিয়ে যাওয়ার টিফিন বানিয়ে দশটার মধ্যে স্কুলে পড়াতে চলে যেতেন। ফিরে এসে তাড়াতাড়ি আমাদের খাবার দিয়ে পড়াতে বসতেন, স্কুলের কমজোর ছাত্রছাত্রীদের। তারা চলে গেলে আমাদের, তারপর আবার রাতের রান্না।… শুতে শুতে রাত সাড়ে বারোটা। অথচ সেই কাক-ডাকা ভোরে আবার ওঠা…। মায়ের কাছেই শিখেছি মনকে কীভাবে অভ্যস্ত করতে হয়। (Interview)
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: ভাষা সংসদ সম্পর্কে এবং সেখান থেকে কী ধরনের বই প্রকাশিত হয় যদি বলো।
বিতস্তা ঘোষাল: সব ধরনের বই হয়। তবে অনুবাদ আমাদের প্রধান সম্পদ। ভাষা সংসদ তৈরিই হয়েছিল বিশ্ব সাহিত্যকে বাংলার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। ফলে সেই ধারা আমরা বহন করে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু শুধু অনুবাদ নয়, মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যাটাও এখন অনেক। (Interview)

বিবেক চট্টোপাধ্যায়: অনুবাদ না মৌলিক লেখা, কোনটায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করো?
বিতস্তা ঘোষাল: মৌলিক। অনুবাদ আমি নিজে খুব কম করি। যেটুকু ভাল লাগে, সেটুকুই করি। যেমন ‘নির্বাচিত বব ডিলান’ করেছি, তেলুগু কবি এন গোপীর বৃহত্তম কাব্য ‘জলগীত’ করেছি। তাছাড়া অমৃতা, ইসমত, মান্টো প্রমুখ। তবে যদি স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বলো, অবশ্যই মৌলিক লেখায়। (Interview)
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: নিজেকে কী বলবে অনুবাদক, কবি না গল্পকার?
বিতস্তা ঘোষাল: নিজেকে অক্ষরসাধক ছাড়া কিছু ভাবি না। তবে তোমার বিভাগ অনুযায়ী গল্পকার।
বিবেক চট্টোপাধ্যায়: তুমি অনুবাদ সাহিত্যের জন্য পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি লীলা রায় স্মারক সম্মান পেলে। আশা করি, আগামী দিনে গল্পকার হিসেবেও তুমি সম্মানিত হবে।
বিতস্তা ঘোষাল: অনেক ধন্যবাদ। আমি বিশ্বাস করি, লাগাতার লিখে যাওয়াই লেখকের একমাত্র কাজ। বাকি সব হয়ে যায়। যিনি আমাদের সুতোটা ধরে নাচাচ্ছেন, তিনিই ঠিক করে রেখেছেন সব। (Interview)
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
চিত্র ঋণ- বিতস্তা ঘোষাল
বাংলালাইভ একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ওয়েবপত্রিকা। তবে পত্রিকা প্রকাশনা ছাড়াও আরও নানাবিধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে বাংলালাইভ। বহু অনুষ্ঠানে ওয়েব পার্টনার হিসেবে কাজ করে। সেই ভিডিও পাঠক-দর্শকরা দেখতে পান বাংলালাইভের পোর্টালে,ফেসবুক পাতায় বা বাংলালাইভ ইউটিউব চ্যানেলে।
