Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

‘আমি আধা মিস্ত্রি, আধা কেরাণী’

আশিস পাঠক

মার্চ ১৬, ২০২৬

Rajshekhar Basu
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Rajshekhar Basu)

সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন যিনি, তিনি জন্মতারিখ জিজ্ঞেস করবেন বলে ভাবছেন, হঠাৎ উঠে গেলেন পরশুরাম। যে উৎসাহ নিয়ে একটু আগে শব্দকোষ নামিয়ে এনেছিলেন, ঠিক সেইভাবেই আলমারি খুলে একটা চটি বই নিয়ে এলেন। বললেন, ‘আমার বাবার এক বংশতালিকা প্রস্তুত আছে, এর থেকে জন্ম-তারিখ দেখে নিতে পারেন।’

সাক্ষাৎকারী, সুশীল রায় লিখছেন, ‘বহু পুরাতন একটি বই। তাঁদের বংশের অনেকের নাম এতে লেখা। তার থেকে আমি টুকে নিলাম— দ্বিতীয় পুত্র, জন্ম ১২৮৬ বঙ্গাব্দ, ৪ চৈত্র [১৬ই মার্চ, ১৮৮০] মঙ্গলবার, রাত্রি ২৪ দণ্ড। বর্ধমান জেলার ব্রাহ্মণপাড়ায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।’


আরও পড়ুন: আবির আবিরাবীর্ম এধি!


পরশুরাম বলাটা অবশ্য একটু ভুল হল। তিনি রাজশেখর বসু। বৈজ্ঞানিকের মন তাঁর। বিশ্বাস করেন ডকুমেন্টেশনে। তাই স্মৃতি থেকে বলা নয়, খোঁজ করা পাথুরে প্রমাণের।

অবশ্য স্মৃতি থেকে বললেও ভুল হত না নিশ্চয়। ‘চলন্তিকা’ সংকলন করেছেন যখন, প্রথামাফিক সহায়ক তো নেননি তেমন। রামায়ণ আর মহাভারতের সারানুবাদ করেছেন একা। তার উপর, ছোটবেলায় মুখস্থ করতে হত পিতৃপুরুষদের নাম। বাবা চন্দ্রশেখর বলতেন, মুঘল বাদশাহদের চেয়েও এঁরা অনেক আপনজন, মুখস্থ করো এঁদের নাম।

rajshekhar basu
হাতে-কলমে সব কিছুর কার্য-কারণ খুঁজে দেখতে চেয়েছেন

পূর্বপুরুষের নাম মুখস্থ করেছেন। বিজ্ঞানটা কিন্তু নয়। হাতে-কলমে সব কিছুর কার্য-কারণ খুঁজে দেখতে চেয়েছেন। দারভাঙায় যখন ছোটবেলা কাটছে, খেলনা পেলে খুলে দেখতেন তার ভেতরের কলকব্জা, জানিয়েছেন তাঁর দাদা শশিশেখর। পরে, বাড়িতে ছোটখাটো গবেষণাগারই বানিয়ে ফেলেছিলেন। দু’টো আলমারিতে থাকত নানা রাসায়নিক। দেওয়ালে ব্যারোমিটার, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতেন। আবার কখনও শব-ব্যবচ্ছেদ দেখতে টেম্পল মেডিক্যাল স্কুলে চলে যেতেন।

কেমিক্যাল গোল্ড নয়, ‘খাঁটি খনিজ সোনা’ রাজশেখর আবেগের বাড়াবাড়িতে চকচক করতেন না কখনও। নিজের লেখালেখি সম্পর্কেও নির্বিকার ছিলেন। শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড লেখার আগে কোনওদিন কিছু লেখার শখ হয়েছিল কি না সুশীল রায় জানতে চাইলে, রাজশেখরের নির্বিকার উত্তর ছিল, ‘হয়েছিল। শিশুদের যেমন একবার হাম-ডিপথেরিয়া হওয়াটা একটা নিয়ম। তেমনি প্রাকৃতিক নিয়মে কবিতা লেখার শখ হয়েছিল বাল্যকালে, তখন দু-এক ছত্র লিখেছি। কিন্তু তা পনেরো-ষোলো বছর বয়সের মধ্যেই ঢুকে যায়।’

রাজশেখর বলছেন, ‘দৈবক্রমে সেই সময় তারাচাঁদ পরশুরাম নামে এক কর্মকার-কোম্পানির অন্যতম পার্টনার পরশুরাম সেখানে উপস্থিত হয়। হাতের কাছে তাকে পেয়ে তার নামটা নিয়ে নেওয়া হল। এই নামের পিছনে অন্য কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য নেই। পরে আরো লিখব জানলে ও-নাম দিতাম না।’

তাঁর সাহিত্যের আলোচনায় পৌরাণিক পরশুরামকে টেনে আনা হয়, তাঁর ব্যঙ্গের তীব্র কুঠার ইত্যাদি। কিন্তু ও ছদ্মনামটির নেপথ্যে কোনও পৌরাণিক গল্প ছিলই না। পরিচিত স্বর্ণকার তারাচাঁদ পরশুরামের পদবিটা ধার নিয়েছিলেন তিনি। সুশীল রায়কে বলেছিলেন সে-কথা। ‘এ একটি স্যাকরা। পৌরাণিক পরশুরামের সঙ্গে এর কোনো সম্বন্ধ নেই।’ 

তখন শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড লেখা চলছে, পড়া হচ্ছে পার্শিবাগানের বাড়িতে উৎকেন্দ্র সমিতিতে। ছাপার কথা উঠল জলধর সেন-সম্পাদিত ভারতবর্ষ পত্রিকায়। নামের আখর লিখতে চান না রাজশেখর, তাই ছদ্মনাম খোঁজা চলছে। রাজশেখর বলছেন, ‘দৈবক্রমে সেই সময় তারাচাঁদ পরশুরাম নামে এক কর্মকার-কোম্পানির অন্যতম পার্টনার পরশুরাম সেখানে উপস্থিত হয়। হাতের কাছে তাকে পেয়ে তার নামটা নিয়ে নেওয়া হল। এই নামের পিছনে অন্য কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য নেই। পরে আরো লিখব জানলে ও-নাম দিতাম না।’

rajshekhar basu
যতীন্দ্রকুমার সেন অঙ্কিত স্কেচে রাজশেখর বসু

নিজের সম্পর্কে বলতেন, ‘আসলে আমি আধা মিস্ত্রি, আধা কেরাণী। অভিধান তৈরী আর পরিভাষা নিয়ে নাড়াচাড়া মিস্ত্রীর কাজ, রামায়ণ মহাভারত অনুবাদ কেরাণীর কাজ।’ 

এ সংযম বিজ্ঞানীর। অথবা এ-ই হয়তো ধ্রুপদী মন। বুদ্ধদেব বসু যাকে বলতেন ‘ক্লাসিক মানস’। উচ্ছ্বাস নয়, শৃঙ্খলা। আবেগ নয়, বুদ্ধি। এই মনই তাঁর ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’ এমনকী গীতার গদ্যেরও জমি। বুদ্ধদেব বসু লিখেছেন, ‘আর কেমন ক’রে বাংলা, তার স্বাভাবিক বাগধারার বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন না-ক’রে, সংস্কৃতের চারুতাকে আয়ত্তে আনতে পারে— হ’তে পারে একই সঙ্গে নির্ভার ও সংবৃত, পরিশীলিত ও গতিশীল, তৎসম ও তদ্ভব শব্দের সহযোগে শিষ্টালাপের মতো প্রাঞ্জল, যথোচিত ও নির্বহুল, তার কোনো প্রকৃষ্ট উদাহরণ যদি খুঁজতে হয় তাহ’লে আমি নিশ্চয়ই তাঁর ‘রামায়ণ’ ও ‘মহাভারতে’র গদ্যকে সর্বাগ্রে স্থাপন করতে চাইবো।’

নিজের গল্পের ছবিও নিজেই আঁকতেন। তবে এ বিষয়ে ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা থাকবে না। কারণ সেই নেপথ্যে থাকার মন। পরশুরামের গল্পের সঙ্গে রাজশেখর বসুর আঁকা ছবি ছাপা হয়নি। সে-সব ছবি দিয়েছিলেন যতীন্দ্রকুমার সেনকে। তাঁর আঁকা স্কেচ থেকে ড্রইং ও ফিনিশ করতেন যতীন সেন।

ওই স্বাভাবিক বাগধারার কথাটা এখানে খেয়াল করার মতো। বাংলায় পরিভাষা তৈরির নানা উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন রাজশেখর। কিন্তু তাঁর বিষয়ের পণ্ডিতি দেখানোর চেষ্টা কখনও করেননি। স্বাভাবিক, প্রচলিত বাংলা ভাষার চলনকে অস্বীকার করেননি কোনওদিন। সেই চলনের বিপরীতে বাংলা ভাষার যে সব প্রকাশ আজ আমাদের কানে সয়ে গিয়েছে, সে-সব নিয়ে পরিমল গোস্বামীকে লিখেছিলেন, ‘খবরের কাগজে (এবং অনেক নামজাদা লেখকের বই-এ) নিরঙ্কুশ বাংলা ভাষার সৃষ্টি হচ্ছে, তার ত বাধা দেওয়ার শক্তি কারও আছে মনে হয় না। ‘কার্যকরী উপায়’ ‘কলিকাতায় গ্রীষ্মের দাবদাহ’ (forest fire) ইত্যাদি নিত্য নূতন idiom দেখা যাচ্ছে।…

আসলে সাহিত্যিকের অহংকার ছিল না তাঁর মধ্যে। ছিল কর্মীর নিষ্ঠা। ভাষাকর্মীর, বিজ্ঞানকর্মীর, মুদ্রণকর্মীর। পরিমল গোস্বামীরই স্মৃতি বলছে, সব কাজ যথাযথ করতে চাইতেন। পাণ্ডুলিপিতে শব্দ বদলানোর দরকার হলে সেই মাপের কাগজে লিখে বাতিল শব্দের উপর আঠা দিয়ে এঁটে দিতেন। হাতের লেখার ছাঁদ ছিল তালপাতা-পুঁথির লেখার ধরনে। কালি তৈরি করতেন নিজে, খামও — একদিকে-ছাপা বুলেটিন অথবা ব্যবহৃত খাম উল্টো করে।

rajshekhar basu
যা ছিল সবচেয়ে কঠিন, সেই সহজ হওয়ার সাধনা করেছিলেন রাজশেখর

নিজের গল্পের ছবিও নিজেই আঁকতেন। তবে এ বিষয়ে ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা থাকবে না। কারণ সেই নেপথ্যে থাকার মন। পরশুরামের গল্পের সঙ্গে রাজশেখর বসুর আঁকা ছবি ছাপা হয়নি। সে-সব ছবি দিয়েছিলেন যতীন্দ্রকুমার সেনকে। তাঁর আঁকা স্কেচ থেকে ড্রইং ও ফিনিশ করতেন যতীন সেন। ‘ভূশণ্ডীর মাঠে’-র ‘লজ্জায় জিভ কাটিয়াছিল’, ‘গোবরগোলা জল ছড়াইয়া যায়’, ‘খেজুরের ডাল দিয়া রোয়াক ঝাঁট দিতেছিল’, ‘সড়াক করিয়া নামিয়া আসিল’, ‘সব বন্ধকী তমসুক দাদা’— সব ছবিই একেবারে মাপমতো এঁকে দিয়েছিলেন যতীন্দ্রকুমারকে।

‘শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’-এর শ্যামানন্দ ব্রহ্মচারী, তিনকড়ি, অটলও প্রথম রূপ পেয়েছিল লেখকেরই হাতে। ‘মহেশের মহাযাত্রা’-র পেনসিল নক্সা, ‘প্রেমচক্র’-এর সব ছবিও প্রথম তাঁর আঁকা। পরিমল গোস্বামীকে যতীন্দ্রকুমার সেন বলেছিলেন, ‘রাজশেখর নিজে এককালে ভাল ছবি আঁকতেন। গণ্ডেরিরাম ও শ্যামানন্দ ব্রহ্মচারী এ দু’টি মূর্তি কেমন হবে তা রাজশেখর পোস্টকার্ডের উপর ফাউন্টেন পেন দিয়ে এঁকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। আমি ঠিক তা-ই এঁকেছি। অনেক চরিত্রই তাঁর পরিচিত কারো না কারো চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে আঁকা।’

অথচ তাঁর সাহিত্যিক জীবনের কথা উঠলে সুশীল রায়কে বললেন, ‘জীবনে প্রথম লিখি বেয়াল্লিশ বছর বয়সে, ১৯২২ সালে। সে লেখাটা হচ্ছে শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড। লেখাটি প’ড়ে অনেকের ধারণা হয়েছিল যে, এটি কোনো উকিলের লেখা।’

যা ছিল সবচেয়ে কঠিন, সেই সহজ হওয়ার সাধনা করেছিলেন রাজশেখর। নিজের জীবনে, তাঁর সৃষ্টির বীজের জীবনেও। শতবর্ষ আগে কলকাতায় অমল হোমের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রথম দেখা হল তাঁর। পরেরদিন রবীন্দ্রনাথ অমল হোমকে লিখলেন, ‘কাল তোমার ওখানে রাজশেখরবাবুর সঙ্গে কথা বলে ভারি খুশি হয়ে এসেছি। ওঁর হাতে কুঠার আছে কিনা জানিনা কিন্তু ওঁর অন্তরে আছে পাবক যা নিঃশেষ করে চিত্তবুদ্ধির আবর্জনা। উনি সহজ করে সব জানেন— সহজ করে সব বলতে পারেন। ওঁকে একবার শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসবার ভার রইল তোমার উপর।’

rajshekhar basu
নিজের গল্পের ছবিও নিজেই আঁকতেন

সহজ হতে পেরেছিলেন বলেই তো রীতিমতো আইন পাশ করা রাজশেখর যখন দু-একদিনেই আদালতে গিয়ে উকিলিতে অরুচি ধরালেন, তখন চাপকানটি দর্জি দিয়ে কাটিয়ে তৈরি করিয়ে দিলেন মেয়ের ফ্রক। শত অনুরোধেও আর মাড়ালেন না ও পেশার পথ।

অথচ তাঁর সাহিত্যিক জীবনের কথা উঠলে সুশীল রায়কে বললেন, ‘জীবনে প্রথম লিখি বেয়াল্লিশ বছর বয়সে, ১৯২২ সালে। সে লেখাটা হচ্ছে শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড। লেখাটি প’ড়ে অনেকের ধারণা হয়েছিল যে, এটি কোনো উকিলের লেখা।’

rajshekhar basu
রাজশেখর বসু ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সুশীল রায় তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন পয়লা সেপ্টেম্বর ১৯৫২। পুজোর কিছু আগে, ১৬ই ভাদ্র ১৩৫৯। দুর্গাপুজোর তখন আর বেশি দেরি নেই। কথাবার্তার মাঝেই এলে বকুলবাগানের পুজো-কমিটির জনৈক তরুণ। বাণী চাইলেন। রাজশেখরের উত্তর, ‘বাণী? বাণী কি? বাণীর মত ভণ্ডামি আর কিছুই নেই।’ 

খাবার টেবিলে বসতেন যখন, প্রিয় বিড়ালটি পাশের চেয়ারে বা কখনও তাঁর কোলের উপর বসত। নিজের খাবারের সেরা অংশটি তার জন্য তুলে রাখতেন রাজশেখর। লেখায় মগ্ন যখন, তখন বিড়ালটি মাঝে মাঝে এসে লেখার কাগজের ওপর আয়েশ করে শুয়ে পড়ত। রাজশেখর অপেক্ষা করতেন, কখন সে উঠে যাবে। আবার লিখবেন তিনি।

একবার নাকি কোনও একটা সভায় প্রধান অতিথি হয়ে গিয়ে চুপচাপ বসে থেকে অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চ থেকে নেমে এসেছিলেন। সে গল্প বনফুল শুনিয়েছিলেন পরিমল গোস্বামীকে।

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত জানিয়েছেন তাঁর ঘড়ি-ধরে-চলার কথাটা, ‘সন্নিহিত প্রতিবেশী আমরা। কটা বেজেছে যদি ঘড়ি মেলাতে চাও, রেডিও খুলে মেলাবার দরকার নেই, রাজশেখরবাবুকে দেখ। দেখ, উনি বাজারে বেরুলেন কিনা। তা হলে সাতটা। নিচের বৈঠকখানা থেকে উঠে গেলেন কিনা উপরে। তা হলে নটা। খেতে বসেছেন নাকি? তা হলে এগারোটা।’

খাবার টেবিলে বসতেন যখন, প্রিয় বিড়ালটি পাশের চেয়ারে বা কখনও তাঁর কোলের উপর বসত। নিজের খাবারের সেরা অংশটি তার জন্য তুলে রাখতেন রাজশেখর। লেখায় মগ্ন যখন, তখন বিড়ালটি মাঝে মাঝে এসে লেখার কাগজের ওপর আয়েশ করে শুয়ে পড়ত। রাজশেখর অপেক্ষা করতেন, কখন সে উঠে যাবে। আবার লিখবেন তিনি।

rajshekhar basu
রাজশেখর কৃত রামায়ণের পাণ্ডুলিপি

এমনই একটি বেড়ালের নাম ছিল কাঞ্চনকান্তি বসু। পরিমল গোস্বামী লিখছেন, ‘রাজশেখরের বারান্দায় ব’সে আমাদের বয়স, দাঁত, এবং খাওয়ার প্রসঙ্গে কথা চলছিল এমন সময় শ্রীমান কাঞ্চনকান্তি বসু লঘু পায়ে এসে রাজশেখরের কোলে উঠে নির্বিকার ভাবে ব’সে পড়ল। রাজশেখরও নির্বিকার। বেশ পরিপুষ্ট দেহটি, ল্যাজটিও প্রশংসাযোগ্য। রাজশেখর বললেন, ‘ডজনখানিক আছে।’ প্রশ্রয় বেশি পেয়েছে ব’লে বোঝা গেল। বললেন, এবং একটুখানি মৃদু হেসে অথচ গম্ভীর সুরে, ‘একটির নাম উত্তমকুমার। কিন্তু সে নিজের বাচ্চাকে খেয়ে ফেলাতে সবাই তার নাম বদলে রেখেছে খোক্কস।’

হারিয়ে যেতে বসেছে বিজ্ঞানের কৌতূহলের সঙ্গে সাহিত্যের প্রতি ভালবাসার চমৎকার মিশেলে তৈরি এই বিশেষ সৃজন-ঘরানাটাও। পরিমল গোস্বামী যাকে বলতেন, ‘রাজশেখর ঘরানা’।

ব্যক্তিত্বে, বাকসংযমে, রুচি আর রসবোধে বাঙালির এই ঘরানা আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে বিজ্ঞানের কৌতূহলের সঙ্গে সাহিত্যের প্রতি ভালবাসার চমৎকার মিশেলে তৈরি এই বিশেষ সৃজন-ঘরানাটাও।

পরিমল গোস্বামী যাকে বলতেন, ‘রাজশেখর ঘরানা’।

তথ্যসূত্র
পরিমল গোস্বামী। সমগ্র স্মৃতিচিত্র। কলকাতা: আনন্দ, ২০১১
সুশীল রায়। মনীষী জীবনকথা। কলকাতা: ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানি, ১৯৫৮
বুদ্ধদেব বসু, রাজশেখর বসু। কবিতা ২৪, সংখ্যা ৩। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত

চিত্রঋণ: লেখক

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Author_Ashis Pathak

আশিস পাঠক বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগের প্রকাশনা ও বিপণন আধিকারিক।
আনন্দবাজার পত্রিকায় সাংবাদিকতার পাশাপাশি নানা সময়ে যুক্ত থেকেছেন সাহিত্য অকাদেমি, বাংলা আকাদেমি, কেন্দ্রীয় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা বিভাগের নানা প্রকল্পে, নানা পুরস্কারের বিচারক হিসেবে। সংস্কৃতির নানা মহলে তাঁর আগ্রহ, বিশেষ আগ্রহ রবীন্দ্রনাথ ও গ্রন্থবিদ্যায়।

Picture of আশিস পাঠক

আশিস পাঠক

আশিস পাঠক বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগের প্রকাশনা ও বিপণন আধিকারিক। আনন্দবাজার পত্রিকায় সাংবাদিকতার পাশাপাশি নানা সময়ে যুক্ত থেকেছেন সাহিত্য অকাদেমি, বাংলা আকাদেমি, কেন্দ্রীয় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা বিভাগের নানা প্রকল্পে, নানা পুরস্কারের বিচারক হিসেবে। সংস্কৃতির নানা মহলে তাঁর আগ্রহ, বিশেষ আগ্রহ রবীন্দ্রনাথ ও গ্রন্থবিদ্যায়।
Picture of আশিস পাঠক

আশিস পাঠক

আশিস পাঠক বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগের প্রকাশনা ও বিপণন আধিকারিক। আনন্দবাজার পত্রিকায় সাংবাদিকতার পাশাপাশি নানা সময়ে যুক্ত থেকেছেন সাহিত্য অকাদেমি, বাংলা আকাদেমি, কেন্দ্রীয় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা বিভাগের নানা প্রকল্পে, নানা পুরস্কারের বিচারক হিসেবে। সংস্কৃতির নানা মহলে তাঁর আগ্রহ, বিশেষ আগ্রহ রবীন্দ্রনাথ ও গ্রন্থবিদ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

জীবনানন্দ দাশ

সংস্কৃতি

আহার

ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়
অমৃতা ভট্টাচার্য
শ্রুতি গঙ্গোপাধ্যায়

বিহার

সুমিত্রা দেবনাথ
কাকলি মজুমদার
মধুছন্দা মিত্র ঘোষ

কলমকারী

অরিজিৎ মৈত্র
অনির্বাণ ভট্টাচার্য
প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী

ফোটো স্টোরি

নির্মাল্য চ্যাটার্জি
দেবার্চন চ্যাটার্জি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com