প্রত্যেক সিরিয়াল কিলারেরই খুন করার একটি নির্দিষ্ট ধাঁচ থাকে | অনেক ভেবেচিন্তে অপরাধের দুনিয়ায় নিজেদেরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তারা সেই নির্দিষ্ট ধাঁচটি তৈরি করে যাতে তাঁদের কুখ্যাতি এতখানিই ছড়িয়ে পড়ে যে খুন হওয়ামাত্র মৃতদেহকে দেখে বোঝা যায় যে এ কার কীর্তি | ভয়ের শীতল স্রোত বইয়ে দেওয়া কিছু ‘ সিরিয়াল কিলার ‘ দের ব্যাপারে কিছু জানা অজানা তথ্য |

১| লুইস গারাভিতো – দ্য বিস্ট : পৃথিবীর ইতিহাসে কুখ্যাত সমস্ত খুনিদের মধ্যে একজন হলেন লুইস গারাভিতো | সন্দেহ করা হয় ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে খুন করেছিল সে | কিন্তু তার বিরূদ্ধে ১৩৮ জনকে খুন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে | লুইসের শিকারদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল পথশিশু | ১৯৫৭ সালের ২৫ শে জানুয়ারি গারভিতোর জন্ম | তার জীবনের সবথেকে বেশি খুন করেছে ১৯৯০ সালে | কলম্বিয়াতে তার কুখ্যাতির জন্য তাকে দ্য বিস্ট বা পশু বলে অভিহিত করা হয় | কলম্বিয়ার আইন অনুসারে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের সাজা হয়েছিল তার |

Banglalive-8

২| পেদ্রো লোপেজ : পেদ্রো লোপেজ কলম্বিয়ার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার | মোট কত খুন যে সে করেছিল তার নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যার হিসেব পাওয়া যায়নি আজও | ৮০ জন মহিলাকে খুন করার প্রমাণ পাওয়া গেলেও অনুমান করা  হয় প্রায় ৩০০ রও বেশি মহিলার উপর যৌন নির্যাতন করে তাদেরকে খুন করে পেদ্রো লোপেজ | কথিত আছে নিজের শিকারকে ধর্ষণ করার পরে তাকে খুন করে তার রক্ত দিয়ে হাত ধুত এই ভয়ানক খুনী | গ্রেপ্তার হওয়ার পরে ১৬ বছরের সাজা হয়েছিল তার | পেদ্রো লোপেজকে ‘ মনস্টার অফ আন্দিজ ‘ নামে অভিহিত করা হয় |

Banglalive-9

৩| জ্যাক দ্য রিপার : ১৮৮৮ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেলের আশেপাশে ঘটে যায় ১১ টি খুনের ঘটনা | কিন্তু খুনির পরিচয় অধরাই ছিল | শেষে লন্ডনের সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির কাছে এই খুনের দায় স্বীকার করে একটি চিঠি যায় | সেই চিঠির স্বাক্ষর থেকেই উঠে আসে জ্যাক দ্য রিপারের নামটি |আসলে এই নামের কোনও মানুষ আদৌ ছিল কিনা তাই নিয়েই রহস্য রয়ে গেছে আজও | এম জে ডরুয়িট‚ কসমিনিস্কি ও মাইকেল ওস্ট্রং নামক ৩ জন ব্যক্তিকে জ্যাক দ্য রিপার হিসেবে সন্দেহ করা হলেও তাদের পক্ষে কোনও পোক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি | জ্যক দ্য রিপার যাদেরকে খুন করেছে তাদের বেশিরভাগই পতিতা | যৌন কার্যের সময় শ্বাসরোধ করে শিকারকে খুন করত সে | আদতে যে কতজনকে এই সিরিয়াল কিলারের হাতে বলি হতে হয়েছে সে রহস্য আজও অধরা |

আরও পড়ুন:  খোলা আকাশের নীচে খবর পড়লেন এই টিভি সঞ্চালকরা

৪| মিখাইল পপকভ : ১৯২০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে মিখাইল পপকভ ৫৫ জন মহিলাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে বলে জানা যায় | গভীর রাতে মহিলাদেরকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে তাদেরকে ধর্ষণ ও হত্যা করত এই সিরিয়াল কিলারটি | নিহত নারীদের বয়স ছিল ১৪ বছর থেকে ৫০ বছরের মধ্যে | তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে খুন করার আগে ধর্ষণ করেছিল সে | রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের এই সিরিয়াল কিলার একজন বিশ্বত্রাস |

৫| দ্য জোডিয়াক কিলার : বিশ্বের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের মধ্য অন্যতম একজন দ্য জোডিয়াক কিলার যার আসল নাম আজও রহস্যই রয়ে গেছে | ১৯৬০ – এর শেষদিক থেকে ১৯৭০ – এর প্রথমদিক অবধি হত্যার দুনিয়ায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে এই সিরিয়াল কিলারটি | তার নিজের দাবি মোট ৩৭ জন মানুষকে খুন করেছে সে | কিন্তু প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় ৫ জনকে খুন‚ ২ জনকে আহত করেছে সে | সম্ভাব্য ২০ থেকে ২৫ জনকে খুন করেছে যার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি | জোডিয়্যাক খুনের আগে ক্রিপটোগ্রাম বা সাইফার পাঠিয়ে সংকেত দিত | তার ৪ টি ক্রিপটোগ্রামের মধ্যে মাত্র একটিরই অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল | তার খুনের কাহিনী এমনই রহস্যময় যে আজও তার উপর চলা কেসটির কোনও সুরাহা হয়নি | তদন্ত চলছে আজও | লেক হার্মান রোড‚ ব্লু রক স্প্রিংস‚ লেক বেরিসা‚ মডেস্টো ইত্যাদি আরও অনেক জায়গায় তার আক্রমণের গল্প শোনা যায় |

৬| ড্যানিয়েল কামারগো বারবোসা : ড্যানিয়েল কামারগো বারবোসা একজন কলম্বিয়ান সিরিয়াল কিলার | ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের প্রায় ১৫০ জন মহিলাকে ধর্ষণ ও খুন করে বলে জনশ্রুতি রয়েছে | তদন্তে জানা গেছে ড্যানিয়েল তার শিকার মেয়েদেরকে বলত তাকে অনেক টাকার হাতবদল করতে হবে | সে তাদেরকে প্রমাণ হিসেবে অনেক টাকা দেখাতও | তার সঙ্গে গেলে সে টাকার ভাগ দেবে – এই ছুতোয় মেয়েদেরকে বনের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করে তাদের মৃতদেহ বনেই ফেলে রেখে আসত সে | কোনও মহিলা ধর্ষণের সময় তাকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে তাদেরকে গলায় আঘাত করে খুন করত সে | ১৯৮৯ – এ তাকে ১৬ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয় | ১৯৯৪ সালে ৬৪ বছর বয়সে এক আততায়ীর হাতে খুন হয় সে |

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশ বিমানকাণ্ডে বন্দুকবাজের হাতে নাকি ছিল খেলনা পিস্তল

৭| পেদ্রো রড্রিগস ফিলহো : ব্রাজিলের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার পেদ্রো রড্রিগস ফিলহো পেদ্রিনহো মাতাদোর নামে পরিচিত | ব্রাজিলের প্রায় ৭১ জনকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত পেদ্রো | ১৩ বছর বয়সেই প্রথম খুন করে সে | তারপর থেকেই চলতে থাকে তার রক্ত ঝরানোর ত্রাস | সে নিজে দাবি করে তার করা খুনের সংখ্যা ১০০ | ১৯৭৩ সালে ধরা পড়ে তার ১২৮ বছরের কারাদন্ড হয় | ২০০৭ সালে সে কারাবাস থেকে মুক্তি পায় | সে জানিয়েছিল ধারালো খুর দিয়ে আঘাত করে খুন করেই সবথেকে বেশি আনন্দ হত তার |

৮| ইয়াং জিনহাই : ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে বিশ্বের সিরিয়াল কিলারদের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছিলেন চিনের সিরিয়াল কিলার ইয়াং জিনহাই | ” মনস্টার কিলার ” নামে পরিচিত এই সিরিয়াল কিলার ৬৭ জনকে খুন ও ২৩ জনকে ধর্ষণ করেছে বলে জানা যায় | সমাজের প্রতি এক তীব্র ঘৃণা থেকে তার খুনের চালিকাশক্তি | প্রেমে বিচ্ছেদের প্রতিশোধ নিতে খুন করা শুরু করলেও ক্রমশই সমাজের থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য খুন করতে থাকে ইয়াং | সে জানায় খুন‚ ধর্ষণ ও চুরি করতে ভাললাগা থেকেই তার এইসব অপরাধ করতে ইচ্ছে হয় | ২০০৪ – সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফায়ারিং স্কোয়াডের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মারা যায় এই ” মনস্টার কিলার ” |

৯| সুতোমু মিয়াজাকি : অদ্ভুত পদ্ধতিতে খুন করার জন্য জাপানের এই সিরিয়াল কিলারকে দ্য ওটাকু মার্ডারার‚ দ্যা লিটল গার্ল মার্ডারার বা দ্যা হিউম্যান ড্র্যাকুলা বলেও অভিহিত করা হয় | শোনা যায় যে সে ভ্যাম্পারিজম অভ্যাস করত | ছোট ছোট মেয়েদের খুন করে তাদের মৃতদেহের সঙ্গে যৌনাচার করত সুতোমু | একজন শিকারকে খুন করে সে শুধুমাত্র যে তার রক্ত পান করেছিল তাই নয়‚ শোনা যায় মৃতদেহটির হাতের খানিকটা অংশও খেয়ে নিয়েছিল সে | এই ভয়ানক খুনি খুনের স্মারকচিহ্ন হিসেবে খুন করার পর মৃতের দেহের অংশ সংরক্ষণ করে রেখে দিত | খুন করার পরে খুনের বর্ণনা লিখে মৃতদের পরিবারের কাছে চিঠিও পাঠাত সে | ২০০৮ সালে ৪৫ বছর বয়সে সুতোমুর ফাঁসি হয় |

আরও পড়ুন:  ভারতের এমন কিছু যায়গা যা আজ বিখ্যাত হয়েছে বলিউডের ছোঁয়ায়

১০| টেড বান্ডি : থিওডোর রবার্ট বান্ডি ছিলেন আমেরিকার এক সুদর্শন সিরিয়াল কিলার‚ অপহরণকারী‚ ধর্ষক এবং নেক্রোফিল | তার নিজের দাবি অনুযায়ী ৩০ জন মহিলাকে খুন করেছিল সে | শিকারকে খুন করার পরেও সে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহের সঙ্গে নানা যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হত | যাদেরকে সে খুন করেছিল তাদের মধ্যে প্রায় ১২ জনের মাথা কেটে নিয়েছিল | কয়েকজনের মাথা খুনের স্মারকচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণও করে রেখেছিল | তার নিজের পক্ষের উকিলই এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে টেড হৃদয়হীন শয়তানের মূর্ত রূপ ছিল | ১৯৮৯ সালে ৪২ বছর বয়সে ইলেকট্রিক চেয়ারের শাস্তিতে মারা যায় এই ভয়ানক সিরিয়াল কিলার |

NO COMMENTS