(Narcissus)
“Will he live to old age?”
“If he shall not have known himself”
নদী দেবতা সেসিফাসের পূত্র নার্সিসাসের জন্মের পরে তার মা অন্ধ টাইরেসিয়াসের কাছে যে প্রশ্ন রেখেছিলেন এবং যে উত্তর পেয়েছিলেন টাইরেসিয়াসের থেকে, ওপরে সেটাই বলা আছে। নার্সিসাস যে একদিন নিজেকে জানবেন, তার ধ্রুবতা টাইব্রেসিয়াসের মন্তব্য থেকে বোঝার কোনো অসুবিধে নেই। নার্সিসাস জেনেছিলেন। তাঁর অলোকসামানা রূপ জল থেকে উঠে এসে তাঁকেই গ্রাস করে নেয় সর্বাংশে। নিতান্তই চামড়ার উপরিস্তরে লভ্য রূপ-লাবণ্য ছিল না সেটি। তাঁর অস্তিত্বের অপরিময়তা, তাঁর সম্ভাব্যতার অশেষ, এই প্রথম চোখে পড়ল তাঁর। দুহাত ছড়িয়ে তিনি ডাকেন তাঁর জলবিম্বকে, জলবিম্ব একই ভাবে একই ভঙ্গিতে ডাক পাঠায়। যখন নার্সিসাস স্তব্ধ, স্থির-তাঁর ছায়াও তখন শ্বাস নেওয়া প্রস্তর মূর্তির মতো। (Narcissus)
আরও পড়ুন: ‘সূত্রপাত’ পত্রিকা নবপর্যায়: নাসের রাবাহ-র কবিতা: ভাষান্তর: অরিত্র সান্যাল
বলা কি যায় না যে. আলো অন্ধকারে ঘুরে যাওয়া নার্সিসাস শেষ পর্যন্ত যার মুখোমুখি হয়েছিলেন সে তাঁরই স্বজ্ঞা, তাঁরই বোধ। “আমি চলি, সাথে সাথে সেও চলে আসে/আমি থামি- সেও থেমে যায়”। তাঁর বোধের কাছে নির্জিত, ধন্দি নার্সিসাস কি কখনও চাননি তাকে এড়াতে, মড়ার খুলির মতো ধরে আছাড় মারতে। চাননি। নার্সিসাসরা এরকম চাইবেন না। তাঁরা জানেন জলে প্রতিফলিত মুখচ্ছবিটি তাঁর মুখচ্ছবির অতিরিক্ত কিছু। জলে হাত ছোঁয়ালে সেই মুখটি বিস্রস্ত হয়। কিন্তু জলের ওপরে নার্সিসাস নিখুঁত আর অটুট থেকে যান। বস্তুর আছে এই এক রহস্যময় প্রাণচাঞ্চল্য এক নিগূঢ় আত্মা যা টের পেতে পারেন, যার ধারণা পেতে পারেন শুধু একজন বা কয়েকজন নার্সিসাস-ই। (Narcissus)
যা কিছু দৃশ্যত প্রাণহীন, যা কিছু চোখের সামনে আপাতভাবে মৃত, তার মধ্যেও স্পন্দন রয়েছে। আমার জামা থেকে খসে পড়া চকচকে বোতামটির ওপর স্বচ্ছ জলের ভেতর দিয়ে পৌঁছে যাওয়া সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে মহাজগতের কোনো গতিময় তারাকেও ধাক্কা দিতে পারে, চূর্ণ করে দিতে পারে। বস্তুর এই যে গূঢ় আত্মা এটা বুঝতে পারেন শুধু তিনি, যিনি তাঁর মনের খানিকটা প্রক্ষেপ করেছেন বস্তুতে, সেই জলের মুখে। আত্মপ্রীতি বা স্ব-মোহ দিয়ে নার্সিসাসকে স্পর্শ করা যাবে না। বরং তাঁকে মনে হয় এক অতিন্দ্রীয় ভাবুক এক বিষাদময় সন্ধানী যিনি খুঁজছেন এবং শেষ ছুঁতে পাচ্ছেন না মধুরের, বস্তুর। তাঁর বুদ্ধি দিয়ে যে রহস্যের কূল কিনারা পাননি নার্সিসাস, সেই রহস্যকে তিনি বুঝতে চেয়েছেন নির্জ্ঞানের দ্বারপ্রান্তে এসে দিনশেষের রাঙা মুকুলের মতো দাঁড়িয়ে। (Narcissus)
যা বলেননি নার্সিসাস, সেই কথাটিই যেন বলে দিলেন Chorgio De Chirico, ১৯০৮ সালে আঁকা তাঁর আত্মপ্রতিকৃতি সম্বন্ধে যখন তিনি বললেন “Et Quid amato aenigina est” (আর কাকেই বা ভালোবাসব, প্রহেলিকা ছাড়া ?)। আবার, অন্যভাবে ভাবলে, Chirico র এই কথাটি হয়ে উঠতে পারে নার্সিসাস বিষয়ে ইকোর চিন্তা। নির্জনতায় ঘুরে বেড়ানো নার্সিসাসের অনুসরণ করে যায় ইকো নিঃশব্দে। যেহেতু তার নিজস্ব স্বর নেই, তাকে প্রতীক্ষা করতে হয় কোনো উচ্চারণের জন্য, শব্দের জন্য। মনে কি হয় না যে ইকো যেন এক অর্থে বস্তুর বা পদার্থের আত্মা যার নিজস্ব কণ্ঠজ্যর সবার শোনার মতো নয়? (Narcissus)
“সেলিসবারি থেকে কিছু দূরে বিশাল আকারের পাথরের স্থাপত্য এই স্টোন হেনজ, যা নিওলিথিক যুগের শেষে ও ব্রোঞ্জ সভ্যতার শুরুতে তৈরি হয়েছিল। ছোটবেলা থেকে নাম শুনেছিলেন নূর।”
সিসাস ও ইকোর এই উপাখ্যানে ভারসাম্য প্রতিভারসামার একটি অসাধারণ অন্তর্বয়ন রয়েছে। নার্সিসাস যেন শরীরী সৌন্দর্যের শেষকথা, ইকোর কোনো শরীর নেই। নার্সিসাস খুঁজছেন তাঁর প্রতিচ্ছবির ভাষা, শব্দ। কিন্তু জলের ভেতর থেকে প্রতিফলিত মুখের ঠোঁট শুধু নড়ে যায়, কোনো শব্দ তৈরি হয় না। যদি শব্দ তৈরি করতে পারত সেই প্রতিফলিত মুখশ্রী, কী পেতেন নার্সিসাস? পেতেন স্ব-সৃষ্ট শব্দেরই প্রতিধ্বনি, ইকো যা বারবার দিয়ে যাচ্ছে তাঁকে প্রতিটি উচ্চারণে। মায়াবিম্বর যুগে ভাষ্য খুঁজে ফেরা রূপবান যুবাটি রূপ অতিক্রম করে যাওয়া শুদ্ধ ভাষাকে খুঁজে পাচ্ছেন না আর। তাঁর সেই দৃষ্টিশক্তি নেই। যদি শিল্পী হতেন নার্সিসাস, “বস্তুর নিহিত আত্মা “কে তিনি বুঝতে পারতেন না। একটি বস্তুকে চোখে যতটা দেখা যায়। তার চেয়ে অনেক বেশি কিন্তু সে প্রকাশ করতে পারে নার্সিসাস বুঝতেন না এসব। (Narcissus)
হেনরি মুর ও স্টোন হেনজ
যেমন বুঝেছিলেন হেনরি মূর। সেলিসবারি থেকে কিছু দূরে বিশাল আকারের পাথরের স্থাপত্য এই স্টোন হেনজ, যা নিওলিথিক যুগের শেষে ও ব্রোঞ্জ সভ্যতার শুরুতে তৈরি হয়েছিল। ছোটবেলা থেকে নাম শুনেছিলেন নূর। স্থাপাতাগুলির আয়তনের বিপুলতার কথা শুনে তাঁর ভাস্করসত্তা কৌতূহলী হয়ে থাকবে। এক সন্ধ্যায় পূর্ণ চাঁদের আলোয় রহস্যময়, বিশাল, পরিপূর্ণ শুদ্ধ স্টোন হেনজ দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে যিনি ফিরে আসছিলেন, তিনি আর আগের সেই হেনরি নন। পাথর এফোঁড় ওফোঁড় করে যাওয়া প্রাকৃতিক শূন্যতা, রন্ধ্র, সুড়ঙ্গ থেকে তিনি পোয়ে গেছেন তখন অতিরিক্ত ত্রিমাত্রিকতার দর্শন ও করণকৌশল। (Narcissus)
“নিজের সম্বন্ধে দুশ্যাপ বলতেন তিনি anti-artist, শিল্পের বিরুদ্ধে একজন। এই বোতলের র্যাকে বিন্দুমাত্র শিল্প সুষমা আনলেন না তিনি।”
এই প্রথম তাঁর অনুভূতিতে ধরা দিয়েছে, বস্তুপিণ্ড দিয়ে যে আকার তৈরি হয় এই শূনাময় রক্ত, এই এফোঁড় ওফোঁড় করে চলে যাওয়া সুড়ঙ্গ সেই একই ত্রিমাত্রিকতা ও মনুমেন্টালিটি ধারণ করতে পারে। বস্তুর দৈববাণী বস্তুর নিজস্ব কণ্ঠস্বর এই প্রথম শুনলেন হেনরি মুর। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় লন্ডনের টিউবয়েল স্টেশনগুলিতে বোমার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় নেওয়া নোংরা, খাদ্য ও বস্ত্রহীন অসহায় মানুষদের মধ্যে যখন ঘুরে বেড়াতেন নূর, তখন তাদের জামাকাপড়, কম্বল ছড়িয়ে রাখা বস্তুর মধ্যে সেই একই আত্মার প্রকাশ দেখলেন তিনি যা আছে সেই অসহায় মানুষগুলোর মধ্যে। (Narcissus)
ঘটনা এই, যে বস্তুর মূখের সামনে যদি আমি আয়না তুলে ধরি, সে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। একজন শিল্পী কি ভাবে তবে বস্তুর এই প্রাণসত্তাকে উদ্ধার করতে পারেন। দুটি দরজা তাঁর সামনে খোলা, দুটি দরজা শেষ পর্যন্ত যদিও একই গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। স্পেনীয় কবি হিমেনেথ যাকে বলতেন ‘নয় কবিতা” তার প্রায়-প্রতিধ্বনি তুলে বলা যায় একটি দরজা নগ্ন ভাবনা” বা “বিমূর্তন” এর আর অনা দরজাটি “নগ্ন বিষয় বা বাস্তবায়ন এর। (Narcissus)
বর্গক্ষেত্র ও বোতলের র্যাক
কাসিমির মালেকি, রুশ এবং চিত্রকর, ১৯১৩ সালে আঁকলেন সাদা পটভূমিতে একটি কালো বর্গক্ষেত্র। সম্ভবত এটিই প্রথম নির্ভেজাল অমৃত চিত্র যার পেছনে একটি স্থির দর্শন কাজ করছে। বস্তুপুঞ্জের অবিরাম ভার থেকে ছবিকে মুক্ত করতে, যেন সংঘর্ষের ভেতর দিয়ে, ছবিটিতে আনা হল অবস্তু নগ্ন ভাবনাকে। চিত্রকলা, এখান থেকেই স্থির গতিতে বস্তু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে। আবার একজন বাঁধন দাস, যখন ঠান্ডা ও উষ্ণ রঙে সম্পূর্ণ বস্তুহীন বর্গক্ষেত্র, ত্রিভুজ ও বৃত্তকে আলো করে তোলেন তখন তাঁর ধ্যান ও আধ্যাত্মিকতার পৃথিবীটি স্পষ্ট হয়ে যায়। (Narcissus)
আরও পড়ুন: ‘আমি আর লীনা হেঁটে চলেছি’: কবিতা— ছাগলের তৃতীয় সন্তান- জাজরা খলিদ
বাঁধন দাসের অদ্ভুতত্ব এখানেই যে ছবিতে তিনি কোনোরকম ধর্মীয় মোটিফ (স্বস্তিক চিহ্ন জ্যাতীয়) আলেন না, কেননা একভাবে সেগুলিও বাস্তুর প্রতিনিধিত্ব করছে। একটু অন্যভাবে হয়তো, তবু মূলত সেই একই জায়গা থেকে ম্যাক্স এনন্ট একটি মেঝের ওপর হাজার হাজার সরু ফাটলের দাগ দেখতে দেখতে উত্তেজিত হয়ে সেই মেঝের ওপর যত্রতত্র কাগজ পেতে চারকোল ঘসে বিশুদ্ধ ধ্যান ও কল্পনার অনেক উপাদান ও ড্রয়িং পেয়ে যান, যা উদ্দাম, ছন্নছাড়া ও জীবন্ত। কথানা ও ধ্যানের এই পৃথিবীতে প্রতীক পরিত্যক্ত ও নির্জতর মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। প্রকাশ যত বিমূর্ত, বাস্তরের অপসারণ যত গভীরভাবে হয় শিল্পটি ততই তার প্রতীকের দোষগুণ থেকে সরে যায়। (Narcissus)
প্রতীকের ধরণ আর ভূমিকার মধ্যেই এই সরে যাওয়ার কারণটি রয়েছে। প্রতীক হচ্ছে পরিচিত জগতের কোন বস্তু বা অজানা কোনো কিছুর ইঙ্গিত কাঁধে চাপিয়ে বসে থাকা একা আটলাসের মতো। পরিচিত কোনো কিছু দিয়ে প্রকাশ করা যাচ্ছে না এমন কিছুর অস্তিত্ব ও চেতনাকে তুলে ধরবে বলে সারাদিন হাসিমুখে দরজার পাশে অপেক্ষা করছে সে। কিন্তু যা পূর্ণ বিমূর্ত, তার নিজস্ব মুখই উধাও, কোন ছবির প্রতিনিধিত্ব করবে সে। (Narcissus)
এর ঠিক উল্টো দিকে আমরা বিস্মিত ও প্রস্তুতিহীন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি মার্সেল দুশ্যাপ এর ‘বোতলের র্যাক কে। নিজের সম্বন্ধে দুশ্যাপ বলতেন তিনি anti-artist, শিল্পের বিরুদ্ধে একজন। এই বোতলের র্যাকে বিন্দুমাত্র শিল্প সুষমা আনলেন না তিনি। বিষয়টি হয়ে দাঁড়াল খাপছাড়াভাবে তুলে আনা একটি বস্তু যা নগ্ন ও নির্জন বলেই বিস্ময়করভাবে অপ্রাসঙ্গিক, অর্থহীন এবং এমনকী, অসহ্য। (Narcissus)
“ফ্রানজ মার্ক বলেছিলেন একবার, আগামী দিনের চিত্রকলায় আমাদের বৈজ্ঞানিক প্রত্যয়গুলির প্রকাশ দেখতে পাওয়া যাবে। সেরকমই ঘটছে আজ।”
বোতলের র্যাকটি যেন সমুদ্রতীরে ভেসে আসা একটি শালিকের হলুদ, শক্ত ঠোঁটের মতো যার কোনো উপযোগিতা নেই। কর্মসূচি ও পরিণতি নেই, যাকে ঘরে তুলে আনা যাবে না। যাকে জোয়ারের জলে ডোবানোর চেষ্টাও পাগলামি। যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো পরিণতির জন্য প্রস্তুত একই সাথে রজ্জবদ্ধ ও বল্লাহীন নিজের অস্তিত্বের আয়তন। ও আত্মা নিয়ে, বিঘ্নিত, অবিন্যস্ত অত্যাচারিত জীবন নিয়ে- একটি পরিত্যক্ত বস্তুর একক মহিমা নিয়ে সে দাঁড়িয়ে রয়েছে। (Narcissus)
দৃশ্যপ এর দেখার এই ধরণটিই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো। একটি একশোভাগ পবিত্র বস্তু। যে মুহূর্তে তার ব্যবহারিক জীবন তার অস্তিত্ত্বের অর্থময়তা থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে তার জীবন হয়ে উঠছে অবান্তর ও উপহসিত, অত্যাচারিত ও ক্ষমাপ্রাপ্ত। একটি অর্থহীন “স্মৃতি” হয়ে উঠছে সে। এই বোতলের র্যাক কোনো প্রতীক নয়, যেহেতু এই ভয়াবহ শূন্যতায় তার কোনো “অর্থ” নেই, সে কোনোকিছুকেই refer করছে না। সে শুধু একটি বস্তু, একটি নগ্ন বিষয়। (Narcissus)
এবং “সাররিয়াল ও সে নয়। সাররিয়ালিজমের জন্য এই বোতলের র্যাকটির পাশে আরও একটি অবান্তর ও উপহসিত বস্তুর উপস্থিতি বা চেতনা দরকার যা স্বপ্নের মতো, যেখানে চেতনা নির্জ্ঞানের সাথে মিলে যায়। যেখানে ফ্লয়েডের অবাধ অনুযাদ free association নিয়ন্ত্রণ করে সবকিছু। দৃশ্যাপের বোতলের র্যাকের মতোই একা একটি সার্জিকাল টেবিল স্রেফ অর্থহীন মৃতি। কিন্তু যেই সে টেবিলে একটি ভাঙা ।বা নতুন। ছাতা রাখা হল, দুটি বস্তুর সংঘর্ষ থেকে, সম্পর্কহীন সহাবস্থান থেকে একটি নতুন চেতনা জন্মাল যা নিছক একটি বস্তুর মধ্যে নেই। (Narcissus)
“কথা খোঁজেনি নার্সিসাস। সে মুদ্রা খুঁজেছিল। নগ্ন বস্তু খুঁজেছিল। যখনি জলে হাত ছোঁয়াতো নার্সিসাস প্রতিবিম্বের অসংখ্য টুকরো হয়ে যেত তার নিজেরই মুখ।”
এই সম্পর্ক রূপের অতিরিক্ত এরকম কিছু, যার জন্য প্রয়োজন অলোকদৃষ্টির। বাস্তব এখানে পক্ষান্তরিত, নির্জ্ঞান থেকে উঠে আসা জান, যা প্রকাশ করে স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন বিষাদ উদ্ভাস মুক্তি ও ভয়তাড়িত আড়ীতাকে। যখন ইতালিয়ান আকিয়ে Giorgio De Chirico তাঁর একটি ছবিতে দেবীমূর্তির মাথার পাশে একজোড়া লাল দস্তানা রাখেন তখন বস্তুদুটির স্কুল বৈপরীতা থেকেই দুঃস্বপ্ন আর অলৌকিকের একটি ভুবন তৈরি হয়। পরাবাস্তবতা, মনে হয় না কী, অজানা উৎস থেকে আসা এক শীতল। উষ্ণ আলো যা বস্তুকে একটি বিশেহারায় দেখায় আমাদের। (Narcissus)\
নার্সিসাস নার্সিসাস
ফ্রানজ মার্ক বলেছিলেন একবার, আগামী দিনের চিত্রকলায় আমাদের বৈজ্ঞানিক প্রত্যয়গুলির প্রকাশ দেখতে পাওয়া যাবে। সেরকমই ঘটছে আজ। পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা বস্তুর প্রাথমিক এককগুলি ধ্বংস করে দিয়েছে। ধ্বংস করেছে তার অপরিবর্তিত প্রিয় আকৃতিকে। চেনা বস্তুটি রহস্যময় হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে মজবুত দেয়ালগুলি যেন গুঁড়ো হয়ে গেল। যেন একটুকরো পাথর গলে বাষ্প হয়ে বাতাসে উড়ে গেল। আর আমরা দেখলাম ভেঙে অজস্র টুকরো হয়ে যাওয়া আয়নার কাঁচে প্রতিফলিত একচিলতে আকাশের নীল- যা কখনও আকাশ নয়। একটি পাখির পালকের ছায়া যা পাখি নয়, একটি লাবণ্যময় ঠোঁটের একহাজার টুকরোর একটি মাত্র অংশ যা হাসি বা কান্না নয় কখনও। যা কথাও নয়। (Narcissus)
আরও পড়ুন: তবুও প্রয়াস: সত্যি গোপাল, মিথ্যে গোপাল
কথা খোঁজেনি নার্সিসাস। সে মুদ্রা খুঁজেছিল। নগ্ন বস্তু খুঁজেছিল। যখনি জলে হাত ছোঁয়াতো নার্সিসাস প্রতিবিম্বের অসংখ্য টুকরো হয়ে যেত তার নিজেরই মুখ। নার্সিসাস হয়তো এভাবেই পরাবাস্তবের পরবর্তী ধাপ যেখানে বস্তু নয়, অর্থহীন, প্রতীকবিচ্যুত ও প্রসঙ্গ হারানো একা- কিন্তু তবুও, তখনও প্রবলভাবে বস্তুই। জলের ধারে বছর বছর পড়ে থাকা নার্সিসাসও বিবর্তিত হয়ে বস্তুর জীবনই পেয়ে যায়, যখন বাতাসে একটি মকাই গাছ হয়ে সেই রূপবান তরুণটি দুলে যায়। (Narcissus)
(বানান অপরিবর্তিত)
বাংলালাইভ একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ওয়েবপত্রিকা। তবে পত্রিকা প্রকাশনা ছাড়াও আরও নানাবিধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে বাংলালাইভ। বহু অনুষ্ঠানে ওয়েব পার্টনার হিসেবে কাজ করে। সেই ভিডিও পাঠক-দর্শকরা দেখতে পান বাংলালাইভের পোর্টালে,ফেসবুক পাতায় বা বাংলালাইভ ইউটিউব চ্যানেলে।