(Bengali nationalism)
বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাস বিচার করলে, একটা বিষয় কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তা হল, এই জাতির চেতনার গভীরে ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে এক মৌলিক বিরোধ দীর্ঘকাল ধরে বহমান। এই বিরোধ হঠাৎ করে তৈরি হওয়া কোনও প্রতিক্রিয়া নয়। এটা গড়ে উঠেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাঙালির সামাজিক অভিজ্ঞতা, ঔপনিবেশিক শোষণ, শ্রেণি বৈষম্য ও সাংস্কৃতিক মানবতাবাদের মধ্যে দিয়ে। (Bengali nationalism)
ডানপন্থী রাজনীতি সাধারণত কর্তৃত্ব, একরৈখিক জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের আধিপত্য এবং বাজারকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। বাঙালি সমাজের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ঠিক তার বিপরীত। তাঁরা প্রায় সময়েই প্রশ্ন তুলেছেন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে, রাজ্যের বিরুদ্ধে, এমনকি নিজের সমাজের বিরুদ্ধেও। (Bengali nationalism)
আরও পড়ুন: চৌরিচৌরা, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের দিশা বদলের মুহূর্ত
বাঙালির ডান-বিরোধী চেতনার গোড়ায় রয়েছে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি। চৈতন্যপরবর্তী বৈষ্ণব আন্দোলন থেকে শুরু করে লালন, কবীর, হাসন রাজা কেউই ঈশ্বরকে প্রশ্নের বাইরে রাখেননি। রামপ্রসাদই প্রথম ঈশ্বরকে সরাসরি ‘আর তোমায় ডাকব না কালী। তুমি মেয়ে হয়ে অসি ধরে, ল্যাংটা হইয়ে রণ করিলি॥’ বলে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। ধর্ম এখানে শাসনের হাতিয়ার নয়, বরং আত্মানুসন্ধানের মাধ্যম। ফলে ধর্মভিত্তিক ডানপন্থী রাজনীতি বাঙালির সাংস্কৃতিক মননে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিকর। (Bengali nationalism)
বাঙালির রাজনৈতিক মননকে যদি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যায়, সেখানে ভীষণভাবে ভিন্ন সময়ের ভিন্ন ভূগোল ও ভাষার তিন মানুষের চেতনার ছোঁয়া ধরা পরে। প্রথম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নীতিবোধ। দ্বিতীয়, লালন ফকিরের অস্তিত্ববাদ, এবং তৃতীয়, কার্ল মার্কসের অর্থনৈতিক কাঠামো। (Bengali nationalism)

বাঙালি সমাজে তাঁদের চিন্তাধারা অধিকাংশ সময়ে একে অপরের বিরোধী না হয়ে, বরং পরিপূরক হয়েছে। এই ত্রিমুখী ধারা মিলেই বাঙালি জাতির ডান-বিরোধী রাজনৈতিক আদর্শের ভিত তৈরি করেছে। ডানপন্থী রাজনীতি যেখানে কর্তৃত্ব, পরিচয় ও বাজারকে কেন্দ্রে রাখে, সেখানে এই তিনজন মানুষই প্রশ্ন এবং মুক্তিকে কেন্দ্রে রেখেছেন। এইখানেই তাঁদের মূল সংযোগ। (Bengali nationalism)
লালন ফকির বাঙালির ডান-বিরোধী চেতনার সবচেয়ে প্রাচীন ও মৌলিক কণ্ঠ। ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’— এই প্রশ্নটাই ডানপন্থী রাজনীতির মেরুদণ্ডে আঘাত করে। লালনের দর্শনে জাত, ধর্ম, সম্প্রদায় সবই কৃত্রিম। মানুষ এখানে কোনও ঈশ্বরপ্রদত্ত পরিচয়ে বাঁধা নয়; মানুষ নিজেই নিজের মূল্য। যেখানে ডানপন্থী রাজনীতি পরিচয়ের উপর ক্ষমতা নির্মাণ করে। লালন সেই পরিচয়কেই ভেঙে দেন। তাঁর কাছে ধর্ম মানে শাসন নয়, মুক্তি; ঈশ্বর মানে ভয় নয়, প্রশ্ন। ফলে ধর্মভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি লালনের দর্শনের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসংগত। (Bengali nationalism)
রবীন্দ্রনাথ স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতীয়তাবাদ মানুষকে যন্ত্রে পরিনত করে, তা সভ্যতার শত্রু। এই বক্তব্য ডানপন্থী রাষ্ট্রকেন্দ্রিক, একরৈখিক জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে এক গভীর নৈতিক আপত্তি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই চেতনার আধুনিক রূপ। তিনি জাতীয়তাবাদকে মানবিকতার উর্ধ্বে উঠতে দেননি। তাঁর কাছে রাষ্ট্র কোনও পবিত্র সত্তা নয়, রাষ্ট্র একটি যন্ত্র; যা মানুষকে গ্রাস করলে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতীয়তাবাদ মানুষকে যন্ত্রে পরিনত করে, তা সভ্যতার শত্রু। এই বক্তব্য ডানপন্থী রাষ্ট্রকেন্দ্রিক, একরৈখিক জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে এক গভীর নৈতিক আপত্তি। রবীন্দ্রনাথ লালনের মতোই বিশ্বাস করতেন মানুষ আগে, তাঁর পরিচয় পরে। এই কারণে বাঙালি মননে ডানপন্থী ‘এক দেশ, এক সংস্কৃতি, এক ভাষা’— এই ‘সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ’ কখনই স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে না। (Bengali nationalism)
লালন পরিচয় ভাঙেন, রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্রের নৈতিক সীমা নির্ধারণ করেন, আর মার্কস সেই কাঠামোর অর্থনৈতিক ভিত উন্মোচন করেন। মার্কস দেখান, ক্ষমতা কেবল ধর্ম বা জাতির মাধ্যমে কাজ করে না। ক্ষমতা কাজ করে উৎপাদন ব্যবস্থা ও শ্রেণির মাধ্যমে। ডানপন্থী রাজনীতি যেখানে বাজারকে স্বাভাবিক ও নিরপেক্ষ বলে দাবি করে; মার্কস সেখানে বলেন, বাজার নিজেই শোষণের ক্ষেত্র। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি সমাজের নীল বিদ্রোহ, দুর্ভিক্ষ, শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। (Bengali nationalism)

বাঙালিরাই প্রথম আধুনিক উপনিবেশের শিকার। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ছিল কোম্পানি আমলের শুরুর দিকের ঘটনা, আর নীল বিদ্রোহ ছিল ১৮৫৯-৬০ সালের। এই দীর্ঘ সময়কালই প্রমাণ করে, বাঙালির শোষণবিরোধী লড়াইটা কোনও সাময়িক আবেগ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার ফসল। এই অভিজ্ঞতা বাঙালিকে শিখিয়েছে বাজার ও ক্ষমতার নিষ্ঠুরতা। ফলে ‘মুক্ত বাজার’, ‘কর্পোরেট রাষ্ট্র’, ‘ন্যূনতম রাষ্ট্র’— এই ডানপন্থী অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতি বাঙালির খুব স্বাভাবিকভাবেই ঐতিহাসিক অবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। এই কারণেই বাঙালি রাজনীতিতে সমাজতন্ত্র, বামপন্থা ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণায় দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য— এই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে বাঙালি রাজনীতি কখনই সম্পূর্ণভাবে বাজারকে বিশ্বাস করেনি। (Bengali nationalism)
বাঙালি সমাজে আজ ডানপন্থী রাজনীতির উপস্থিতি যথেষ্ট বাড়ছে, এ কথা সত্যি। কিন্তু এই উত্থান আদর্শগত নয়।
ডানপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রধান অস্ত্র হল, বিভাজন। ধর্মে, জাতিতে, ভাষায়, সংস্কৃতিতে। কিন্তু বাঙালি জাতির অস্তিত্বই তৈরি হয়েছে বহুস্তরীয় সংমিশ্রণে— হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শহর-গ্রাম, দেশি-বিদেশি প্রভাব। ১৯৪৭ সালের বিভাজন বাঙালির স্মৃতিতে আজও এক গভীর ক্ষত। সেই ট্রমা বাঙালিকে শিখিয়েছে, পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি শেষ পর্যন্ত মানুষকেই নিঃস্ব করে। ফলে ডানপন্থী পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি বাঙালির কাছে কখনই সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। (Bengali nationalism)

তবু কেন আজ বাংলায় ডানপন্থার উত্থান? এই প্রশ্ন আর এড়ানো যাবে না। বাঙালি সমাজে আজ ডানপন্থী রাজনীতির উপস্থিতি যথেষ্ট বাড়ছে, এ কথা সত্যি। কিন্তু এই উত্থান আদর্শগত নয়। তাহলে আবার প্রশ্ন জাগে, ত্রিমুখী উত্তরাধিকার কি হারিয়ে যাচ্ছে? আসলে হারাচ্ছে না, বরং চাপা পড়ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং প্রগতিশীল রাজনীতির ব্যর্থতা ডানপন্থাকে ক্রমশ জায়গা করে দিচ্ছে। (Bengali nationalism)
লালন, রবীন্দ্রনাথ ও মার্কস এই তিনজন আজও বাঙালি চেতনার ভিতরে প্রশ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছেন। যতদিন প্রশ্ন থাকবে, ততদিন কর্তৃত্ব স্থায়ী হতে পারে না।
যখন বাম ও প্রগতিশীল রাজনীতি মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার ভাষা হারায়, তখন ডানপন্থা শত্রু দেখিয়ে, গর্ব বিক্রি করে, ভয় তৈরি করে তাৎক্ষণিক একটা সহজ উত্তর দেয়। কিন্তু এই রাজনীতি বাঙালির দীর্ঘ সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গে দ্বন্দ্বমূলক ও পরস্পরবিরোধী। এই প্রসঙ্গে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতেই হয়, বাঙালির ডান-বিরোধী চেতনা কোনও নির্দিষ্ট দলের সম্পত্তি নয়। এটা তাঁদের মনন। বাঙালি আজও প্রশ্ন করে, সন্দেহ করে, মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ায়। রাষ্ট্রের চেয়ে মানুষকে বড় করে দেখে। বাজারের চেয়ে জীবনের মূল্যকে অগ্রাধিকার দেয়। (Bengali nationalism)
লালন, রবীন্দ্রনাথ ও মার্কস এই তিনজন আজও বাঙালি চেতনার ভিতরে প্রশ্ন হয়ে রয়ে গিয়েছেন। যতদিন প্রশ্ন থাকবে, ততদিন কর্তৃত্ব স্থায়ী হতে পারে না। আমার এই ভাবনা দুর্বল বলে মনে হতে পারে, আবার বিভ্রান্ত দিশাহারা বলেও মনে করতে পারেন, কিন্তু এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা যাবে না। কারণ এটা কোনও বইয়ের পাতায় নয়, পল্লী বাংলার গানে আছে। বক্তৃতায় নয়, সাহিত্যে-গল্পে আছে। মিছিলে নয়, রান্নাঘরে মা-মাসিদের কথোপকথনেও আছে। ডানপন্থী রাজনীতি বাঙালিকে শাসনের ইচ্ছে পোষণ করতে পারে। কিন্তু তাঁরা বাঙালি মননে পুরোপুরি দখল নিতে পারেনি, এটাই তাঁদের সীমাবদ্ধতা। (Bengali nationalism)

এবার আসি এই জাতির উদাসীনতার কথায়। জাপানিদের ফেলা কিছু বোমা ফাটেনি বলে যে জনশ্রুতি বা নির্লিপ্তি বাঙালির মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা আত্মতুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিস্ফোরিত বোমা আমাদের কাছে ইতিহাস নয়, গল্প। আমরা সেটাকে আদর করেছি, তাকে নিয়ে ঘুমপাড়ানি গান বেঁধেছি, স্মৃতিচারণ করেছি। কিন্তু সেদিন যদি সত্যিই সবকটা বোমা ফাটত, তাহলে হয়তো আজ এই জাতি সব বিষয়ে এত অনায়াসে ‘ও কিছু না’ বলার সাহস পেত না। (Bengali nationalism)
বাঙালির সমস্যা এই নয় যে, সে বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেনি। সমস্যা হলো, বাস্তবে বাঙালি যুদ্ধ বিষয়টাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে চায়নি। আমাদের কাছে এখনও যুদ্ধ মানে সিনেমার দৃশ্যের গোলাগুলি, ট্যাঙ্ক, জ্বলন্ত শহর। কিন্তু বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি নির্মম। বাস্তব যুদ্ধ আসে ধীরে, নিঃশব্দে, এমনভাবে যে মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরাজিত হয়ে যায়। (Bengali nationalism)
বছর কয়েক আগে আমরাই প্রশ্ন করেছি, একটা ভাইরাস দিয়ে যুদ্ধ হয় নাকি? এই প্রশ্নটাই আমাদের রাজনৈতিক অক্ষমতার প্রমাণ।
বাঙালি জাতি একবার বিশ্বযুদ্ধের সময় দুর্ভিক্ষে পড়েছিল এবং সে সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ মারাও গিয়েছিল। তবু সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কোনও রাজনৈতিক শিক্ষা নিইনি। স্বাধীনতার পরে উদ্বাস্তু এল, ঘর বাঁধা হলো, তারপরে কিছু আন্দোলন, কিছু পেটো, কিছু সোডার বোতল উড়ে গেল আর আমরা ভেবেছি ইতিহাস বুঝি এখানেই শেষ। যেন যুদ্ধ-টুদ্ধ আমাদের জন্য নয়। আজ যখন গোটা পৃথিবী যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে ঢুকে পড়েছে, তখন আমরা ব্যস্ত কে কী বলল আর বলল না, এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠাট্টা করতে। এখনও আমরা সত্যি বিশ্বাস করি, যুদ্ধ মানেই দৃশ্যমান ধ্বংস। তাই যে যুদ্ধ চোখে দেখা যায় না, তাকে আমরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা মিডিয়ার বাড়াবাড়ি বলে উড়িয়ে দিই। (Bengali nationalism)

বছর কয়েক আগে আমরাই প্রশ্ন করেছি, একটা ভাইরাস দিয়ে যুদ্ধ হয় নাকি? এই প্রশ্নটাই আমাদের রাজনৈতিক অক্ষমতার প্রমাণ। আজকের যুদ্ধ মানে বায়োলজি, ডেটা বাজার আর ভয়। শত্রু আজ সীমান্তে দাঁড়িয়ে নেই, সে আছে হাসপাতালের বেডে, ব্যাংকের সুদের হারে, বিমা কিংবা চাকরির চুক্তির ছোট হরফে লেখা শর্তে। এই যুদ্ধ কোনও এক দেশের বিরুদ্ধে আরেক দেশের নয়। এই যুদ্ধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের। রাজনীতি এখানে ঢাল, অর্থনীতি এখানে অস্ত্র। সাধারণ মানুষ শুধু তার ফল ভোগ করবে— মূল্যবৃদ্ধি, কর্মহীনতা, চিকিৎসাহীনতা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। (Bengali nationalism)
তবু বাঙালি সব শুনে এখনও হাসে। ফেসবুকে মিম বানায়। চায়ের দোকানে চিৎকার করে বলে— ‘আমাদের কিছু হবে না’। এই আত্মতুষ্টিই বাঙালির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা। তাই বলে আমি প্যানিক করতে বলছি না, কিন্তু অসাবধান হওয়াও অপরাধ। সেদিন কলকাতায় জাপানি বোমা ফাটেনি। কিন্তু আজ তো ক্রয়ক্ষমতার অবক্ষয়ে এবং আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় অর্থনীতি বিস্ফারিত হচ্ছে, বিস্ফারিত হচ্ছে আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। এই বিস্ফোরণে কোনও শব্দ নেই। কিন্তু ক্ষত আছে, সেই ক্ষতই জানান দেয় যে, যুদ্ধ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। (Bengali nationalism)
তথ্যসূত্র – Indian Hisotry Collective
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী বাংলা সিনেমা জগতে একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহক হিসেবে বহু কালজয়ী এবং সমাদৃত ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর সিনেমাটোগ্রাফি, ছবির নান্দনিকতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর বহু ছবিই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভূষিত হয়েছে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে। পরবর্তীকালে, তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায় পদার্পণ করেন। পরিচালক হিসেবে মূলত পারিবারিক গল্প এবং মিষ্টি সম্পর্কের রসায়ন পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে ভালোবাসেন।
পরিচালনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমাটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের (EICA) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)-এর টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সুদীর্ঘ সময়।
চলচ্চিত্রের কারিগরি বিষয়ে তাঁর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিক্ষাকেন্দ্রে একজন অতিথি অধ্যাপক (Guest Lecturer) হিসেবে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করে চলেছেন তিনি।
