উপকথার ডানা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
ফিনিক্স পাখি
অলঙ্করণ চিরঞ্জিৎ সামন্ত
অলঙ্করণ চিরঞ্জিৎ সামন্ত
অলঙ্করণ চিরঞ্জিৎ সামন্ত
অলঙ্করণ চিরঞ্জিৎ সামন্ত
অলঙ্করণ চিরঞ্জিৎ সামন্ত
অলঙ্করণ চিরঞ্জিৎ সামন্ত

আগুনপাখি 

“একটি  পাতিকাকের আয়ু মানুষের দশ প্রজন্মের সমান

একটি  হরিণ বাঁচে চারটি কাকের আয়ু-মাপে

একটি দাঁড়কাকের জীবৎকালে তিনটি হরিণ বৃদ্ধ হয়ে যায় 

একটি ফিনিক্স পাখির আয়ু ন’টি দাঁড়কাকের আয়ুর সমান 

কিন্তু আমরা, জিউস-কন্যা অপ্সরীরা দশটি ফিনিক্সের জীবনের সমান আয়ু পাই।” 

লিখছেন কবি হেসিয়োড, সাতশ’ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। কী ভয়ানক পাটিগণিত, তাই না? একজন অপ্সরীর আয়ু = কতজন মানুষের আয়ু, সেই জটিল অঙ্কে আর ঢুকছি না, কারণ “সরল করো”র মাঝের ধাপে একটি কল্পিত পাখি এসে ডানা বিছিয়ে বসে গেছে, যার নাম ফিনিক্স। প্রাচীন গ্রীক ও রোমক বইপত্রে যে  ফিনিক্সের উল্লেখ এসেছে বারংবার। 

কিন্তু কেমন পাখি এই ফিনিক্স? কীরকম তার চেহারা? 

 “এদেশে একরকম পাখিও আছে যার নাম ফিনিক্স, যাকে ভারী পবিত্র বলে মনে করা হয়” – মিশর সম্পর্কে লিখছেন হেরোডোটাস, তাঁর ইতিহাস বইতে। 

মিশরের পশুপাখির বিস্তৃত বিবরণ দিতে গিয়ে খ্রীষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের এই ঐতিহাসিক, যাঁকে ইতিহাসের জনকের তকমা দেওয়া হয়, বলছিলেন “এদেশে ভোঁদড় হল পবিত্র প্রাণী। তেমনি নীলনদের দু’টি মাছকে সবাই ভক্তি করে  – লেপিডোটাস আর ঈল। আর পাখিদের মধ্যে হংসগোত্রীয় দু’টি পাখি। সেরকমই, ফিনিক্স। আমি তাকে কখনও দেখিনি, ছবিতে ছাড়া। হেলিওপোলিসের মানুষজন বলে, এ-পাখি এদেশে আসে পাঁচশ বছর পর পর। তার আকার ঈগলের মত, পালক লাল ও সোনালি”।

তারপর তিনি শোনাচ্ছেন ফিনিক্সের সেই আশ্চর্য কাহিনি, আবার তাঁর যুক্তিবাদী মন এও জুড়ে দিচ্ছে  “এরা এ গল্প বলে, যদিও আমার বিশ্বাস করতে কষ্টই হয়” … ফিনিক্স থাকে দূর আরবে। পাঁচশ বছর তার আয়ু। একটি পাখির মৃত্যু হলে তার অপত্য মিশরে উড়ে আসে পূর্বজর দেহ নিয়ে, তাকে সমাধি দেয় সূর্যের মন্দিরে।” 

দেখা গেল, হেরোডটাস সন্দেহ প্রকাশ করলেও, ফিনিক্সের কাহিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্রমশ, আরও বেশি করে। প্লিনি, ওভিড-সহ অনেকের লেখায় চলে এল এ পাখির উল্লেখ, লোককথার  ভেতরে আদ্যোপান্ত ঢুকে এল সে। এমনকি, আজকের হ্যারি পটারেও সে দিব্যি জায়গা করে নিয়েছে। একটি পাখি মারা যাচ্ছে, তার সমস্ত শরীরে লেলিহান আগুন, আর সেই আগুন থেকেই, সেই ভস্ম মেখে উঠে আসছে একটি নতুন পাখি… এমন আশ্চর্য কল্পনা আর কি সম্ভব? তাছাড়া ধ্বংসের থেকে নতুন সৃষ্টি  তো মানবসভ্যতার চিরকালীন স্বপ্ন ও লক্ষ্য। সেই পুনরুত্থানের প্রতীক হিসেবেই ফিনিক্সকে মানুষ ভালোবেসে গেছে, আবহমান কাল ধরে। 

এ তো গেল পাশ্চাত্যের ফিনিক্স। প্রাচ্যেরও ফিনিক্স আছে একটি, যদিও তার স্বভাব কিছু আলাদা। চাইনিজ ফিনিক্স বা স্রেফ ফিনিক্স নামেও মাঝেমধ্যে ডাকা হয় বটে, তবে কাল্পনিক এই পাখির আসল চীনে নাম ফেংহুয়াং। জাপানি সংস্কৃতিতে এই পাখির নাম হো-ও, কোরিয়ান ভাষায় বোংওয়াং। এই পাখিটিও  অজর-অমর , এরও আছে সূর্যের সঙ্গে নিবিড় যোগ। প্রথমে ভাবা হত এই পাখি আসলে উভলিঙ্গ, অর্ধনারীশ্বর প্রকৃতির। ফেং তার পুরুষ অংশ, হুয়াং হল নারী-অংশ। কিন্তু মিথ-ও তো বদলে বদলে যায়… একসময়ে আস্তে আস্তে এই পাখিটিই  হয়ে উঠল নারীত্বের অভিজ্ঞান, পৌরুষ-প্রতীক ড্রাগনের বিপরীতে তার অধিষ্ঠান। প্রাচীন চীন-জাপান-কোরিয়ার রাজকীয় চিহ্ন -প্রতীকের মধ্যে অবধারিতভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে এই ফিনিক্সকে, এমনকি আজকের কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির শিলমোহরেও থাকে যুগল ফিনিক্স পাখি। 

২ 

“বঢ়িয়া পাখি, জটায়ু… মেরা ছদ্মনাম” 

আর আমাদের দেশে? রামায়ণ-মহাভারত-পুরাণের কথা ধরি যদি, সেখানেও তো কাল্পনিক পাখিদের ছড়াছড়ি- জটায়ু থেকে গরুড়। জটায়ুকে তো চিনি সবাই… রাবণ যখন সীতাহরণ করে নিয়ে যাচ্ছিল, এই জটায়ুই তো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সীতাকে রক্ষা করার জন্য, রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রাণপণ। রাবণ তার ডানা কেটে দেয়, নীচে আছড়ে পড়ে মারা যায় জটায়ু। সোনার কেল্লার সেই বিখ্যাত দৃশ্য কে-ই বা ভুলতে পারি – যেখানে লালমোহনবাবু নিজের “দুর্ধর্ষ দুশমন” বইখানা ফেলুদা-তোপসের হাতে দিয়ে জটায়ু নামের গরিমাগাথা বলছেন! 

এবং জটায়ুদের বিখ্যাত পক্ষীবংশ। জটায়ুর দাদা ছিল সম্পাতি। ছোটবেলায় দুই ভাইয়ে প্রতিযোগিতা  চলত, কে কত উঁচুতে উড়তে পারে। এমনই একদিন উড়তে উড়তে দুজনেই চলে গেছে সূর্যের কাছাকাছি, জটায়ু একটু বেশি বিপজ্জনক উচ্চতায়… সূর্যের খরতাপে  তার শরীর ঝলসে যাওয়ার উপক্রম। সম্পাতি তড়িঘড়ি ভাইকে বাঁচাতে ছুটে এল, নিজের ডানা দিয়ে ঢেকে দিল জটায়ুকে… ভাইয়ের প্রাণ বাঁচল, কিন্তু পুড়ে গেল সম্পাতির নিজের ডানা। সেই থেকে সম্পাতি বাকি জীবন কাটিয়েছে ডানাবিহীন। 

জটায়ু-সম্পাতির বাবা ছিলেন অরুণ, সূর্যদেবের রথের সারথি। আর এই পরিবারের সবচেয়ে বিখ্যাত সদস্যটি হলেন গরুড়, অরুণের ভাই।  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর “পুরাণের কথা” থেকে খানিক পড়া যাক? 

“… স্থির হইল যে এই নূতন ইন্দ্রটি যেমন পাখির ইন্দ্র হইবে, তেমনি কশ্যপের পুত্রও হইবে। সেই পুত্রই গরুড়, সে পক্ষিগণের ইন্দ্র।
… আগুনের মতো লাল আর উজ্জ্বল তাহার গায়ের রঙ ছিল। সে বিদ্যুতের মতন বেগে ছুটিতে পারিত আর যখন যেমন ইচ্ছা রূপ ধরিতে পারিত। জন্মমাত্রেই সে আকাশে উড়িয়া, আনন্দে চীৎকার করিতে লাগিল। 

এদিকে দেবতারা গরুড়কে দেখিয়া মনে করিলেন উহা বুঝি আগুন। তাই তাঁরা ব্যস্তভাবে অগ্নির নিজটে গিয়া বলিলেন, “আজ কেন তোমার এত তেজ দেখিতেছি? তুমি কি আমাদিগকে পোড়াইয়া মারিবার ইচ্ছা করিয়াছ?” 

মানুষের কল্পনায় পাখি আর আগুনের এই সংযোগ কি তবে বড়ই নিবিড়? ফিনিক্স থেকে গরুড়, সবাইকেই অগ্নিবর্ণ দেখতে ভালোবাসি কেন আমরা? 

প্রজাপতি কশ্যপের স্ত্রীদের মধ্যে দু’জন – বিনতা আর কদ্রু। কশ্যপ তাঁদের বর দিতে চাইলে কদ্রু চেয়ে নিলেন এক সহস্র পুত্র। বিনতা চাইলেন দুটিমাত্র পুত্র, যাদের শক্তি বিনতার সহস্র  সন্তানের মিলিত শক্তির চেয়ে বেশি। কদ্রুর সন্তান হিসেবে জন্ম নিল এক হাজার নাগ। বিনতার গর্ভে এল দুটি ডিম, একটি থেকে জন্ম হল অরুণের, অন্যটি থেকে আরও বহুযুগ পরে গরুড়ের। 

কথিত আছে, কদ্রু আর বিনতা একবার বাজি রাখেন, স্বর্গের ঘোড়া উচ্চৈঃশ্রবার লেজের রং নিয়ে। বিনতা বলেন লেজটি নাকি সাদা, কদ্রু বলেন কালো। কদ্রু তাঁর নাগপুত্রদের নির্দেশ দেন, সবাই মিলে গিয়ে যেন উচ্চৈঃশ্রবার লেজটি আচ্ছাদিত করে রাখে। ফলে দূর থেকে দেখে মনে হয় লেজটি বুঝি কালো, বিনতা বাজিতে হেরে সপত্নীর দাসী হয়ে যান। পরে গরুড় কী করে মাতাকে পণমুক্ত করেন সে গল্প বিশাল। তবে সেই থেকে নাগেরা গরুড়ের চিরন্তন বৈরী। 

মজার ব্যাপার, চাইনিজ ফিনিক্স বা ফেংহুয়াং -এর একটা কমন থিম হল, সাপের সঙ্গে তার লড়াই। বাস্তব পৃথিবীতে পাখি আর সাপের বিরোধই  কি তবে উস্কে দিয়েছিল এইসব পৌরাণিক কাহিনি, দেশ থেকে দেশে? কখনও ফেংহুয়াং -সাপের দ্বৈরথ, কখনও গরুড় আর নাগবংশের যুদ্ধের গল্পে হয়তো তারই উদযাপন… 

অবশ্য ফিনিক্স বা ফেংহুয়াং-এর সঙ্গে গরুড়ের একটা বড় পার্থক্য, গরুড়ের আকৃতি-প্রকৃতিতে মানুষের আদলও অনেকটাই। চিত্রকলা-ভাস্কর্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁকে দেওয়া হয় অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক পাখির অবয়ব। 

যাই হোক,  শৌর্যে-বীর্যে পক্ষিসম্রাট গরুড়ের তুলনা নেই। তার ওপরে তিনি বিষ্ণুর বাহন, ফলে তাঁর কদরই আলাদা। এবং তা কিন্তু মোটেই ভারতবর্ষের গন্ডীতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ভারতের বাইরের যে-সব অঞ্চলে প্রাচীন ভারতের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছিল, শ্যামদেশ- সুমাত্রা-যবদ্বীপ-বালি-কম্বোজ ইত্যাদি, অর্থাৎ কিনা থাইল্যাণ্ড-ইন্দোনেশিয়া-জাভা-বালি-কাম্বোডিয়া, গরুড় সেখানে আরও দাপটের সঙ্গে বিরাজ করছেন। কাম্বোডিয়ার প্রাচীন সব মন্দিরগাত্রে  গরুড় খোদিত আছেন, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় এয়ারলাইনসের নাম “গরুড় ইন্দোনেশিয়া”। থাইল্যাণ্ডেও গরুড় হল জাতীয় প্রতীক। 

৩ 

ব্যঙ্গমা-ব্যঙ্গমী 

ঘরের আরও কাছে ফিরি? সোনা-কাঠি আর রুপো-কাঠির দেশে? শুক-সারি, হীরেমনদের মত পাখির ভিড় সেখানে, গল্পের বুনোটে বুনোটে। আর  অলীক কোনও পাখি? সেও কী নেই? 

আলমারিতে ছোটোবেলাকার “ঠাকুরমার ঝুলি” টা আছে তো? বের করে দেখুন দেখি, কী লিখেছেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার । লালকমল আর নীলকমলএর কাহিনি পড়ছি। বানান অপরিবর্তিত রাখলাম। 

“আহা, এমন দয়াল কারা, দুই ফোঁটা  রক্ত দিয়া আমার বাছাদের চোখ ফুটায়?”

শুনিয়া, লাল নীল বলিলেন – “গাছের উপরে কে কথা কয়? রক্ত আমরা দিতে পারি।” 

বেঙ্গমী “আহা আহা” করিল।

বেঙ্গম নিচে নামিয়া আসিল।

দুই ভাই আঙুল চিবিয়া রক্ত দিলেন। 

রক্ত নিয়া বেঙ্গম বাসায় গেল। একটু পরে সোঁ সোঁ করিয়া দুই বেঙ্গম বাচ্চা নামিয়া আসিয়া বলিল – “কে তোমরা রাজপুত্র আমাদের চোখ ফুটাইয়াছ? আমরা তোমাদের কি  কাজ করিব বল।” 

তারপর আর কী! সেই ব্যাঙ্গম-ছানাদের পিঠে চেপেই দুই রাজপুত্র পৌঁছল রাক্ষসের দেশে। বাকি গল্প তো জানাই… কীভাবে জিয়নকাঠি মরণকাঠি অধিকার করে সব রাক্ষসকে শেষ করল লালকমল-নীলকমল। আর তাদের এই অভিযানের সঙ্গী হয়ে আমাদের মনে থেকে গেল ব্যাঙ্গমছানারা।  তারা রইল আমাদের চিরন্তন রূপকথার বাসায়, তেপান্তরের মাঠ-পেরিয়ে, পক্ষীরাজে চেপে যার দেখা মেলে… 

সাদা ডানার আকাশ 

শেষ যে পাখিটির কথা বলব, তা ঠিক কাল্পনিক পাখি নয়।  তবু বাস্তবের মাটি থেকে উড়াল দেওয়া এই পাখিটিকে রাখছি কল্পনা-মিথের পাখিদের রাজ্যে, কারণ তার ভূমিকা অমনটিই।

শ্বেত সারস। 

একটি তিন লাইনের জাপানি কবিতা হাইকু  উদ্ধৃত করি? 

“ আরেক বছর বয়স বেড়ে গেল 

শ্বেত সারসটি উড়ে যাচ্ছে

মাঠের ওপর দিয়ে।” 

-কোবায়াশি ইসা (১৭৬৩-১৮২৮) 

চীন-জাপান-কোরিয়ার সংস্কৃতিতে আর উপকথায় এই শ্বেত সারস হল অনন্ত আয়ুর প্রতীক। কোথাও বলা  আছে এই পাখিটি অমর, আবার কোথাও লেখা আছে বলা হয়, কোনও মানুষ অমরত্ব লাভ করতে পারলে আকাশ থেকে এই সারসেরা নেমে আসে, তাঁকে পিঠে সওয়ার করে নিয়ে চলে যায়। হাইকুটিও সেই কথাই বলছে, নতুন বছর এল… সবার বয়স বেড়ে গেল। সারস, যে কিনা অনন্ত জীবনের অধিকারী, তার বয়সও সংখ্যার হিসেবে বাড়ল আরও এক। 

এই শ্বেত সারসের গুরুত্ব কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলায়নি। আজও জাপান এয়ারলাইনসের লোগোতে সে বহাল তবিয়তে বর্তমান। ওদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫০০ ওয়ন মুদ্রার পিঠেও  আঁকা আছে অমন একটি উড়ন্ত সারস। ডানা মেলার অনেক পরিসর পেয়ে গেছে সে, আজকের দৈনন্দিনের ভেতরেও। 

এবং এই শ্বেত সারসের উপকথা থেকে এসেছে  আরেকটি প্রথা, কাগজ ভাঁজ করে অরিগামি সারস বানানোর। জাপানিতে তার নাম ওরিজুরু। জাপানে নানা ধরণের সজ্জা ও বিন্যাসে এই অরিজুরুদের দেখা পাওয়া যায়। এমন বিশ্বাসও আছে যে কেউ এক হাজারটি এরকম কাগজ সারস তৈরি করতে পারলে তার যে-কোনো প্রার্থনা পূর্ণ হবে। একটি মর্মন্তুদ কাহিনিও জড়িত আছে এই শ্বেত সারসের সঙ্গে। সাদাকো নামে একটি মেয়ে, জাপানে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সময়ে তার বয়স ছিল মাত্র দুই। আরও কয়েক বছর পরে তেজস্ক্রিয়তার অভিঘাতে দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত হয় সাদাকো, মারা যায় বারো বছর বয়সে। তার বিশ্বাস ছিল, এক হাজার কাগজ-সারস তৈরি করতে পারলে তার অসুখ সেরে যাবে। তাই যে রোগশয্যায় শুয়ে একের পর এক সারস বানাতে থাকে। মেয়েটি চলে যায়, রয়ে যায় তার বানানো অজস্র সারস। 

তার মৃত্যুর পর তার সহপাঠীদের উদ্যোগে এক স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি হয়, যে-স্তম্ভের ওপর দু’হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছে বালিকা  সাদাকো , সে দু”হাতে ধরা এক প্রসারিত-ডানা অরিগামি-সারস। 

পাখিদের গল্প তো হল খানিক। লেখাটির ডানা গুটিয়ে নেওয়ার আগে, শুধু আরেকটা কথা… 

 গ্রীক পুরাণের ইকারুসকে মনে আছে? সেই যে ছেলেটি  মোম আর পালকের তৈরি ডানা মেলে উড়ে গিয়েছিল সূর্যের কাছাকাছি, আর সূর্যের তাপে  গলে গিয়েছিল ডানার মোম। উপকথার এইসব পাখি-ডানা – এই ফিনিক্স , এই গরুড়, এই শ্বেতসারস,   আসলে এরা কি তবে পাখিদের বকলমে মানুষেরই আকাশ-ছুঁতে-চাওয়ার চেষ্টা, ইকারাসের মত ?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

sharbat lalmohon babu

ও শরবতে ভিষ নাই!

তবে হ্যাঁ, শরবতকে জাতে তুলে দিয়েছিলেন মগনলাল মেঘরাজ আর জটায়ু। অমন ঘনঘটাময় শরবতের সিন না থাকলে ফেলুদা খানিক ম্যাড়মেড়ে হয়ে যেত। শরবতও যে একটা দুর্দান্ত চরিত্র হয়ে উঠেছে এই সিনটিতে, তা বোধগম্য হয় একটু বড় বয়সে। শরবতের প্রতি লালমোহন বাবুর অবিশ্বাস, তাঁর ভয়, তাঁর আতঙ্ক আমাদেরও শঙ্কিত করে তোলে নির্দিষ্ট গ্লাসের শরবতের প্রতি।…