মহালয়া মানে পিতৃপুরুষের ঋণস্বীকার

মহালয়া মানে পিতৃপুরুষের ঋণস্বীকার

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Tarpan

অসুররাজ মহিষাসুরের সঙ্গে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধে দেবরাজ ইন্দ্রের পরাজয় ঘটলে মহিষাসুর স্বর্গের অধিপতি হয় | আর এরই ফলে দেবতাদের দুর্গতির অবধি থাকে না | ব্রহ্মাদি সমস্ত দেবগণ তখন সমবেতভাবে বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন | শ্রীহরির সম্মুখে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে দেবতারা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন | সেইসঙ্গে ক্রুদ্ধ হয়ে পড়েন শ্রীহরিও | তখন হরি‚ হর ও ব্রহ্মার মুখ থেকে নির্গত হয় মহা তেজ | অন্যান্য দেবতার মুখ থেকেও ক্রমান্বয়ে তেজ নির্গত হতে থাকে | এই সমস্ত একত্রীভূত হয়ে পর্বতের মতো প্রতীয়মান হতে লাগল |

আর সেই তেজঃপুঞ্জ থেকে সমুদ্ভূতা হলেন এক নারী যাঁর প্রভায় ত্রিভুবন প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠল | তখন শিবের মুখ থেকে তাঁর মুখের‚ যমের তেজ থেকে তাঁর কেশসমূহের এবং বিষ্ণুর তেজে তাঁর বাহুর সৃষ্টি হল | আর এভাবেই অন্যান্য দেবগণের তেজোরাশি থেকে তাঁর দেহের অন্যান্য অংশ নির্মিত হল | সৃষ্টি হল এক দেবী মূর্তির — তিনিই হলেন মহামায়া | তখন সেই প্রোজ্জ্বল দেবীকে দেখে দেবতারা যেমন আনন্দিত হলেন তেমনি বিবিধ অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাঁকে সাজিয়ে তুললেন |

মহাদেব দিলেন শূল‚ কৃষ্ণ চক্র‚ বরুণ শঙ্খ‚ চাপ ও বাণপূর্ণ ইষুধিদ্বয় দিলেন মারুত | ইন্দ্র দিলেন বজ্র ও ঘণ্টা‚ যম দন্ড‚ কাল খড়্গ ‚ প্রজাপতি অক্ষমালা দিলেন‚ অম্বুপতি পাশ‚ ব্রহ্মা দিলেন কমণ্ডলু‚ সুর্য উজ্জ্বল জ্যোতি | অগ্নি দিলেন শীতঘ্নী শক্তি | বিশ্বকর্মা দিলেন পরশু, হিমালয় সিংহ, শেষনাগ সর্পহার, সাগর সদা অম্লান পদ্ম ইত্যাদি |

সজ্জিত হওয়া মাত্রই দেবী গম্ভীরনিনাদী হুঙ্কার দিলেন | আর সেই হুঙ্কার শুনে মহিষাসুর কম্পিত হয়ে ‘কী ব্যাপার’ বলে অনুচরদের খোঁজ নিতে বললেন | অনুচরদের কাছে সেই দেবীর রূপ-মাধুর্য শুনে মহিষাসুর তাকে বিবাহ করতে চাইলেন | কিন্তু দেবী মহিষাসুরের দূতকে তিরস্কার করে তাড়িয়ে দিলে মহিষাসুর ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে দেবীকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশে সসৈন্যে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করলেন |

দীর্ঘকালব্যাপী যুদ্ধের পর দেবীর হাতে মহিষাসুরের মৃত্যু হয় | তবে কালিকা পুরাণ-মতে মৃত্যুকালে মহিষাসুর দেবীকে বলেন — তাঁর হাতে মরতে সে খুশী | কিন্তু দেবীর যজ্ঞে সেও যেন পূজিত হয় | উত্তরে দেবী বলেন — ‘সমস্ত যজ্ঞভাগ দেবতাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়ে গেছে | তবে তুমি আমার পদসেবায় সর্বদা নিযুক্ত থাকবে এবং যেখানেই আমার পূজা হবে সেখানেই তুমি পূজিত হবে |’ সেই থেকে মহিষাসুর দেবীর সঙ্গে পূজিত হয়ে আসছে |

মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও প্রতিপদ থেকে দেবীপক্ষের শুরু | এখন প্রশ্ন হল পিতৃপক্ষ কী? মহাভারতে বর্ণিত কুন্তীর কানীনপুত্র বীর কর্ণ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করে স্বর্গে গমন করেন | কিন্তু সেখানে তাঁকে খাদ্য হিসাবে দেওয়া হয় সোনাদানা | কর্ণ তখন দেবরাজ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে দেবরাজ বলেন ‘তুমি জীবিতকালে কোনওদিন পিতৃপুরুষকে কোনও খাদ্যদ্রব্য উৎসর্গ করনি | সেজন্য তোমার প্রতি এই বিধান’ |

কর্ণ তখন বলেন – ‘দেবরাজ‚ পূর্বপুরুষদের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না | যাই হোক এখন আমাকে মর্ত্যে ফিরে গিয়ে সেই পিতৃকার্য করার সুযোগ দিন’ | ইন্দ্র সেই প্রার্থনা পূরণ করলে কর্ণ ১৫ দিনের জন্য মর্ত্যে আসেন ও প্রতিপদ থেকে মহালয়া পর্যন্ত কালে পিতৃকার্য করেন | তাই মহালয়াতে সমাপ্ত পক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয় | কর্ণের মতোই হিন্দুরা আজও পিতৃপক্ষে তর্পণাদি শ্রাদ্ধ করে থাকে এবং দেবতা ব্রাহ্মণদের খাদ্যদ্রব্যাদি উৎসর্গ করে | প্রকৃতপক্ষে এটি পিতৃপুরুষের ঋণস্বীকার ছাড়া আর কিছু নয় |

Tags

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply