শরীর থেকে মুক্তি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
be82e6a8798cb117ec723e2f9651d941-700
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক
ছবি সৌজন্যে ফেসবুক

কেউ কখনও মুক্তি চায়না, সবাই চায় বন্ধন। 

আপাতদৃষ্টিতে কথাটা বেশ অবিশ্বাস্য। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি মেয়েদের এই কথাটাই শিখিয়েছে, এবং আজও শেখায়। শেখায় না কি/ বাঘিনী ছবির লতা মঙ্গেশকরের গলার সেই অসামান্য গানটি মনে করুন দেখি। যদিও রজনী পোহাল তবুও দিবস কেন যে এল না এল না। সেখানে এক দুখিনী একক মেয়ে গান শোনাচ্ছে। শুনছেও দুই অবিবাহিতা। তিন বিবাহহীনার বেদনাধারা মিলেমিশে যাচ্ছে গানটির কথায়। প্রথমে কলঙ্কের কথা বললেও এ গান প্রেম না পাওয়ার গান নয়, এ গান সিঁদুর না পাওয়ার গান। অর্থাৎ এক চুটকি সিন্দুর, যার জন্য সমাজের কাছে হেদিয়ে মরে মেয়েরা। গানটির কথাগুলো একটু দেখে নেওয়া যাক তবে। 

পিরিতি আগুনে জীবন সঁপিয়া
জ্বলে যাওয়া আজ হলো না হলো না।।
এমন পথ চলা ভালো লাগে না।
আমার অঙ্গ দোলে তরঙ্গে তরঙ্গে
কেউ না বাঁধে যদি পথ হারাবে নদী
ভালো লাগে না লাগে না।
ভালোবেসে মরি যদি সেও ভালো
ঘর বেঁধে যদি মরি আরো ভালো।
এসো এসো হে বধূ জ্বলিতে জ্বলিতে
মরণ আমার ভালো লাগে।
কপালের লিখা সিঁদুরে ঢাকিয়া
পথ চাওয়া আজ হলো না হলো না।।

এ গান স্পর্শ করে তার সুরে, আবেদনে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন জাগে। সিঁদুরের এই মাহাত্ম্য আমাদের সমাজে চিরকাল আছে ছিল, তাকেই শুধু তুলে আনছে গানটি? না এক অমোঘ নির্দেশিকা দিচ্ছে? “কেউ না বাঁধে যদি পথ হারাবে নদী”। মেয়েদের হারিয়ে যাওয়ার ভয়। এই তো সেদিন, এক লেখিকা জানালেন, শাঁখা সিঁদুর বিতর্ক যখন সমাজমাধ্যম জ্বালিয়ে দিচ্ছে তখন পাশাপাশি বহু মেয়ে, অর্থনৈতিকভাবে যাঁদের যথেষ্ট কোণঠাসা অবস্থা, শাঁখা সিঁদুরকে এক ধরনের বর্ম বা রক্ষাকবচ বলে জানেন এবং মানেন। নইলে “শেয়াল কুকুর ছিঁড়ে খায়”। 

সমাজের সবচেয়ে নিচু তলায় একটি কুমারী মেয়ের স্বাধীন জীবন আজও প্রশ্নচিহ্নের মুখোমুখি। কিন্তু সমাজের উঁচু তলায় ছবিটা কি একই? সেখানেও কি নেই মুক্ত জীবনকে নিয়ে নানা সন্দেহ, বাধা, মানসিক ভাবে অস্বীকার। একটি মেয়েকে সম্পূর্ণ মানুষ ভাবতে অস্বীকার? সেখানেও কি নেই, সমস্ত দিনের শেষে “তুমি সেটল ডাউন কবে করছ ?” এই বাঁকা প্রশ্নের অঙ্কুশ? যেমনটার মুখোমুখি হতেই হয় সানিয়া মির্জা বা সাইনা নেহওয়ালকে?  বা আরও কোন কোন খেলোয়াড়কে, শিল্পীকে, অভিনেত্রীকে? এক খেলোয়াড়ের মুখ্য পরিচিতি যেখানে খেলা, যেখানে তাঁকে সাক্ষাতকার নেবার মূল কারণই তাঁর এই গুণটি, খেলাধুলোর ক্ষেত্রে তাঁর অবাধ সাবলীল বিচরণ, সেখানে কেন সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রশ্ন অবধারিতভাবে হয় এটা, যে সব তো হল, বেশ কটা টাইটেল, মুকুট বা মেডেল পেলেন। এবার সেটল ডাউন করছেন কবে। মানে খেলাধুলো ভুলে, স্বামী সংসার সন্তান এই তিন ‘স’ নিয়ে ঘরে বসে যাচ্ছেন কবে? 

আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকে ক্রমাগত বিধ্বস্ত ও আক্রান্ত করা মিডিয়ার মধ্যে বিজ্ঞাপন জগতের দিকে একবার তাকানো যাক। সেখানে কী দেখছি? প্রতি মুহূর্তে বিবাহ নামক একটি প্রক্রিয়ার অনিবার্যতা আর তাকে কাম্য, শেষ গন্তব্য বলে দেখান হচ্ছেনা কি সুচতুরভাবে মেয়েদের? ফর্সা হবার ক্রিম মাখো কারণ ফর্সা মেয়েদের বিয়ে হয় ভাল পাত্রের সঙ্গে। অমুক রকমের চুলের দরকার, কারণ বান্ধবীর বিয়েতে যেতে হবে আর সেখানেই হয়ত দেখা হবে তোমার রূপকথার রাজকুমারের সঙ্গে। সমস্ত রকমের প্রডাক্টের সঙ্গে বিয়েকে জুড়ে দেওয়া এক ধরনের বিজ্ঞাপন। আরেক ধরণ হল, বিয়ে সংসর্গের জিনিস, অনুষঙ্গের জিনিসকে ঠেলে দেওয়া। যেমন ধরা যাক গয়নার বিজ্ঞাপন। গয়না দেখানোর পাশাপাশি সেখানে তো একটা স্বপ্নও বুনে তোলা হয়। কবিতা গানে মাখামাখি একটা স্বপ্ন, যা বলে দেয় একমাত্র তোমার জীবনসঙ্গীই তোমাকে দিতে পারে সব রকমের স্বপ্নপুরণের চাবিকাঠি। এবং জীবনসঙ্গীর হাতে হাত রাখার মুহূর্তটা সোনায় মুড়ে দিতে হয়, হবেই। তাই গহনার পাঁজা তুলে দেওয়া হয় মেয়ের হাতে। 

এমন তো নয়, যে আমরা বিবাহ বিরোধী, আমরা বিবাহের বিপক্ষে। যদিও সেই অবস্থানটিও নেওয়া যেতেই পারে। সেটাও অসমীচিন নয়। তবু যদি ধরি বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানটি, যেটা এই পৃথিবীতে বহু বহু যুগ বেঁচে আছে, তাকে পুরোপুরি  উৎখাত করলাম না। যদি ভুলেই যাই বিবাহঘটিত,পারিবারিক বা গার্হস্থ্যহিংসার খতিয়ান, সংখ্যাতত্ত্ব। যা বলে দিচ্ছে বিজ্ঞাপনে দেখান ওই অসংখ্য স্বপ্ন, ফ্যান্টাসি, ওইসব সুন্দর সুন্দর বিয়ের চিত্র, বিয়ের দিনের আশা আকাঙ্ক্ষা, নতুন বর ও ঘর প্রাপ্তির … অনেক ক্ষেত্রেই সেসব ধুলিসাৎ হয়ে যায় মেয়েদের, তাহলেও এ কথা সত্যি যে অনেক ক্ষেত্রেই বিবাহিত জীবন সুখেরও হয়। কিন্তু কথা তা নয়। কথা বিয়েকে এমন বাধ্যতামূলক এক ক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপিত কেন করা হচ্ছে মিডিয়াতে, সিনেমাতে, নাটকে সিরিয়ালে বিজ্ঞাপনে? আবার সিনেমা বা সিরিয়ালে বিয়ের পরবর্তী জীবনের নানা লড়াইকে কদর্য অত্যাচার ও হিংস্রতা হিসেবে তুলে ধরলেও তাতে প্রতিষ্ঠানটির মূল ধরে নাড়া দেওয়া হচ্ছে না, প্রশ্ন করা হচ্ছে না কিন্তু। ঘুরিয়ে বলা হচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানটি খাসা, শুধু অবস্থাবিপাকে নায়িকা খারাপ শাশুড়ি বা খারাপ ননদের পাল্লায় পড়েছে। তাছাড়া বাকিটা শুধুই অপার আনন্দের প্রজেকশন, প্রচন্ড খরচ করে ঘটাপটা করে বিয়ে দেবার প্রবল উদযাপন, দৃষ্টান্ত স্থাপন শুধু। 

আচ্ছা, মেয়েদের বিবাহ পূর্ববর্তী জীবন বা একক জীবন সত্যিই কি এতটাই খারাপ, দুঃসহ, যে  বিয়ে ছাড়া আর কোনও উদ্ধার সম্ভব নয়? দুঃসহ বলে ভাবার ফলেই, বা মেয়েদের চরিত্রদোষ এর কারণেই বিয়ে হচ্ছে না ভেবে, সমাজে মেয়েদের একক জীবন নিয়ে যে মিথ, যে লোকগাথা, যে সন্দেহ, যে ভ্রুকুঞ্চন, একা মেয়েকে বাড়ি ভাড়া না দেওয়া ইত্যাদির অভ্যাস, সেগুলো কিন্তু ভিশিয়াস সার্কলের মত বিয়ে করার বাধ্যতাকেই আরও আরও প্রতিষ্ঠা দেয়। যতক্ষণ না এই বৃত্ত ভেঙ্গে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব, ততদিন তা চলতেই থাকবে। ইদানীং কাজ কর্মের কারণে বহু ছেলে ও মেয়েরা, ৩০ এর কাছাকাছি পৌঁছেও বিয়ে করেনা। করতে সময় পায়না, কেরিয়ারকে যত্ন করতে গিয়ে। এদের ভেতরেই হয়ত আছে আশার আলো। একদিন বাণিজ্যিক বা পেশাগত সত্যটা বড় হয়ে দাঁড়াবে। আর বিয়ে করার পক্ষে অসুবিধা হয়ে দাঁড়াবে পেশাগুলোই হয়ত।  নানা শহরে পেশাগতভাবে থাকতে বাধ্য হওয়াটাও পুরুষনারী নির্বিশেষে যার মধ্যে অন্যতম তাই বিয়ে করেও দূরে দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে ছেলেমেয়েরা। যেভাবে দেশভাগের ফলে প্রচুর মেয়েকে চাকরিতে আসতে হয়, যেভাবে বিশ্বযুদ্ধের ফলে সারা পৃথিবীতেই মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ে, সেভাবেই বহিরাগত কিছু কারণের ফলে এই সমাজের যদি কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়, মঙ্গল। সামাজিক আন্দোলন বোধ হয় আর হবার নয়। 

এই একই জিনিস, সুচতুর সেল করা। বিক্রি করা। তা হল মাতৃত্বের কনসেপ্ট। স্বাস্থ্যকর ড্রিংক খাওয়া আর মশামারার তেল, মায়েরাই জগতের রক্ষাকর্ত্রী, শিশুর বিধাতা। কী মহান এই মাতৃত্ব মুকুট। মাতৃত্বের মহানতা এতটাই যে পরিশীলিত, ভদ্র বাঙালি শ্বশুরমশাই বউমাকে অকপটে বলতে পারেন , তুমি বধূ হলে এর পর মা হবে। তোমার নারীত্বের এটাই পূর্ণ বিকাশ। 

 

মেয়েদের যৌনতার একটাই উদ্দেশ্য, প্রজনন। বিবাহিত মেয়ের একটাই মোক্ষ, মাতৃত্ব। মাতা না হতে পারলেই বাঁজা মেয়ে বলে খোঁটা। পুরাকালে পুং জাতীয়দের একাধিক বিয়ে করার লাইসেন্স তো ছিলই  বংশধারা বজায় রাখতে। আর ইদানীং অজস্র ফার্টিলিটি সেন্টার ডাক্তার বদ্যি। 

বাচ্চাকে জন্ম দিলেই শুধু তো হবে না। তাকে মানুষ করার জন্য আজীবন শরীর মন পাত করতে হবে। কুপুত্র যদি বা হয় কুমাতা কদাপি নয়। তাই টিনেজার ছেলে মদ্যপান করে অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেলে মিডিয়া আলোচনা করে মা কত খারাপ ছিলেন, মা কেন ছেলেকে দেখেন নি। বাড়িতে সারাদিন চাকরি করে ফিরে মাকে শুনতে হয় ছেলে বা মেয়ের হোমওয়ার্ক কেন সে দেখেনা। অফিসে বেশিক্ষণ কাজ করলে প্রশ্ন ওঠে, মাতৃভাব কেন এত কম। 

মহানগর ছবিতে একটা দৃশ্য ছিল, ছেলের জ্বর হয়েছে, মাধবী মুখোপাধ্যায় অফিস থেকে ফিরে এসে বাচ্চাকে কোলে তুলতে গেলে শাশুড়ি বলছেন ছেলের কী রাগ, মা অফিস গেছে, মা দুষ্টু। আজও এই দৃশ্য ঘরে ঘরে অভিনীত। পঞ্চাশ বছরে খুব কি পরিবর্তিত হল? 

 নারী শরীরকে জন্মমাত্রে বিবাহের জন্য বলিপ্রদত্ত, আর বিবাহমাত্রে সন্তান উৎপাদনের জন্য বলিপ্রদত্ত, এবং সন্তান জন্মমাত্রে সে সন্তানকে ভাল খাইয়ে পরিয়ে শিখিয়ে পড়িয়ে মানুষ করার জন্য বলি প্রদত্ত ভাবার অসুস্থ চক্রে আটকে যায় প্রতিটি মেয়ে, আজও, আমাদের সংসারে সমাজে। এ থেকে মুক্তি চাই। আর তার জন্য চাই সমস্যাটাকে আগে বোঝা। এ হল এসেনশিয়ালাইজেশন। মেয়েদের হয় বউ নয় মা ভাবা একমাত্র, মানুষ হিসেবে না ভাবা। অর্থাৎ, মেয়েদের শরীর ভাবা। মেয়েদের শরীরকে সমাজের কাজের জন্য বলিপ্রদত্ত ভাবা। মেয়েদেরকে শুধু শরীর হিসেবে দেখা। এটাই সমস্যার মূল। আর মেয়েরা নিজেরা এটা বিশ্বাস করে ফেলে বলেই সবচেয়ে বড় মুশকিল। 

মেয়েদের শরীরের সঙ্গে তাদের নিজেদের সম্পর্ক। সমাজ, ধর্ম, রাষ্ট্র  চেষ্টা করেই চলে  মেয়েদের শরীরকে ব্যবহার করতে, নিয়ন্ত্রণ করতে, তাদের পুরোপুরি বুঝিয়ে ফেলতে। মগজ ধোলাই করতে। আর সে কাজে তারা সফল ও হয়। 

কানাডার লেখক  মার্গারেট অ্যাট উডের লেখা ইংরেজি উপন্যাস, ১৯৮৪ তে লেখা দ্য হ্যান্ড মেইড’স টেল। যাকে তুলনা করা হয় জর্জ অরওয়েল লিখিত ১৯৮৪ উপন্যাসের সংগেই। বীভৎস এক ডিসটোপিয়া, দুঃস্বপ্নের দেশ হয়ে গিয়েছে সে গল্পে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী আমেরিকা নামক দেশটি, হঠাৎ উলটে গেছে সমাজ-রাষ্ট্রের বিধিবিধান। আচমকা, পাশ্চাত্যীকৃত বা ওয়েস্টার্নাইজড, তথাকথিতভাবে লিবারেটেড (পড়ুন বেহায়া, বে -আব্রু) মেয়ে শরীরের ওপর নেমে এসেছে ফতোয়া, ধর্মীয় কানুন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। গল্পে, সে দেশ পরিণত হয়েছে খ্রীষ্টান ধর্মীয় মৌলবাদের এক আখড়ায়। রাষ্ট্র মেয়েদের “সুরক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ একশ আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে আবার মেয়েদের  লেখা পড়া,  কাজ করা, ভোট দেওয়া, সব ধরণের কর্তৃত্ব নিষিদ্ধ করেছে, পর্দানশিন করেছে। আর পরিণত করেছে এক শরীরে যার কাজ শুধু সন্তানের জন্ম দেওয়া। যেন ইতিমধ্যে, নারীমুক্তির পূর্বেকার ধারণা সব মিথ্যে প্রমাণিত, আসলে তো, মেয়েরা স্বাধীনতাকে নিয়ে কী করবে বুঝতেই পারেনা, নিজেদের শরীরকে সঠিক ব্যবহার না করে নষ্ট করে ফেলে, তাই তাদের সুরক্ষা দিতে আনতেই হয় ঘোমটা পর্দা। নিষিদ্ধ হয় তাদের নিজের শরীরের ওপর নিজেদের অধিকারের স্পর্ধাপ্রদর্শন।  তাদের শরীর তাদের সম্পত্তি থাকে না আর, থাকেনা আর তা নিয়ে যা খুশি করার অধিকার ।

 “এই যে চাদ্দিকে এত অবাধে নারী ধর্ষণ, এ তো আসলে মেয়েদেরই দায়, তাদেরই দোষ, নিজের শরীর কে ক্রমাগত দেখিয়ে দেখিয়ে, নিজেদের শরীরের প্রদর্শনে পুরুষের লোভ জাগিয়ে জাগিয়েই মেয়েরা নিজেদের এই ক্ষতি ডেকে আনেনি কি?” এমন কাল্পনিক সংলাপ রাষ্ট্রযন্ত্রের মুখে, অ্যাটউডের গপ্পে।  অন্ধকার সেই বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী দিনে, মেয়েদের পরিণত করা হয়েছে যন্ত্রে। জরায়ুযন্ত্রে। কারণ জনসংখ্যা কমে গিয়েছে তাই জন্ম দিয়ে যেতে হবে তাদের। প্রেমহীন, এমনকি যৌনতারও আনন্দহীন, কেবলমাত্র সন্তানজন্মের ধারকে পরিণত হতে হয়েছে তাদের।

আমরা তৃতীয় বিশ্বের মেয়েরা নিজেদের অজান্তেই কবেই বেবি মেশিনে পরিণত হয়েছি। এ থেকে মুক্তি নেই আমাদের? অন্যদের দোষ না দিয়ে প্রথমে নিজের দিকে তাকানোই এ মুক্তির প্রথম ধাপ। তাকাই, চলুন। হ্যাঁ বিয়ে না করলে, বিয়ে করেও বাচ্চা না নিলে, অনেক প্রশ্ন, অসুবিধা অনেক রকম কথা আসবে। তথাপি সেই কঠিন প্রশ্নটা যুঝে নিতে হবে। নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, আমি সত্যি সত্যি কী চাই? 

Tags

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

One Response

  1. মেয়ে রা পোননো হতে চায়,না হলে সব জায়গায় দেহ প্রদর্শনী কেন?
    এটা নিয়ে আলোচনা প্রতিবাদ কিছুই দেখছি না ।বিজ্ঞাপনে পুরুষদের বিষয়ে নারীদেহের প্রদর্শনী ।

Leave a Reply

-- Advertisements --
-- Advertisements --