(Little Magazine)
একটাও পলাশ ফোটেনি। এখনো শীত আছে। পলাশ গাছের সব পাতা ঝরে যাওয়ার পর ডালে ডালে পলাশ ফুটবে। চারদিক চেয়ে রঞ্জন খুঁজে পায়না অন্য কোনো ফুল। আজ ক্লাস নেই। সে সঙ্গীত ভবনের আশেপাশে ঘুরতে ঘুরতে শুধু পাখি দেখতে পায়। ভোর হয়েছে অনেক আগেই। তবুও কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। সে আশা করেছিল, গাছ জুড়ে ফাগুন বউ । তার হলুদ শাড়ি থেকে রঙের কিরণ ঝরাবে। সেও তো নেই। কাঞ্চন ফুল কই? ফাগুন তো শুরু হয়েছে। (Little Magazine)
আরও পড়ুন: লিটল ম্যাগাজিন কর্নার
শুধু আম মুকুলের গন্ধ। রঞ্জনের মন গুন গুন করে উঠলো—- ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে/ ডালে ডালে ফুলে ফলে–পাতায় পাতায়। পাতায় পাতায় এসে রঞ্জনের সুর থেমে যায়। কোথাও তো ফাল্গুন নেই। যদিও বাতাসে বিষণ্ণতা। সে রামকিঙ্করের সুজাতার কাছে এসে দাঁড়ায়। দেখে সুজাতার পায়েসের বাটিতে ধুলো-ময়লা। শুকনো পাতা। রঞ্জনের মনে পড়ে গেল— বসন্ত কি শুধু ফোটা ফুলের মেলা রে। দেখিস নে কি শুকনো পাতা ঝরাফুলের খেলা রে। তার ইচ্ছে করলো, হোস্টেলের কোনো ঘরে শব্দ করে ঢুকবে। এক কাপ চায়ের জন্য সে তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠেছে। (Little Magazine)
একটা শাদা শাড়ি এগিয়ে আসছে। মনে হচ্ছে, কলাভবনের কোনও ছাত্রী। তার হাতে এক তাল মাটি। রঞ্জন মেয়েটিকে আগে দেখেনি। আলাপ করবে?
একটা শাদা শাড়ি এগিয়ে আসছে। মনে হচ্ছে, কলাভবনের কোনও ছাত্রী। তার হাতে এক তাল মাটি। রঞ্জন মেয়েটিকে আগে দেখেনি। আলাপ করবে? না, প্রয়োজন নেই। সে একটা আম গাছের তলায় ছায়া দেখতে লাগলো। কুড়িয়ে নেয় আম মুকুল। যেন-বা আজকের এই উপহার তাকে কেউ পাঠিয়েছে। আজকের ঘন্টাও স্তব্ধ হয়ে আছে। কেউ কি জেগে উঠবে না? ঘন্টা ঘরের তলায় একটা কাক। কাকে যেন খুঁজছে। হঠাৎ তার পাশ দিয়ে চলে গেল একটা সাইকেল। (Little Magazine)
আরও পড়ুন: মথ: প্রতিচ্ছবি ও প্রতিধ্বনির গল্প- অমিতাভ মৈত্র
পিছনে বসে আছে একটি মেয়ে। তার শাড়ির আঁচল উড়ছে বাতাসে। সকালের রোদে স্নিগ্ধতা থাকলেও রঞ্জনের হাঁটতে ইচ্ছে করছে না। তার মনে জেগে উঠছে— ওগো দখিন হাওয়া, ও পথিক হাওয়া— গানটা সম্পূর্ণ করার আগেই একটা ডাক ভেসে উঠছে— পার্থ! পার্থ! কে ডাকছে? আবার একটা ডাক— শেরনা! শেরনা! কে শেরনা? কে পার্থ? একটা ছোট পলাশ গাছের পাতা কেঁপে কেঁপে উঠলো। তার শুকনো ডালে মনে হচ্ছে, কেউ যেন নখ দিয়ে লিখে গেছে— দেখা হবে। (Little Magazine)
রঞ্জন বিড়বিড় করে— দেখা তো হয়না। কারো সঙ্গেই দেখা হয়না। কেবল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। বাচ্চু দির বাড়ির দিকে গেলে হয়। সকালটা যদি গানে গানে পাওয়া যায়?
রঞ্জন বিড়বিড় করে— দেখা তো হয়না। কারো সঙ্গেই দেখা হয়না। কেবল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। বাচ্চু দির বাড়ির দিকে গেলে হয়। সকালটা যদি গানে গানে পাওয়া যায়? বাচ্চুদির গান মা নেই, বুক ভরা বাতাস। রঞ্জনের কান্নাও আসে। যে কান্নাকে দু হাতে আগলে রাখা যায়। ভালোবাসা যায়। সে দেখতে পায় কালো বাড়ির কাছে কারা যেন এসে বসলো। তার ঘরে তার বন্ধুতো ঘুমোচ্ছে। সে রাতভর কী যে পড়ে কে জানে। গান শুনতেও পছন্দ করেনা। একটা গানের সুর ঘুরে বেড়াচ্ছে চারদিক। কে গাইছে কোথায়? আমি তোমায় ডাক দিয়েছি ওগো উদাসী— সে চেয়ে চেয়ে খুঁজছে, গানের মুখ। খুঁজে পায়না। (Little Magazine)
আরও পড়ুন: ‘আমি আর লীনা হেঁটে চলেছি’: কবিতা— ছাগলের তৃতীয় সন্তান- জাজরা খলিদ
সে মাটি থেকে তুলে নেয় শিশির ভেজা ধুলো। বুদ্ধদেবের মূর্তির কাছে এসে দাঁড়ায় রঞ্জন। তার খালি পায়ে লেগেছে শিশির। ঘাস ফুলের রেণু। সে উপর দিকে তাকিয়ে দেখে সূর্য অনেকটাই উঠে এসেছে ওপরে। হোস্টেলের দিকে যাবে নাকি? রঞ্জন স্থির করতে পারে না। তার মনের মাঝে গান থেমেছে, সুর আর লাগেনা। নন্দিনীর সঙ্গে দেখা হয়না আজকাল। শুনেছে, নন্দিনী নাকি সাঁওতাল গ্রামের দিকে মাঝে মাঝে যায় বাচ্চাদের পড়াতে। তাদের হোস্টেল ঘরের দিকেও রঞ্জন ঘুরঘুর করেও নন্দিনীকে দেখতে পায় না ইদানিং। তার মনে হলো আজ, নন্দিনীর সঙ্গে দেখা করবেই। রঞ্জন কি পারবে নন্দিনীর হাতে ছাতিম পাতা তুলে দিতে? (Little Magazine)
১ ফাল্গুন ১৪২৮
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(বানান অপরিবর্তিত)
বাংলালাইভ একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ওয়েবপত্রিকা। তবে পত্রিকা প্রকাশনা ছাড়াও আরও নানাবিধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে বাংলালাইভ। বহু অনুষ্ঠানে ওয়েব পার্টনার হিসেবে কাজ করে। সেই ভিডিও পাঠক-দর্শকরা দেখতে পান বাংলালাইভের পোর্টালে,ফেসবুক পাতায় বা বাংলালাইভ ইউটিউব চ্যানেলে।
