সন্ত্রাসবাদের সেই রাতে মল্লিকার সাহস

নভেম্বর মাসের ২৬ তারিখ, সাল ২০০৮,মুম্বই-এর তাজ প্যালেস হোটেলের এক ব্যাঙ্কোয়েটে চলছে নৈশভোজের আসর। ব্যাঙ্কোয়েটের দায়িত্বে ছিলেন ২৪ বছরের মল্লিকা জগড়। এমন সময়ে বাইরে গুলি চলার মতো শব্দ শোনা গেল কিন্তু আতসবাজির শব্দ ভেবে আমল দিলেন না মল্লিকা। কিছুক্ষণ পর হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীদের থেকে জানতে পেরেছিলেন হোটেলে হামলা হয়েছে এবং বন্দুক হাতে সন্ত্রাসবাদী ঘুরে বেড়াচ্ছে হোটেলের ভেতর।

সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়নি মল্লিকার। ব্যাঙ্কোয়েটের দরজা জানলা বন্ধ করে আলো নিভিয়ে দেয় মল্লিকার টিম। ব্যাঙ্কোয়েটে উপস্থিত ষাটের বেশি অতিথির সুরক্ষাই তখন মল্লিকার আসল লক্ষ্য। অতিথিরা যাতে ভয় পেয়ে উত্তেজিত হয়ে চেঁচামেচি না করেন সে ব্যাপারেও বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছিল। মাথা ঠান্ডা রেখে সকলের মধ্যে সাহস এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাই ছিল সেই রাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সেই রুদ্ধশ্বাস রাতের পর অবশেষে পরেরদিন তাজ হোটেলে সেনাবাহিনী ঢোকার খবর পেয়ে চেয়ার দিয়ে কাচের জানলা ভেঙে ফায়ার ব্রিগেডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন মল্লিকার টিম। তারপরই মই দিয়ে সবাইকে নামিয়ে নিয়ে যায় ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা।

মল্লিকার সাহস এবং বুদ্ধির জোরেই সেদিন রক্ষা পেয়েছিলেন অনেকগুলো নিরীহ মানুষ। মল্লিকার মতো হিরোদের সাহসের জোরেই আমরা মানুষের ওপর ভরসা ফিরে পাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।