(Mughal-E-Azam)
একটি বিজ্ঞাপন ও স্বপ্নের ঘোষণা
১৯৫২ সালে মার্চের প্রথম সপ্তাহে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ম্যাগাজিন ‘ফিল্ম ইন্ডিয়া’র পাতায় একটা বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল ‘মুঘল-এ-আজমে মুঘল সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়ে দেওয়া সৌন্দর্যের আনারকলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য এটিই আপনার শেষ সুযোগ। দিলীপ কুমার এবং কে.আসিফ তাঁদের ছবিতে আনারকলির ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য যে নায়িকার সন্ধান করছেন, সেই নায়িকা আপনিও হতে পারেন!’ বিজ্ঞাপনের নিচে স্টার্লিং কর্পোরেশনের ঠিকানা, সঙ্গে দিলীপ কুমার আর কে.আসিফের ছবি এবং আগ্রহীদের ১৫ মার্চের মধ্যে নিজের ছবি এবং বিবরণ পাঠানোর জন্য অনুরোধ।
১৯৪৪ সালে, বাইশ বছরের যুবক কে.আসিফ। মুঘল সম্রাট আকবরের দরবারের নৃত্যশিল্পী ‘আনারকলি’র জীবনের উপর ভিত্তি করে ‘মুঘল-ই-আজম’ ছবিটি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে বলতেই হয়, প্রথম ভারতীয় সবাক চলচ্চিত্র ‘আলম আরা’র নির্মাতা আরদেশির ইরানি আনারকলি ও সেলিমের প্রেমের গল্পে নির্বাক যুগে (১৯২৮) এবং সবাক যুগে (১৯৩৫) ‘আনারকলি’ নামে দু’বার একই ছবি করেছিলেন।
আরও পড়ুন: সাহিত্য ও সিনেমার ‘অন্তর দ্বন্দ্ব’ থেকেই জন্ম ‘ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমা’র
ভাঙনের পর আবার শুরু
১৯৪৬ সালে বম্বে টকিজে মুঘল-ই-আজম শুটিং শুরু হয়। তখন সেই ছবিতে প্রধান পুরুষ চরিত্রে ছিলেন অভিনেতা চন্দ্রমোহন এবং ‘আনারকলি’র চরিত্রে গায়িকা-অভিনেত্রী সুরাইয়া অভিনয় করতে অরাজি হওয়াতে, পাকিস্তানি মঞ্চাভিনেত্রী নার্গিসকে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু ভাগ্যের এমন পরিহাস, সে শুটিং হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের রাজনৈতিক মহলে টালমাটাল শুরু হয়। কিছুদিনের মধ্যেই ভারত স্বাধীন হয়ে দেশভাগ হয়। সেই সুবাদে ছবির প্রযোজক ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে পাড়ি দেন। অন্যদিকে নায়ক চন্দ্রমোহন ১৯৮৯ সালে হৃদরোগে গত হলেন। এই সব নানা বাধায় ছবির কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল।

১৯৫০ সালে নবাগত এক প্রযোজক এই ছবি করতে রাজি হলেন। তখন সেলিমের ভুমিকায় দিলীপ কুমার পরিচালকের প্রাথমিক পছন্দের তালিকায় ছিলেন না। দিলীপ কুমার নিজেও এই ধরণের চরিত্রে অভিনয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নতুন প্রযোজক শিল্পপতি সফরাজ পাল্লোন-এর অনুরোধে আসিফ এবং দিলীপ কুমার এই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সহমত হলেন। সব কিছু নতুন ভাবনাচিন্তা দিয়ে শুরু হল।
আনারকলির খোঁজে — একটি দীর্ঘ অন্বেষণ
সে সময় তাঁরা কাগজে এবং ফিল্ম ইন্ডিয়া এবং স্ক্রিনের মতো শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণীদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সুবাদে আসিফ ভোপাল, হায়দরাবাদ, দিল্লি এবং লখনউয়ের মতো শহরে ঘুরে ঘুরে বহু তরুণীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। অবশেষে নিরাশ হয়ে ফিরে এসে আসিফ আনারকলি চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে অভিনেত্রী নূতন-কে আবদার জানান। নূতন তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। আসিফ নূতনকে বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করার কথা বলাতে, তিনি আবারও বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে, বিকল্প অভিনেত্রীর নাম প্রস্তাব করেন। চিত্রনাট্য শুনে নূতন-এর মনে হয়েছিল আনারকলির চরিত্রের জন্য আদর্শ অভিনেত্রী হবেন মধুবালা।

সৈয়দ ইমতিয়াজ আলি তাজের ১৯২২ সালের একটি নাটকের উপর ভিত্তি করে সে যুগের চারজন উর্দু লেখক আমানুল্লাহ খান (অভিনেত্রী জিনাত আমন-এর বাবা), ওয়াযাহাত মির্জা, কামাল আমরোহি, এহসান রিজভী ও কে.আসিফ স্বয়ং এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। মুঘল সম্রাট আকবর, যুবরাজ সেলিম এবং আনারকলির মধ্যে এক নিষিদ্ধ প্রেমের উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি করা হয় এই ঐতিহাসিক কাহিনি, যা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম মাইলফলক।
সম্রাট আকবরের চরিত্রে পৃথ্বীরাজ কাপুর, সেলিমের ভূমিকায় দিলীপ কুমার এবং আনারকলি চরিত্রে মধুবালার অভিনয় ব্যাপকভাবে ভারতীয় দর্শক মনে বহুকাল নির্ণায়ক হয়েছিল।
মেগাবাজেট ও নিখুঁত করার সাধনা
মুঘল-এ-আজম তৎকালীন ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র, যার বাজেট ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা (আজকের মূল্যে যা ২০০ কোটিরও বেশি)। ছবির শুটিং হয়েছিল প্রায় ৫০০ দিন, এটাও ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের দীর্ঘতম শুটিং। ফিল্মিস্তান এবং মেহবুব স্টুডিওতে বিশাল বিশাল সেট তৈরি করা হয়, যার মধ্যে ‘পর্দা’ এবং ‘আনারকলি ইন দ্য কোর্ট’ সিকোয়েন্সে ব্যবহৃত বিখ্যাত প্রাসাদও ছিল। ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’ গানের জন্য ‘শিশমহল’ সেট তৈরিতে প্রায় দু’বছর সময় এবং দশ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। ছবির সব দৃশ্যে অবিশ্বাস্য রকমের বিস্তৃত সেট, এবং বৃহৎ আকারের যুদ্ধের দৃশ্যে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দু’হাজার উট, চার হাজার ঘোড়া এবং আট হাজার সৈন্য ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
কে.আসিফ এই ছবির মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় এক বিশাল মাপের মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ফলত মনেপ্রাণে এই ছবিকে প্রায় তাঁর জীবনের একমাত্র প্রকল্প হিসেবে বিচার করেছিলেন (বাস্তবে সেটাই প্রায় সত্যি হল)। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, ইচ্ছেপূরণ এবং অসন্তুষ্টির কারণে অনেক দৃশ্য একাধিকবার শুট করতে হয়েছিল। বেশ কিছু অভিনেতা কয়েক ডজন বার একই গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য শুট করেছেন বলে তাঁরা বিভিন্ন সময় স্বীকার করেছেন।

সে যুগে ‘গ্রাফিক্স’ বা ‘ভিএফএক্স’ বলে কোনও বস্তু মানুষের কল্পনাতেও জন্মায়নি। এক্ষেত্রে ছবির বিখ্যাত ‘পারদা’ দৃশ্যের সত্যতা অর্জন করার জন্য আসল ময়ূর এবং অলঙ্কৃত প্রপস ব্যবহার করে চিত্রায়িত হয়েছিল। বিস্তৃত প্রপস ও অবলা প্রাণীদের জটিল সমন্বয়ে নির্মাতার সিনেমার প্রতি নিষ্ঠা ও ধৈর্যের পরিচয় পর্দায় প্রতিটা দৃশ্যে ভীষণভাবে ধরা দেয়। আসিফ এই ছবিতে ঐতিহাসিক মহিমা এবং নাট্যমঞ্চায়নের উপর জোর দেওয়ার ফলে তৎকালীন পার্সি থিয়েটারের নান্দনিকতার সঙ্গে সিনেমাটিক দৃশ্যের এক সুন্দর মিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন।
সম্রাট আকবরের চরিত্রে পৃথ্বীরাজ কাপুর, সেলিমের ভূমিকায় দিলীপ কুমার এবং আনারকলি চরিত্রে মধুবালার অভিনয় ব্যাপকভাবে ভারতীয় দর্শক মনে বহুকাল নির্ণায়ক হয়েছিল। ছবিতে দিলীপ কুমার এবং মধুবালার একান্ত দৃশ্যগুলো ছিল অভিনয় তীব্রতা, আবেগপ্রবণতা এবং লালিত্যে ভরপুর। এইসব কারণের সংমিশ্রণে আনারকলি চরিত্র ঐতিহাসিক চরিত্র থেকে সাংস্কৃতিক প্রতীকে উন্নীত হয়।
গয়না তৈরি হয়েছিল হায়দরাবাদে আর মুকুট তৈরি হয়েছিল কোলাপুরে। রাজস্থান থেকে শুটিংয়ে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র আমদানি করা হয়েছিল। ছবির প্রয়োজনে সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে ভগবান কৃষ্ণের একটা পূর্ণাঙ্গ মূর্তিও নির্মাণ করা হয়েছিল।
যন্ত্রণার মাঝেও অমর অভিনয়
মধুবালার অভিব্যক্তি, মার্জিত আভিজাত্য এবং বিয়োগান্তক প্রেমের গল্প তাঁকে আজও কোটি কোটি ভারতীয়র হৃদয়ে অমর করে রেখেছে। এই জুটির অন-স্ক্রিন রসায়ন জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আকর্ষণের জন্ম দিয়েছিল। শুটিং চলাকালীন মধুবালা শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও পর্দায় তাঁর চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ ধরা পড়েনি। দুর্ভাগা নর্তকী আনারকলি হিসেবে মধুবালার সেই অভিনয় আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।

ছবিতে আনারকলি চরিত্রকে ‘আইকনিক’ করে গড়ে তোলার জন্য, তাঁর পোশাক এবং গয়না বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল। প্রত্যেক শিল্পীর প্রতিটা দৃশ্যের পোশাক এবং গয়নার বিবরণ ছিল বিলাসবহুল। সেই সব পোশাক সেলাই হয়েছিল দিল্লিতে। তারপর সেই পোশাকে নকশা করা হয় সুরাটে। গয়না তৈরি হয়েছিল হায়দরাবাদে আর মুকুট তৈরি হয়েছিল কোলাপুরে। রাজস্থান থেকে শুটিংয়ে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র আমদানি করা হয়েছিল। ছবির প্রয়োজনে সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে ভগবান কৃষ্ণের একটা পূর্ণাঙ্গ মূর্তিও নির্মাণ করা হয়েছিল।
এই ছবির সংলাপ এবং গান ক্রমশ ভারতীয় দৈনন্দিন সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে। শাকিল বদায়ুনীর কথায় ও নওশাদের সুরের জাদুতে ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’, ‘মোহে পানঘাট পে’, এবং ‘তেরি মেহফিল মে’ এর মতো গানগুলো ক্লাসিক হিসাবে বিবেচিত হয়। আর হবে নাইবা কেন? শোনা যায়, ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’ গানের কথা নওশাদ-এর অনুমোদনের আগে শাকিল বদায়ুনীকে একশোবারেরও বেশি সংশোধন করতে হয়েছিল।

কিংবদন্তি অভিনেতা নাজ প্রথম দিকে তরুণী আনারকলির চরিত্রে অভিনয় করেছেন; ছবিটিতে বয়সের ক্রমবর্ধমানতার জন্য বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা যেতেই পারে, বিখ্যাত তবলাবাদক ওস্তাদ জাকির হোসেনকে দিলীপ কুমারের ছোটবেলা সাহাজাদা সেলিমের ভূমিকায় নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাক্রমে সেই চরিত্রে জালাল আগা অভিনয় করে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন।
তবে মুঘল–এ–আজম-এর জমকালো প্রিমিয়ারে সেদিন ছবির প্রধান অভিনেতা দিলীপ কুমার ইচ্ছাকৃতভাবেই অনুপস্থিত ছিলেন। কেন? কী এমন হয়েছিল সেদিন, যে কারণে বহুপ্রতীক্ষিত প্রিমিয়ারে থাকতে পারেন প্রধান অভিনেতা?
বাইশ রিলের মহাযাত্রা: প্রিমিয়ারের রাত
মুঘল-এ-আজমে আসিফ তাঁর নিজস্ব কল্পনায় ও পরিচালনায় ছবির প্রতিটা দৃশ্যে মুঘল দরবারের প্রেমের চিত্র এঁকেছিলেন। ছবির পোশাক, দরবারের সেট নির্মাণ, অভিনয়ে প্রতীকী ভঙ্গি, ভারতীয় সিনেমা, থিয়েটার, ফ্যাশন এমনকী বিবাহ অনুষ্ঠানে মঞ্চসজ্জায় আজও বহমান। এই চলচ্চিত্র বলিউডের প্রযোজকদের ধারণা বদলে দিয়েছিল। সঙ্গীত নাটকের মান উন্নত করে, পরবর্তী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আরও বৃহত্তর পরিধিতে ভাবনা চিন্তায় উৎসাহিত করেছিল। মুঘল-এ-আজম ভারতীয় সিনেমায় মহাকাব্যিক গল্প বলার মানদণ্ড এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রযুক্তিগত নৈপুণ্য এবং সঙ্গীতের উৎকর্ষতা কীভাবে একটি টেকসই সাংস্কৃতিক শিল্পকর্ম তৈরি করতে পারে, তার এক উজ্জ্বল নিদর্শন এবং কেস স্টাডি হিসেবে রয়ে গেছে।
মূল ছবিটি অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়ার ফলে, মুক্তির আগে বেশ কাটছাঁট করা হয়। সেই সংস্করণটাও বাইশ রিলে গিয়ে দাঁড়ায়।সিনেমাটা যে বাইশ রিলের, সেই বিষয়টা সর্বসাধারণের মনে সাড়া জাগানোর জন্য ১৯৬০ সালের ৫ অগাস্ট বাইশটা হাতিকে সোনালি অলংকারে রাজকীয়ভাবে সাজানো হয়। তারপর রাজকীয় পোষাকে সুসজ্জিত মাহুতরা প্রতিটি হাতির পিঠে একটা করে ফিল্ম ক্যান নিয়ে ‘মারাঠা মন্দির’ সিনেমা হলের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়।

মুঘল–এ–আজম-এর মতো বিগ বাজেটের সিনেমার প্রিমিয়ারের জন্য হাজার দর্শকাসনের মারাঠা মন্দির ছাড়া সেই সময় অন্য কোনও বিকল্প সিনেমা হল ছিল না। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে জাঁকজমকের সঙ্গে একে একে উপস্থিত হলেন পৃথ্বীরাজ কাপুর, মধুবালা, দুর্গা খোটে, লতা মঙ্গেশকর, মহম্মদ রফি, শাকিল বদায়ুনী, নওশাদ সাহেব এবং পরিচালক আসিফ করিম। তবে মুঘল–এ–আজম-এর জমকালো প্রিমিয়ারে সেদিন ছবির প্রধান অভিনেতা দিলীপ কুমার ইচ্ছাকৃতভাবেই অনুপস্থিত ছিলেন। কেন? কী এমন হয়েছিল সেদিন, যে কারণে বহুপ্রতীক্ষিত প্রিমিয়ারে থাকতে পারেন প্রধান অভিনেতা? সে কাহিনি বলব পরের পর্বে।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী বাংলা সিনেমা জগতে একজন দক্ষ চিত্রগ্রাহক হিসেবে বহু কালজয়ী এবং সমাদৃত ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর সিনেমাটোগ্রাফি, ছবির নান্দনিকতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর বহু ছবিই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভূষিত হয়েছে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে। পরবর্তীকালে, তিনি চলচ্চিত্র পরিচালনায় পদার্পণ করেন। পরিচালক হিসেবে মূলত পারিবারিক গল্প এবং মিষ্টি সম্পর্কের রসায়ন পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে ভালোবাসেন।
পরিচালনার পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমাটোগ্রাফার্স অ্যাসোসিয়েশনের (EICA) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF)-এর টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সুদীর্ঘ সময়।
চলচ্চিত্রের কারিগরি বিষয়ে তাঁর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিক্ষাকেন্দ্রে একজন অতিথি অধ্যাপক (Guest Lecturer) হিসেবে আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করে চলেছেন তিনি।
