(Pipili)
পুরী থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে, ছোট্ট জনপদ পিপলি। ওড়িশার এই অঞ্চলটি সূচিশিল্পের আঁতুরঘর। আলতো পরশ রেখে যায় এই জনপদের সূচিশিল্পের মজলিস। রঙবেরঙের কাপড়ের টুকরো, রঙিন সুতো, লেস, কাচ, জরির কাজগুলির চমক যতটা নিবিড়, ততটা গর্বেরও। পিপলি গ্রামে কমবেশি সব ঘরই এই শিল্পের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল। ওখানকার কারিগরদের মোটা সুতির রঙিন কাপড়ের উপর অ্যাপ্লিক ওয়ার্ক সংগ্রহে রাখার মতোই। (Pipili)
পুরী ও আশেপাশের এলাকার মধ্যে বেশ পরিচিত এই হস্তশিল্প। এখানকার অধিকাংশ মানুষের পেশা তথা জীবিকা এটি। পুরী থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সকালের প্রাতরাশের পর, হোটেলের সামনে থেকে ভাড়া করা গাড়িতে। অথরনালা সাঁকো পেরিয়ে নীলাচার্যনগর, চারনালা; পথে ভার্গবী নদীরও দেখা মিলল। কী মিষ্টি এই নদীর কলতান। ভার্গবী নদী পেরিয়ে জগন্নাথপুর জনপদ। তারপরেই সাক্ষীগোপাল বাসস্ট্যান্ড। ঘুরে এলাম ওড়িশার পবিত্র পর্যটন গন্তব্য সাক্ষীগোপাল মন্দির। (Pipili)
এই মন্দিরের প্রতি কোণে ইতিহাসের গন্ধ। কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীতে ১১ শতকে নির্মিত এই মন্দির স্থানীয়দের মধ্যে পরিচিত ‘প্রভু সত্যবাদী গোপীনাথ মন্দির’ নামে। কথিত আছে, শ্রীকৃষ্ণের পৌত্র রাজা বজ্র মন্দিরটি নির্মাণ করেন। নারকেল কারখানার জন্যও খ্যাত এই অঞ্চল। (Pipili)

এরপর বড় কাঞ্জিয়া, চৌদাবাটিয়া ইত্যদি ছোট ছোট গ্রামীণ এলাকা পেরিয়ে পিপলি শিল্পগ্রাম। পিপলির ‘চান্দুয়া বাজারে’ সার দিয়ে বেশ কিছু দোকান। সেখানে দেওয়াল ও মেঝে জুড়ে, থরে থরে সাজিয়ে রাখা অ্যাপ্লিকের সংসার। তসর, সিল্ক ও সুতির উপর মেশিন ও হাতে সেলাই করা প্রচুর অ্যাপ্লিকের সামগ্রী। রয়েছে রঙিন ছাতা, চাঁদোয়া, লন্ঠন, ফানুস, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, হাতপাখা, ল্যাম্পশেড, পার্স, ব্যাগ, বটুয়া, কার্পেট, চাদর, কুশন কভার, ফাইল ফোল্ডার, বালিশের ঢাকা, বিছানার চাদর, পোশাক, জ্যাকেট ইত্যাদি। শীতকালে বিছানায় পাতার জন্য আরও একটি ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী ‘সুজনি’ প্রস্তুত করা হয়। (Pipili)
বিবিধ রঙিন কাপড় সেলাই করে, জুড়ে এগুলি তৈরি করা হয়। ওড়িয়া ভাষায় এই অ্যাপ্লিক শিল্পকে ‘চান্দুয়া’ বলা হয়ে থাকে। ভারত ও বিদেশের বাজারে এই সুরুচিপুর্ণ দ্রব্যগুলির যথেষ্ট কদর রয়েছে। পিপলির আর্থ-সামাজিক ভিত্তির মূল উপজীবিকা এই সূচিশিল্প। প্রতি বছর রথযাত্রায় প্রভু জগন্নাথদেবের শিয়রে বিশাল ‘ছত্তি’ বা অ্যাপ্লিকের ছাতা দেওয়া থাকে। (Pipili)
শুধু কারিগরি দেখলেই হবে না, শিল্পীদের জীবনযুদ্ধের লড়াইটাও বোঝা জরুরি।
ওড়িশার রাজপরিবারের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা ছিল শিল্পটির প্রতি। রঙিন কাপড়ে ফুল, সূর্য, পাখি, হাতি, ঘোড়া, মাছ, হাঁস, রাহু, অর্ধ চাঁদ, গাছ, গোল, ত্রিকোণ, গ্রামীণ চিত্র ইত্যাদি নানা আকৃতির অনন্য নকশা প্রস্তুত করা হয়। উৎসাহী পর্যটকরা কিছু দোকানে দেখতেও পাবেন, সূচিশিল্পীরা কী মনোযোগ সহকারে অতি যত্নে দুই বা ততোধিক রঙিন কাপড়ের পরত লাগিয়ে, বিভিন্ন নকশা প্রস্তুত করে চলেছেন। (Pipili)
শুধু কারিগরি দেখলেই হবে না, শিল্পীদের জীবনযুদ্ধের লড়াইটাও বোঝা জরুরি। আগে সবটাই হাতে সেলাই করেই করা হতো। ফলে সময় লাগতো বেশি। এখন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মেশিনেই দ্রুত কাজগুলি করা হয়। সাধারণত তিন ধরনের আপ্লিকের কাজ হয়। মেশিন অ্যাপ্লিক, হ্যান্ড অ্যাপ্লিক এবং দুইয়ের মিশ্র মাধ্যম। ইক্কত ও বোমকাই কাপড়ের উপরও এই কাজ করা হয়। ধার দিয়ে রূপোলি বা সোনালি জরি দিয়ে বস্ত্রের কিনারা সুবিন্যস্ত করা থাকে। (Pipili)

ওড়িশার মাটিতে আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক তিন ধারাই দেখতে পাওয়া যায়। শতাব্দীপ্রাচীন এই শিল্প প্রভু জগন্নাথদেব ও তাঁর অনুষ্ঠানের ক্রিয়াকলাপের জন্যই প্রচলিত ছিল। দ্বাদশ শতাব্দীতে এটি ছিল সম্পূর্ণরূপে মন্দির-শিল্প। রাজপরিবারের তরফ থেকে এই দ্রব্যসমূহ মন্দিরে পাঠানো হতো। জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার পোশাক আগে থেকেই স্থির থাকে। (Pipili)
বলরামের রথকে ‘তালধ্বজ’ বলা হয়। তাঁর পোশাকের রং উজ্জ্বল সবুজ ও লাল। সুভদ্রার রথের নাম ‘পদ্মধ্বজ’। পোশাকের রং কালো এবং লাল কাপড়ের। প্রভু জগন্নাথের রথ ‘নাদিঘোষা’, পোশাকের রং উজ্জ্বল লাল ও হলুদ। মন্দিরের নির্দিষ্ট সেবক নিযুক্ত থাকেন পিপলির দর্জিদের দিয়ে প্রয়োজনমতো পোশাকগুলি সেলাই করিয়ে আনার জন্য। জগন্নাথদেবের রথের প্রধান দুটি বিশেষত্ব, একটিই বিশাল কাঠের খন্ড দিয়ে তৈরি এবং অ্যাপ্লিক কাজের বস্ত্র সমাহারে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা। রথযাত্রার সময় যাতে বহুদূর থেকেও মনোহর সাজ প্রত্যক্ষ করতে পারে অগণিত ভক্তরা। (Pipili)
১২ শতকে প্রভু জগন্নাথের রথের শোভাযাত্রায় গজপতিদের ছাতা ও চাঁদোয়া হিসাবে এই বস্ত্র ব্যবহৃত হতো।
শোনা যায়, ১২ শতকে প্রভু জগন্নাথের রথের শোভাযাত্রায় গজপতিদের ছাতা ও চাঁদোয়া হিসাবে এই বস্ত্র ব্যবহৃত হতো। এইগুলি কয়েকটি ভাগে ও নামে ওড়িশায় পরিচিত। যেমন ‘চান্দুয়া’ ত্রিমূর্তির শিরস্থানের উপর তিনটি ছোট্ট আচ্ছাদন। যা পরিধান করানো হয়ে থাকে প্রভুর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধায়। ইদানিং বিশালাকৃতি চান্দুয়ার প্রচলন দেখা যায়, বিয়েবাড়ি বা বড় কোনও অনুষ্ঠানে। (Pipili)
‘ছত্তি’ বা আনুষ্ঠানিক ছাতাগুলি ধর্মীয় ও রাজকীয় শোভাযাত্রায় ব্যবহার হয়ে থাকে। জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গনে এই ছত্তি নিয়ে প্রবেশাধিকার নেই। একটা সময় ধর্মীয় বা রাজকীয় অনুষ্ঠানে এই ছত্তি আবশ্যক ছিল। আধুনিককালে বাণিজ্যিকভাবে গার্ডেন আমব্রেলাই দেখা যায়। আরেকটি হলো ‘ত্রাসা’ বা ব্যানার। অতীত দিনে এগুলির ঘন ঘন ব্যবহার বিশেষভাবে কোনও উদ্দেশ্যে বহু লোকের একত্র যাত্রায় প্রচলন ছিল। এখন ততটা দেখা যায় না। (Pipili)

আরও একটি ভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকের কাজ হল ‘অলাতা’ বা বাংলায় যাকে বলে ‘হাতপাখা’। ভগবানের যেন গরম না লাগে, তার জন্য মোহন্তরা একরঙা মসৃণ কাপড়ে নির্মিত ‘অলাতা’ দিয়ে বিগ্রহ সেবা করতেন। বর্তমানে বহুরঙা, সজ্জিত অলাতাও তৈরি হচ্ছে। ‘অধেনি’ হলো চাঁদোয়া প্রভৃতির কারুকার্যময় কুঞ্চিত প্রান্তদেশ। এটিও ধর্মীয় সৌজন্যমূলক রাজকীয় শোভাযাত্রায় দেখা যায়। শেষেরটি হলো ‘দোলা মান্দানি’ বা ‘ঝালর’। এখন অবশ্য ঝালর হিসেবে গৃহস্থবাড়িতে সদর দরজার ওপরও ঝোলানো থাকে, পুজো পার্বণ বা পারিবারিক উৎসবে। (Pipili)
১৩ শতকে পুরীর রাজারা এই হস্তশিল্পীদের জন্য ওড়িশার পিপলি গ্রামে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন। তারপর থেকে এই শিল্প ঘরানার কারিগররা সূচিকর্ম ধারাটি বজায় রেখেছেন। অ্যাপ্লিকের মোটিফগুলি প্রথমে কাপড়ের উপর ট্রেসিং পেপারে এঁকে, কার্বন পেপারে ছেপে নেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে মূলত ছোট কাঁচি, ট্রেসিং পেপার, কার্বন পেপার, পেনসিল, সূচ, রঙিন সুতো ইত্যাদি লাগে। তারপর ধার থেকে কেটে প্রধান কাপড়টির উপর ক্রমান্বয়ে সেলাই করা হয়। কখনও তাতে কাচ বসানো হয়। (Pipili)
পিপলি গ্রামটির একমাত্র পরিচয় এই অ্যাপ্লিক কাজের নিদর্শনের জন্যই। শিল্পশ্রমিক, তাঁদের পরিবার, বাড়িঘর এবং মূল সড়কে চাঁন্দুয়া ক্রাফট মার্কেট বিক্রয়কেন্দ্র নিয়েই তাঁদের জীবিকা।
মূলত এই কাজে ছয় রকমের সেলাই পদ্ধতি এঁরা অনুসরণ করে থাকেন। ওড়িয়া ভাষায় ‘বাখিয়া’, ‘তারোপা’, ‘গন্থী’, ‘চিকানা’ ছাড়াও বোতাম ছিদ্র ও কুঁচি করা। যদিও ইংরেজি শব্দ ‘Handicraft’ এর অর্থ ‘Skill of the Hand’, তবে আগেই বলেছি ইদানিং পিপলির এই অসামান্য শিল্পকর্মগুলি হাত ছাড়াও যন্ত্রের সাহায্যে করা হচ্ছে। ফ্রেঞ্চ শব্দ ‘Aplika’ অর্থই হলো, ‘To put on’। আধুনিক ব্যবহৃত প্রযুক্তি প্রশংসাযোগ্য হলেও, এই সূচিশিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখে তার পূর্বসূরীদের হাতে সেলাই সম্ভারগুলিই। (Pipili)
পিপলি গ্রামটির একমাত্র পরিচয় এই অ্যাপ্লিক কাজের নিদর্শনের জন্যই। শিল্পশ্রমিক, তাঁদের পরিবার, বাড়িঘর এবং মূল সড়কে চাঁন্দুয়া ক্রাফট মার্কেট বিক্রয়কেন্দ্র নিয়েই তাঁদের জীবিকা। এছাড়াও রয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান, কিছু রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য দোকানপাট। সূচিশিল্প কারিগররা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যে নিজস্ব ঐতিহ্য ও সাবেকি বনেদিয়ানা এবং আন্তরিকতা বজায় রাখেন। (Pipili)

এই শিল্পটি ওড়িশার লোকশিল্পকলার ধারক ও বাহক। সেখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে রঙিন কাপড় জুড়ে জুড়ে তৈরি করা হতে থাকে বিভিন্ন সাজসজ্জার রকমারি সামগ্রী। অ্যাপ্লিকের কাজে ব্যবহৃত কাপড় জোরালো রোদ, বৃষ্টি ও প্রবল হাওয়ার দাপটকে মোকাবিলা করতে পারে। এটাও বিশেষভাবে লক্ষণীয়, পিপলির সূচিশিল্পীরা কিন্তু ফেলে দেওয়া পুরোনো কাটছাঁট কাপড় ব্যবহার করেন না। তাঁদের উৎপাদিত সম্ভারের অভিজাত দৃষ্টান্ত বজায় রাখার জন্য নতুন বস্ত্র ব্যবহার করেন। এতে সূচিশিল্পের সৃজনশীলতাকে উন্নীত করে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নও জোরদার হয় কিছুটা। (Pipili)
রোজকার পুরীর কোলাহল থেকে দূরে অনেকখানি পথ, অনেকগুলি বিক্রয়কেন্দ্রকে সাক্ষ্য রেখে এঁদের হস্তশিল্পের কাজগুলি দেখে, উদারভাবে বলতে ইচ্ছে করে ‘অসাধারণ’। টুকিটাকি কিছু লোকপ্রসিদ্ধ পিপলির স্মারক কিনে পুরী ফিরলাম সেবারের মতো। ভেবেছিলাম পায়ে পায়ে একটু ঘুরে নেব গ্রামের ভেতরে চারপাশটা, কিন্তু বেশ বেলা হয়ে যাচ্ছিল। পুরীতে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ সেরে আবার বিকেলে অন্য পথে। (Pipili)
কীভাবে যাবেন – পুরী থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভাড়া গাড়ি বা টোটো ভাড়া করে পুরী–ভুবনেশ্বর হাইওয়ে ধরে পিপলি শিল্পগ্রাম চলে আসা যায়। সময় লাগে কমবেশি পৌনে এক ঘন্টা। রাজধানী শহর ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পিপলির দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। পুরী থেকে কমবেশি ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা ভাড়া পড়বে যাতায়াতের। এর সঙ্গে ওড়িশার পটচিত্র গ্রাম রঘুরাজপুর জুড়লে ভাড়া কিছুটা বেড়ে যাবে। (Pipili)
কখন যাবেন – বছরে যেকোনও সময়ই যাওয়া যেতে পারে। দোকানগুলি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে। (Pipili)

কোথায় থাকবেন – বেশিরভাগ পর্যটকই পুরী বা ভুবনেশ্বর ভ্রমণে গিয়ে পিপলি বেড়িয়ে আসেন। পিপলিতে থাকার প্রয়োজন নেই। কিছু খাবারের রেস্তোরাঁ রয়েছে।
কেনাকাটা – অ্যাপ্লিকের কাজ করা সামগ্রী নিজের জন্য বা প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য কেনা যেতে পারে। দরদাম চলে। পিপলির মূল রাস্তার উপর চাঁন্দুয়া মার্কেটের কিছু দোকানের নাম- নিউ অ্যাপ্লিক ইন্টারন্যাশানল, মা লেডিস কর্নার অ্যান্ড গিফট, ডায়মন্ড আপ্লিক, শুভলক্ষী আপ্লিক ওয়ার্কস, দেবী আপ্লিক ওয়ার্কস, পিপলি অ্যাপ্লিক সোসাইটি, তাজ অ্যাপ্লিক ওয়ার্কশপ, রোজ অ্যাপ্লিক ওয়ার্কশপ, তারা অ্যাপ্লিক ওয়ার্কশপ, পিপলি ক্রাফট মার্কেট ইত্যাদি। (Pipili)
ছবি – লেখক, Wikimedia Commons,পুরী পুলিশ, Wikimedia Commons, Odisha Tourism, Odisha Tourism
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী, মধুছন্দার পাঠকসমাজে পরিচিতি মূলত ভ্রমণকথা, গদ্যলিখন ও কবিতার আনুকূল্যে। বাংলা ও বর্হিবঙ্গের প্রায় সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন, লিটল ম্যাগাজিনের নিয়মিত লেখক মধুছন্দার জায়মান অনুভবে ভ্রমণ আখ্যানের অনায়াস যাতায়াত। নিজস্ব ভ্রামণিক অভিজ্ঞতার নিরিখে উপলব্ধিগত জীবন ও অনুভবকে অক্ষরযাপনের ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে দেন আত্মমগ্ন উচ্চারণে।
