Tags Posts tagged with "home remedies"

home remedies

বাচ্চাদের বাকি সমস্যাগুলোর মধ্যে কৃমির সমস্যা অন্যতম জটিল সমস্যা। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল নালীর মধ্যে বসবাসকারী পরজীবীই হল কৃমি। এরা প্রাথমিকভাবে অন্ত্রের প্রাচীরে থাকে। খাদ্য এবং অপরিশ্রুত জলের মাধ্যমে কৃমি শরীরে প্রবেশ করে। কৃমি দূর করার জন্য সাধারণত আমরা বাচ্চাদের ওষুধ দিয়ে থাকি। তবে ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। একটু সচেতন হলে ঘরোয়া উপায়েই কৃমি দূর করা সম্ভব। তাহলে জেনে নিন প্রাকৃতিকভাবে কৃমি দূর করার কিছু উপায়।

# বাচ্চাদের কৃমির সমস্যা থাকলে প্রতিদিন দুটি করে লবঙ্গ খেতে দিন। এর অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান পেটের কৃমি নাশ করে সহজেই।

# কৃমি দূর করতে সাহায্য করে রসুন। প্রতিদিন সকালে দুই থেকে তিন কোয়া রসুন অথবা  হাফ কাপ জলে দু’টি রসুনের কোয়া দিয়ে সেদ্ধ করে এক সপ্তাহ নিয়মিত আপনার সন্তানকে খেতে দিন, কৃমি সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

# দুই টেবিল চামচ মিষ্টি কুমড়োর বীজের গুঁড়ো তিন কাপ জলে আধ ঘণ্টা সিদ্ধ করুন। এরপর প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই কুমড়োর বীজের পাঁচন এক সপ্তাহ খেলে দূর হয়ে যাবে কৃমি সমস্যা।

# আনারসের ব্রোমেলিন এনজাইম কৃমিকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। নিয়মিত কয়েক দিন আনারস খাওয়ান সন্তানকে। কৃমির সমস্যার কমে যাবে।

# বাচ্চার সর্দি না থাকলে এক চা চামচ কাঁচা হলুদের রসের সঙ্গে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই রস খেতে দিন। পাঁচ দিনের মধ্যে উপকার পাবেন।

# দুই আউন্স অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের মধ্যে আট আউন্স কাঁচা পেঁপের রস মিশিয়ে রাখুন। এটা টানা চার দিন খেলে কৃমি সমস্যা কমে যাবে।

# কৃমি সমস্যা দূর করতে নারকেল বেশ কার্যকরী। প্রতিদিন সকালে বাচ্চাকে এক টেবিল চামচ নারিকেল কুঁচি খেতে দিন। তিন ঘণ্টা পর এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে খেতে দিন। এই পদ্ধতিতে খুব দ্রুত কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে আপনার সন্তান।

এই আবহাওয়া বদলের সময়েই অল্প ঠাণ্ডা লেগে অনেকেই কানে ব্যথা বা ইনফেকশনে ভোগেন। ঠাণ্ডা লাগা ছাড়াও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ, অ্যালার্জি, ছত্রাক, কানের ভেতরে ফোড়া নানা কারণেই কানে তীব্র ব্যথা হয় অনেকেরই। এই সময় ভুল করেও কানে আঙুল বা কটন বাড ঢুকিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না। তাই কানের অসহ্য এই ব্যথা দূর করতে জেনে রাখুন কিছু ঘরোয়া সমাধান।

গরম ভাপ

গরম জলের ভাপ এই ব্যথা কমানোর জন্য দারুণ উপকারে আসতে পারে। একটি সুতির পাতলা কাপড় গরম জলে ভিজিয়ে জল নিংরে নিয়ে, কানের কাছে চেপে ধরুন। গরম ভাপ কানের ভেতরে গেলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং কানের ব্যথা উপশম হবে। চাইলে এক্ষেত্রে হেয়ার ড্রায়ারও ব্যবহার করতে পারেন।

অলিভ অয়েল

কানে ব্যথা সারাতে অলিভ অয়েল-এর ব্যবহার করতে পারেন। ব্যথার সময় তিন থেকে চার ফোঁটা অলিভ অয়েল কানে ঢেলে দিন। অথবা অলিভ অয়েলে কটন বাডস-এ ভিজিয়ে কানের ফুটোয় চেপে রাখুন। ধীরে ধীরে ব্যাথা কমে আসবে।

রসুন

রসুন অ্যান্টিবায়টিক হিসেবে ব্যথা ও ইনফেকশন সারিয়ে তুলতে খুব উপকারী। এক টুকরো রসুনের কোয়া কুচি কুচি করে কেটে তিলের তেলে দিয়ে গরম করে নিন। এরপর ঠাণ্ডা করে তেল থেকে রসুনকুঁচি গুলো ফেলে দিন। তারপর কানে দুই থেকে তিন ফোঁটা তেল দিয়ে দিন অথবা বাডস-এর সাহায্যেও দিত পারেন।

লবণ

একটি প্যানে লবণ বাদামী বর্ণ না হওয়া অবধি গরম করে নিন। এরপর শুকনো সুতির কাপড়ে নিয়ে ব্যাথা হওয়া কানে ভাপ দিন। এতে কানের ব্যথা তাৎক্ষণিকভাবে উপশম পাবেন। তবে নজর রাখতে হবে লবন যেন কোনওভাবে কানের ভেতর প্রবেশ না করে।

পেঁয়াজ

পেঁয়াজের রয়েছে কার্যকরী অ্যান্টিসেপ্টিক। পেঁয়াজ কুঁচি করে নিয়ে তা থেকে রস বের করে, দিনে অন্তত দুই থেকে তিন বার তিন-চার ফোঁটা করে ব্যাথা হওয়া কানের ভেতর দিতে হবে। এতে কানের ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

এতেও যদি কোনওভাবে কানের অসহ্য ব্যাথা থেকে যায়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আন্ডার আর্মের কালো দাগ অনেকের কাছেই খুব সমস্যার বিষয় | কারণ বগলের তলায় কালো দাগ থাকলে পছন্দের হাতকাটা ব্লাউজ বা কুর্তিটিকে আলমারিতেই তুলে রাখতে হয় | একদিনেই যদিও বা এই কালো দাগ দূর করা সম্ভব নয় তাও দাগ দূর করার কিছু সহজ উপায়ের কথা আসুন জেনে নেওয়া যাক |

১| বগলের অবাঞ্ছিত লোমের কারণে বগলের তলার ত্বক কালো হয়ে যায় | তাই অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে নিয়মিত ওয়্যাক্সিং করান | এতে কালো দাগ পড়া রোধ করতে পারবেন |

২| হেয়ার রিমোভাল ক্রিমকে না বলতে হবে | হেয়ার রিমোভাল ক্রিমে এমন কিছু ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা বগলের ত্বক কালো করে দেয় | এছাড়াও রেজার ব্যবহার করে শেভ করলেও পরবর্তী বারে যখন অবাঞ্ছিত লোম গজায় তখন শক্ত লোম ত্বক কালো করে দেয় | তাই রেজার দিয়ে শেভ না করাই ভাল |

৩| আলুর ব্লিচ করতে পারার ক্ষমতার কথা অনেকেরই জানা | তাই কালো দাগ তুলতে আলু কিন্তু খুবই উপকার দেবে | গোল গোল করে আলু কেটে অথবা থেঁতো করে নিয়ে বগলে লাগিয়ে নিতে পারেন | ২০ মিনিট রাখার পরে জল দিয়ে ধুয়ে ভাল করে মুছে নিন | সপ্তাহে অন্তত ৩ বার এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে দেখুন |

৪| আন্ডার আর্মের অংশের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায়  বেশি কোমল হয় | তাই কালো দাগ তুলতে সাধারণ রাসায়নিকযুক্ত ব্লিচ ব্যবহার না করে অর্গানিক ব্লিচ ব্যবহার করুন | অর্গ্যানিক ব্লিচ আপনার ত্বকে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটাবে না |

৫| সাধারণত বগলের তলার অংশের ত্বক রুক্ষ হওয়ায় সেখানে কালো দাগ পড়ে সহজেই | তাই হাল্কা কোনও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর করা সম্ভব হবে | দাগও পড়া রোধ হবে |

৬| অনেকেই মনে করেন বগলে ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম লাগানো উচিৎ | কিন্তু তা একেবারেই নয় | লক্ষ করবেন বগলের তলার অংশে ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম বা বডিস্প্রে ব্যবহার করলে জ্বালা জ্বালা বোধ হয় | এর থেকেই বোঝা যায় এগুলির রাসায়নিক উপাদানগুলি বগলের তলার ত্বকের মত সংবেদনশীল অংশে ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত নয় |

৭| বগলের তলার ত্বককে কালো দাগের হাত থেকে বাঁচাতে নিয়মিত স্ক্রাব করা দরকার | কোনও মাইল্ড এক্সফলিয়েটর দিয়ে নিয়মিত স্ক্রাবিং করুন |

৮| কাচের বাটিতে পাতিলেবুর রস,  কাঁচা হলুদ বাটা ও ময়দা ভালো করে মেশান। দু’হাতের বগলের নিচে ভাল করে মিশ্রণটি লাগান। হালকা করে ৫ মিনিট মাসাজ করুন। ৩০ মিনিট মিশ্রণটি লাগিয়ে রেখে একটি বাটিতে হালকা গরম জল নিয়ে তুলো দিয়ে ভিজিয়ে মিশ্রণটি পরিষ্কার করে তুলে নিন। ভাল ভাবে তোলা হয়ে গেলে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

৯| ৪ চামচ চন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে ২ চামচ গোলাপজল মেশান। মিশ্রণটি লাগান। ৫ মিনিট মাসাজ করে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে  হালকা গরম জল নিয়ে তুলো ভিজিয়ে মিশ্রণটি তুলে নিন। ঠাণ্ডা জল দিয়ে বগলের তলার অংশ ধুয়ে নিন।

১০| ৩ থেকে ৪ চা চামচ চিনির সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। চিনি পাতিলেবুর রসের সঙ্গে মেশার পরও যেন একটু দানা দানা থাকে। একটু মোটা দানার চিনি ব্যবহার করুন। বগলের তলার অংশে লাগিয়ে ১৫ মিনিট হালকা মাসাজ করুন। আরও ১৫ মিনিট মিশ্রণটি লাগিয়ে রেখে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

স্পন্ডিলাইটিস আজকের দিনের একটি খুবই সাধারণ রোগে পরিণত হয়েছে | শুধুমাত্র বয়স্ক মানুষেরাই নয়‚ কমবয়সী মানুষেরাও এখন স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যায় নাজেহাল হচ্ছেন |স্পন্ডিলাইটিসের লক্ষণ মুলত ঘাড়ে ব্যথা | এছাড়াও কাঁধে‚ পিঠে ব্যথা হতে পারে | বাড়তে পারে ওজন | সারাদিন ধরে একই জায়গায় একভাবে বসে কাজ করতে থাকলে এই ব্যথা হওয়া খুবই স্বাভাবিক | অনেকসময় জিনগত কারণেও স্পন্ডিলাইটিস দেখা দেয় | একবার কারণেও হলে তার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী হয় | তাই স্পন্ডিলাইটিসের আশঙ্কা কমাতে কার্যকর কিছু সহজ সমাধান ব্যবহার করে দেখতে পারেন |

১| স্পন্ডিলাইটিসের নিরাময়ের সবথেকে ভাল উপায় নিয়মিত যোগব্যায়াম করা | যোগাভ্যাস করলে শিরদাঁড়া অনেক বেশি নমনীয় হতে পারে | স্পন্ডিলাইটিস নিরাময়ে সলভাসন, বক্রাসন, অর্ধ-চক্রাসন, ধনুরাসন ও সবাসনের মত যোগব্যায়াম খুবই সাহায্য করবে |

২| কাজ করা‚ শোয়া‚ অনেকক্ষণ বসে থাকার সময় শিরদাঁড়া সঠিক ভাবে সোজা করে রাখা দরকার | একইভাবে অনেকক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকলেও ব্যাথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে | তাই কাজের মাঝে মাঝে একটু বসার অবস্থান পাল্টে নিতে হবে |

৩| স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথার তাৎক্ষণিক নিরাময়ের জন্য ঘাড়ে গরম ও ঠান্ডা জল পাল্টেপাল্টে সেঁক দেওয়া যেতে পারে | খুব বেশি স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথা হলে আইসব্যাগ আর হটব্যাগ পালাবদল করে সেঁক দিন | গরমজলে স্নান করলেও পেশিগুলি নমনীয় হবে |

৪| কয়েক কোয়া কাঁচা রসুন ভেজিটেবল অয়েল বা সর্ষের তেলে ভাল করে ভেজে ঠান্ডা করে নিয়ে নিয়ে সেই তেল দিয়ে ব্যথার জায়গাটি ভাল করে মালিশ করলেও উপকার পাবেন | মালিশ করলে পেশির স্টিফনেস কমে |

৫| স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথা কমাতে নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন | মাথা চারদিকে গোল গোল করে আস্তে আস্তে ঘোরাতে থাকুন | প্রথমে ডানদিক থেকে বাঁদিকে দশবার ঘুরিয়ে নিন | তারপর বাঁদিক থেকে ডানদিকে ঘুরিয়ে নিন | এইভাবে ব্যায়াম করলে স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথায় অনেকটাই উপশম হবে |

৬| অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে একটি রুমাল ভিজিয়ে নিয়ে সেটি স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথার জায়গায় খানিকক্ষন চেপে ধরে রাখলেও ব্যথায় আরাম পাবেন | এছাড়াও ঈষদুষ্ণ জলে অযপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে নিয়ে স্নান করলেও  ব্যথা কমবে |

৭| ২ কাপ জলে আদা কুচি দিয়ে সিদ্ধ করে নিন | সিদ্ধ জলে মধু মিশিয়ে ব্যথা হলে এই জলটি খান | আদায় থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্ত চলাচল স্বভাবিক করে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে | অথবা একটি শুতির কাপড়ে আদা কুচি পেঁচিয়ে সেটিকে সুদ্ধ গরম জলে ভিজিয়ে নিন | এই পুঁটলিটি ব্যথার জায়গায় লাগিয়ে রাখুন‚ আরাম পাবেন |

৮| ১ গ্লাস গরম দুধে ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে ঠান্ডা করে নিয়ে তাতে একটু মধু মিশিয়ে পান করুন | স্পন্ডিলাইটিসেরর ব্যাথার সাময়িক নিরাময় হবে |

৯| ১ চামচ কালো তিল সারারাত জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে উঠে খালি পেটে তিলসহ তিলভেজা জলটি পান করলেও স্পন্ডিলাইটিসের ব্যথা কমে |

১০| মেন্থল ও কর্পূর মিশিয়ে নিয়ে সেই মিশ্রণটি ঘাড়ে মালিশ করুন | এই দুইয়ের মিশ্রণটি একইসঙ্গে আপনাকে ঠান্ডা ও গরমের অনুভূতি দেবে ও রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দিয়ে ব্যথা কমাতে সহায়তা করবে |

ঘাম হওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রবণতা। ব্যায়াম করা, উষ্ণ আবহাওয়া, ভয় বা রাগের কারণে ঘামার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা,হরমোন ক্ষরণ ইত্যাদি নানান কারণে শরীর অতিরিক্ত ঘামতে পারে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, জ্বর, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, মেনোপজ ইত্যাদি কারণেও বেশি ঘাম হতে পারে।  অতিরিক্ত ঘাম হলে তার দুর্গন্ধও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা, যেমন-হাতের তালু, পায়ের নিচে, বগল, গলা, কপাল, এমনকি মাথার স্ক্যাল্পেও অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার ফলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। ঘাম নিয়ন্ত্রণের সহজ কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১| শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সবথেকে উপকারি হল যথেষ্ট পরিমানে জল খাওয়া। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ জল খাওয়া দরকার। জলের পরিমাণ বেশি আছে এরকম সমস্ত শাক সবজি বা ফলমূল খাওয়া দরকার। পাতিলেবুর রস দিয়ে বানানো সরবত‚ নানারকম ফলের রস‚ ডাবের জল খেতে পারেন মাঝে মাঝে।

২| আপনি কীরকম খাওয়াদাওয়া করছেন তার উপরেও ঘাম হওয়া নির্ভর করে। যেসব খাবারে ফাইবারের পরিমাণ কম সেগুলোকে হজম করাতে পাচনতন্ত্রকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরের অতিরিক্ত নুন বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার খেলেও ফ্যাটের পাচন ঘটাতে গিয়ে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই এইধরণের খাবার খাওয়া এড়িয়ে  চলতে হবে।

৩| ধূমপান, অ্যালকোহল ও ক্যাফিন গ্রহণ করলে স্বাভাবিকের চেয়ে শরীর বেশি ঘামে। তাই যতটা সম্ভব এগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে।

৪| টমেটোতে আছে অ্যাস্ট্রিনজেন্ট যা ঘর্মগ্রন্থিকে সংকুচিত করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান অতিরিক্ত ঘামানোর প্রবণতা কমায়। ১ সপ্তাহে প্রতিদিন টানা ১ কাপ করে টমেটোর রস খান। পরের সপ্তাহ থেকে ১ দিন পরপর ১ কাপ করে টমেটোর রস খেলে ভাল ফল পাবেন। বেশি ঘাম হয় এমন স্থানগুলোতে টমেটোর রস লাগিয়ে ১০ বা ১৫ মিনিট পর ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে স্নান করে নিলেই ঘাম কম হবে। ঘাম নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এভাবে স্নান করলে উপকার পাওয়া যাবে।

৫| ঘাম নিয়ন্ত্রণ করতে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার কার্যকরী। ঘাম নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার নিয়মিত খেলে ত্বকের পিএইচ স্তর ঠিক রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ঘাম হওয়া স্থানগুলো ভাল ভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার একটু তুলোয় লাগিয়ে নিয়ে স্থানগুলোতে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন। অ্যাপল সাইডার ভিনিগার খাওয়ার অভ্যাস করলেও অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ১ গ্লাস জলে ২ চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ও ২ চামচ মধু মিশিয়ে নিয়ে প্রতিদিন সকালবেলা খালি পেটে খেলে উপকার পাবেন।

৬| সাদা চন্দন গুঁড়ো ত্বক শুষ্ক রেখে ঘাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা বিভিন্ন উৎসেচক ত্বকের অতিরিক্ত ঘাম শোষণ করে নেয়। এছাড়া চন্দনের সুগন্ধ ঘাম থেকে তৈরি দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। পরিমাণমত গোলাপ জলের সঙ্গে ১ চামচ সাদা চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এর সঙ্গে অল্প পরিমাণ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিন। তারপর শরীরের যে অংশে বেশি ঘাম হয়, সেই অংশ ভাল ভাবে পরিষ্কার করে এই মিশ্রণ লাগিয়ে শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত রাখুন। এরপর জল দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। অতিরিক্ত ঘাম না কমা পর্যন্ত এই মিশ্রণ নিয়মিত লাগাতে হবে।

৭| লেবু প্রাকৃতিক ডিওডরেন্ট হিসেবে কাজ করে যা ঘাম থেকে হওয়া দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে। ১ গ্লাস জলে পরিমাণমতো পাতিলেবুর রস মিশিয়ে তাতে তোয়ালে ভিজিয়ে সারা শরীর ভালোভাবে স্পঞ্জ করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ঠান্ডা জল দিয়ে স্নান করে ফেলতে হবে। এভাবে প্রতিদিনই স্নানের আগে গায়ে পাতিলেবুর রস মিশ্রিত জলে গা স্পঞ্জ করে নিতে হবে। এছাড়াও লেবুর রস ও বেকিং সোডা মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিয়ে  মিশ্রণটি তুলোয় লাগিয়ে নিয়ে বেশি ঘামে এমন জায়গাগুলোতে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। রোদে বেরোনোর আগে এই মিশ্রণ ব্যবহার করবেন না।

৮|  অতিরিক্ত ঘাম কমাতে লাল চা বা লিকার চা বেশ কার্যকারী। লিকার চায়ে থাকা ট্যানিক অ্যাসিড ঘাম প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়া লিকার চা ঘর্মগ্রন্থি সংকোচন করে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করতেও লিকার চা উপকারী। ৩ থেকে ৪ কাপ গরম জলে ১ বা ২ টি টি-ব্যাগ ভিজিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর ওই লিকার চায়ে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে বগল ও গলায় লাগাতে হবে। হাত ও পায়ের ঘাম নিয়ন্ত্রণ করতে একই পদ্ধতিতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাত ও পা লিকার চায়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে, সেক্ষেত্রে জলের পরিমাণ বাড়িয়ে নিতে হবে।  প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কাপ লিকার চা পান করলে ভালো ফল পাবেন।

৯|  স্নানের সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। নাইলন ও পলিয়েস্টার কাপড়ের পোশাক ঘাম শোষণ না করে ঘাম আটকে রাখে। তাই সহজেই ঘাম শুষে নেয় এমন সুতি ও সিল্কের তৈরি পোশাক পরুন।

১০|  নারকেল তেলে আছে লরিক অ্যাসিড যা দুর্গন্ধ রোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া নারকেল তেলের হালকা সুগন্ধ শরীরকে সারাদিন তরতাজা রাখবে। খানিকটা নারকেল তেল এবং শিয়া বাটার একসঙ্গে নিয়ে মাইক্রোওয়েভে এক মিনিট গরম করে নিন। এরপর এই মিশ্রণের সঙ্গে ৩ চামচ বেকিং সোডা ও ২ চামচ অ্যারারুট পাউডার দিয়ে সঙ্গে কয়েক ফোঁটা সুগন্ধী তেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ ডিওডরেন্ট হিসেবে ব্যবহার করুন।

আজকের ব্যস্ত জীবনে চোখের যত্ন নিলেও চোখের আশের-পাশের চামড়ার যত্ন খুব কম মানুষই নিয়ে থাকেন। কিন্তু জেনে রাখতে হবে যে, মানসিক চাপ হোক বা শারিরীক অসুস্থতা- এর প্রভাব সবথেকে বেশি পড়ে চোখে। আর সেই কারনেই চোখের চারপাশে কালচে ছোপ পড়তে দেখা যায়। তবে কয়েকটি ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলেই চোখের নীচের এই ডার্ক সার্কলের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

* চোখের ডার্ক সার্কল দূর করতে শসা খুবই উপকারী। শসা গোল করে কেটে নিয়ে চোখের ওপর রেখে দিলে উপকার পাওয়া যাবে।

* আমন্ড অয়েলে রয়েছে ভিটামিন ই, যা ডার্ক সার্কল হালকা করতে সাহায্য করে। আমন্ড অয়েলে ডার্ক সার্কলের ওপর হালকা হাতে মাসাজ করলে ফল পাওয়া যাবে।

* নারকেল তেল হালকা করে ডার্ক সার্কলের ওপর লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিতে হবে। এইভাবে ততদিন করতে হবে যতদিন না ডার্ক সার্কল হালকা হচ্ছে।

* সমপরিমাণ টমেটোর নির্যাসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে চোখের নীচে লাগালেও ডার্ক সার্কল দূর হবে।

* গ্রীন টিও ডার্ক সার্কল দূর করতে সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে গ্রীন টি-ব্যাগ জলে ভিজিয়ে নিয়ে রেফ্রিজারেটরে রেখে দিতে হবে। তারপর সেই ঠান্ডা টি-ব্যাগ চোখের ওপর ১৫মিনিট রেখে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

* ডার্ক সার্কল দূর করতে মধু খুবই উপকারী। চোখের চারপাশের ত্বকে মধু লাগিয়ে পনের থেকে কুড়ি মিনিট রেখে দিলে দারুণ উপকার পাওয়া যাবে।

* গোলাপ জল একটা তুলোর বলে নিয়ে চোখের চারপাশে লাগালেও ডার্ক সার্কল-এর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

আর সবার শেষে যে কথা বলতেই হয়, তা হল, শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলে চোখের নীচে ডার্ক সার্কল দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, ঘুম ঠিকমতো না হলে বা ক্লান্তি থেকেও ডার্ক সার্কল দেখা দিতে পারে। ঘুম পর্যাপ্ত পরিমাণে না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সময়মতো খাবার না খাওয়া এবং বেশি পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার জন্য অনেকেই গ্যাসট্রিকের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষ করে প্রতিদিন সঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া এবং বাইরের অতিরিক্ত তেল-মশলা দেওয়া খাবার খেলেই এই ধরণের সমস্যা হয়ে থাকে। কিন্তু শুরু থেকেই যদি এর চিকিৎসা না করানো হয়, তাহলে পরবর্তীকালে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কিন্তু আপনার হাতের কাছেই রয়েছে এমন কয়েকটি সমাধান যা গ্যাসট্রিকের সমস্যাকে চিরতরে দূর করতে পারে।

* আদা- অ্যাসিডিটি, বুকে জ্বালার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে আদা। খাবার খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে এক টুকরো আদা চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

* পুদিনা- গ্যাসট্রিকের সমস্যা দূর করতে পুদিনার জুড়ি মেলা ভার। গ্যাস্ট্রিকের জন্য যদি পেট ব্যথা করে তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে পুদিনাকে বাদ দেবেন না। পুদিনার সরবত, পুদিনার চাটনি বা পুদিনা  চা খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

* লেবু- গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় লেবু খুব ভাল কাজ দেয়। সেক্ষেত্রে একটি মাঝারি আকৃতির লেবুর রসে আধ টেবিল চামচ বেকিং সোডা এবং এক কাপ জল মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ নিয়মিত পান করলে গ্যাসট্রিকের সমস্যায় আরাম পাওয়া যায়।

* জোয়ান-  গ্যাসট্রিকের জন্য পেটে ব্যথায় অব্যর্থ কাজ দেয় জোয়ান। এক গ্লাস ঈষৎ-উষ্ণ জলে এক চা-চামচ জোয়ান মিশিয়ে সেই জল পান করলে পেট ব্যথা কমে যায়।

* আলুর রস- আলু ব্লেন্ডারে পেস্ট করে নিয়ে তা থেকে রস বের করে তা দু’বেলা খাওয়ার আগে খেলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

* ডাবের জল- ডাবের জল হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। পেটের যে-কোনও সমস্যা দূর করতে ডাবের জলের বিকল্প নেই। প্রতিদিন ডাবের জল খাওয়া অভ্যেস করলে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

শরীরের ওজন কমে যাওয়া, গর্ভধারণ, বা মোটা হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চামড়া ফেটে যায় বা কুঁচকে যায়। একেই বলে স্ট্রেচ মার্কস।  এর জন্য বেশি সমস্যায় পড়তে হয় মহিলাদের। এই ধরনের সমস্যা একবার দেখা দিলে তা সহজে কমতে চায় না। আবার এই দাগ দেখতেও খুবই দৃষ্টিকটূ। বাজারে প্রচুর ক্রিম বা জেল রয়েছে, যেগুলি স্ট্রেচ মার্কস দূর করতে সাহায্য করে। তবে রাসায়নিক যুক্ত ওই সব ক্রিম বা জেল থেকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। এর জন্য এমন কয়েকটি ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যার ফলে এই দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

পাতিলেবুর রস- যে কোনও দাগের ওপর লেবুর রস লাগিয়ে মালিশ করুন। মিনিট দশেক পর উষ্ণ জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিতে কয়েক সপ্তাহ স্ট্রেচ মার্কের ওপর লেবুর রস লাগিয়ে মালিশ করলে উপকার পাবেন।

কাঁচাহলুদ – তেল বা জলের সঙ্গে কাঁচাহলুদের রস মিশিয়ে, সেই মিশ্রণ লাগান স্ট্রেচ মার্কসের ওপর। দিনে অন্তত দু’বার করে এটি ব্যবহার করতে হবে। ধীরে ধীরে হাল্কা হয়ে যাবে দাগ।

ক্যাস্টর অয়েল – স্ট্রেচ মার্কসের ওপর ক্যাস্টর অয়েল লাগিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ধরে ম্যাসাজ করুন। এরপরে তাতে গরম জলের সেঁক দিন। টানা এক মাস এই নিয়ম মানলে দেখবেন দাগ অনেক হাল্কা হয়ে গিয়েছে।

আলুর রস- প্রতিদিন স্নানের আগে আলুর রস স্ট্রেচ মার্কসের ওপর হালকা করে ঘষুন। এরপর পাঁচ থেকে দশ মিনিট রেখে দিন। এরপর হাল্কা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ডিমের সাদা অংশ – ডিমের সাদা অংশ ভাল করে ফেটিয়ে স্ট্রেচ মার্কসের ওপর লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এপরপর অলিভ অয়েল দিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এই নিয়ম মেনে চললে কয়েকদিনের মধ্যেই দাগ হালকা হয়ে যাবে।

Tags:

শরীরে অবাঞ্ছিত লোম কার ভাললাগে? আর এই লোম দূর করাও এক ঝক্কির কাজ। পার্লারে গিয়ে অযথা টাকা খরচ না করে এবার হাতের কাছে থাকা কিছু ঘরোয়া সামগ্রী দিয়েই করে নিতে পারেন ওয়াক্সিং।

* সসপ্যানে কিছুটা জল দিন। এবার জলে আধ কাপ চিনি ও একটি লেবুর রস দিয়ে নাড়তে থাকুন। নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না চিনি ক্যারামেলাইজড হয়ে ওঠে। এরপর ফুটে উঠলে নামিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটিকে খানিকটা ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। ঈষৎ-উষ্ণ অবস্থায় একটি কাঠের চামচের পিছন দিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিতে হবে। এবার একটি পাতলা সুতি বা লিনেন কাপড় তার উপরে বসিয়ে লোমকূপের উল্টো দিক থেকে টান দিন। এইভাবে ঘরে বসেই অবাঞ্ছিত লোম দূর করা সম্ভব।

* অর্ধেক চা-চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার, ডিমের সাদা অংশ এবং ১ টেবিল চামচ চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণও অবাঞ্ছিত লোম তোলার কাজে বিশেষ উপযোগী। মূলত মুখের অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে এই মিশ্রণটি বিশেষভাবে সাহায্য করে। মিশ্রণটিকে ত্বকে লাগিয়ে বেশ খানিকক্ষণ রেখে দিতে হবে। শুকিয়ে গেলে টেনে উঠিয়ে ফেলুন।

* একটি সসপ্যানে সমপরিমাণ চিনি এবং মধু নিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর তাতে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ততক্ষণ পর্যন্ত নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না তা আঠালো অবস্থায় আসে। এবার ঠিক একইভাবে মিশ্রণটি ঈষৎ গরম থাকা অবস্থায়  ত্বকে লাগিয়ে সুতি বা লিনেন কাপড় বসিয়ে উল্টো দিক থেকে টেনে উঠিয়ে ফেলুন।

* অনেক সময়ে মুখের ত্বকেও অবাঞ্ছিত লোম দেখা যায়, যেমন ঠোঁটের উপরিভাগ এবং থুতনির অংশ। সেক্ষেত্রে হলুদ গুঁড়ো এবং দুধ সমপরিমাণে মিশিয়ে নিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিয়ে তা রোমকূপের ওপর লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। টানা ৪ সপ্তাহ এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

ওয়াক্সিং-এর পর অবশ্যই হাত এবং পা-য়ের যত্ন নিতে হবে। লোম তুলে ফেলার পর শরীরের ওই অংশটি লাল হয়ে যায়। এমন হলে, সেইস্থানে কিছুক্ষণ বরফ লাগিয়ে নিলে আরাম পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ট্যালকম পাউডারও লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ওয়াক্স করার পরপরই রোদে না বেরোনোই ভাল। একান্ত বেরোলেও শরীরের ওই অংশে রোদ যেন না লাগে সেই দিকে নজর দিতে হবে। ওয়াক্সিংয়ের পর ত্বকে অ্যালার্জি বা র‍্যাশের সমস্যা যদি বিরাট আকার ধারন করে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মাথা ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।  তবে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদানের হাত ধরলে এবং সেইসঙ্গে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে মাথা যন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

* লবঙ্গ- কিছু পরিমাণ লবঙ্গ শুকনো খোলায় গরম করে নিতে হবে। তারপর একটি রুমালের মধ্যে বেঁধে নিয়ে তার ঘ্রাণ নিতে হবে। এইভাবে পরপর কয়েকদিন করলে দেখা যাবে মাথা যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

* আপেল- অতিরিক্ত মাথা ব্যথায় কষ্ট না পেয়ে এই সহজ ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। একটা আপেলে নুন ছিটিয়ে খেয়ে নিন। আরাম পাবেন।

* আদা- আদার যে কতগুণ তা বলে শেষ করা যাবে না। গলা ব্যথার পাশাপাশি আদা মাথা যন্ত্রণার হাত থেকেও নিমেশে আরাম দেয়। আদা মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ কমাতে কাজে দেয়। খুব মাথা যন্ত্রণা হলে এক টুকরো আদা মুখে রেখে দিলে চটজলদী আরাম পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি আদার সঙ্গে পরিমাণ মতো জল মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিয়ে তা কপালে প্রলেপ হিসেবে লাগালে ব্যথা কমবে।

* পুদিনা- পুদিনায় রয়েছে মেনথল যা মাথা ব্যথা উপশমে বিশেষ কাজে দেয়। তাই মাথা ব্যথায় পুদিনা ফ্লেভারের চা খেলে আরাম পাওয়া যাবে। তার পাশাপাশি পুদিনা পাতা বেটে তার রস মাথায় প্রলেপ হিসেবে লাগালে যন্ত্রণা থেকে মিলবে মুক্তি।

* বরফ- যেকোনও যন্ত্রণা দূর করতে বরফ ভীষণ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। বিশেষত মাইগ্রেনের ব্যথা দূর করতে বরফের প্যাক ঘাড়ে দিলে ব্যথা কম হবে। তবে যাদের ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে তাঁদের এই পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভাল।

তবে রোজ মাথা ব্যথা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন |

রেসিপি

error: Content is protected !!