Tags Posts tagged with "home remedies"

home remedies

গোল মরিচ মূলত একটি লতাজাতীয় উদ্ভিদ। এর ফলকে শুকিয়ে এটি মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার স্বাদ এবং সুগন্ধ বাড়াতে গোলমরিচ ব্যবহার করা হলেও গোলমরিচের অন্যরকম কিছু ব্যবহার রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। সেইসব অজানা গুণের সন্ধান রইল এই প্রতিবেদনে।

* ধূমপান করার নেশা থেকে মুক্তি পেতে চান? তাহলে গোলমরিচে রয়েছে এর সমাধান। একটি তুলোতে গোলমরিচের তেল মাখিয়ে নিতে হবে। যখনই ধূমপান করতে ইচ্ছা করবে তখন গোলমরিচের তেল ভেজানো তুলোর ঘ্রাণ নিতে হবে। দেখা যাবে ধূমপানের ইচ্ছা একেবারেই চলে গেছে।

* ঠান্ডা-গরম থেকে কাশির সমস্যা হলে ১ টেবিল চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ মধু এক কাপ জলে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে পান করে নিতে হবে। কাশি ম্যাজিকের মতো উধাও হয়ে যাবে।

* বন্ধ নাক খুলতে বিশেষভাবে কাজ দেয় গোল মরিচ। ৫ ফোঁটা গোল মরিচের তেল এবং ইউক্যালিপ্টাস তেল জলে মিশিয়ে নিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। এই জলে ভেপার নিলে বন্ধ নাক খুলে যাবে আর গলায় আরামও হবে।

* পেশীর ব্যথা কমাতে গোল মরিচ তেলের ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি পেশীর ব্যথা কমিয়ে, মাংশপেশী শক্ত করতে সাহায্য করে। ২ টেবিল চামচ গোল মরিচের তেলের সাথে ৪ চা চামচ রোজমেরী তেল বা আদার রস মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণটি ব্যথার উপর মালিশ করলে আরাম পাওয়া যাবে।

* হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে গোল মরিচ। গোলমরিচ খেলে পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসৃত হয় যা খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে এবং অরুচি দূর করে এবং খিদে বাড়ায়।

* ত্বকের যত্নেও অব্যর্থ হল গোল মরিচ। অবাককর হলেও এটাই সত্যি। গোল মরিচে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ব্যাক্টরিয়্যাল উপাদান যা ত্বক ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখে এবং ব্ল্যাক হেডস্‌ দূর করতে সাহায্য করে।

* কাপড়ের রং ধরে রাখতেও কিন্তু বিশেষভাবে সাহায্য করে। কাপড় কাচার সময়ে ডিটারজেন্টের সঙ্গে এক চামচ গোল মরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। কাপড়ের উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে অনেকদিন।

মুখ ও হাত-পায়ের যত্নে কত কিছুই না করছেন। কিন্তু সাজগোজের পর দেখলেন মুখের ত্বকের উজ্জ্বলতার সঙ্গে ঠিক যেন মিলছে আপনার গলা ও ঘাড়ের ত্বকের রং। কারণ, মুখের ত্বকের মতো যত্ন নেওয়া হয় না ঘাড় ও গলার ত্বকের। ঘাড় ও গলার বিচ্ছিরি কালো দাগের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন যা খুবই বিরক্তিকর। খুব সুন্দর করে সাজগোজ করা কিংবা সবকিছু মেনে নিয়ে ফিটফাট থাকার পুরো ব্যাপারটিই এই ঘাড়ের কালো দাগ একেবারেই মাটি করে দেয়। পছন্দের পোশাক পরার ব্যাপারেও একটা বাঁধা এসে সামনে দাঁড়ায়। কিন্তু, এর জন্য আর দুশ্চিন্তা না করে ঘরে বসেই দ্রুত এই সমস্যাটি থেকে মুক্তি পেতে পারেন আপনি। রইল ঘাড় ও গলার এই বিচ্ছিরি কালো দাগ দূর করার খুবই কার্যকরী সহজ কিছু সমাধান।

দুধ, চিনি ও লেবুর পেস্ট

লেবুতে থাকা ব্লিচিং ত্বকের কালচে দাগ দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। আর দুধ এবং চিনি উভয়েই ত্বকের উজ্জ্বলতা কোমলতা এবং মসৃণতা ফিরিয়ে আনতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ছোট একটি বাটিতে ২ টেবল চামচ কাঁচা দুধের সঙ্গে অর্ধেক পাতিলেবুর রস ও কিছুটা চিনি নিয়ে মিশিয়ে নিন। স্নানের আগে স্ক্রাবারের মত ব্যবহার মিনিট দশেক ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্টটি সপ্তাহে অন্তত দুবার ব্যবহার করুন, দ্রুত ফল পাবেন।

কফির গুঁড়ো ও মধুর ব্যবহার

কফির গুঁড়ো ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়ে তা অনেকেরই জানা এবং মধুও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং রুক্ষতা দূর করে ত্বকের কোমলতা আনতে বিশেষভাবে কার্যকরী। কফির গুঁড়ো ও মধু সমপরিমানে নিয়ে একসঙ্গে নিয়ে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা রেখে দিন। এরপর এই পেস্টটি ঘাড় ও গলায় লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। কয়েকবার এই পেস্টটি ব্যবহারেই ফলাফল আপনার নজরে আসবে।

টমেটো ও গুঁড়ো হলুদের ব্যবহার

টমেটোর রয়েছে ব্লিচিং যা ত্বকের কালচে দাগ দূর করে দিতে সক্ষম। এবং মধুর ময়েসচারাইজিং ক্ষমতা ত্বকের ফাটা ভাব দূর করে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। হলুদে আছে ভিটামিন-সি ও বি-সিক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান তো করেই বিশেষত ড্রাই স্কিনের সমস্যার ঘরোয়া সমাধান হচ্ছে হলুদ। এছাড়াও স্কিনের যে কোনও দাগ দূর করার পাশাপাশি, স্কিনকে ময়েশ্চারাইজড রাখে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম স্কিনকে গ্লোয়িং করে তোলে এবং ভিটামিন বি-সিক্স মৃত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে তার ফলে স্কিন হয়ে ওঠে হেলদি।

টমেটো দু-টুকরো করে নিয়ে তার উপরে হলুদের গুঁড়ো নিয়ে কালচে দাগের উপর হালকা করে ঘষতে থাকুন। টমেটোর রস ও হলুদ ভালো করে ত্বকের উপর লেগে গেলে ১৫-২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। এর ব্যবহারে কিছুদিনের মধ্যেই ত্বকের কালচে ভাব একেবারেই দূর হয়ে যাবে।

শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ চোখ। তবে অনেকেই ত্বকের অ্যালার্জির মত চোখের অ্যালার্জিতেও আক্রান্ত হন। যখন শরীরের ইমিউন সিস্টেমে কোনও ধরনের সমস্যা দেখা দেয় তখন শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা বাড়তে থাকে। দূষণজনিত কারণে বা হাইজিন বজায় না রাখলে চোখে অ্যালার্জির আক্রমণ হতে পারে। হাঁপানি রোগী, ধোঁয়া, ক্লোরিন, কসমেটিকস, পারফিউম ইত্যাদি চোখের অ্যালার্জির জন্য দায়ী। শুনে হয়ত অবাক হবেন যে মাথায় খুশকির সমস্যা থাকলেও চোখের অ্যালার্জিতে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন।

আপনি কীভাবে বুঝবেন আপনার চোখ অ্যালার্জি-তে আত্রান্ত। যদি আপনার চোখ লাল হয়ে যায়, অথবা হঠাত্ করেই চোখ চুলকাতে শুরু হয় তারসঙ্গে অনবরত জল পড়তে থাকে তবে জানবেন আপনার চোখ অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। এছাড়া চোখের ভেতর কিছু ময়লা পড়েছে এমন বোধ হওয়া বা হঠাত্ করেই চোখ ফুলে গেলেও, অ্যালার্জি হতে পারে। তবে এই সমস্যার থেকে দ্রুত ও সহজ উপায়ে কিছু সাধারণ কাজের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারেন। তবে চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কীভাবে সারিয়ে তুলবেন চোখের এই সমস্যা।

# চোখের অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পরিষ্কার ঠান্ডা জলের কথা সকলেরই জানা। চোখে চুলকানি হলে বা লাল হয়ে গেলে বারবার ঠাণ্ডা জল দিয়ে চোখ ধুঁয়ে ফেলুন, অনেক আরাম পাবেন।

# চোখের অ্যালার্জির সমস্যা রোধ করার জন্য দুধ খুব উপকারী। কিছুটা ঠাণ্ডা দুধে একটি কটন বল ভিজিয়ে চোখের চারপাশে হালকা করে ঘষুন। চাইলে কটন দুধে ভিজিয়ে চোখের ওপরে কিছুক্ষণ দিয়ে রাখতে পারেন। চোখের চুলকানি সমস্যায় প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ২ বার করে এই পদ্ধতিটি মেনে চললে চোখের ইনফেকশন অনেক কমে আসবে।

# খাঁটি গোলাপজ্বল চোখের চুলকানি সমস্যা রোধ করতে খুব সহায়ক। এটি চোখকে শীতল ও ঠাণ্ডা করে এবং সমস্যা রোধ করে। প্রতিদিন ২ বার গোলাপজ্বল দিয়ে আপনার চোখ ধুয়ে নিন। ২-৩ ফোঁটা গোলাপ জল অ্যালার্জি আক্রান্ত চোখে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ করে রাখুন। দেখবেন ধীরে ধীরে ইনফেকশন অনেক কমে আসবে।

# ১ চা চামচ লবণ এক গ্লাস জলে দিয়ে ২০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠাণ্ডা হলে এক টুকরো পরিষ্কার তুলো দিয়ে চোখ মুছে নিন। এরফলে চোখে থাকা ময়লা বের হয়ে আসবে। এর ফলে চোখে চুলকানি আর অস্বস্তি থেকে আপনি মুক্তি পাবেন।

# এছাড়া ১চামচ আমলকির গুঁড়োর সঙ্গে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খেয়ে নিন। এতে আপনার শরীরের ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি হবে। ইমিউন সিস্টেমের উন্নতির হলে আপনার শরীরে যে কোনও ধরণের অ্যালার্জি কমে আসবে।

তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, যদি চোখের সমস্যা খুব খারাপ আঁকার ধারণ করে থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

রেসিপি

error: Content is protected !!