অনন্য প্রতিভা তুলসী চক্রবর্তী

অনন্য প্রতিভা তুলসী চক্রবর্তী

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Tulsi Chakraborty

তিনি আমেরিকায় জন্মালে অস্কার সম্মানে ভূষিত হতেন | বলেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায় |

যাঁর সম্বন্ধে এ কথা বলেছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক‚ সেই অভিনেতাকে অভিনয়ের জন্য অনেক বেশি পারিশ্রমিক দিতে চেয়েছিলেন তিনি | কিন্তু অভিনেতা নিতে রাজি হননি | বলেছিলেন‚ এত বেশি টাকা আমায় দেবেন না | তাহলে এর পরে আর কাজ পাব না |

সত্যজিৎ রায়ের কাছ থেকে মাত্র দৈনিক ১৫ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন তিনি | যেখানে সত্যজিৎ রায় দিতে চেয়েছিলেন দৈনিক ১০০ টাকা | তুলসী চক্রবর্তীকে | পরশপাথর ছবিতে অভিনয়ের জন্য |

১৮৯৯-এর ৩ মার্চ তুলসী চক্রবর্তীর জন্ম গোরাইয়ে | বাবা ছিলেন রেলকর্মী | তুলসীর ছোটবেলা কেটেছে কলকাতায়‚ জ্যাঠার কাছে | জ্যাঠা ছিলেন স্টার থিয়েটারের তবলচি | কাকার হাতে ধরে তিনি যেতেন থিয়েটারে | খুব সামনে থেকে দেখতেন বড় বড় অভিনেতাদের অভিনয় |

সেই দেখেই তাঁর ছোটবেলা থেকে সাধ হয়‚ বড় হয়ে গায়ক-অভিনেতা হবেন |

১৯৩২ থেকে ১৯৬১‚ তিন দশক ধরে আমৃত্যু‚ বাংলা চলচ্চিত্রকে একের পর এক রত্ন উপহার দিয়ে গেছেন তিনি | আটপৌরে ধুতি‚ গলায় পৈতে |

কখনও তিনি পথের পাঁচালীর প্রসন্ন পণ্ডিত | কখনও সাড়ে চুয়াত্তর-এর মেসমালিক রজনীবাবু | আবার কখনও একটি রাত-এর সন্দেহপ্রবণ সরাইখানা মালিক গোসাঁইজী | অনবদ্য অভিনয়ে ম্লান হয়ে যায় আশেপাশের তারকা‚ মহাতারকারা |

তিনি না থাকলে সত্যজিৎ রায় হয়তো ভাবতেনই না পরশপাথর করবার কথা | তুলসী চক্রবর্তী ছাড়া আর কে ফুটিয়ে তুলবে পরেশ চন্দ্র দত্তকে ! কিংবা সাড়ে চুয়াত্তরে কে ভুলবে তাঁর সেই লণ্ঠন তুলে মলিনা দেবীর পমেটম মাখা মুখ দেখা !উত্তম সুচিত্রা নয়‚ সাড়ে চুয়াত্তরের প্রকৃত নায়ক নায়িকা কিন্তু তুলসী চক্রবর্তী-মলিনা দেবী |

পৈতে নাড়তে নাড়তে তাঁর মুখে বাপরে বাপরে বাপরে বাপ !’ শুনলে মনে হতো যেন পাশের বাড়ির জেঠু কথা বলে উঠলেন | এতটাই সাবলীল‚ মুক্তধারা ছিল তাঁর অভিনয় | জীবনে একফোঁটাও মেক আপ ব্যবহার করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি তিনি |

ক্যামেরার আড়ালে তাঁর জীবন ছিল কঠিন দারিদ্রে জর্জরিত | যৎসামান্য উপার্জনে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো দশা | এতটাই ছিল অভাব‚ টালিগঞ্জে স্টুডিও পাড়া থেকে হাওড়া শিবপুরে বাড়ি অবধি হেঁটে যেতেন | তবু ছাড়তে পারেননি অভিনয় |

একটাই ভাবনা ছিল | ব্রাহ্মণীকে কী অবস্থায় রেখে যাবেন ! অমূলক হয়নি তাঁর আশঙ্কা | ১৯৬১ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রয়াত হন অপুত্রক তুলসী চক্রবর্তী | তার পরে অত্যন্ত অভাবে দিনাযাপন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী | তিনিও কোনওদিন স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখেননি | কেউ খোঁজ নেয়নি | সবার অলক্ষ্যে অনটনের সঙ্গে যুঝে গেছেন প্রতিভাবান শিল্পীর সহধর্মিণী |

Tags

One Response

  1. Seser lekha tai koster… jini sabar muk hasite voria diten avinoy dia voria diten mon … tar jibone koto kosto chilo

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SUBSCRIBE TO NEWSLETTER

Resize-+=

Please share your thoughts on this article

Please share your thoughts on this article

SUBSCRIBE TO NEWSLETTER

Please login and subscribe to Bangalive.com

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com