(Elizabeth Jennings)
এলিজাবেথ জেনিংস এর জন্ম বোস্টনে ১৯২৬ সালে। ছয় বছর বয়সে তিনি অক্সফোর্ডে চলে যান এবং বাকি জীবন সেখানেই কাটান। পড়েছেন সেন্ট অ্যানস কলেজ আর অক্সফোর্ডে। কাজ করেছেন বিজ্ঞাপন সংস্থায়, শহরের গ্রন্থাগারে আর প্রকাশনা বিভাগে। পরবর্তী জীবনে পূর্ণ সময়ের লেখক হিসাবে যোগদান। কুড়িটি কাব্যগ্রন্থ। ২০০২ সালে বেরিয়েছে তাঁর কবিতার একটি সংকলন গ্রন্থ। প্রথমদিকে এই কবি “দা মুভমেন্ট” নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই একই সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন কিংসলি অ্যামিস, ফিলিপ লারকিন ও টম গান। যদিও তাঁদের কবিতার শ্লেষাত্মক ঢঙ এলিজাবেথের কবিতায় নেই, তবুও করণকৌশলগত নৈপূণ্য, সংযত আবেগের উৎসার আর কোমল আধ্যাত্মিক উদ্ভাস তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্য। তিনি ডব্লু এইচ স্মিথ লিটারেরি অ্যাওয়ার্ড আর সমারসেট মম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তাঁর কবিতা সংক্রান্ত ভাবনার অনুবাদ করেছেন সৌতিক সেন। (Elizabeth Jennings)
নিজের কবিতা সম্পর্কে কিছু লেখা কখনই আমার খুব একটা পছন্দের নয়। কবিতা, যদি তা সত্যিই কবিতা হয়ে ওঠে তাহলে তা হয় স্বয়ংসম্পূর্ণ। সে নিজেই পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করে। কোনো সমসাময়িক কবিতারই পাদটীকার প্রয়োজন পড়ে না। যদিও কবিতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অনেক কিছুই বলা যেতে পারে। একজন কবি কীভাবে বা কখন কবিতা লিখবেন, বিছানায় লিখবেন, নাকি সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে লিখবেন, খেতে খেতে লিখবেন নাকি পান করতে করতে লিখবেন, সংশোধন বেশি করবেন না কম, সেসব জানা অপ্রাসঙ্গিক—এগুলো কবির একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। অনেকটা ‘নিভৃত যৌনাচারের’ মতো এবং তা একান্ত ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। (Elizabeth Jennings)
আরও পড়ুন: তবুও প্রয়াস: গোপাল ভাঁড় ও তৎকালীন সমাজচিত্র
কিন্তু নিজস্ব সৃষ্টি সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গির কথা যদি বলি, তা হলে বলতে হয় কবিতা লেখা সবসময়ই আমার কাছে একটা আবিষ্কারের মতো। সঙ্গে সঙ্গে একটা নিজস্ব জগতের ক্রমনির্মাণও। এই নির্মাণ অত্যন্ত ব্যক্তিগত পর্যায়েই শুরু হয় (যদিও শুধুমাত্র অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যম হিসাবে নয়) এবং যদি সেই কবিতাটি সত্যিই সার্থক হয়, তাহলে তা শেষ হয় সম্পূর্ণ নৈর্ব্যক্তিকভাবে। এই পুরো পর্যায়টার ভিতর থাকে একটা গভীর ও নির্মোহ দূরত্বের ভাব। অবশ্য এটা বলা সম্পূর্ণ ভুল যে কবির কল্পনায় একটা কবিতার উদ্বোধন সবসময় একইভাবে হয়। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি এক একটা কবিতা অনেকসময় হয়ে ওঠে অস্পষ্ট অথচ সুতীব্র শারীরিক প্রতিক্রিয়া। আবার কখনও তা শুধুমাত্র আঙ্গিকগত নিরীক্ষায় শুরু হয়ে আবেগ অথবা মননসঞ্জাত দ্বিধাদ্বন্দ্বের সমাধানে এসে শেষ হয়। কবিতার জন্ম সম্পর্কে এটাই আমার ব্যক্তিগত ধারণা। (Elizabeth Jennings)
কবির পাঠকদের নিয়ে এবার আমি কিছু বলতে চাই। আমার মনে হয় না কোনো কবিই কবিতা লেখার সময় তাঁর সম্ভাব্য পাঠকমণ্ডলীর কথা চিন্তা করে লেখেন, যদিও আমি নিশ্চিত বেশিরভাগ কবিই চান পরবর্তীক্ষেত্রে তাঁদের লেখা পড়া হোক, অনুভূত হোক এবং যতটা সম্ভব সমাদৃত হয়ে উঠুক। রবার্ট গ্রেভস নিঃসন্দেহে সেইসব সংখ্যালঘু কবি সম্পাদায়ের একজন যিনি মনে করতেন যে কবিরা কেবলমাত্র কিছু নির্বাচিত সহকৰি ও বন্ধুদের প্রশংসা ও আলোচনার মুখাপেক্ষী। এ প্রসঙ্গে আমি বলব, একজন কবির স্বীকৃতির তুলনায়, কোনো এক অপরিচিতজনের প্রশংসা আমার কাছে বেশি সন্তোষজনক। এক্ষেত্রে কবি সরাসরি সেই অপরিচিতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন আর তাঁর কাছে সেটাই সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার। (Elizabeth Jennings)
হয়তো-বা প্রভাবিত হওয়ার ব্যাপারটাও বেশ চমকপ্রদ, আর এখানে আমার অবশ্যই জানিয়ে রাখা উচিত যে আমি যেসব আধুনিক কবিদের ভক্ত, তাদের দ্বারা আমি প্রভাবিত হয়েছি—– এরা হলেন ইয়েটস, এডউইন মুর আর আমেরিকার ওয়ালেশ স্টিভেনস। যদিও আমার মনে হয় না গঠনশৈলীর ক্ষেত্রে আমি এদের কারুর দ্বারাই খুব বেশি প্রভাবিত। অন্যদিকে বলতে গেলে তাঁরা অনেকটা মুক্তিদাতার মতো কাজ করেছেন, আমাকে আমার নিজস্ব জগতের সবচেয়ে সরাসরি পথটা দেখিয়ে দিয়েছেন। (Elizabeth Jennings)
“…আমি মোটেও এটা মনে করি না যে গদ্য আমাকে কবিতা থেকে বিচ্যুত করেছে বরং উল্টোটাই। গদ্য অনেকসময় কবিতার উৎসগুলোকে আলোড়িত করেছে।”
গদ্য, আমার মতে, সবসময়েই এমন একটা বিষয়ের উপস্থাপনা, যা আমি আগে থেকেই জানি। অন্যদিকে আমার শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো অবশ্যম্ভাবিভাবে এমন কিছুর প্রকাশ যার সম্মন্ধে আমার কাছে কোনো পূর্বাভাসই ছিল না। একইভাবে এই ধরণের আত্মসমর্থনমূলক লেখা লিখতেও আমি প্রবল অস্বস্তি বোধ করি। আমার কবিতা সম্পর্কে এ যাবৎ যা কিছুই আমি বলার নেই করেছি মনে হয়েছে কোনও না কোনভাবে তা পুরোপুরি সত্য নয়, সত্যের কাছাকাছি যাওয়া মাত্র এবং সেটা বেশ খানিকটা আড়ম্বরপূর্ণ। আশা করি আমার পাঠকরা আমাকে আমার কাজ দিয়েই বিচার করবেন, আমার তত্ত্ব দিয়ে নয়। (Elizabeth Jennings)
‘সং ফর এ বার্থ অর এ ডেথ’ আমার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ, অথচ আমার মনে হয় আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনার সময় থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত আমার নিজস্ব কবিতা সম্পর্কে আলোচনা করার ক্ষমতা খুব একটা বৃদ্ধি পায়নি। আমি দেখেছি একজন কবি যত বেশি কবিতা লেখেন, তত বেশি করে তাঁর কাছে সমস্ত কবিতা নির্মাণের পদ্ধতিটা রহস্যঘন হয়ে উঠে। সেই তেরো বছর বয়স থেকে কবিতালেখা আমার নিবিড়তম পেশা আর এখন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কপিরাইটিং ছেড়ে, গ্রন্থাগারের কাজ ছেড়ে, প্রকাশকের দেওয়া চাকরি উপেক্ষা করে আমি আমার পূর্ণসময় নিয়োজিত করেছি লেখার জন্যে। যার মানে, স্বাভাবিকভাবেই আমি কবিতার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর গদ্যও লিখছি। (Elizabeth Jennings)
অন্যান্য আরও কিছু কবিদের মতো আমি মোটেও এটা মনে করি না যে গদ্য আমাকে কবিতা থেকে বিচ্যুত করেছে বরং উল্টোটাই। গদ্য অনেকসময় কবিতার উৎসগুলোকে আলোড়িত করেছে। আর সেইসব সুদীর্ঘ কবিতাশূন্য ক্লান্তির মুহূর্তগুলোয় গদ্য হয়ে উঠেছে একটা মধ্যবর্তী অবকাশযাপন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যেকোনো সময়ই আমি এখন গদ্য লিখতে পারি। অপরপক্ষে, কবিতা লিখতে গেলে দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য্যসহকারে অপেক্ষা করতে হয়। শুনলে হয়তো অদ্ভুত ঠেকবে—- অনেকটা নিরাসক্ত ভাবেই কাটে এই প্রতীক্ষার প্রহর। আমি এ প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারি না যে, কেন আমি কবিতা লিখি। আমার মনে হয় আমি আমার ‘সং ফর এ বার্থ অর এ ডেথ’ সম্পর্কে দু-এক কথা বলব যা এ সম্পর্কে আমার পাঠকদের বোধোদয়ে সাহায্য করবে। (Elizabeth Jennings)
“আমার মনে হয় কবিতার নির্মাণে আবেগ, কল্পনার পাশাপাশি প্রজ্ঞার ভূমিকাও সমান তাৎপর্যপূর্ণ। অবশ্য কবিতা লেখার সময় আলাদাভাবে এসব বিষয় সম্পর্কে কবির সচেতন থাকা সম্ভব নয়। লেখক বা কবি তার সমস্তটুকু সচেতন ও অবচেতন সত্তা দিয়ে লেখেন।”
এই বইয়ের কবিতাগুলো আগের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের কবিতার তুলনায় অনেক বেশি গভীর ও বাক্তিগত। এগুলোর বেশিরভাগই আমার শৈশব, আমার ধর্মচেতনা আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে লেখা। যতটা সম্ভব সৎ ও সহজবোধ্য ভাবে আমি এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। কেননা আমি সম্যকভাবে সচেতন যে এক অর্থে সমস্ত কবিতাই অবধারিতভাবে ব্যক্তিগত। আবার অন্যদিকে, সেটাই কবির থেকে তাঁর বাক্তিত্ব থেকে অনেকখানি পৃথক। তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা হয়ত-বা তাঁর কবিতার উপাদানের অংশবিশেষ। (Elizabeth Jennings)
কিন্তু কবিতায় রূপান্তরিত হবার আগে সেই অভিজ্ঞঅগুলোর সম্যক উপলব্ধি নির্মাণ ও সম্পূর্ণ পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। বহুপাঠকই এই পুনর্নির্মাণ ও দূরত্বের ব্যাপারটা সঠিক অনুধাবন করতে পারেন না। ফলত অত্যন্ত ব্যক্তিগত কবিতা সম্পর্কে কবির প্রতিক্রিয়া জানার জন্য অত্যুৎসাহী হয়ে ওঠেন। সত্যি বলতে কী সেইসব কবিতা যদি সার্থক কবিতা হয়ে ওঠে, তাহলে কবিকে অবিচলিতই থাকতে হয়। কেননা সেই সৃষ্টি আর শুধুমাত্র তাঁর বাক্তিগত নয়, তা এক স্বনির্ভর ও স্বয়ম্ভু সত্তায় রূপান্তরিত হয়। (Elizabeth Jennings)
আমার প্রথম পর্যায়ের কবিতাগুলোর দিকে যখন ফিরে তাকাই, তাদের মধ্যে বেশকিছু বদ্ধ-সংস্কার, আবেশ, অপেশাদারিত্ব ও কিছু আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা লক্ষ্য্ করি। আমার কবিতার এখন অনেকখানি পরিবর্তন হয়েছে। আমার মনে হয় এই পরিবর্তনের পূরোটা অজান্তেই ঘটে গেছে। আমি কখনই জানি না আমার পরবর্তী কবিতাটা ঠিক কেমন হতে পারে কিন্তু এটুকু জানি সেটা ঠিক কী ধরণের হবে না। এ থেকে হয়তো কবিতার নির্মাণে মননের সূক্ষ্ম ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে। (Elizabeth Jennings)
“গদ্যের ভিতর হয়ত ভাণভণিতা চলতে পারে, প্রকৃত অবস্থা গোপন করা যেতে পারে, কিন্তু কবিতার অন্তর থেকে শুধুমাত্র সত্যটুকুই উৎসারিত হয় এবং এক্ষেত্রে সততার যদি অভাব ঘটে তাহলে প্রকৃতপক্ষে তা কবিতার অপমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
বস্তুত আমার মনে হয় কবিতার নির্মাণে আবেগ, কল্পনার পাশাপাশি প্রজ্ঞার ভূমিকাও সমান তাৎপর্যপূর্ণ। অবশ্য কবিতা লেখার সময় আলাদাভাবে এসব বিষয় সম্পর্কে কবির সচেতন থাকা সম্ভব নয়। লেখক বা কবি তার সমস্তটুকু সচেতন ও অবচেতন সত্তা দিয়ে লেখেন। ইয়েটসের মতে এটা অনেকটা ‘বোধ, রক্ত কল্পনার সম্মিলিত প্রবাহ’। একইসাথে লেখার সময় একজন লেখক তার মানসিক উত্তেজনার তুঙ্গে অবস্থান করেন, অন্যান্য সমস্ত অভিজ্ঞতার থেকে যা সম্পূর্ণভাবেই স্বতন্ত্র। (Elizabeth Jennings)
কবিতার মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্যগুলোর আমি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করি সেগুলো হল স্পষ্টতা, মগ্নতা আর অনুভূতির প্রবল উচ্ছ্বাসকে নিখুঁত গঠনশৈলীর বোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করার ক্ষমতা। বিভিন্ন মাত্রায় এইসব বৈশিষ্টগুলোর সমন্বয় দেখেছি ভন, হার্বার্ট, হপকিনস, ইয়েটস, রবার্ট গ্রোভস এডউইন মুর আর ওয়ালেশ স্টিভেনসের কবিতার মধ্যে। বিভিন্ন সময়ে এইসব কবিদের দ্বারা আমি প্রভাবিতও হয়েছি, যদিও আশা করি, এই প্রভাবগুলো আমার কবিতায় খুব কমই প্রকট হয়েছে। প্রকৃত অনুপ্রেরণা সর্বদাই একটি ভিন্ন গঠনশৈলী ও একান্ত নিজের স্বরের সন্ধান দেয়। (Elizabeth Jennings)
আমি জানার জন্য কবিতা লিখি, লিখি আবিষ্কারের তৃষ্ণায়, আরও স্পষ্টতর পারিপার্শ্বিকতাকে উপলব্ধি করবার জন্য। আমার লেখা আবার অন্যদিকে একটা সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলার অনুসন্ধান। আমি কবিতার মাধানে সংযোগ স্থাপন করতে চাই, যদিও তা কখনই আমার কবিতা লেখার প্রাথমিক শর্ত নয়।কবিতা সুনিশ্চিতভাবেই সৎ ও সুসংগঠিত হওয়া প্রয়োজন। গদ্যের ভিতর হয়ত ভাণভণিতা চলতে পারে, প্রকৃত অবস্থা গোপন করা যেতে পারে, কিন্তু কবিতার অন্তর থেকে শুধুমাত্র সত্যটুকুই উৎসারিত হয় এবং এক্ষেত্রে সততার যদি অভাব ঘটে তাহলে প্রকৃতপক্ষে তা কবিতার অপমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃত কবিতার মান সবসময় উৎকৃষ্ট, তিলোত্তমার চেয়ে কম কিছু নয় এবং তা অবশ্যই সম্পূর্ণ সত্যের অবয়ব। (Elizabeth Jennings)
আরও পড়ুন: ‘আমি আর লীনা হেঁটে চলেছি’: বুক শুকিয়ে আসছে- মানস চক্রবর্তী
কবি হওয়াটা সম্মানের এবং দায়িত্বের একইসঙ্গে এটা অত্যন্ত কষ্টকর, অনিশ্চিত আর গভীরভাবে বিশৃঙ্খল ব্যাপারও বটে। কবিরা নির্মাণের বিপজ্জনক পদ্ধতি এত রহস্যময়, অত্যাশ্চর্য এবং মগ্নমধুর, যে কবিতাহীন সেইসব দীর্ঘ অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়গুলোর জন্য এই নির্মাণপদ্ধতি যেন এক প্রগাঢ় ক্ষতিপূরণ। আমি জানি না আমার পরবর্তী কবিতাটি ঠিক কেমন হবে, তবে কবিতা লেখা একটি অতীন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা, একটি অকারণ উপহার। এর জন্য কেউ নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে কিন্তু দাবি করতে পারে না। (Elizabeth Jennings)
দীর্ঘদিন যাবৎ আমি আমার কোনো কবিতা নিয়েই সন্তুষ্ট নই, মনে হয় যেন এক ধাপ পরেই ওটা রয়েছে, প্রবল ভাবে নাগালের কাছেই কোথাও লুকানো হয়েছে আর এটাই আমার আকর্ঘণের কেন্দ্রবিন্দু। এই অভিষ্টের অন্বেষণ অত্যন্ত আকর্ষণীয়, প্রলোভনে পরিপূর্ণ এবং হয়ত শেষ পর্যন্ত ফলাফলশূন্য। আমি শুধু এটুকুই জানি যে, এই অদ্ভুত নেশা আমার কাছে ভীষণভাবে রোমহর্ষক এবং একটা সম্পূর্ণ জীবন উৎসর্গ করার মতই যথার্থ। (Elizabeth Jennings)
(বানান অপরিবর্তিত)
বাংলালাইভ একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ওয়েবপত্রিকা। তবে পত্রিকা প্রকাশনা ছাড়াও আরও নানাবিধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকে বাংলালাইভ। বহু অনুষ্ঠানে ওয়েব পার্টনার হিসেবে কাজ করে। সেই ভিডিও পাঠক-দর্শকরা দেখতে পান বাংলালাইভের পোর্টালে,ফেসবুক পাতায় বা বাংলালাইভ ইউটিউব চ্যানেলে।