(Valentines Day)
দ্বেষ-ঘৃণার পৃথিবীতে প্রতিদিনই যদি ভালবাসার দিন হত, বেশ হত। ভালবাসার দিন হোক না হয় রোজ, তবু দিন-মাস-বছর শেষে একটা দিন ভালবাসা উদযাপনের হোক, ভ্যালেন্টাইনস ডে।
কিছু ইতিহাসবিদের মতে, ভ্যালেন্টাইনস ডে নাকি রোমের বহু প্রাচীন লুপরকেলিয়া ফেস্টিভ্যালের সঙ্গে জড়িয়ে। সেই ফেস্টিভ্যালে ছাগল বলি দিয়ে উৎসর্গ করা হত, যাতে শহর আর মানুষের শুদ্ধিকরণ হয়। এর সঙ্গে থাকত প্রজননক্ষমতা বাড়ানোর প্রার্থনাও। উৎসর্গ করা ছাগলের চামড়ার অন্তর্বাস বানানোরও রীতি ছিল। ওই ছাগ চামড়ার টুকরোকে বলা হত ফেব্রুয়া, মানে শুদ্ধিকরণ, যার থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের নাম।
সোলমেট বা মেট কথাটির উৎপত্তি খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, একটি জার্মান শব্দ এর উৎস। যার অর্থ একসঙ্গে খাবারের টেবিল শেয়ার করা! অর্থাৎ ঘুরে ফিরে সেই খাবারই। প্রেম আর খাবার কি আলাদা! ভালবাসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো খাবার। ভালবাসা দিয়ে বানানো সুন্দর, সুগন্ধযুক্ত খাবার!
ক্রমে এই নিষ্ঠুর রীতির বদল হয়। প্রাক-খ্রিস্টিয় যুগে কামনা আর সন্তানবাসনা জড়িয়ে যে ছবি ছিল ভ্যালেন্টাইনস ডে-র, খ্রিস্টিয় যুগে সেই ছবিতে বীরত্ব, শৌর্য্যর তুলির টান পড়ে। তারপর, ভিক্টোরিয়ান যুগে নরম জরির ফিতের মতো সেই ছবিতে মোলায়েম প্রেমের প্রলেপ পড়ে। প্রেমের স্নিগ্ধতা আর উষ্ণতা, দুই-ই উদযাপনের দিন হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে। (Valentines Day)
সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের গল্প এবং কথা এখন বহুল প্রচলিত, তাই আর উল্লেখ করছি না নতুন করে। ভালবাসার কথা লিখতে লিখতে প্রথম যেটা মনে আসে, তা হলো সোলমেট, সঙ্গী। যাকে ঘিরে কত কথা, কত কবিতা (Valentines Day)
রবিঠাকুর যা ভেবে লিখে গিয়েছেন—
‘তোমারেই যেন ভালবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার,
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার…’
সোলমেট বা মেট কথাটির উৎপত্তি খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, একটি জার্মান শব্দ এর উৎস। যার অর্থ একসঙ্গে খাবারের টেবিল শেয়ার করা! অর্থাৎ ঘুরে ফিরে সেই খাবারই। প্রেম আর খাবার কি আলাদা! ভালবাসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো খাবার। ভালবাসা দিয়ে বানানো সুন্দর, সুগন্ধযুক্ত খাবার! (Valentines Day)
সেই যে কামনা আর সন্তানবাসনার জন্যে বলি দেওয়া, সভ্যতা এগোনোর সঙ্গে সেসব পেরিয়ে এসে খাবার টেবিলে চলে এলো অ্যাফ্রোডিসিয়াক। বেরির মধ্যে স্ট্রবেরি হলো সিম্বলিক অ্যাফ্রোডিসিয়াক। লাল রং আর হার্ট শেপ আকর্ষণ আর ভালবাসার প্রতীক। (Valentines Day)
টেবিলের প্রথম খাবারে রইল—

স্ট্রবেরি ক্রাম্বল বার
উপকরণ: ১ কাপ ওটস পাউডার, ১/২ কাপ ময়দা, ১/২ কাপ গুড় গুঁড়ো , ১/২ কাপ বাটার, ১ ডিম, ১ চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, স্ট্রবেরি লেয়ারের জন্যে— ২ কাপ চপড স্ট্রবেরি, ২ টেবিল চামচ চিনি, ১ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ,১ চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, এক চিমটে নুন
প্রণালী
একটা বেকিং প্যানের নিচে অল্প মাখন বুলিয়ে, তাতে শক্ত করে মাখা ওটস এর ডো-টা সমান করে লেয়ার করে তার ওপর স্ট্রবেরি লেয়ার । সবার উপরে হালকা বাটারের ভাজা পাতলা একটা ওটসের লেয়ার দিয়ে ৩০/৩৫ মিনিট ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেক করলেই তৈরি। (Valentines Day)
কাজী নজরুল ইসলাম লিখলেন,
‘অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন ভালবাসতে
পথ ছিল গো চলার, যদি দুদিন আগে আসতে’
ভালবাসার এমন আক্ষেপ না রেখে বরং খাবারের টেবিলেই হোক স্বীকৃতি-স্বীকারোক্তি। সঙ্গে থাকুক একটি হার্ট শেপড বান্ডট লাজানে। (Valentines Day)

হার্ট শেপড বান্ডট লাজানা
উপকরণ: লাজানা ৫০০ গ্রাম, (প্যাকেটের নির্দেশমতো সিদ্ধ করে জল ঝরানো), ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ১ টা বড় পেয়াঁজ, ৩ কোয়া রসুন , দেড় চা চামচ ওরেগানো, ৭০০ গ্রাম কিমা, ১৫০ গ্রাম টমেটো সস, ৪০০ গ্রাম টমেটো পেস্ট, ২ চা চামচ চিনি, ৩৫০ গ্রাম চিজ, ১৫০ গ্রাম মোজারেলা, ২ ডিম, একটু পার্সলে কুচি
খাওয়ার টেবিল থেকে ধীরে ধীরে জমে উঠুক প্রেম, গাঢ় হোক ভালবাসা…ভালবাসায় জড়ানো খাবারে ডুব দিয়ে হোক রসনা তৃপ্তি! প্রতিটা খাবার হোক ভালবাসার নতুন অভিযান!
প্রণালী
প্যানে তেল গরম করে ৭/৮ মিনিট প্রথমে রসুন, তারপর পেয়াঁজ ভাজতে হবে। বেশ লালচে রং হলে কিমা দিয়ে ক্রমাগত নাড়াচাড়া করতে হবে ৭/৮ মিনিট । তারপর টমেটো সস আর পিউরি দিয়ে আরো খানিক নাড়িয়ে ২০ মিনিট মতো সময় দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। একটা পাত্রে ডিম চিজ আর পার্সলে মিক্স করে নিতে হবে। (Valentines Day)
ওদিকে হার্ট শেপড বেকিং ট্রে-তে বেকিং পেপার দিয়ে ওপরে লাজানে লেয়ার দিয়ে একটা কিমার লেয়ার, তার ওপর ডিমের লেয়ার, আবার কিমা আর ডিম আর শেষে কিমার লেয়ার দিয়ে সাইডে একটু লাজানা মুড়ে দিয়ে, ফয়েল এ ঢেকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেক হবে ৩০ মিনিট। তারপর ফয়েল খুলে বেক হবে ৫ মিনিট। তাতেই টেবিলে উষ্ণতা ছড়ানো হৃদয় জয় করা খাবার রেডি। (Valentines Day)
আরও পড়ুন: জগন্নাথের মিষ্টিমুখ
ওদিকে হুমায়ুন আজাদ লিখলেন—
‘তুমি এসেছিলে লিসবন আর আমি দূর ঢাকা থেকে;
দেখা হয়েছিলো গ্রান্টস হাউজের উষ্ণ রান্নাঘরে;
রাঁধছিলে তুমি পর্ক ও পোটটো; আমার শুঁটকি রান্না দেখে
চেয়ে রয়েছিলে দুই নীল চোখ বিষ্ময়ে পুরো ভ’রে…’
একসঙ্গে রান্না করার খুশিটাও থাক এবারের ভালবাসার দিনে। গোলাপের সঙ্গে গোলাপ ফুলের মতো পিজ্জা জয় করে নিক হৃদয় আর প্রত্যুত্তরে লাল টুকটুকে রেড ভেলভেট ট্রাফল। (Valentines Day)

রোজ পিজ্জা
উপকরণ: ৫০০ গ্রাম পিজ্জা ডো, ১/৪ কাপ পিজ্জা সস, ১ কাপ শ্রেডেড মোজারেলা, ১ কাপ চিজ, ১০০ গ্রাম সালামি, ১ চা চামচ ইতালিয়ান সিজনিং, টমেটো পাতলা স্লাইস
প্রণালী
পিজ্জা ডো গোল করে আর পাতলা করে বেলে, তার থেকে এক ইঞ্চি সরু স্ট্রিপ কেটে, প্রতি স্ট্রিপে পিজ্জা সস পাতলা প্রলেপ দিতে হবে। তারপর চিজ, তারপরে সালামি টুকরো আর টমেটো স্লাইস। এটা রোল করে নিলেই গোলাপ ফুলের মতো দেখতে হবে। মাফিন ট্রে-তে বসিয়ে বেক হবে ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ১৫ মিনিট। গরম গরম গোলাপ পিজ্জাতে মোজারেলা আর সিজনিং ছড়িয়ে মন জয় করুক প্রিয় জনের।

রেড ভেলভেট ট্রাফল
উপকরণ: রেড ভেলভেট কেক ৫০০ গ্রাম, ক্রিম চিজ ফ্রস্টিং ১৫৯ গ্রাম, ৩০০ গ্রাম হোয়াইট চকোলেট মেল্ট করে দুই টেবিল চামচ মাখন মিক্স করে রাখা গরম জলে।
প্রণালী
রেড ভেলভেট কেক গুঁড়ো করে, একটু একটু করে ক্রিম চিজ ফ্রস্টিং দিয়ে মেখে নিতে হবে, যাতে শেপ দেওয়া সহজ হয়। একটা পার্চমেন্ট পেপারে হাত দিয়ে চেপে হার্ট শেপড কুকি কাটার দিয়ে কেটে ফ্রিজে রাখতে হবে ৩০ মিনিট। তারপর সাদা চকোলেটে কোট করে আর একটা পার্চমেন্ট পেপারে রেখে ঠান্ডা করতে হবে। বের করে তার ওপর রঙিন ফ্রস্টিং পাইপিং ব্যাগে ভরে, যা হৃদয় চায় লিখে ফেললেই হলো। (Valentines Day)
অবসরে বারান্দায় বসে শামসুর রহমান বলে উঠলেন—
‘তুমি হে সুন্দরীতমা নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলতেই পারো
‘এই আকাশ আমার’
কিন্তু নীল আকাশ কোনো উত্তর দেবেনা…’
নীল আকাশ উত্তর না দিলেও কফির কাপ হাতে, ওভেন থেকে বের করা টাটকা লেমন থাইম কুকিজ মুখে দিয়ে প্রিয়জন ঠিক উত্তর দেবে, হয়তো চোখে চোখেই। রইল রেসিপি। (Valentines Day)

লেমন থাইম শর্টব্রেড কুকিজ
উপকরণ: ২৪০ গ্রাম ময়দা, ১৩০ গ্রাম চিনি গুঁড়ো, ১ চা চামচ লেবুর রস, দেড় চামচ থাইম পাতা, এক চিমটে নুন, লেমন জেস্ট, ১ কাপ মাখন, ১ চা চামচ ব্রাউন সুগার
প্রণালী
ব্রাউন সুগার ছাড়া সব কিছু খুব ভাল করে মেখে, শক্ত ডো করে বেলে নিতে হবে ১/৪ ইঞ্চ পুরু করে। কুকি কাটারে হার্ট শেপ দিয়ে পার্চমেন্ট পেপারে রেখে, উপরে ব্রাউন সুগার ছড়িয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে ফ্রিজে। তারপর বেক হবে ১৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে মিনিট কুড়ি যাতে হালকা বাদামি রং হয়। কুকি সেট হলে তরল চকলেট এ ডুবিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যাতে আরও সুন্দর লাগে। কুকি আর কফি দিয়ে জমে যাক শেষ দিকের সেলিব্রেশন। (Valentines Day)
খাওয়ার টেবিল থেকে ধীরে ধীরে জমে উঠুক প্রেম, গাঢ় হোক ভালবাসা…ভালবাসায় জড়ানো খাবারে ডুব দিয়ে হোক রসনা তৃপ্তি! প্রতিটা খাবার হোক ভালবাসার নতুন অভিযান!
রেসিপির ছবি সৌজন্য: লেখক, অমৃতা কুণ্ডু
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
শ্রুতি অনেকদিন ধরে চক ডাস্টার নিয়ে স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে ফিজিক্স লিখতেই স্বচ্ছন্দ। সামান্য ও এত ক্ষুদ্র মানুষ, যে জীবনেও কখন হাইজে়নবার্গস আনসার্টেনটি প্রিন্সিপল কাজে লেগে গেছে অজান্তে। বর্ধমানে থাকার অবস্থানটি এতটাই সুনিশ্চিত, যে পিএইচডি উত্তর, উচ্চশিক্ষার মোমেন্টাম সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলা শেষ হলেও বাকি থাকে নিশ্চিন্তে আকাশ নদী পাখি আর প্রজাপতির গল্প শোনা।
