চেদীরাজ্য কি ওডিশায় ছিল? শিশুপালগড় কি সেই শিশুপালের নামে?

চেদীরাজ্য কি ওডিশায় ছিল? শিশুপালগড় কি সেই শিশুপালের নামে?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Sishupalgarh
শিশুপালগড়ের উত্তর পশ্চিমে তোরণের ধ্বংসাবশেষ। আর তাকে ঘিরে মনের সুখে গড়ে উঠছে আধুনিক বাড়িঘরদোর। ছবি – লেখক
শিশুপালগড়ের উত্তর পশ্চিমে তোরণের ধ্বংসাবশেষ। আর তাকে ঘিরে মনের সুখে গড়ে উঠছে আধুনিক বাড়িঘরদোর। ছবি - লেখক
শিশুপালগড়ের উত্তর পশ্চিমে তোরণের ধ্বংসাবশেষ। আর তাকে ঘিরে মনের সুখে গড়ে উঠছে আধুনিক বাড়িঘরদোর। ছবি – লেখক
শিশুপালগড়ের উত্তর পশ্চিমে তোরণের ধ্বংসাবশেষ। আর তাকে ঘিরে মনের সুখে গড়ে উঠছে আধুনিক বাড়িঘরদোর। ছবি – লেখক
শিশুপালগড়ের উত্তর পশ্চিমে তোরণের ধ্বংসাবশেষ। আর তাকে ঘিরে মনের সুখে গড়ে উঠছে আধুনিক বাড়িঘরদোর। ছবি - লেখক
শিশুপালগড়ের উত্তর পশ্চিমে তোরণের ধ্বংসাবশেষ। আর তাকে ঘিরে মনের সুখে গড়ে উঠছে আধুনিক বাড়িঘরদোর। ছবি – লেখক

শিশুপাল।

নামটা অবশ্যই চেনা, মহাভারতের চরিত্র। শ্রীকৃষ্ণ সুর্দশন চক্র দিয়ে যার মুণ্ডচ্ছেদ করেছিলেন। কিন্তু শিশুপালগড় কি সেই শিশুপালেরই দুর্গ? সে উত্তর অবশ্য অজানাই থেকে গেল। 

বর্তমানে শিশুপালগড় ভুবনেশ্বর এর কাছে একটি ছোট্ট জনপদ। ভাবতে অবাক লাগে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী থেকে চতুর্থ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শিশুপালগড় একটি দুর্গ-নগরী ছিল। শিশুপালগড়ের জনশংখ্যা তৎকালিন আথেন্সের থেকেও বেশি ছিল। দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে ১০০০ মিটার পাঁচিল ঘেরা। পাঁচিলের উচ্চতা ৯ মিটার এবং তাকে ঘিরে পরিখাএই দুর্গ-নগরীর পরিকল্পনা ছিল অসাধারণ। নগরীতে প্রবেশ করার জন্য ছিলো আটটি তোরণ। প্রতি দিকে দু’টি করে।  

Sishupalgarh
প্রাচীন স্মার্ট সিটি-তে প্রবেশ-তোরণের অবশেষ। ছবি – লেখক

আসলে এ রকম প্রাচীন নগরী তো অনেক আছে। কিন্তু শিশুপালগড়ের নগর পরিকল্পনা তাকে অন্য সব নগরীর থেকে আলাদা করে দেয়। বুদ্ধিমান ট্র্যাফিক পরিচালনা, পথচারী-বান্ধব পথ, গার্ড হাউস-সহ চওড়া প্রবেশদ্বার, প্রশস্ত রাস্তা এবং একটি বিশাল উন্মুক্ত স্থান এই দুর্গের কয়েকটি মূল বৈশিষ্ট্য। এক কথায় আড়াই হাজার বছর আগের “স্মার্ট সিটি।” তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন আজ শিশুপালগড় নামে পরিচিত হলেও আগে এই দুর্গ-নগরীর অন্য কোনও নাম ছিল। অনেকের মতে এর নাম ছিল কলিংনগরী। আবার কারও মতে এরই নাম ছিল তোশালি। সাম্প্রতিককালে শিশুপালগড়ে বেশ কয়েকবার খনন কার্য হয়েছে, কিন্তু নগরীর অতীত নাম সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। 

শিশুপালগড়ের অবস্থান ভূবনেশ্বরের দক্ষিণে। এখন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) এর তত্ত্বাবধান করেন।  কিন্তু তা সত্ত্বেও ভুবনেশ্বর শহরের দ্রুত সম্প্রসারণের দরুন শিশুপালগড়ের অনেকটাই জবরদখল হয়ে গিয়েছে।   

Sishupalgarh
প্রত্ন-এলাকার পুব প্রান্তে তোরণের চারটি থামের সমষ্টি। ছবি – লেখক

পুরী তো সকলেই গেছেন। আর সেখান থেকে দিনে দিনে ঘুরে নিয়েছেন ভুবনেশ্বরের নন্দনকানন, উদয়গিরি–খণ্ডগিরি, কোনারক-সহ নানা দ্রষ্টব্য স্থান। শিশুপালগড় কিন্তু বাদ পড়ে গেছে। সুতরাং পরের বার পুরী গেলে ভুবনেশ্বর ডে-ট্রিপের সঙ্গে শিশুপালগড় জুড়ে নেবেন অবশ্যই। পুরী থেকে ভুবনেশ্বর যাবার পথে দয়া নদী পার হবার পর মূল হাইওয়ে ছেড়ে বাঁ দিকে ভুবনেশ্বরের দিকে বেঁকতে হবে। একটু এগোলেই ডান হাতে শিশুপালগড় যাবার রাস্তা। রাস্তার মুখে একটি তোরণ। সেটা অবশ্য পুরনো নয়, একদম নতুন এবং ওড়িয়া ভাষায় ‘শিশুপালগড়’ লেখা। গেটের ভিতর দিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যাবেন বর্তমান শিশুপালগড় জনপদে। কিন্তু কোথায় সেই প্রাচীন “স্মার্ট সিটি?” না আছে নগর পরিকল্পনা, না আছে কোনও ট্র্যাফিক পরিচালনা। এবড়োখেবড়ো পথ আর অপরিকল্পিত নির্মাণ, সব মিলিয়ে অপরিকল্পিত শহরের এক আদর্শ উদাহরণ। তাহলে কোথায় সেই সুপরিকল্পিত শহর? কোথায়ই তার ধ্বংসাবশেষ? স্থানীয় লোকেরা কিচ্ছু বলতে পারে না। কেউ কিছু জানেই না! 

পুরী থেকে দিনে দিনে শিশুপালগড় ঘুরে নিতে পারেন, সঙ্গে দেখে নিন ধৌলিগিরি, উদয়গিরি, খণ্ডগিরি ও লিঙ্গরাজ মন্দির। সারাদিনের টুর, ছোট গাড়ি ভাড়া ৩৫০০ – ৪০০০ টাকা।

এদিকে প্রাচীন “স্মার্ট সিটি”তে টাওয়ারের অভাবে পকেটের মুঠো ফোনটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। না চলছে গুগল ম্যাপ, না চলছে ইন্টারনেট। আমাদের ড্রাইভার দাদা ওড়িয়া ভাষায় স্থানীয়দের সঙ্গে অনেক কথা বলেও কাজের কাজ কিছু করতে পারলেন না। শেষমেশ অবশ্য প্রাচীন “স্মার্ট সিটি” খুঁজে দিল সেই পকেটের ইন্টারনেটবিহীন মুঠো ফোনটিই। পুরী থেকে যাত্রা শুরুর আগে আমি আমার মুঠো ফোনে শিশুপালগড়ের কিছু ছবি ডাউনলোড করে রেখেছিলাম, সে ছবি স্থানীয়দের দেখাতে কাজ দিল। সাধে কি ইংরিজিতে বলে “pictures speak more than words!”

Sishupalgarh
ষোলাখাম্বায় তোরণের সামনের সারি। ছবি – লেখক

আমাদের গাড়িচালক দাদা স্থানীয়দের কাছ থেকেই পথনির্দেশ বুঝে কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাদের শিশুপালগড়ের ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌছে দিলেন। জায়গাটার নাম ষোলাখাম্বা, মাঠের মধ্যে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি পাথরের থাম। তবে থামের সংখ্যা ষোলো নয়, চোদ্দো। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এটি ছিল রানির প্রাসাদ। একটি ছোট ঢিপির উপর থামগুলির অবস্থান। থামগুলি দুই সারিতে বিভক্ত। প্রথম সারিতে পাঁচটি আর একদম পূর্ব প্রান্তে চারটে থামের সমষ্টি। পেছনের দিকে চারটি থাম তবে সেগুলি এক সরল রেখায় নয়। 

এর পরের গন্তব্য দুর্গ-নগরীর তোরণ। বর্তমানে আটটি তোরণের মধ্যে একটিই অবশিষ্ট আছে, নগরের উত্তর পশ্চিম দিকে। একটি বিস্তৃত ইটের কাঠামো, প্রাচীরের কিছুটা অংশ আজও রয়েছে। গেটের দুদিকে লম্বা সিঁড়ি আর আছে রক্ষীদের গৃহের ভগ্নাবশেষ। চারি দিকে আগাছা-ভর্তি আর রক্ষণাবেক্ষণের খুবই অভাব। তবে উদ্বেগের কারণ এখানেই শেষ নয়। আরও ভয়ানক হল প্রত্ন-এলাকা থেকে কয়েক গজ দূরে বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি বেআইনি! আর যে ভাবে তেড়েফুঁড়ে নির্মাণ চলেছে তাতে শিশুপালগড়ের যা যা অবশিষ্ট আছে, শীঘ্রই বিলুপ্ত হবে! তাই পরের বার পুরী ভ্রমণের সময় শিশুপালগড় দেখতে ভুলবেন না, কারণ আর বেশি দেরি করলে দেখবার আর কিছুই থাকবে না। হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল ইউল (Paul Yule) এর মতে  “We have one Sisupalgarh in the entire world and we have to preserve it.”

Tags

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

-- Advertisements --
-- Advertisements --