(Y. G. Srimati)
গত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই কলকাতার সরস্বতীরা বসন্ত পঞ্চমীতে সেজেগুজে তৈরি। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন হাডসন নদীর দিকে তাকিয়ে কফিতে চুমুক দিতে দিতে নস্টালজিয়ায় হাবুডুবু খাচ্ছি, অদ্ভুতভাবে তখন টেবিলে রাখা বইটির পাতা উল্টাতে গিয়ে থমকে গেলাম। সরস্বতী ঠাকুরের ছবি। গা’টা একটু শিরশির করে উঠেছিল বটে, বা হয়তো একেই বলে টেলিপ্যাথি! (Y. G. Srimati)
পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত মিউজিয়াম, The MET (মেট) থেকে কেনা বইটা। ওখানে এশিয়া সেকশনে অপরিচিত এক ভারতীয় শিল্পীর ছবির দেখার পর। যে ছবির কথা বলছি, সেটি দেবী সরস্বতীর পেন্টিং। তাই ভীষণভাবে মনে থেকে গিয়েছিল। এক অবাঙালি, দক্ষিণ ভারতীয় মহিলা শিল্পীর আঁকা। হয়তো একটু অবাকও হয়েছিলাম, কারণ সরস্বতী বললেই কেমন যেন বাংলা আর বাঙালির কথা মনে হয়। মেট-এর বুকস্টোর থেকেই বইটা কিনে নিয়েছিলাম, শিল্পীকে গভীরভাবে জানার জন্য। (Y. G. Srimati)
আরও পড়ুন: একটা চড়ুই স্মৃতির ভিতর ‘এক্কা দোক্কা’ খেলছে
অনেকদিন ধরেই ভেবেছি, তাঁকে নিয়ে লিখব। কিন্তু ওই যে বলে না, সময় না হলে কিছু হয় না! আজ হয়তো সেই সময়টা হয়েছে। হঠাৎ করে মনে হল, যেন এক রত্ন খুঁজে পেয়েছি। কফিতে আরেক চুমুক দিয়ে বসে গেলাম। বেশ কিছুক্ষণ ধরে ছবিটা দেখলাম খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। দেখলাম আরও কিছু ছবি। কেমন যেন ঘোর লেগে গেল। মনে হল— সরস্বতী পুজোর দিনে আরেক রক্তমাংসের সরস্বতীকে আবিষ্কার করলাম। (Y. G. Srimati)
অনেকক্ষণ ধরে থমকে ছিলাম Y.G. Srimati-র সেই পেইন্টিংয়ে— ‘Saraswati, Goddess of Learning and Music’, ১৯৪৭-৪৮ সালের ওয়াটার কালার। নতুন করে দেখতে দেখতে মনে হল, এ তো শুধু ছবি নয়, একটা গল্প, বিশাল বড় গল্প। বিশাল জীবনের গল্প। তারপর শুরু হল আমার আবিষ্কারের যাত্রা। এই শিল্পীর জীবন নিয়ে খোঁজাখুঁজি। খুঁজতে খুঁজতে বুঝলাম, সত্যিই লাকি আমি। কারণ তাঁর খোঁজ পেলাম সরস্বতীর পুজোর দিনেই। সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে হল, একটি সমকালীন, ব্যক্তিগত আবিষ্কারের মতো করে— শুধু অবাক হওয়া আর অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য। (Y. G. Srimati)

ঠিক দশ বছর আগে মেট মিউজিয়ামে দেখেছিলাম এই শিল্পীর প্রদর্শনী— An Artist of Her Time: Y. G. Srimati and The Indian Style – At The Met Fifth Avenue, December 15, 2016–June 18, 2017 (Y. G. Srimati)
শুধুমাত্র, মেট মিউজিয়ামের জন্যই নিউইয়র্কে থেকে যাওয়া যায়। কতশত বার যে গিয়েছি, তবু যতবার যাই, ততবারই দু’চোখে অপার বিস্ময় নিয়ে ফিরি। ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের সেই বিশাল দরজা পেরিয়ে, সাউথ এশিয়ান গ্যালারির বিশেষ প্রদর্শনীতে, চোখ আটকে গিয়েছিল এই পেইন্টিংয়ে। সরস্বতীর ছবি। একটি শ্বেত পদ্মের উপর বসে, যেন তিনি স্বয়ং প্রকৃতির অংশ। হাতে বীণা, যা বাদনরত অবস্থায় ডুবে গিয়েছেন সঙ্গীতের জগতে। উপরের হাতে রুদ্রাক্ষের মালা, নিচের হাতে তালপাতার পুঁথি— জ্ঞান ও বুদ্ধির প্রতীক। পেছনে মেঘের ঢেউ খেলানো আকাশ, যা শ্রীমতির সিগনেচার স্টাইল হয়ে উঠেছে পরবর্তী বহু ছবিতে। (Y. G. Srimati)
সরস্বতী তো শুধু দেবী নন, এক বিদুষী সুন্দরী নারী, জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গীত মিশিয়ে যিনি জীবন উদযাপন করছেন।
এ তো শুধু সরস্বতীর ছবি নয়, এ তাঁর নিজের জীবনের প্রতিফলন। কারণ শ্রীমতি (Y. G. Srimati) নিজেই বলতেন— সরস্বতী তাঁর ‘প্যাট্রন সেইন্ট’ অর্থাৎ ফাইন আর্টসের পথে তাঁর অনুপ্রেরণা। এই পেইন্টিং ১৯৫২ আর ১৯৫৫ সালে তাঁর একক প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছিল। আজ সেটি মেট-এর কালেকশনে। দেখে মনে হয়, সরস্বতী তো শুধু দেবী নন, এক বিদুষী সুন্দরী নারী, জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গীত মিশিয়ে যিনি জীবন উদযাপন করছেন। (Y. G. Srimati)
সরস্বতী পুজো উপলক্ষে তাহলে ছবিটির শিল্পী ওয়াই. জি. শ্রীমতির জীবনসংগ্রামের কথাই বলা যাক। তাঁর জীবন যেন এক অ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চকর এক অনুপ্রেরণার গল্প। পরাধীন ভারতে, ১৯২৬ সালে মাইসোরে জন্ম, গণেশ চতুর্থীর দিন— যেন শুরু থেকেই শিল্পের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে জন্মেছিলেন। রক্ষণশীল তামিল ব্রাহ্মণ পরিবারে দাদু ছিলেন মাইসোরের মহারাজার প্রধান জ্যোতিষী, পরিবারের আদ্যক্ষর (initials) ‘Y.G.’ ছিল মহারাজার দেওয়া সম্মাননীয় উপাধি। (Y. G. Srimati)

কিন্তু, জীবন সহজ ছিল না। দাদু মারা যান, যখন তাঁর বাবা মাত্র এক বছরের। নিকট আত্মীয়-পরিজনরা শ্রীমতির বাবাকে ছয় বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেন। পারিবারিক সব সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন। জমি-জায়গা অন্য হাতে চলে যায়। পরে সেই ছেলেটি বড় হয়ে যখন নিজে বাবা হলেন, ঠিক করলেন তাঁর সন্তানদের পর্যাপ্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন। যাতে তাদের যেন কোনও অযত্ন না হয়। (Y. G. Srimati)
কিন্তু শ্রীমতির বাবাও অল্প বয়সে মারা যান। এই সময় দাদা ওয়াই. জি. দোরাইস্বামী (Y.G. Doraisami) বোনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন। পিতৃস্নেহে, ভ্রাতৃস্নেহে তাঁকে বড় করেন। সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাওয়ার ভরসা দিতে থাকেন। অনেক কিছু না পাওয়ার মাঝে, এমন একজন গুরুজন দাদা পাওয়া সত্যি ভাগ্যের কথা। (Y. G. Srimati)
সময়টা মনে রাখা জরুরি, ১৯২৬ সালে জন্ম সেই মেয়ের, বড় হওয়া তিরিশের দশকে। তখনও দেশ তো দূরের কথা, বিদেশেও মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে স্বাধীন জীবনযাপনের সুযোগ পায়নি— উদারচেতা দাদা দোরাইস্বামীর জন্যই ছোট বোন শ্রীমতি ভরতনাট্যম, কত্থক নাচ, কার্নাটিক গান, বীণা বাজানো, আর ছবি আঁকা শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। সাত বছর বয়সে প্রথম নাচের অনুষ্ঠান করেন। সেই সময় নাচ শুধু ‘দেবদাসী’দের জন্য মনে করা হত। সামাজিক ভাবে তা কোনওমতেই সম্মানের ছিল না। কিশোরী বয়সে ছবি আঁকা শুরু করেন শ্রীমতি। (Y. G. Srimati)
১৯৫২ সালে, ছাব্বিশ বছর বয়সে, মাদ্রাজ জাদুঘরের শতবার্ষিকী হলে প্রথম প্রদর্শনী। ১৯৫৫ সালে দিল্লিতে। সারা দেশে নাম ছড়িয়ে পড়ল শ্রীমতির।
দাদা নিজে শিল্প সংগ্রাহক এবং নৃত্যগীত শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই শ্রীমতিও দাদার ছত্রছায়ায় ও অনুপ্রাণে বড় হতে পেরেছেন।(Y. G. Srimati)
ছবি আঁকা তাঁর কাছে হয়ে উঠল ভক্তি আর আরাধনার মতো। ছবিতে নাম বা তারিখ লিখতে চাইতেন না। অতিথি এলে দাদাই সবাইকে বোনের ছবি দেখাতেন। সে সব ছবি কখনও রাগ-অনুপ্রাণিত, কখনওবা নিখুঁত তুলির টানে তুলে ধরা পুরাণের দেব-দেবীর গল্প। (Y. G. Srimati)

১৯৫২ সালে, ছাব্বিশ বছর বয়সে, মাদ্রাজ জাদুঘরের শতবার্ষিকী হলে প্রথম প্রদর্শনী। ১৯৫৫ সালে দিল্লিতে। সারা দেশে নাম ছড়িয়ে পড়ল শ্রীমতির। তৎকালীন বিখ্যাত শিল্পী যামিনী রায়, এস.এইচ. রাজা, অমৃতা শেরগিলদের পাশাপাশি শ্রীমতির নামও উচ্চারিত হতে থাকল। (Y. G. Srimati)
১৯৪০-এর দশকে জড়িয়ে পড়েন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে। চেন্নাইয়ে বেড়ে ওঠা শ্রীমতি গান্ধীজির সভায় ভজন ও বিভিন্ন ভাষার ভক্তিগীতি গাইতেন। গান্ধীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাঁর প্রভাব শ্রীমতির শিল্পী সত্তাকে গড়ে তোলে, প্রভাবিত করে। জাতীয়তাবাদ, হিন্দু পুরাণের কাহিনি, গ্রামীণ জীবন তাঁর ছবিতে উপস্থিত প্রবলভাবে। সমস্তটা মিলেমিশে নির্মাণ করেছে তাঁর শিল্পের ‘ইন্ডিয়ান স্টাইল’, ভারতীয় সত্তা। শ্রীমতি ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন নন্দলাল বসুর থেকে, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বেঙ্গল স্কুল থেকে, অজন্তা-ইলোরা ফ্রেস্কো থেকে। এমনকি সিংহলি বৌদ্ধ ম্যুরাল-এর প্রভাবও তাঁর আঁকাকে সমৃদ্ধ করেছে বারবার। (Y. G. Srimati)
১৯৫৯ সালে নৃত্যশিল্পী ও লেখক বেরিল ডিজোয়েট (Beryl DeZoete) তাঁকে ইংল্যান্ডে আমন্ত্রণ করেন। সেখানে তিনি যেমন শিক্ষকতা করেছেন, তেমনি করেছেন নৃত্যানুষ্ঠানও।
তাঁর কাজ দেখে বিদেশি দর্শকরাও মুগ্ধ। ১৯৫৯ সালে নৃত্যশিল্পী ও লেখক বেরিল ডিজোয়েট (Beryl DeZoete) তাঁকে ইংল্যান্ডে আমন্ত্রণ করেন। সেখানে তিনি যেমন শিক্ষকতা করেছেন, তেমনই করেছেন নৃত্যানুষ্ঠানও। বিবিসিতে (BBC) রেকর্ড করেছেন। পরে বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী রাম গোপালের সঙ্গে একই মঞ্চে নাচের অনুষ্ঠান করেন। তাঁর সঙ্গে আঁকার প্রদর্শনীও হয়। বহুগুণসম্পন্ন এই শিল্পী মেধার জোরে সঙ্গীত ও শিল্প নিয়ে বিশ্বমঞ্চে কথা বলার জন্য নিজের জমি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। (Y. G. Srimati)
ইংল্যান্ডে থাকাকালীন, ১৯৬০-এর শেষে শিল্প সংগ্রাহক দাদা দোরাইস্বামী তাঁকে একটা চিঠি পাঠান— নিউ ইয়র্কের প্রকাশক জর্জ মেসি কোম্পানির। ভগবদ্গীতার ছবি আঁকার কাজ। এত গভীর বিষয় বলে শ্রীমতী ভারতে ফিরে আসেন— সাধু-সন্ন্যাসীদের সঙ্গে কথা বলেন, গভীরভাবে পড়াশোনা করে সে কাজ সুসম্পন্ন করেন। (Y. G. Srimati)
এরপর সরাসরি নিউ ইয়র্ক থেকে নিমন্ত্রণ এলে, মাদ্রাজ থেকে কোচিন হয়ে জাহাজে করে পাড়ি দিলেন। সঙ্গে একটি বাক্সে ছবি আর বাদ্যযন্ত্র, বিশেষভাবে উল্লেখ্য তাঁর প্রিয় বীণা। ঘটনাচক্রে সেই জাহাজের নাম ছিল ‘ডেসটিনি’ অর্থাৎ নিয়তি! পরে নিউইয়র্কে আর্ট স্টুডেন্টস লিগের স্কলারশিপ পান প্রিন্ট তৈরি শেখার জন্য। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন সেই বিষয় নিয়ে। (Y. G. Srimati)

১৯৬৩ থেকে আশির দশক পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ, প্রদর্শনী ও শিক্ষকতা করেছেন শ্রীমতি। পঞ্চতন্ত্রের ছবি এঁকেছেন। আমেরিকার কলেজগুলোতে ঘুরে ঘুরে প্রদর্শনী করেছেন, গান গেয়েছেন, লেকচার দিয়েছেন। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন আরেক শিল্পী মাইকেল পেলেটিয়েরিকে। থাকতেন মেট মিউজিয়ামেরই খুব কাছে, হাঁটা পথে। (Y. G. Srimati)
আইবিএম (IBM)- এর থিংক (Think) পত্রিকার জন্য যেমন ছবি এঁকেছেন, তেমনই ১৯৬৭ সালে জেনেভার শান্তি সম্মেলনের জন্যও আঁকেন বড় ছবি। তবু ভারতীয় হয়ে আমরা অনেকেই জানি না তাঁর কথা, সে আমাদেরই অক্ষমতা। ২০০৭ সালে নিজের জন্মভূমি চেন্নাইতে ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী। (Y. G. Srimati)
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মিউজিয়াম মেট-এ কয়েক বছর আগেও তাঁর একক প্রদর্শনী হয়, ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ। একক প্রদর্শনীতে ছিল পঁচিশটা ছবি, একটি যন্ত্র।
তিনি চলে যাওয়ার পর, তাঁর ছবির ও সংগীতের পথ চলা থেমে থাকেনি। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মিউজিয়াম মেট-এ কয়েক বছর আগেও তাঁর একক প্রদর্শনী হয়, ২০১৬-১৭ সাল নাগাদ। একক প্রদর্শনীতে ছিল পঁচিশটা ছবি, একটি যন্ত্র। ভবিষ্যতেও নিশ্চয়ই হবে। (Y. G. Srimati)
সরস্বতী পুজোর দিন নিউ ইয়র্কে বসে, তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কারের মাধ্যমে যেন নিজের শিকড়কে গভীরভাবে ছুঁয়ে ফেললাম। নিউইয়র্কে আমার যাপনচিত্র আরও এক নতুন রং খুঁজে পেল। এমন মানুষরাই দীপ জ্বেলে যান বারে বারে। কতটা পথ পেরোলে তবে শিল্পী হওয়া যায়। তিনি এক নতুন অনুপ্রেরণা— জ্ঞান, শিল্প, সাহসের। (Y. G. Srimati)
মুদ্রণ ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মৌসুমীর জন্ম কলকাতায় হলেও গত তিন দশক ধরে নিউ ইয়র্কই তাঁর বাসস্থান এবং কর্মস্থান। এক্কেবারে বিশুদ্ধ ক্যালইয়র্কার। শুঁটকি মাছ থেকে চন্ডীপাঠ, Grateful Deads থেকে সুপ্রীতি ঘোষ আর এই diasporic dichotomy-র জাগলিংয়ে হাত পাকাতে পাকাতেই দিন কাবার। ভালোবাসেন বই পড়তে, ছবি আঁকতে, রান্না করতে, আড্ডা মারতে আর ক্যামেরা হাতে ছবি তুলতে। তবে সবচেয়ে ভালোবাসেন সক্কলকে নিয়ে জমিয়ে বাঁচতে!
