রূপের রুলে কিছু কিছু ভুল!

478

রূপচর্চার নাকি অনেক রকম বিধিনিষেধ থাকে। যদিও ঠিক কী ভাবে রূপচর্চা করা উচিত তার কোনও মানে বই নেই, কিন্তু বিনা পয়সায় উপদেশ দেওয়ার লোক প্রচুর আছে। আর তার পর গুগল তো আছেই। কত রকম জ্ঞান যে সেখানে পাবেন তার ইয়ত্তা নেই। স্বাভাবিকভাবেই কোনটা মানবেন আর কোনটা মানবেন না, তা নিয়ে একেবারে দিশেহারা বোধ করেন। তাই আমরা হাজির! রূপচর্চা নিয়ে যা যা ভুল ধারণা আছে তা ভাঙার চেষ্টা করব আমরা–

তৈলাক্ত ত্বকে ময়শ্চারাইজার লাগানো যায় না–ঠিক যে ভাবে ত্বক পরিষ্কার করা জরুরি, ঠিক একই ভাবে ত্বকের ময়শ্চারাইজেশনও জরুরি। সে ত্বক শুষ্ক, তেলতেলে, স্বাভাবিক যাই হোক না কেন। মুখ ধোওয়ার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা উবে যায়। ময়শ্চারাইজার হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরে পেতে সাহায্য করে। এতে ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্সও বজায় থাকে। দূযণ, ময়লা থেকেও ত্বককে রক্ষা করে। তবে প্রত্যেক ধরনের ত্বকের চাই আলাদা আলাদা ময়শ্চারাইজার। তেলতেলে ত্বক হলে হালকা, নন গ্রিজি ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

হার্বাল বা বাড়িতে তৈরি কোনও জিনিস ক্ষতিকারক নয়–এটা সত্যি যে হার্বাল বা ঘরোয়া জিনিসে কেমিক্য়াল থাকে না। কিন্তু এটাও বুঝতে হবে যে আপনার ত্বক বা চুলের যা চাহিদা, তা পূরণ করার মতো ক্ষমতা এদের আছে কি না। কোন উপাদানের সঙ্গে কোন উপাদান মেশালে সঠিক ফল পাবেন, তা কিন্তু এক ধরনের বিজ্ঞান। আপনার ইচ্ছে মতো উপকরণ মেশালে ফল হিতে বিপরীত হতে পারে। হার্বাল প্রডাক্ট কেনার ক্ষেত্রে কোনও উপকরণ কতটা পরিমাণে আছে এবং তা আপনার জন্য আদৌ উপকারী কি না, তা বুঝতে হবে।

মেঘলা দিনে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই–কে বলেছে এমন কথা? ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলেন সারা বছর সানস্ক্রিন লাগানো উচিত। যে দিন আকাশ মেঘলা, মাথার উপর সূর্য নেই, সে দিনও কিন্তু আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। সানস্ক্রিন বর্মের মতো ত্বককে রক্ষা করে। তবে বর্ষাকালে ওয়াটার বেসড সানস্ক্রিন জেল লাগাতে পারেন। এতে ত্বকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ হবে না।

ব্রণ দূর করতে স্ক্রাবিং প্রয়োজন–দাগহীন পরিষ্কার ত্বকের জন্য এক্সফোলিয়েশন করা জরুরি বা তৈলাক্ত ত্বক হলে প্রতি দিন স্ক্রাবিং করতে হবে…এই ধরনের ভুল ধারণা অনেকেই পোষণ করেন। ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি ঠিকই, কিন্তু বেশি ঘন ঘন এমন করলে, ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুকিয়ে যায়। ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ ও শুষ্ক। এক্সফোলিয়েশন কখনও নিয়মিত রূপ রুটিনের অংশ হতে পারে না। বেশি ঘন ঘন করলে বরং ব্রণ প্রবণ ত্বকের ক্ষতি হয়। তার চেয়ে শিট মাস্ক ব্যবহার করা অনেকে বেশি নিরাপদ।

প্রতি দিন মেক-আপ করলে ত্বকের ক্ষতি হয়–মেক-আপ করলে সুন্দর তো দেখায়। কিন্তু প্রতি দিন মেক-আপ করলে তো ত্বকের হাল একেবারে বেহাল হয়ে যাবে। কিন্তু মেক-আপকে যতটা অপরাধী মনে করা হয়, ততটা সে নয়। আসল দোষ খারাপ মানের মেক-আপ প্রডাক্ট, নোংরা মেক-আপ ব্রাশ, আর ভুলভাল প্রডাক্ট যে গুলো আমাদের আবহাওয়াকে মাথায় রেখে বানানো হয় না সেগুলোর। এ সব কথা মাথায় রেখে যদি মেক-আপ করেন, তা হলে রোজ মেক-আপ করলেও কোনও অসুবিধে হবে না। শুধু ঘুমতে যাওয়ার আগে মেক-আপ তুলতে ভুলবেন না।

টুথপেস্ট লাগালে ব্রণ সেরে যায়–টুথপেস্ট তো দাঁতের জন্যে, সুতরাং ত্বকে লাগাবেন কেন। অনেকেই মনে করেন টুথপেস্ট লাগালে ত্বকে ব্রণর কোনও নাম গন্ধ থাকেনা। এটা কিন্তু সত্য়ি নয়। বহু ক্ষেত্রে ব্রণর দাগ রয়ে যায়। আর ত্বকেরও ক্ষতি হয় বই কী! তার চেয়ে ব্রণর জন্য যে আলাদা প্রডাক্ট পাওয়া যায়, তাই ব্যবহার করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.