৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়া তরুণীর আয় এখন ৭.৫কোটি টাকা

৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়া তরুণীর আয় এখন ৭.৫কোটি টাকা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
chinukala

মাত্র ৩০০টাকা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন পনেরো বছরের কিশোরী| কেমন করে অন্ন সংস্থান করবেন তার কোনও ধারণা ছিল না| কিন্তু হার মানতে শেখেননি চিনু কালে| বাড়ি বাড়ি ঘুরে জিনিস বিক্রি থেকে রেস্তোরার ওয়েট্রেস থেকে এখন সফল ব্যবসায়ী অনেকটা পথ হেঁটেছেন উনি|

‘আজকে যদি কেউ আমাকে প্রশ্ন করে কোথা থেকে আমি সাহস সংগ্রহ করেছিলাম‚ তার উত্তর নেই আমার কাছে| শুধু জানতাম কিছু একটা করতে হবে| সেই সময় আমার মাত্র দু’জোড়া পোশাক ছিল আর এক জোড়া চটি| প্রথম দু’দিন আমি প্রচন্ড ভয়ের মধ্যে ছিলাম| কয়েক দিন লেগেছিল নিজেকে গুছিয়ে নিতে| অনেক চেষ্টার পর মাথার ওপর ছাদ খুঁজে পেয়েছিলাম|’ চিনু স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন|

যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছিলেন চিনু সেখানে ওঁর সঙ্গে আরও অনেকে থাকত| প্রতি দিন সেখানে ২০টাকা করে দিলে তবেই শোয়ার জন্য একটা তোষক পাওয়া যেত| চিনু প্রথম দিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছুড়ি‚ কাঁচি বিক্রি করতেন| এই ভাবে প্রতি দিন উনি ২০ থেকে ৬০টাকা রোজগার করতেন|

চিনুর কথায় ‘একটা জিনিস মনে রাখতে হবে সময়টা ছিল নয়ের দশকের শেষ দিকে| এখনকার থেকে সম্পূর্ণ অন্য সময় ছিল সেটা| তখন খুব সহজেই বাড়ি বাড়ি যাওয়া যেত জিনিস বিক্রি করার জন্য| কিন্তু যখনই আমার মুখের ওপর কেউ দরজা বন্ধ করে দিত আমি ভেঙে না পড়ে আরও দৃঢ়ঢচেতা হতাম|’

এক বছরের মাথায় চিনুর পদোন্নতি হয়| আরও তিন জন মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ দেওয়া হয় ওঁকে| চিনুর কথায় ‘আমাকে সুপারভাইজার করে দেওয়া হল| ফলে আমার মাইনেও বাড়ে| ওই তিন জনকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে আমিও অনেক কিছু শিখলাম|’

ছোট থেকেই চিনু নিজে স্বাধীনভাবে কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন| কিন্তু ১৫ বছরে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার ফলে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি| তবে কাজে করতে গিয়ে বহু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে যা ওঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।

পরে একটা রেস্তোরাঁয় ওয়েট্রেসের কাজ নেন চিনু| ‘আমাকে রোজ ৬টা থেকে ১১টা অবধি কাজ করতে হত| কঠিন পরিশ্রম করতে হত| কিন্তু আমি হার মানতে নারাজ ছিলাম| আরও কঠিন পরিশ্রম করতাম| তিন বছরের মধ্যে আমি যথেষ্ট টাকা জমিয়ে ফেলতে সক্ষম হই|’

২০০৪ সালে অমিত কালে নামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় চিনুর| বিয়ের পর বেঙ্গালুরুতে পাড়ি দেন ওঁরা| এর দু’বছর বাদে মিসেস ইন্ডিয়া প্যাজেন্টে অংশগ্রহণ করেন চিনু| এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে চিনু বলেন ‘বাকিরা সবাই সুপার অ্যাচিভার ছিলেন| আর আমি পড়াশোনা অবধি শেষ করিনি| ভীষণ ভয় করছিল আমার| কিন্তু তা-ও মাথা নত করিনি| আমার জীবনে যে সব অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা সেই সময় কাজে লেগেছিল|’

মিসেস ইন্ডিয়ার চূড়ান্ত পর্যায় গিয়ে বাদ যান উনি| কিন্তু এর ফলে অন্য সুযোগ আসে চিনুর কাছে| ‘আমি ফ্যাশন নিয়ে বরাবর আগ্রহী ছিলাম| কিন্তু টাকা ছিল না শখ পূরণ করার|’ বলেন চিনু| মিসেস ইন্ডিয়া-য় অংশগ্রহণ করার ফলে মডেল হিসেবে পরিচিতি পান। ফ্যাশন ইন্ড্রাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে চিনু দেখলেন ফ্যাশন জুয়েলারির প্রচণ্ড চাহিদা আছে কিন্তু সেই ভাবে সরবরাহ নেই| তখনই নিজের জুয়েলারি ব্র্যান্ড আরম্ভ করার কথা ভাবেন উনি| 

চারু বলেন ২০১৪ সালে যখন আমি আমার সংস্থা আরম্ভ করেছিলাম| বেঙ্গালুরুতে একটা ৬ফুট বাই ৬ ফুট ঘর জোগাড় করা বেশ কঠিন ছিল| ছ’মাস লেগেছিল একটা জায়গা খুঁজতে|’

পাশ্চাত্য ও দেশি দুই ধরনের নকল গয়নাই আছে চারুর কালেকশনে| গয়নার দাম ২২৯ থেকে ১০,০০০টাকা অবধি| বেঙ্গালুরু ছাড়াও কোচি আর হায়দরাবাদ এই জুয়েলারি ব্র্যান্ডের দোকান আছে| ব্যবসা দাঁড়াতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে| অনেকে বার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে ওঁকে| কিন্তু ভেঙে না পড়ে চারু লড়ে গেছেন| অবশেষে লাভের মুখ দেখেছেন | ওঁর কথায় ‘ ২০১৬-১৭ সালে ৫৬ লক্ষ টাকার ব্যবসা হয়| এর পরের বছর তা বেড়ে সাড়ে তিন কোটি টাকা হয়| গত বছর আয় হয় সাড়ে সাত কোটি টাকা|’

‘আমার বিশ্বাস রোজই আমরা কিছু না কিছু শিখতে পারি| আমি কোনও দিন ভুলব না কোথা থেকে আমি আরম্ভ করেছিলাম| আজ আমি ২৫জনকে মাইনে দিয়ে রেখেছি| আমি সব সময় কঠিন পরিশ্রমে বিশ্বাস করি| একই সঙ্গে নিজের ওপর বিশ্বাস হারাইনি আমি| যারা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন আমি তাঁদের পাশে থাকব|’ জানিয়েছেন চারু|

Tags

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply