আমার বাবা মতি নন্দী

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
নিজের লেখার টেবিলে।
ছোট্ট আনন্দরূপার সঙ্গে মতি নন্দী। ছবি লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।
ছোট্ট আনন্দরূপার সঙ্গে মতি নন্দী। ছবি লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।
ছোট্ট আনন্দরূপার সঙ্গে মতি নন্দী। ছবি লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।
ছোট্ট আনন্দরূপার সঙ্গে মতি নন্দী। ছবি লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।
ছোট্ট আনন্দরূপার সঙ্গে মতি নন্দী। ছবি লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।
ছোট্ট আনন্দরূপার সঙ্গে মতি নন্দী। ছবি লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে।

আমাদের অর্থাৎ পাঠকদের কাছে তিনি ক্রীড়াসাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তাঁর কলমের জাদুতে মশগুল হয়ে কেটেছে আমাদের কৈশোর। বাবা হিসেবে কেমন ছিলেন সেই মতি নন্দী? তাঁর কন্যা আনন্দরূপার কলমে আজ সেই গল্প রইল বাংলালাইভের পাতায়। 

ছোটবেলায় অন্যান্য বন্ধুদের বাবাদের সঙ্গে আমার বাবার সামান্য হলেও তফাত করতে পারতাম। সেটা নিয়ে তখন কিছু ভাবিনি। কিন্তু এখন লিখতে বসে বুঝতে পারছি, ওই যে বাবা আমার আর বোনেদের চুল কেটে দিত, ওটাই অন্য বাবাদের থেকে আমার বাবাকে আলাদা করেছিল। উত্তর কলকাতার একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত ছাপোষা পাড়ায় আমরা থাকতাম। তখন বুঝিনি, কিন্তু আজ বুঝি ওই পরিবেশে আমার বাবা ছিল অত্যন্ত অন্যরকম একজন মানুষ। ছোটবেলায় বুঝতাম না কিন্তু আজ বুঝি, সময়ের সঙ্গে নিজেকে কীভাবে বদলাতে হয় তা বাবা আমাদের শিখিয়েছিল।

আমাদের পুরনো বাড়িটা ছিল তিনতলা। বাবার যাবতীয় লেখালেখি এবং থাকাথাকি ওই তিনতলাতেই। সকালের বাজারটা বাবা নিজের হাতেই করত। তারপর বাড়ি ফিরে লিখতে বসত। ওই সময়েই আবার বিভিন্ন ধরনের লোক বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসত। তার কারণও ছিল। বাবা তো শুধুমাত্র সাহিত্যিক ছিল না, একজন ক্রীড়াসাংবাদিকও ছিল। কিন্তু এই সময়টায় কেউ এসে কাজের ব্যাঘাত ঘটাক, বাবা চাইত না। তাই আমার কাজ ছিল কেউ দেখা করতে এলে তাকে বলে দেওয়া, বাবা বাড়ি নেই। এই রকম একদিনে এক ভদ্রলোক এসেছেন দেখা করতে। আমিও অন্যান্য দিনের মতো বলেছি বাবা বাড়িতে নেই। উনি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললেন তুমি গিয়ে বলো জংলা এসেছে দেখা করতে। বাবাকে গিয়ে সেকথা বলতেই সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল আরে নিয়ে এসো, নিয়ে এসো। উনি বাবার এসেই বললেন আমি বুঝতে পেরেছিলাম অনেকেই এই সময়ে আসে আপনাকে বিরক্ত করতে। এই ভদ্রলোক হলেন তখনকার বিখ্যাত ফুটবলার পরিমল দে। মাঠের লোকজন ওঁকে জংলা নামেই চিনত।

বাড়িতে নিজের কাজের জায়গায় বাবা। তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।

আরও একটা ব্যাপারে বাবা বাকিদের বাবাদের থেকে আলাদা ছিল। বন্ধুদের বাবারা সব অফিস যেত সকালবেলায় আর আমার বাবার যেহেতু খবরের কাগজের অফিস, বাবা বেরত বিকেলবেলায়। সেই কারণে আমরা বাড়িতে থাকলে বাবার সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাতে পারতাম। অনেক গল্পগুজব হত। আমাদের যাবতীয় কৌতুহল, যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর খোঁজারও সময় ছিল সেটা। অসম্ভব ভালো শ্রোতা ছিল আমার বাবা। আমাদের বয়স যত বাড়তে থাকে, বাবার সঙ্গে বন্ধুত্বও গভীর হয়। তবে ছোটবেলাতেও বাবা অত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের প্রচুর সময় দিত। ছোটদের যত ভালো ভালো সিনেমা আসত, বাবা নিয়ম করে দেখাতে নিয়ে যেত। ভালো সিনেমা দেখার অভ্যেসটা ওইভাবেই তৈরি করে দিয়েছিল। অনেক পরে টেলিভিশন আসাতে সেই অভ্যেসটা নিয়মিত হয়ে গেছিল। বাবার কাছেই শোনা, প্রথম জীবনে বাবা ও তার বন্ধু নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের প্রবল ইচ্ছা ছিল সিনেমা পরিচালনা করবার। সেইমতো বইপত্র কিনে কিছুদিন পড়াশোনাও করেছিল। কিন্তু কোনও কারণে সেটা নিয়ে আর এগনো হয়নি। বাড়িতে সিনেমা বিষয়ক বেশ কয়েকটা বই আমি দেখেছি। আর তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সিনেমা নিয়ে বাবার অসীম আগ্রহ ছিল।

আমার দাদু বাবার খুব ছোটবেলাতেই মারা যান। বাবার বোধহয় তখন বছর দেড়েক বয়স। বিধবা মায়ের কাছেই বড় হয়ে ওঠা। বাবার সান্নিধ্য বা স্নেহ কোনওটাই পায়নি বলেই হয়তো, নিজে খুব ভালো বাবা হয়ে উঠতে পেরেছিল। কম বয়সে পিতৃহারা হওয়ার আর একটা বড় প্রভাব পড়েছিল বাবার খাদ্যাভ্যাসের ওপর। আমার ঠাকুমা যেহেতু তখনকার রীতি মেনে বৈধব্য পালন করতেন, বাবা ছোট থেকেই নিরামিষ খাবার খেতে অভ্যস্ত ছিল। পরবর্তিকালে সবকিছু খাওয়া সত্ত্বেও নিরামিষ খাবারের প্রতি আগ্রহটা তীব্রভাবে থেকে গিয়েছিল। আমাকে প্রায়ই বলত ঘি গরম মশলা দিয়ে নিরামিষ রাঁধতে। আমার মাও খুব ভালো রাঁধুনি ছিল, কিন্তু ঠাকুমার হাতের নিরামিষ রান্নার প্রতি বাবার একটা আলাদা টান সারাজীবন থেকে গিয়েছিল।

সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৩। সাদা খাম উপন্যাসের জন্য।

নাতি নাতনিরা বাবার খুবই প্রিয় ছিল। আমার মেয়ে অন্য দুই নাতির তুলনায় বেশ বড় হবার সুবাদে তার ‘দাদাকে’ একটু বেশিই অন্তরঙ্গভাবে পেয়েছিল। বাবা নাতিনাতনিদের সঙ্গে সমস্তরকম আলোচনা করত। আর ওদের বলত আমি বেঁচে থাকতে থাকতে যা পার জেনে নাও। শেষের দিকে শরীরটা ভেঙ্গে গেছিল। শেষ চার বছরে চারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। আমাদের আফসোস যে শেষবার আর বাড়ি ফিরিয়ে আনতে পারিনি। বাবার মৃত্যুর পর, অনুজ সাংবাদিক মানস চক্রবর্তী সেই বছর থেকেই বাবার নামে দুটি পুরস্কার দেওয়া শুরু করেন। একটা সাহিত্যের জন্য অন্যটা ক্রীড়া সাংবাদিকতার জন্য। গত বছর পর্যন্ত খুবই সুনামের সঙ্গে দুটি পুরস্কারই দেওয়া হয়েছে।

Tags

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

-- Advertisements --
-- Advertisements --