রং আর রেখা

155
ramananda-bandyopadhyay-exhibition-debovasha
Ramananda Bandyopadhyay painting Exhibition at Debovasha

১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী রামানন্দ বন্দোপাধ্যায়ের একক চিত্রপ্রদর্শনী রং আর রেখা| এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে দেবভাষা| প্রদর্শনী চলবে ৮ নভেম্বর অবধি| সম্প্রতি বাংলালাইভ দেবভাষা-র কর্ণধার সৌরভ দে-র সঙ্গে কথা বলল| আলাপচারিতায় উঠে এল দেবভাষার জন্ম এবং এই প্রদর্শনী করার উদ্দেশ্য | আসুন সৌরভ দে’র মুখ থেকে শুনে নিন ওঁর বক্তব্য :

আমাদের লক্ষই হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিল্প রুচি তৈরি করা‚ আগ্রহ তৈরি করা| সেই পরিপ্রেক্ষিতে এক দিকে যেমন প্রদর্শনীর আয়োজন করি‚ অন্য দিকে আমরা বই ও প্রকাশ করি| এই বইগুলো প্রকাশের ও একটা লক্ষ্য রয়েছে| শিল্প সংক্রান্ত কোনও বই আমাদের পাঠ্যক্রমে কখনও ছিল না| ফলে এই নিয়ে আমরা কোনওদিন পড়াশোনা করিনি| এতে দিনের পর দিন শিল্পের প্রতি অবহেলা হয়েছে এবং সেই বিষয়ে বোধ বা রুচি তৈরি হয়নি|

এখানে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের বই প্রকাশ করা হয়| অমাদের বইয়ের যাত্রা আরম্ভ হয়েছিল শিল্পী কে জি সুব্রহ্মণকে দিয়ে| এই সব বিশিষ্ট শিল্পীরা আজ যা বলবেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পক্ষে শিক্ষণীয় হবে| আর বইয়ের মধ্যে দিয়ে শিল্প সানিধ্য তৈরি হয়| বই পড়লে খানিকটা হলেও পাঠকের মধ্যে শিল্প বোধ তৈরি হচ্ছে| শিল্প বোধের উন্নতির জন্য তাই বই প্রকাশ এবং সেটার সামনাসামনি উপস্থাপনা হিসেবে আমরা এই প্রদর্শনীর ব্যাবস্থা করি|

এই বছরটা কলাভবনের শতবর্ষ চলছে| কলাভবনের যখন পঁচাত্তরতম জন্ম বর্ষ উদযাপিত হচ্ছিল সেই সময় আর শিবকুমার কে জি সুব্রহ্মণের একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন| সেটা বিশ্বভারতীর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল| কিন্তু বিস্মিত হওয়ার মতো বিষয় এই যে, তার পঁচিশ বছর পরেও সেই মূল্যবান  সাক্ষাৎকারটি বই হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি| কলাভবনের একশ’ বছর পূর্তিতে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসাবে সেই সাক্ষাৎকার গ্রন্থটি ‚ ‘স্মৃতি কলাভবন’ বই হিসেবে প্রকাশিত করি| আমাদের যাত্রা সেখানেই থেমে নেই| নন্দলাল বসুর সুযোগ্য ছাত্র হলেন রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়| রামানন্দদার ছবির প্রদর্শনী করার কথা আমরা ভাবলাম| এই প্রদর্শনী কলাভবনেও অনুষ্ঠিত হবে| কলাভবনের একশ’ বছরের উদযাপনে আমরাও শরিক হয়ে গেলাম| পাশাপাশি বেঙ্গল স্কুল ঘরানার যে ঐতিহ্য সেই ঐতিহ্যের এক জন প্রধানতম প্রতিনিধি হলেন রামানন্দ বন্দোপাধ্যায়| এই ঘরানাকেও এক বার ফিরে দেখার চেষ্টা|

দেবভাষা-র প্রথম পথ চলা আরম্ভ হয় ২০১৫ সালে| আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষ যারা শিল্প নিয়ে উৎসাহী তাঁদের কাছে বিশিষ্ট শিল্পীদের কাজ পৌঁছে দেওয়া| আরও একটা কথা বলত চাই‚ অনেকেই আছেন যাঁরা শিল্প ভালবাসেন কিন্তু বড় প্রদর্শনীতে ঢুকতে ভয় পান| আমাদের প্রদর্শনীতে সেটা কিন্তু পাবেন না| এখানে এসে যাতে সবাই নিজের বাড়িতে আছেন, তেমনটা অনুভব করেন, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য| অনেকেই ছবি কিনতে আগ্রহী| কিন্তু ছবির আকাশছোঁয়া দাম দেখে তাঁরা পিছিয়ে যান| সাধারণ শিল্পরসিকদের আওতার মধ্যে সেই ছবিগুলোকে আনাই আমাদের উদ্দেশ্য|

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.