রং আর রেখা

ramananda-bandyopadhyay-exhibition-debovasha

১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী রামানন্দ বন্দোপাধ্যায়ের একক চিত্রপ্রদর্শনী রং আর রেখা| এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে দেবভাষা| প্রদর্শনী চলবে ৮ নভেম্বর অবধি| সম্প্রতি বাংলালাইভ দেবভাষা-র কর্ণধার সৌরভ দে-র সঙ্গে কথা বলল| আলাপচারিতায় উঠে এল দেবভাষার জন্ম এবং এই প্রদর্শনী করার উদ্দেশ্য | আসুন সৌরভ দে’র মুখ থেকে শুনে নিন ওঁর বক্তব্য :

আমাদের লক্ষই হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিল্প রুচি তৈরি করা‚ আগ্রহ তৈরি করা| সেই পরিপ্রেক্ষিতে এক দিকে যেমন প্রদর্শনীর আয়োজন করি‚ অন্য দিকে আমরা বই ও প্রকাশ করি| এই বইগুলো প্রকাশের ও একটা লক্ষ্য রয়েছে| শিল্প সংক্রান্ত কোনও বই আমাদের পাঠ্যক্রমে কখনও ছিল না| ফলে এই নিয়ে আমরা কোনওদিন পড়াশোনা করিনি| এতে দিনের পর দিন শিল্পের প্রতি অবহেলা হয়েছে এবং সেই বিষয়ে বোধ বা রুচি তৈরি হয়নি|

এখানে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের বই প্রকাশ করা হয়| অমাদের বইয়ের যাত্রা আরম্ভ হয়েছিল শিল্পী কে জি সুব্রহ্মণকে দিয়ে| এই সব বিশিষ্ট শিল্পীরা আজ যা বলবেন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পক্ষে শিক্ষণীয় হবে| আর বইয়ের মধ্যে দিয়ে শিল্প সানিধ্য তৈরি হয়| বই পড়লে খানিকটা হলেও পাঠকের মধ্যে শিল্প বোধ তৈরি হচ্ছে| শিল্প বোধের উন্নতির জন্য তাই বই প্রকাশ এবং সেটার সামনাসামনি উপস্থাপনা হিসেবে আমরা এই প্রদর্শনীর ব্যাবস্থা করি|

এই বছরটা কলাভবনের শতবর্ষ চলছে| কলাভবনের যখন পঁচাত্তরতম জন্ম বর্ষ উদযাপিত হচ্ছিল সেই সময় আর শিবকুমার কে জি সুব্রহ্মণের একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন| সেটা বিশ্বভারতীর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল| কিন্তু বিস্মিত হওয়ার মতো বিষয় এই যে, তার পঁচিশ বছর পরেও সেই মূল্যবান  সাক্ষাৎকারটি বই হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি| কলাভবনের একশ’ বছর পূর্তিতে আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসাবে সেই সাক্ষাৎকার গ্রন্থটি ‚ ‘স্মৃতি কলাভবন’ বই হিসেবে প্রকাশিত করি| আমাদের যাত্রা সেখানেই থেমে নেই| নন্দলাল বসুর সুযোগ্য ছাত্র হলেন রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়| রামানন্দদার ছবির প্রদর্শনী করার কথা আমরা ভাবলাম| এই প্রদর্শনী কলাভবনেও অনুষ্ঠিত হবে| কলাভবনের একশ’ বছরের উদযাপনে আমরাও শরিক হয়ে গেলাম| পাশাপাশি বেঙ্গল স্কুল ঘরানার যে ঐতিহ্য সেই ঐতিহ্যের এক জন প্রধানতম প্রতিনিধি হলেন রামানন্দ বন্দোপাধ্যায়| এই ঘরানাকেও এক বার ফিরে দেখার চেষ্টা|

দেবভাষা-র প্রথম পথ চলা আরম্ভ হয় ২০১৫ সালে| আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষ যারা শিল্প নিয়ে উৎসাহী তাঁদের কাছে বিশিষ্ট শিল্পীদের কাজ পৌঁছে দেওয়া| আরও একটা কথা বলত চাই‚ অনেকেই আছেন যাঁরা শিল্প ভালবাসেন কিন্তু বড় প্রদর্শনীতে ঢুকতে ভয় পান| আমাদের প্রদর্শনীতে সেটা কিন্তু পাবেন না| এখানে এসে যাতে সবাই নিজের বাড়িতে আছেন, তেমনটা অনুভব করেন, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য| অনেকেই ছবি কিনতে আগ্রহী| কিন্তু ছবির আকাশছোঁয়া দাম দেখে তাঁরা পিছিয়ে যান| সাধারণ শিল্পরসিকদের আওতার মধ্যে সেই ছবিগুলোকে আনাই আমাদের উদ্দেশ্য|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

pakhi

ওরে বিহঙ্গ

বাঙালির কাছে পাখি মানে টুনটুনি, শ্রীকাক্কেশ্বর কুচ্‌কুচে, বড়িয়া ‘পখ্শি’ জটায়ু। এরা বাঙালির আইকন। নিছক পাখি নয়। অবশ্য আরও কেউ কেউ

Ayantika Chatterjee illustration

ডেট