কড়ি বা কোমল

Illustration for Bengali Poetry বাংলা কবিতা
অলঙ্করণ: অয়ন্তিকা চট্টোপাধ্যায়

কে বলে দুর্বল তুমি?

কে বলেছে দৃঢ়চিত্ত নও

ওরা কতটুকু বলো, 

কাছ থেকে দেখেছে তোমায়?

অস্থিসার পুরুষের পেলব হৃদয় এক

সযতনে পুলওভারে ঢাকা। 

গলায় মাফলার আর মাথা জুড়ে শীতটুপিখানি

তোমাকে উষ্ণতা দেয়, যে তুমি কুণ্ঠিত বড়

দাবিদাওয়া বুঝেসুঝে নিতে।

দুমুঠো ভাতের থালা — সেও নির্মম হলে

চুপ করে বসে দ্যাখো, রোদ,

দক্ষিণ বারান্দায় নেমে আলোকিত করছে দুপুর।

সে হলুদে হাতড়াও

সবুজ ঘাসের কোমলতা।

ইদানিং তন্দ্রা আসে, আসে প্রেম, বয়সে স্বভাবে

 

যে সাঁকোটি প্রিয় খুব, সে কখনও একমুখী নয়।

গ্রাম থেকে গ্রামে যাও। সপ্তাহে হাটবার,

মাথায় কপির ঝাঁকা বয়ে বয়ে নিয়ে যাও

অনায়াস, সাঁকোপথ ধরে৷ ওই পথে বাড়ি ফেরো,

বাড়ি বাড়ি, পুঁইমাচা, ইঁটের দেওয়াল।

পরের পৌষ এলে পাকা ছাদ, দ্যাখ খুকি,

দেখে নিস ঠিক

 

যে সাঁকোটি প্রিয় খুব, সে কখনও একমুখী নয়।

বাবার বকুনি আর 

ভাইয়ের খুনসুটি সহজ হাওয়ায় মিলেমিশে

অদূরের ঝিল হয়, সেই ঝিলে টলটলে জল।

জলে ভাসে সখাটির অন্যায় আবদার যত,

সেই জলে ডুব দেয় প্রেমিকের মুখভার,

আড়ি ভাব আদরে আদরে

 

যে সাঁকোটি প্রিয় খুব, সে কখনও একমুখী নয়

চারটি দশক পর মাঠগুলি, ঘরগুলি,

গাছগুলি, পাখিগুলি, হাওয়াতেই উতরোল হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Illustration by Suvamoy Mitra for Editorial বিয়েবাড়ির ভোজ পংক্তিভোজ সম্পাদকীয়

একা কুম্ভ রক্ষা করে…

আগের কালে বিয়েবাড়ির ভাঁড়ার ঘরের এক জন জবরদস্ত ম্যানেজার থাকতেন। সাধারণত, মেসোমশাই, বয়সে অনেক বড় জামাইবাবু, সেজ কাকু, পাড়াতুতো দাদা