(Poetry)
এসরাজ
তারপর নদীতীর।
পেয়েছে সে
তৃষ্ণার জল।
জলভারে নুয়ে পড়ে
সজীব গুল্ম—
ব্রহ্মঅতল।
আমি হেঁটে যাই
ডান চোখ প্রায়
দৃষ্টিশক্তিহীন।
ছায়া পুঁতে রাখি—
যে গাছের কাঠ
এসরাজ হবে একদিন।


মালকোষ
শুকনো পাতা যখন মাটিতে পড়ে —
তার কৌণিক গতি
আমি বুঝতে পারি না।
মনে হয় —
জলজবিষাদ।
প্রতিটি কাঠঠোকরার
একটি নিজস্ব গাছ থাকে
যেখানে সে সযত্নে আঘাত করে—
ক্রমাগত।
উন্মাদ হয়ে ছুটে যাই
অরণ্যপথে
কথা ওড়ে বাতাসে—
ভৈরবে।
জোৎস্নার নিচে খুঁজি—
জেব্রাক্রসিং।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অলংকরণ- আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়
2 Responses
আহা! অপূর্ব! তোমার সমকালীন লেখালেখিতে এক বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে থাকবে এই কবিতা দুটি। শব্দের বৈভব ও বদান্যতায় যে মাধুর্য নির্নিমেষ উদ্বায়ী ভাষাশ্রমের প্রতি, তার আত্মীয় হতে পারার এই মহান উদযাপনে বাংলা কবিতা দ্বিজ হোক…খনিজ হোক…মনসিজ হোক…এ অলীক অনিয়তাকারের অন্দরমহলে হু হু বয়ে যাক বৈরাগ্যগন্ধী হাওয়া, বয়ে যাক উপমা শালুক ফুল – মাছ জলে বাস, মানুষের বিলাস!
নিরাভরণ সৌন্দর্য কখনো কখনো ছাপিয়ে যায় আলঙ্কারিকতাকেও। নদী, তৃষ্ণা, জলজ গুল্মের চেনা ছবি সাধারণ স্বরূপ থেকে হঠাতই উত্তীর্ণ হয়ে ওঠে ‘ব্রহ্মঅতল’-এর মত একটি দর্শনঋদ্ধ শব্দের প্রয়োগে। কবিতায় আলো এসে পড়েছিল আগেই, সারল্যের উদ্ভাস, সে দ্যূতিই প্রজ্ঞার অভিজ্ঞান হয়ে ওঠে। “প্রতিটি কাঠঠোকরার একটি নিজস্ব গাছ থাকে/যেখানে সে আঘাত করে -/ক্রমাগত” – অনবদ্য কূটাভাসে মর্মর ধ্বনির মত শব্দের ফোঁড় নিখুঁত বয়নশিল্পে বচনীয় হয়ে ওঠে। ‘ক্রমাগত’ শব্দটিকে পৃথক পংক্তি হিসেবে ব্যবহারের শৈলীতে যে অনুগ্র আদব, তার কাছে আনত রইলাম।
কবির কাছে জিজ্ঞাসা রইল, শব্দ, যতি, বিন্যাসের পারমুটেশন কমবিনেশনে এই যে একেকটা পরত খুলে খুলে যাচ্ছে আর অমর্ত্য আশনাইয়ে অর্জিত হয়ে উঠছে স্থায়ী সুখের বিকল্প, এও কি এক্সপেরিমেন্ট নয়? এতেও কি বাংলা কবিতা অনেকখানি এগিয়ে গেলনা?
দুটি কবিতাতেই সঙ্গীতের অনুষঙ্গ – বাদ্যযন্ত্র ও রাগ। এই যোগসূত্র ও ব্রহ্মঅতল শব্দটির মধ্যে যে অমোঘ আততি ঘনিয়ে ওঠে, সেই অব্যর্থ অমোঘে নতুন পথ ধরে হেঁটে যাক ব্যবহারিক ভাষার সাঁজোয়া…তোমার কলম অক্ষয় হোক।
কবিতায় গতি আছে, আছে মাধুর্য।