মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ আইভিএফ-এর সাহায্যে

669

কনগ্র্যাচুলেশন! আপনার একটা ফুটফুটে ছেলে হয়েছে’| সদ্যোজাতের তীক্ষ্ণ কান্না আগেই কানে গেছিল শ্বেতার | কিন্তু ডাক্তারের মুখ থেকে অভিনন্দন বাণীশুনে আশ্বস্ত হলেন উনি | আর মনে মনে অসংখ্য ধন্যবাদ জানালেন মাদারহুড ফার্টিলিটি ক্লিনিকের ডাক্তারদের | অদূরে স্ত্রীর দিকে গর্বিত হাসি নিয়ে তাকিয়েছিলেন বিজন |

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সময় শ্বেতা ও বিজনের আলাপ | বিজন শ্বেতার সিনিয়র ছিলেন| তবে প্রেমটা হয় অনেক পরে | বিজন তখন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেআইটি সেক্টরে যোগদান করেছেন | দু’জনের মধ্যে বিস্তর তফাত | কিন্তু একটা ব্যাপারে দু’জনের মধ্যে প্রচন্ড মিল‚ শ্বেতা আর বিজন দু’জনেই খুব বাচ্চাভালবাসেন | একে অপরের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার সময় বিজন প্রায়ই শ্বেতাকে বলতেন একটা ছেলে আর একটা মেয়ে‚ দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁরা সুখেশান্তিতে ঘর করবেন |

দেখতে দেখতে শ্বেতাও পাশ করে কর্মজীবনে পা রাখলেন | এক বছর যেতে না যেতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন শ্বেতা-বিজন | বেশ ধূমধাম করেই বিয়ে হয়ে গেলওঁদের |

পরিকল্পনা মতো বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাচ্চার জন্য চেষ্টা আরম্ভ করলেন ওঁরা | শ্বেতা-বিজন দু’জনেই ভেবেছিলেন হয়তো প্রথমবারেই সফল হবেন | কিন্তু না‚ একটার পর একটা মাস কেটে গেলেও সন্তান গর্ভে এল না শ্বেতার| দেখতে দেখতে শ্বেতা ২৭ বছরে পা দিলেন আর বিজনের ৩০ বছর হয়ে গেল | শ্বেতার মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা শ্বেতার পরিবারের মোটামুটি সবাই জানতো | এক দিন শ্বেতার মাস্তুতো বোন মল্লিকা ওঁকে মাদারহুড ফার্টিলিটি ক্লিনিকেরকথা বললেন |

বিজনের সঙ্গে বেশ কিছু দিন আলোচনার পর মাদারহুড ফার্টিলিটি ক্লিনিকেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শ্বেতা | বিজন অবশ্য প্রথমটায় রাজি হননি | ওঁর বক্তব্যছিল ‚ চিকিৎসকের কাছে গেলেই ধরা পড়বে কার সমস্যা | হাজারো চিকিৎসাতেও তা যদি ঠিক না হয়‚ তখন দোষারোপের পালা চলে আসবে | কিন্তু শেষ অবধিশ্বেতার চোখের জলের কাছে হার মেনে বিজন এতে সম্মতি দেন |

মাদারহুড ক্লিনিকে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেল শ্বেতার ফ্যালোপিয়ান টিউবে বা গর্ভনালীতে ব্লকেজ আছে | ডাক্তাররা ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমেজানতে পারলেন শ্বেতার গর্ভনালীতে ইনফেকশন হয়েছে | পরে এনড্রোমেট্রিয়াম টিস্যু বায়োপসি করে জানা যায় শ্বেতার জেনিটাল টিউবরকুলোসিস হয়েছে | অনেক ভারতীয় মহিলার মধ্যে এই ধরনের টিউবরকুলোসিস দেখা যায় | | বিশেজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসার সাহায্যে এই ইনফেকশন সেরে গেল |

টিবির ট্রিটমেন্টের পর মাদারহুড ক্লিনিকের ডাক্তাররা শ্বেতাকে আইভিএফ করার পরামর্শ দেন | কারণ ইনফেকশন ঠিক হয়ে গেলেও শ্বেতার গর্ভনালীর ব্লকেজ ঠিক করা সম্ভব হয়নি | শ্বেতার ডিম্বাণু ও বিজনের শুক্রাণুর দ্বারা ৬টা ভ্রূণ তৈরি করে তার থেকে দু’টো শ্বেতার জরায়ুতে স্থাপন করা হয় | বাকি চারটে হিমায়িত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয় |

কিন্তু প্রথম বার নিরাশ হতে হল শ্বেতা ও বিজনকে | তবে মাদারহুড ফার্টিলিটির ডাক্তাররা ওঁদের আশার আলো দেখালেন | পরের ঋতুচক্রে আবার দু’টো ভ্রূণপ্রতিস্থাপন করা হয় শ্বেতার গর্ভে | ক’দিন পরে চিকিৎসররাই সুখবর দিলেন | মা হতে চলেছেন শ্বেতা |

বাকি মায়েদের মতোই সব কিছু স্বাভাভিক ভাবেই হল শ্বেতার | অবশেষে ৯ মাস অপেক্ষার পর শ্বেতার কোল জুড়ে এল ফুটফটে একটি পুত্রসন্তান|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.