মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ আইভিএফ-এর সাহায্যে

মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ আইভিএফ-এর সাহায্যে

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

কনগ্র্যাচুলেশন! আপনার একটা ফুটফুটে ছেলে হয়েছে’| সদ্যোজাতের তীক্ষ্ণ কান্না আগেই কানে গেছিল শ্বেতার | কিন্তু ডাক্তারের মুখ থেকে অভিনন্দন বাণীশুনে আশ্বস্ত হলেন উনি | আর মনে মনে অসংখ্য ধন্যবাদ জানালেন মাদারহুড ফার্টিলিটি ক্লিনিকের ডাক্তারদের | অদূরে স্ত্রীর দিকে গর্বিত হাসি নিয়ে তাকিয়েছিলেন বিজন |

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সময় শ্বেতা ও বিজনের আলাপ | বিজন শ্বেতার সিনিয়র ছিলেন| তবে প্রেমটা হয় অনেক পরে | বিজন তখন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেআইটি সেক্টরে যোগদান করেছেন | দু’জনের মধ্যে বিস্তর তফাত | কিন্তু একটা ব্যাপারে দু’জনের মধ্যে প্রচন্ড মিল‚ শ্বেতা আর বিজন দু’জনেই খুব বাচ্চাভালবাসেন | একে অপরের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার সময় বিজন প্রায়ই শ্বেতাকে বলতেন একটা ছেলে আর একটা মেয়ে‚ দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁরা সুখেশান্তিতে ঘর করবেন |

দেখতে দেখতে শ্বেতাও পাশ করে কর্মজীবনে পা রাখলেন | এক বছর যেতে না যেতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন শ্বেতা-বিজন | বেশ ধূমধাম করেই বিয়ে হয়ে গেলওঁদের |

পরিকল্পনা মতো বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাচ্চার জন্য চেষ্টা আরম্ভ করলেন ওঁরা | শ্বেতা-বিজন দু’জনেই ভেবেছিলেন হয়তো প্রথমবারেই সফল হবেন | কিন্তু না‚ একটার পর একটা মাস কেটে গেলেও সন্তান গর্ভে এল না শ্বেতার| দেখতে দেখতে শ্বেতা ২৭ বছরে পা দিলেন আর বিজনের ৩০ বছর হয়ে গেল | শ্বেতার মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা শ্বেতার পরিবারের মোটামুটি সবাই জানতো | এক দিন শ্বেতার মাস্তুতো বোন মল্লিকা ওঁকে মাদারহুড ফার্টিলিটি ক্লিনিকেরকথা বললেন |

বিজনের সঙ্গে বেশ কিছু দিন আলোচনার পর মাদারহুড ফার্টিলিটি ক্লিনিকেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শ্বেতা | বিজন অবশ্য প্রথমটায় রাজি হননি | ওঁর বক্তব্যছিল ‚ চিকিৎসকের কাছে গেলেই ধরা পড়বে কার সমস্যা | হাজারো চিকিৎসাতেও তা যদি ঠিক না হয়‚ তখন দোষারোপের পালা চলে আসবে | কিন্তু শেষ অবধিশ্বেতার চোখের জলের কাছে হার মেনে বিজন এতে সম্মতি দেন |

মাদারহুড ক্লিনিকে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেল শ্বেতার ফ্যালোপিয়ান টিউবে বা গর্ভনালীতে ব্লকেজ আছে | ডাক্তাররা ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমেজানতে পারলেন শ্বেতার গর্ভনালীতে ইনফেকশন হয়েছে | পরে এনড্রোমেট্রিয়াম টিস্যু বায়োপসি করে জানা যায় শ্বেতার জেনিটাল টিউবরকুলোসিস হয়েছে | অনেক ভারতীয় মহিলার মধ্যে এই ধরনের টিউবরকুলোসিস দেখা যায় | | বিশেজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসার সাহায্যে এই ইনফেকশন সেরে গেল |

টিবির ট্রিটমেন্টের পর মাদারহুড ক্লিনিকের ডাক্তাররা শ্বেতাকে আইভিএফ করার পরামর্শ দেন | কারণ ইনফেকশন ঠিক হয়ে গেলেও শ্বেতার গর্ভনালীর ব্লকেজ ঠিক করা সম্ভব হয়নি | শ্বেতার ডিম্বাণু ও বিজনের শুক্রাণুর দ্বারা ৬টা ভ্রূণ তৈরি করে তার থেকে দু’টো শ্বেতার জরায়ুতে স্থাপন করা হয় | বাকি চারটে হিমায়িত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয় |

কিন্তু প্রথম বার নিরাশ হতে হল শ্বেতা ও বিজনকে | তবে মাদারহুড ফার্টিলিটির ডাক্তাররা ওঁদের আশার আলো দেখালেন | পরের ঋতুচক্রে আবার দু’টো ভ্রূণপ্রতিস্থাপন করা হয় শ্বেতার গর্ভে | ক’দিন পরে চিকিৎসররাই সুখবর দিলেন | মা হতে চলেছেন শ্বেতা |

বাকি মায়েদের মতোই সব কিছু স্বাভাভিক ভাবেই হল শ্বেতার | অবশেষে ৯ মাস অপেক্ষার পর শ্বেতার কোল জুড়ে এল ফুটফটে একটি পুত্রসন্তান|

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

sharbat lalmohon babu

ও শরবতে ভিষ নাই!

তবে হ্যাঁ, শরবতকে জাতে তুলে দিয়েছিলেন মগনলাল মেঘরাজ আর জটায়ু। অমন ঘনঘটাময় শরবতের সিন না থাকলে ফেলুদা খানিক ম্যাড়মেড়ে হয়ে যেত। শরবতও যে একটা দুর্দান্ত চরিত্র হয়ে উঠেছে এই সিনটিতে, তা বোধগম্য হয় একটু বড় বয়সে। শরবতের প্রতি লালমোহন বাবুর অবিশ্বাস, তাঁর ভয়, তাঁর আতঙ্ক আমাদেরও শঙ্কিত করে তোলে নির্দিষ্ট গ্লাসের শরবতের প্রতি।…